Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
A platform for writers
 

মায়ান সভ্যতা

পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতার রোমাঞ্চকর কথা

বিভিন্ন সভ্যতার তালিকা   








◕ পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতার রোমাঞ্চকর কথা Details..

◕ Send your story to RiyaButu.com and get ₹ 500/- Details..

◕ Bengali Story writing competition. Details..


মায়ান সভ্যতা

পরিচিতি
- মায়া সভ্যতা মেসো-আমেরিকার বা বর্তমান মধ্য আমেরিকার সবচেয়ে পরাক্রমশালী ও সবচেয়ে প্রভাবশালী আদিবাসী সমাজগুলোর মধ্যে অন্যতম।

- এর সময় কাল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২০০০-২৫০ অব্দ পর্যন্ত ধরা হয়। এটি ছিল বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ঘন জনবসতি এবং সংস্কৃতির গতিশীল একটি সমাজ।

- মায়ারা কৃষিনির্ভর হলেও এরা মিশরের মত পিরামিড তৈরি করেছিল। তাছাড়া বড়-বড় শহর সহ প্রচুর উন্নতমানের পাথুরে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছিল।

- এসময়ে তিকাল, উয়াক্সাকটুন, কোপান, বোনাম্পাক, ডস পিলাস, কালাকমুল, পালেঙ্ক, রিও বেক ইত্যাদি সহ প্রায় ৪০ টির মতো শহর গড়ে উঠেছিল এই মায়ান সভ্যতায়, আর এসব এক-একটি শহরের জনসংখ্যা ছিল ৫০০০-৫০০০০ পর্যন্ত।

মায়ান ধর্ম
- মায়ারা ছিল খুবই ধার্মিক প্রকৃতির। তারা প্রকৃতির বিভিন্ন জিনিসকে পূজা করতো যার মধ্যে ছিল সূর্য, চাঁদ, বৃষ্টি, শস্য ইত্যাদি।

- প্রাচীন মায়া সভ্যতার অধিবাসীরা ছিলেন সূর্যের উপাসক। তাঁরা মনে করত জন্ম, মৃত্যু, রোগ-ব্যাধি, খরা-বন্যা — সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন সূর্য।

- মায়ান সভ্যতায় হিংস্রতা, নিষ্ঠুর আদিমতাও কিছুমাত্র কম ছিল না। তবে এত সবের পাশাপাশি তারা জ্ঞান-বিজ্ঞানেরও বিকাশ করেছিল।

- তারা বিশ্বাস করত যে, ঈশ্বরকে কাছে পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নিজ দেহের রক্ত। আর তাই তারা বিশেষ কিছু অনুষ্ঠানে ঈশ্বরের নামে ঘড়া-ঘড়া রক্ত বিসর্জন দিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে রক্ত দিত মায়ানদের রাজা স্বয়ং।

- মায়ান সভ্যতার অন্যতম নগরীর নাম চিচেন-ইতজা। এই শহরকে বলা হত নরবলির শহর। এই শহরে ছিল দুটো প্রাকৃতিক কুয়া, দুই কুয়ার মাঝেই ছিল শহরটি। ধর্মীয় প্রধান আচার অনুষ্ঠান পালিত হতো এই শহরেই।

- মায়ানদের দুই প্রধান অমর দেবতার একজন হল ইতজামনা। তাদের মতে, ইতজামনা মহা-পরাক্রমশালী আকাশচারী দেবতা। এই দেবতাকে খুশি করতে মায়ান যাজকরা পবিত্র পিরামিডের ওপর নরবলি দিত। তবে এই বলিদান আর উৎসর্গের জন্যে বিশেষ সময় বেছে নিত, আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি হতো মায়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী। আরেকজন প্রধান মায়া দেবতার নাম কুকুলকান। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্পদেবী মনসার সঙ্গে এই দেবতার বেশ মিল রয়েছে। কুকুলকান হল মায়ানদের সর্প-দেবতা, তার বাবা হলেন সর্পদের রাজা।

মায়ানদের আবিষ্কার
- পৃথিবীর অন্যান্য সভ্যতার মত মায়ানরাও ইতিহাসে শূন্যের ব্যবহার করেছিলেন।

- ঐতিহাসিকদের মতে এরাই সর্বপ্রথম পৃথিবীর কাছে ক্যালেন্ডারের পরিচয় ঘটায়। মায়ানদের ছিল ৩ টি ক্যালেন্ডার। তাঁর মধ্যে একটি ছিল 'হাব' যেখানে বছরকে আধুনিক ক্যালেন্ডারের মতোই ৩৬৫ দিনে ভাগ করেছিলেন তারা। এখন যেমন আমাদের সপ্তাহের সাত দিনের সাতটা নাম রয়েছে, তেমনই মায়া সভ্যতায় বছরের প্রত্যেকটি দিনের আলাদা আলাদা নাম ছিল। অর্থাৎ, মোট ৩৬৫ দিনের ৩৬৫টি নাম।

