Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
RiyaButu
Read & Learn

অমৃতলাল


বাংলা ছোট গল্প


All Bengali Stories    26    27    28    29    30    31    32    33    34    35    36    37    38    (39)    40    41   

হরপ্রসাদ সরকার







অমৃতলাল
বাংলা ছোট গল্প
- হরপ্রসাদ সরকার, ধলেশ্বর-১৩, আগরতলা
৩০-১২-২০১৮ ইং


◕ Send a story and get ₹ 200/- More..

◕ Bengali Story writing competition. More..


এক গ্রামে অমৃতলাল নামে একটি ব্যক্তি বসবাস করত। সে ছিল সৎ, নিষ্ঠাবান, পরিশ্রমী আর উদ্যমী। সে নিজ উদ্যোগে অনেক ব্যবসা শুরু করেও কোনও ব্যবসাতেই সফল হতে পারছিল না। অনেক আত্ম-মন্থন করেও সে নিজের অসফলতার কারণ খুঁজে পাচ্ছিল না। শেষে একদিন সে তার গুরুর কাছে হাজির হল। গুরুদেবকে সব কথা খুলে বলল। গুরুদেব বললেন, আগামীকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তুমি আমার সাথে থাকবে। আমরা একই সাথে নগর পরিক্রমা করব। তারপরে দেখা যাক আমি তোমার জন্য কী করতে পারি!

পরদিন সারাদিন অমৃতলাল গুরুদেবের সাথে-সাথেই রইল। নগর পরিক্রমা করল, আরও নানান জায়গায় গেল। চলতে-চলতে সন্ধ্যার ঠিক আগে ওরা এক গ্রামে এসে পৌঁছল। এই গ্রাম থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে একটি জমজমাট বাজার। সেই বাজার আর এই গ্রামের মাঝে শুধু একটি জন-মানবহীন মাঠের পথ। সবাই এই পথেই চলা ফেরা করে। চোর ডাকাতের ভয় নেই, তবুও এক অজানা কারণে দিনের বেলাতেই কেউ এই পথে একা চলাফেরা করে না, দল বেধে চলাফেরা করে। সন্ধ্যার পরেই এই পথে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এতে গ্রামবাসীদের খুব অসুবিধা হয়।



অমৃতলালকে নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে গুরুদেব সন্ধ্যার পর ঐ পথে গ্রাম থেকে বাজারের দিকে আসছিলেন। ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় আসার পর তিনি হঠাৎ একটি বাঁশের কঞ্চি নিয়ে ঐ পথের পাশে গুজে দিলেন, অমৃতলালকে বললেন, "কয়েকদিনের মধ্যে তুমি এখানে একটি মুদির দোকান চালু করবে। এখানেই তুমি তোমার নতুন ব্যবসা শুরু করবে।"

গুরুর কথা শুনে খুব অবাক হল অমৃতলাল। বলল, "গুরুদেব, এখানে? এই জন-মানবহীন, নির্জন স্থানে? চলবে আমার দোকান? কে কিনবে আমার জিনিস?"

কথা শুনে হাসলেন গুরুদেব। বললেন, "ভুতে কিনবে তোমার জিনিস। তুমি কিছু ভেবো না অমৃতলাল, আমার বিভূতি তোমার দোকানে থাকবে। আমার আশীর্বাদ তোমার সাথে থাকবে। তুমি যত তাড়াতাড়ি পারো, দোকান চালু কর।"

গুরুর বাক্যকে বেদবাক্য মনে করে অমৃতলাল কয়েকদিনের মধ্যেই গুরু কর্তৃক চিহ্নিত, নির্জন স্থানে তার নতুন দোকান চালু করল। অনেকে তাকে নিয়ে খুব হাসাহাসি করল, খুব ব্যঙ্গ করল। কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতে-না ঘুরতেই দেখা গেল অমৃতলালের দোকান খুব জমে উঠেছে। প্রচুর লোক দোকানে আসছে, জিনিস কিনে নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কেউ ভুত নয়, সবাই গ্রামের লোক। কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রামে-গ্রামে ছড়িয়ে পরল অমৃতলালের দোকানের কথা। এর কারণও ছিল; গ্রামের লোকজন আগে ঐ নির্জন পথে যাতায়াত করতে ভয় পেত। এখন ওখানে অমৃতলালের দোকান থাকায় অনেকেই অমৃতলালের দোকানকে ভরসা করে চলাফেরা করতে লাগল। দেখতে-দেকতে দোকানটি নারী-পুরুষ সবার কাছে এক পরম বন্ধুর মত মনে হতে লাগল। ওরা ভাবতে লাগল, এই অমৃতলালের দোকান যদি এখান থেকে উঠে যায় তবে তাদের আগের মতই আবার খুব কষ্টের সম্মুখীন হতে হবে। তারচেয়ে ভাল, দোকানটি থাকুক, আমরাও বাঁচি। ফলস্বরূপ গ্রামবাসীরা অতি খুশি মনে, আসা যাওয়ার পথে এই দোকান থেকে জিনিস-পত্র কিনতে লাগল। ওরা দেখল, আরে, এই দোকানে তো খুব ভাল জিনিস পাওয়া যায় একেবারে বাজারের দামে। এখানেই যদি ভাল জিনিস পাওয়া যায় বাজারের দামে, তবে রাত-বিরাতে এত কষ্ট করে পায়ে হেটে বাজার পর্যন্ত যায় আর কোন পাগলে? দিনে-দিনে অমৃতলালের ব্যবসা খুব সফল হয়ে উঠতে লাগল। যে অমৃতলাল সেদিন যা কল্পনাও করতে পারেনি, গুরুদেব সেদিন সব কিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুভব করতে পেরেছিলেন, আর তাই তিনি অমৃতলালকে ওখানেই দোকান দিতে বলে ছিলেন।

◕ Bengali Story writing competition. More..




পরের 'ছোট গল্প' আগামী রবিবারে প্রকাশিত হবে।
লেখক / লেখিকাদের কাছে স্বরচিত লেখা আহবান করছি।

◕ This page has been viewed 163 times.


ত্রিপুরার পটভূমিতে রচিত গোয়েন্দা গল্প:
মাণিক্য
সর্দার বাড়ির গুপ্তধন রহস্য
প্রেমিকার অন্তর্ধান রহস্য
লুকানো চিঠির রহস্য


Top of the page

All Bengali Stories    26    27    28    29    30    31    32    33    34    35    36    37    38    (39)    40    41