Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
A platform for writers

নিয়তি ( ছোট গল্প )

- রিয়া পণ্ডিত, দক্ষিণ তারাপুকুর, আগরপাড়া, কলিকাতা - ১০৯

All Bengali Stories    65    66    67    68    69    70    71    72    (73)     74   



◕ RiyaButu.com is a platform for writers. How? Details..

◕ Story writing competition. Details..




◕ নিয়তি ( ছোট গল্প )
- রিয়া পণ্ডিত, দক্ষিণ তারাপুকুর, আগরপাড়া, কলিকাতা - ১০৯

এখন গ্রীষ্মকাল বটে কিন্তু আজ সকাল থেকেই কেমন মেঘলা হয়ে আছে আকাশটা। ঝিরি-ঝিরি বৃষ্টিও শুরু হয়ে গেছে বলতে গেলে। ঘুম থেকে উঠে আলেখ্য চোখ ডলতে-ডলতে জানলার সামনে গিয়ে দাড়ায়; বৃষ্টির প্রতি আলাদাই টান ওর। বাইরে বৃষ্টি দেখতে-দেখতে হঠাৎ ওর চোখ পড়ল সামনের বাড়ির জানলাতে ওর থেকে বছর ১ বা ২ ছাট হবে হয়ত একটি মেয়ের দিকে। মায়া ভরানো মুখটায় এক গাল হাসি এঁকে জানলা দিয়ে ছোট হাতটি বাড়িয়ে বৃষ্টির প্রতিটি বিন্দুর সাথে খেলায় মেতে উঠেছে; হাতে বৃষ্টির জল পড়তেই খিল খিলিয়ে হেসে উঠছে। ওমনি মেয়েলি কণ্ঠ ভেসে এল, "মৌ....", দূর থেকে আসতে-আসতে এখন অনেকটাই কাছে শোনা গেল কণ্ঠটা, মহিলাটি জানলার দিকেই আসতে-আসতে বললেন, "মৌ আবার বৃষ্টিতে ভিজছিস তুই! কতবার বারণ করেছি! শরীর খারাপ করবে ত! একটাও কথা শোনে না মেয়েটা," বলতে-বলতে জানলাটা দিয়ে দিল। আলেখ্যও এতক্ষণ মেয়েটিকে বৃষ্টির জল নিয়ে খেলতে দেখে আনন্দ পাচ্ছিল, জানলা বন্ধ করতেই হতাশ হয়ে গেল। - "কীরে বাবাই ব্রাশ করেছিস? ব্রেকফাস্ট রেডি কিন্তু!" আলেখ্যর মা ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললেন। আলেখ্য মিচকি হাসি দিয়ে ছুটে পালিয়ে গেল ব্রাশ করতে।

আলেখ্য মজুমদার; নবদ্বীপের এক ছাট পরিবারের এক মাত্র ছেলের ছেলে। বাবা, মা, ঠাকুমা আর আলেখ্যকে নিয়ে এই ছাট পরিবার। ওদের পারিবারিক অবস্থা বেশ ভালই। আলেখ্য নামটা শুধু স্কুলেই ব্যবহার করা হয়। বাড়িতে ও পড়ার সব বন্ধুরা আলেখ্যকে বাবাই নামেই ডাকে। আলেখ্য ক্লাস ফাইভ এ পরে। এখন গরমের ছুটি চলছে তাই পড়াশোনাটা একটু কম আর খেলাধুলাটাই বেশি চলছে বলতে গেলে। সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আজ নীচে খেলতে যাওয়া হল না আলেখ্যর। ঠিক করল, স্কুলের ছুটির কাজ কিছুটা এগিয়ে রাখবে, তাই সকাল বেলা পড়াশুনা করে দুপুরের দিকে বৃষ্টি কমলে খেলতে নামবে মনে করল। পড়াশুনার দিক দিয়ে ও খুব ভাল ছাত্র, অন্যান্য বাড়ির বাচ্চাদের যেমন বকাবকি করে পড়তে বসাতে হয়, আলেখ্যকে সটা হয়না; সে নিজে থেকেই সময় মত পড়তে বসে যায়। এদিক থেকে আলেখ্যর মা নিশ্চিন্ত। পড়তে-পড়তে আলেখ্যর ওই মেয়েটার কথা মনে পড়ল, "ওকে ত আগে কখন এখানে দেখিনি! এখানকার সবাই ত আমার চেনা। আর ওটা ত রাকেশদের বাড়ি। ওদের বাড়িতে ওই মেয়েটা কি করছে? খেলতে গেলে জিজ্ঞেস করতে হবে ওকে," আপন মনে বলতে-বলতে আবার পড়ায় মন দিল সে।