- মায়ানদের চিকিৎসাবিদ্যা অনেক আধুনিক ছিল। তারা শরীরের ক্ষত মানুষের চুল দিয়েই সেলাই করে ফেলত। দাঁতের গর্ত পূরণ করা, এমনকি নকল পা লাগানোতেও পারদর্শী ছিলেন তারা। ভাঙা হাড় জোড়া দেওয়া থেকে শুরু করে ‘পোকা’ ধরা দাঁতে চুন বা ধাতব ফিলিং করতে পারদর্শী ছিলেন প্রাচীন মায়া সভ্যতার চিকিৎসকরা।

- মায়ানরা প্রকৃতি থেকে ব্যথানাশক জরি-বুটি সংগ্রহ করত। সেই সব গাছ-গাছড়া তারা পূজায় ব্যবহার করত ধর্মীয় রীতি অনুসারে, আবার ঔষধ হিসেবেও ব্যবহার করত রোগীকে অজ্ঞান করার জন্য, কিংবা সুস্থ করার জন্য।

মায়ানদের অবিশ্বাস ঘটনা
- জ্যোতির্বিজ্ঞান বেশ উন্নত ছিলেন প্রাচীন মায়া সভ্যতার অধিবাসীরা। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে পৃথিবীতে আতশ কাঁচ আবিষ্কার হয় এই সভ্যতাতেই। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর প্রথম ক্যালেন্ডারের ধারনার জন্ম হয় এই সভ্যতাতেই।

- মায়ানরা স্টীম বাথ নিতে পছন্দ করত। তারা মনে করত স্নানের সময় ধোঁয়ার সাথে তাদের সব পাপ উড়ে যায়। সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর মহিলাদের এই ‘রৌদ্র স্নান' ছিল বাধ্যতামূলক। পাথরের টালি দিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি ঘর জল দিয়ে ভিজিয়ে-ভিজিয়ে তার ভেতরে ‘স্টিম বাথ’-এর ব্যবস্থা করা হত।

- মায়ানরা বন্দীদের কিংবা দাসদের মেরে ফেলার আগে নীল রঙ করত আর খুব অত্যাচার করত। কখনো কখনো বন্দীদের চামড়া তুলে ফেলা হত আর মায়ানদের ধর্মযাজক সেই চামড়া পরে নাচ পরিবেশন করত।

- শিশুর জন্মের কয়েক মাসের পর থেকেই তার কপালের উপর ভারী সমতল পাথর বা ধাতব বস্তু চেপে রাখা হত টানা কয়েক বছর। এই ফলে কপালের গড়ন পাল্টে চ্যাপ্টা, প্রায় সমতল আকার নিত। এই প্রথা চালু ছিল বিশেষত সম্ভ্রান্ত রাজ বংশের মধ্যেই। অন্যভাবে বলতে গেলে, অভিজাত মায়ান পরিবারে মায়েরা শিশুদের কপাল ঘষত যাতে চ্যাপ্টা কপাল হয়।

- মায়া সভ্যতার প্রায় বেশির ভাগ মানুষের চোখ ট্যারা ছিল। প্রচলিত কিছু ধর্ম বিশ্বাসের কারণে একটি শিশুর জন্মের পর থেকেই তার চোখের খুব কাছে কোনও বস্তুকে নিয়মিত ধরে রাখা হত যত দিন না দু’চোখের মণি দুটি স্থায়িভাবে পাশাপাশি চলে আসে কিংবা দু’টি চোখ ট্যারা হয়ে যায়।

- মায়া সভ্যতায় সদ্যোজাত শিশুর নামকরণের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ রীতি অনুসরণ করা হত। বছরের যে দিনে শিশুর জন্ম হচ্ছে সেই দিনটির নাম অনুসারে শিশুর নামকরণ করা হত। জন্মের সময়ের ফারাক অনুযায়ী একই দিনে জন্মানো শিশুদের নামেরও কিছু ফারাক থাকতো। মায়া সভ্যতায় সদ্যোজাত শিশুর নামকরণের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ রীতি অনুসরণ করা হত।

- উপাস্য দেবতা সূর্যকে সন্তুষ্ট রাখতে নরবলির প্রথা চালু ছিল এই সভ্যতায়। এই নরবলির জন্য যুদ্ধ করে বা রত্ন বিনিময়ের মাধ্যমে মানুষ জোগাড় করন রাজ পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সমৃদ্ধির জন্য নিয়মিত বলির আয়োজন করত তাঁরা।

মায়ান ভাষা
মায়ানদের তৈরি পাণ্ডুলিপি থেকে জানা গেছে যে, ওরা লেখার জন্যে ব্যবহার করত ছবি বা চিহ্ন। মায়ানরা লেখার কাজ চালাত তুলি দিয়ে, কলম তখনও আবিষ্কৃত হয়নি। এই তুলিগুলো তারা বানাত পশুর লোম অথবা লেজের লোমের সাহায্যে। ১৬৯৭ সালে মায়ান সাম্রাজ্য স্প্যানিসদের হাতে ধ্বংস হয়ে যায়।


Previous Page    

বিভিন্ন সভ্যতার তালিকা   


◕ পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতার রোমাঞ্চকর কথা Details..

◕ Send your story to RiyaButu.com and get ₹ 500/- Details..

◕ Bengali Story writing competition. Details..




◕ This page has been viewed 145 times.