Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
RiyaButu
A platform for writers

সর্দার বাড়ির গুপ্তধন রহস্য


বাংলা গোয়েন্দা গল্প


All Bengali Stories    22    23    24    25    26    27    28    29    30    (31)       

-হরপ্রসাদ সরকার, ধলেশ্বর - ১৩, আগরতলা, ত্রিপুরা ( পশ্চিম )




সর্দার বাড়ির গুপ্তধন রহস্য
( বাংলা গোয়েন্দা গল্প )
- হরপ্রসাদ সরকার, ধলেশ্বর, আগরতলা
১৬-১১-২০১৭ ইং



Previous Parts: Part 1   


◕ সর্দার বাড়ির গুপ্তধন রহস্য
২য় পর্ব



◕ RiyaButu.com is a platform for writers. How? Details..

◕ Story writing competition. Details..


ভুলুর মা দুর্গা মণ্ডপের সামনে একটু জায়গা গোবর দিয়ে ভাল করে লেপে পুছে দিল। পূজার সামগ্রী আর দান-ভোজ্যর থালা এনে হাজির করা হল। সুশীল মালী সেই লেপা জায়গাটিতে একটি পিতলের ছোট ঘট বসিয়ে মাটিতে লম্বা হয়ে পড়ে প্রণাম করল। তিল হরিতকী আর তুলসী পাতার জল ছিটিয়ে জায়গাটাকে বেশ শুদ্ধ করল, নিজেও শুদ্ধ হল। তারপর ধূপ ধূনা জ্বলে, শঙ্খ ঘণ্টা বাজিয়ে একটি কুশাসনে বসে খুব হাত পা নেড়ে উচ্চ স্বরে তারক মন্ত্র পড়তে লাগল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফুল বেল পাতা দিয়ে ঘটা করে ঘট পূজা খুব সুন্দর সম্পন্ন হল। পূজার শেষে সুশীল মালী আবার মাটিতে পড়ে লম্বা হয়ে আরেকটি প্রণাম করল। তারপর নিজের থলিটি খুলে একটি কাসার বাটি আর একটি লম্বা শক্ত দড়ি বের করে ঘটটির পাশে রাখল। অবাক চোখে হা করে গ্রামের বালক বালিকা, বৃদ্ধ বৃদ্ধারা বাটি চালান দেখতে লাগল। কেউ কেউ কানাফুসি করতে লাগল, " বুঝলি, বাটিটি যখন চোরকে ধরে ফেলবে তখন এই দড়ি দিয়ে শক্ত করে চোরকে বাঁধা রাখা হবে, যেন ছুটে পালাতে না পারে।"

কিন্তু না, দেখা গেল বাটিটিতে যে একটি ছোট্ট হুক আছে তার মাঝে এই দড়িটির একটি মাথা বাঁধা হল আরেকটি মাথা সুশীল মালী তার কোমরের মাঝে বাঁধল। এমনটা কেন? লোকে আবার কানাফুসি করতে লাগল, "বুঝলি, এই বাটি যখন চালান দেওয়া হবে তখন সে নদী নালা, পুকুর বিল, ঝোপ ঝাড় পার হয়ে চোরের পিছু ধাওয়া করবে। তখন এই বাটি কখনো ঘোড়ার মত দৌড়বে , কখনো খরগোসের মত লাফাবে, কখনো বুলবুলির মত উড়বে। ঐ সময় এই বাটির পিছু পিছু সুশীল মালীকেও তো ছুটতে হবে। তাই বাটিটি যেন হারিয়ে না যায় আর সুশীল মালীও যেন বাটির পিছু ঠিক ঠাক ছুটতে পারে তাই বাটিটির সাথে নিজের কমরকে আচ্ছা করে বেঁধে দিয়েছে। বাঃ সুশীল বাঃ, খাসা বুদ্ধি তোমার! চমৎকার!"


উপস্থিত যারাই এই কথা শুনল, ধন্য ধন্য করে উঠল। বলল, "সুশীলের যে এত এলেম আছে তা তো জানতাম না। ওকে দেখে ওর গুনের কথা টেরই পাওয়া যায় না। এত লিকলিকে শরীরে কত গুনের ভাণ্ডার! সত্যিই বলে লোকে, ঠুন দেখে গুন বোঝা যায় না!"

ওদিকে বাটির সাথে নিজেকে বেঁধে বাটি চালান দিতে প্রস্তুত হল সুশীল। টান টান উত্তেজনার সন্ধিক্ষণ এসে উপস্থিত। সবাই উত্তেজনায় হা করে তাকিয়ে আছে সুশীল মালীর দিকে। সুশীল নিষ্ঠা ভরে পিতলের ঘটটির সামনে হাঁটু গেড়ে বসল, যজ্ঞ শুরু করতে হবে যে। নিয়ম মত নদীর পাঁচ অঞ্জলি কালো বালু দিয়ে একটি যজ্ঞের বেদী বানানো হল। তাতে কয়েকটি সোলা আর শুষ্ক আমের ঢাল রেখে তার উপর ঝকঝকে কাসার বাটিটি বসানো হল। ঘি মধু বেলপাতা আমপাতা সবই সুন্দর সাজিয়ে রাখা হল হোমের জন্য।