( বিকেল ৪ টে)
বৃষ্টি থেমে গেছে ... আকাশের সমস্ত কাল মেঘ কটে গিয়ে লাল আভা মেশানো সূর্যের আল ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। আলেখ্য বাড়ির বাইরে বেরিয়ে পড়ল। বেরোতেই দেখল রাকেশ অপেক্ষা করছে ওর জন্য। এটা ওদের রোজকার নিয়ম, কিন্তু আজ একটু তফাৎ ঘটল নিয়মে। আজ রাকেশ একা নয়, সাথে সকালের সেই মেয়েটাও; তাকে দেখে আলেখ্যর অজান্তেই মুখে হাসি ফুটে উঠল।

- "ও কে রাকেশ?" আলেখ্য রাকেশকে জিজ্ঞেস করল।

-"ও আমার পিসতুত বোন মৌ, কাল রাতেই এসেছে। এখন গরমের ছুটি চলছে না, তাই সারাদিন আমার পিছু-পিছু ঘুরবে। আমাকে বেরোতে দেখে আমার সাথে চলে এল, তাই নিয়ে আসলাম," রাকেশ আলেখ্যকে বলল।

-" ভালই করেছিস। ও খেলবে আমাদের সাথে, বেশ মজাই হবে। " খুব উৎসাহ সহকারে আলেখ্য বলল রাকেশকে।

সেদিন থেকে আলেখ্য খুঁজে পেল ওর নতুন খেলার সাথীকে। সবার সাথে আলেখ্য মিশত না; এক ছিল রাকেশ সেদিন থেকে মৌকেও পেল বন্ধু হিসেবে। মৌও নম্র- সুমধুর গলায় সারাদিন ওর বাবাই-দাকে খুঁজে বেড়াত চারিপাশে। আলেখ্যরও মৌ এর সঙ্গ খুব ভাল লাগত; আলাদাই অজানা এক টানের সৃষ্টি হয়েছিল দুজনের মধ্যে। যতই বয়স বাড়তে থাকল সেই টানে মৌ বারবার ছুটে আসত ওর বাবাই-দার সাথে খেলার জন্য, গল্প করার জন্য, সময় কাটানর জন্য। এরকম পরপর দুই-তিন বছর গরমের ছুটিতে মৌ নবদ্বীপে আসত ছুটি কাটাতে।

দুজনের মধ্যে যে টানের সৃষ্টি হয়েছিল সটা কি? ওরা নিজেও জানত না .....হয়ত বোঝার বয়সটা তখনও হয়নি ওদের। তবে ওদের একে-অপরের সঙ্গ খুব ভাল লাগত। যটা আগে কোন বন্ধুর প্রতি হয়নি সেই টানটাই সৃষ্টি হয়েছিল দুজনের মধ্যে। কিন্তু যত উঁচু ক্লাসে উঠতে থাকল, মৌ-এর যাতায়াত কমে গেল। বলা ভাল, ও আসা বন্ধ করে দিল। মৌ-এর বাড়ির লোক ওকে আর আসতে দিত না পড়ার চাপের জন্য। প্রথম-প্রথম আলেখ্যর খুব খারাপ লাগত, মৌও কষ্ট পেত মনে-মনে। ধীরে-ধীরে যত বয়স বাড়ল পারিপার্শ্বিক পরিবেশের প্রভাবে আলেখ্য সবটা ভুলে যেতে থাকল, মৌও আসা বন্ধ করে দিল। কথায় আছে, মানুষ বদলায় না পরিস্থিতি মানুষকে বদলে যেতে বাধ্য করে। এর মাঝে অনেকটা সময় কটে গেছে ...

এক বছর হল আলেখ্য কোলকাতায় হোস্টেলে থেকে রবীন্দ্র ভারতীতে জিওগ্রাফি অনার্স নিয়ে পড়াশুনা করছে। ছোটো থেকেই গ্রামে বড়ো হয়ে উঠেছে আলেখ্য, কিন্তু শহরের আবহাওয়ায় নিজেকে মানিয়ে নিতে খুব একটা সময় লাগেনি ওর। কলেজে অনেক বন্ধু-বান্ধব পেয়েছে আলেখ্য, সবার সাথে খুব সহজেই মিশে গেছে ছেলেটা। ওর বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে প্রায় সকলেই প্রেম করে, এক আলেখ্য বাদে। যখন কেউ এই প্রসঙ্গ তুলে, তখন আলেখ্য একটাই কথা বলে, "এত সহজে আমি কারো প্রেমে পড়ি না। যেদিন দেখবি কাউকে দেখে আমার এই চোখ আটকে গেছে, আমার মুখে নিজের অজান্তেই হাসি ফুটে উঠেছে, সেদিন বুঝে নিস আমি প্রেমে পড়েছি। যদিও বা এখন পর্যন্ত এরকম কিছু কাউকে দেখে হয়নি।"