সুশীল মন্ত্র উচ্চারণ শুরু করল, ক্রমে ক্রমে তার মন্ত্র উচ্চারণের মাত্রা, বেগ এবং হুঙ্কার বেড়ে যেতে লাগল। মন্ত্রের মাত্রা একসময় এমনি পর্যায়ে পৌঁছল, যেন মনে হচ্ছিল ঠেলে ঠুলে সে একাই আজ নাড়িয়ে দেবে পৃথিবী। জোর মন্ত্র পড়তে পড়তে সুশীল হাত ঘুরিয়ে ইশারা করতেই গ্রামের মেয়েরা বউরা খুব জোর উলু ধ্বনি আর শঙ্খ ধ্বনি শুরু করল। মন্ত্র উচ্চারণ করতে করতে মাথায় লাল কাপড় বেঁধে সুশীল যজ্ঞের আগুন জ্বালাতে প্রস্তুত হল। এই যজ্ঞ চলাকালীনই কাসার বাটিটি নিজ থেকেই চলতে শুরু করবে, চোরের পিছু ধাওয়া করবে। এমন অলৌকিক কাণ্ডটি দেখতে সবাই সেই মুহূর্তটি জন্য উদগ্রীব হয়ে তাকিয়ে আছে যজ্ঞের দিকে, সবার মনে চোরা খিদে।

উলু ধ্বনি আর শঙ্খ ধ্বনির মাঝেই একটি ছোট কুপি থেকে সোলা দিয়ে আগুন নিয়ে তা যজ্ঞ বেদীতে রাখল সুশীল। কিন্তু যজ্ঞের আগুন কালো বালুকে স্পর্শ করতেই ছুরুত ছুরুত করতে লাগল। মুহূর্তেই সমস্ত কালো বালু লাল আগুনে পরিণত হয়ে গেল। খুব ঘন কালো কালো ধোঁয়া বড় বড় কুণ্ডলী পাকিয়ে উপরে উঠতে লাগল। সারা আসর ধোঁয়ায় অন্ধকার গেল। কী হল? কী হল? সুশীল কোথায় আগুন লাগিয়ে দিল, সুশীলের কোথায় আগুন লেগে গেল, কেহ কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। ঠিক এমন সময় শুষ্ক আমের কাঠের নীচে হঠাৎ ঠুম ঠুম আওয়াজ করে উঠল। একটু দূরে শুয়ে থাকা দুটি কুকুর ঘেউ ঘেউ করে লাফিয়ে উঠে লেজ গুটিয়ে চোখের পলকে হারিয়ে গেল। নাকের সামনেই এত আওয়াজে দুটি লঙ্কা পটকা ফাটায়, ঘাবড়ে গিয়ে সুশীলও লাফ দিয়ে উঠল আর দুই হাত পিছিয়ে গেল। সুশীল লাফ দিয়ে উঠতেই ওর কোমরে বেঁধে রাখা দড়ির টানে কাসার বাটিটিও ওরই দিকে কিছু এগিয়ে গেল। কিংকর্তব্যবিমূঢ় সুশীল এতে আরও ঘাবড়ে গেল। সে তৎক্ষণাৎ কয়েক পা পিছিয়ে গেল, বাটিটিও তার দিকে আরও এগিয়ে এল। কী বিপদ? শঙ্খ ঘণ্টা সব থেমে গেল। সবাই এ ওর মুখের দিকে তাকাচ্ছে 'বাটি চালান বুঝি শুরু হয়ে গেছে! তাহলে কী সুশীল বেটাই চোর? ও ই বুঝি চুরি করছে সর্দার বাড়িতে?' বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ ভীরের মধ্যে থেকে কে যেন চীৎকার করে উঠল, "চোর! চোর!" ব্যস ঘটে গেল কাণ্ড! ভয়ের চোটে ভিড়ের এক ফোক্কা দিয়ে সুশীল ভোঁ করে কামানের গোলার মত প্রাণ পণে মারল এক দৌড়। সব কিছু ফেলে শুধু প্রাণটি নিয়ে সে আছাড় খেতে খেতে ঘরের পিছনে খিড়কি পুকুরের দিকে মরণ পণ ছুট দিল।

সুশীল মালী দৌড় তখন কে দেখে! নিজের ইন্দ্রলুপ্ত বাঁচাতে ও তখন ঝড়ের মত ছুটছে। সে এমনই ঘাবড়ে গেল যে নিজের কোমরে বাঁধা দড়িটি খুলতেও ভুলে গেল। ফলে দড়ির টানে কাসার বাটিটিও তারই পিছনে ছুটতে লাগল। সে যত ছুটছে , কাসার বাটিটিও ততই ছুটছে। দড়ির টানে বাটিটি উল্টে পাল্টে বিদ্যুৎ বেগে সুশীল মালীর পিছু ধাওয়া করতে লাগল। তার উপর হল আরেক বিপদ। সুশীলকে এমন ভাবে দৌড়াতে দেখে সর্দার বাড়ির বাঘা কুকুর দুটিও সুশীলের পিছু ধাওয়া করল। কুকুরগুলি সুশীলের নাগাল পেলে আজ আর তাকে আস্ত রাখবে না, তাই কুকুরগুলিকে থামাতে দুর্গাচরণ সহ আরও কয়েকজন প্রতিবেশী কুকুরের পিছু ছুটতে লাগল। কিন্তু প্রাণ বাঁচানোর তাগিতে আসল কথা বুঝার সময় নাই সুশীলের। সে ভাবল তাকেই ধরতে সবাই ছুটছে। এরই মাঝে হল সবচেয়ে বড় বিপদটা। বড় কর্তা কুকুরদের থামানোর জন্য হঠাৎ জোরে হাঁক দিয়ে বসলেন, "দাঁড়া! দাঁড়া!" এবার আর যায় কৈ? সুশীল ভাবল বড় কর্তা বুঝি তাকেই থামতে বলছেন। বড় কর্তাই যখন মাঠে নেমে গেছেন তখন একবার হাতে এলে যে আর ঘরে ফিরতে হবে না সে খবর সুশীল জানে। তাই সে ধুতি, কাছা আরও শক্ত করে ধরে তীব্র বেগে ছুটতে লাগল। টিনটিনে শরীরে ফড়িঙের মত লাফাতে লাফাতে চোখের পলকেই খেত পুকুর বন জঙ্গল পেড়িয়ে সোজা বড় রাস্তার। যা: আর তাকে দেখা গেল না। পরে জানা গিয়েছিল যে, সে একটি বাস গাড়ির পিছনে ঝুলতে ঝুলতে বিনা টিকিটে কোথাও পালিয়ে গিয়েছিল। সব খোঁজ খবর নিয়ে প্রায় আট মাস পরে মির্জাতে আবার ফিরে এসেছিল। তারপর থেকে সে নাকি আর কখনো বাটি চালানের নাম নেয়নি।

ওদিকে সেই আসরের লোকগুলি সুশীলের এমন দৌড় দেখে বলাবলি করতে লাগল, "বাব্বাঃ বাটি চালান তো মস্ত জিনিস! সত্যিই তো বাটিটি খুব বেগে চলছিল! চলছিল মানে কী, যেন পাল্টি খেয়ে খেয়ে উড়ে উড়ে যাচ্ছিল।"

কেউ কেউ আবার বলতে লাগল, "বাটিটি নিশ্চয়ই চোরকে ধরতে গেছে, চোর ধরেই তবে ফিরে আসবে! শালা চোর, এবার আর যাবি কোথায়? তবে বাপু এটা ঠিক যে, বাটি চালান এত সোজা কাজ নয়! বাটি চালানের পাশাপাশি সুশীলের মত দৌড় দেবার ক্ষমতাও তো থাকা চাই! মস্ত পরিশ্রমের কাজ।"

মুচকি হেসে বড় কর্তা গলা ভারি করে বললেন, "ঐ বালিতে বারুদ কে মিশিয়েছিল রে?"

এ কথা শুনে মাথা নিচু করে চুপচাপ হরিনাথ অন্য দিকে চলে গেল। গিন্নীর ভয়ে বড় কর্তা তা দেখেও দেখলেন না, সব বুঝেও বুঝলেন না। শুধু বললেন, "বাটি চালানেও বুঝি কিছু কাজ হল না রে। যাক, আসল চোরের খোঁজ একদিন না একদিন তো পাওয়াই যাবে। সূর্য কখনো ডুবে থাকে না রে। একদিন গঙ্গাছড়াতে সূর্য উঠবেই।"

কিন্তু না, গঙ্গাছড়া গ্রামে আর সূর্য উঠল না। সূর্য উঠলে কী সেই সূর্যকে লুকিয়ে রাখা যায়! সূর্য নিজেই বলে দেয়, আমি সূর্য। ঠিক তেমনি, কারোর কাছে পয়সা এলে সেই পয়সা সে দীর্ঘদিন লুকিয়ে রাখতে পারে না। পয়সা নিজেই বলে দেয়, সে কার! সেইদিন সর্দার বাড়িতে যে গয়না চুরি হয়েছিল তার পরিমাণ ঐ সময়ের হিসাবে প্রায় সত্তর হাজার টাকা। ত্রিশ বছর আগের সত্তর হাজার টাকার গয়নার দাম বর্তমান বাজারে কত, তা সহজেই অনুমান করা যায়।



◕ RiyaButu.com is a platform for writers. How? Details..

◕ Story writing competition. Details..

◕ লেখক / লেখিকারা আমাদের কাছে নির্দ্বিধায় গল্প / কবিতা / প্রবন্ধ পাঠাতে পারেন। তাছাড়াও RiyaButu.com Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ থাকলে নির্দ্বিধায় বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 7005246126



পরবর্তী পর্ব


◕ This page has been viewed 2304 times.


আগের পর্ব গুলিঃ পর্ব ১   


অন্য গোয়েন্দা গল্পঃ মাণিক্য   

All Bengali Stories    22    23    24    25    26    27    28    29    30    (31)