কলেজে আলেখ্যর সব থেকে কাছের বন্ধু হচ্ছে ঈশান। বলতে গেলে ওরা বেস্ট ফ্রেন্ড, একসাথেই হোস্টেলে থাকে। আলেখ্য এখন কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে উঠেছে, কাল থেকে ওদের কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস শুরু। ওর বন্ধুরা আশায় বসে আছে নতুন কোন সুন্দরী পেলেই আগের জনের সাথে ব্রেকআপ করবে। অনেকের ইচ্ছা দু'নৌকায় পা দিয়ে চলবে। আলেখ্যর এসব ব্যাপার নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই। মন দিয়ে পড়াশোনাটা চালিয়ে যাওয়াই ওর লক্ষ্য। ওর দৃঢ় বিশ্বাস সবার জীবনেই কেউ-না কেউ আসে, যে সারাজীবন থেকে যায়। আলেখ্য তারই অপেক্ষায় আছে। সে এসব টাইম পাশে বিশ্বাসী না। সময় কাটানোর জন্য জীবনে অনেক কিছুই করার আছে; শুধু-শুধু কারো মন নিয়ে খেলে সময় নষ্ট করার শিক্ষা আলেখ্য পায়নি।

সকাল ১০ টার মধ্যে আলেখ্য আর ঈশান ক্লাসে চলে গেল। আজ ১১টা থেকে ওদের অনার্স ক্লাস। ওরা সব সময় একটু আগেই কলেজে চলে যায়। সারাদিন একসাথে থেকেও ওদের গল্প শেষ হয়না, তাই আগে গিয়ে আড্ডা জমিয়ে বসে। ১২ টায় ক্লাস শেষ হয়ে গেল। আলেখ্য, ঈশান আর ওদের গ্রুপের কয়েকজন ঠিক করল ক্যান্টিনে যাবে। স্যার বেরিয়ে গেলে ওরাও ক্লাস থেকে বেরোতে যাচ্ছিল ওমনি একজনের সাথে আলেখ্যর ধাক্কা লাগল..

একটি মেয়ে; গোলাপি রঙের কুর্তি পড়া আর ব্লু জিন্স, ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক, ঘন কাল চুলগুলি পিঠ অব্দি বিছানো। আর তার কালো দুটি চোখে আলেখ্যর চোখ আটকে গেল। সেই দুটি চোখ আলেখ্যর সমস্ত ভাবনার মাঝে কেমন করে যেন চেয়ে ছিল, আলেখ্যর জীবনে কেমন করে যেন জেগে উঠল সেই মুখ। আলেখ্যর মুখে ওর অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল, সামান্যের মাঝে অসামান্যকে খুঁজে পেল আলেখ্য।

ঈশান পুরো ব্যাপারটাই খেয়াল করল, মনে-মনে বলল, " যা-যা বলেছিল সবটা মিলে যাচ্ছে! এই ছেলে শিওর প্রেমে পরেছে।"

ঈশান হালকা কাঁসি দিয়ে বলল, " কীরে আলেখ্য যাবি না? দেরি হয়ে যাচ্ছে ত!" এতক্ষণে আলেখ্যর ভাবনায় ছেদ পড়ল। মেয়েটা পরে যাচ্ছিল বলে এতক্ষণ আলেখ্য মেয়েটার হাতটা ধরেই ছিল। তাড়াতাড়ি ওকে ছেড়ে দিয়ে 'সরি' বলে পাশ কাটিয়ে চলে গেল আলেখ্য আর ওর বন্ধুরা। আলেখ্য একটা জিনিস খেয়াল করল না, যখন আলেখ্য চলে যাচ্ছিল মেয়েটা ওর যাওয়ার পানে এক অদ্ভুত মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে ছিল। সমস্ত ক্লাস শেষ করে আলেখ্য আর ঈশান হোস্টেলের রুমে চলে এল। আলেখ্য ফ্রেশ হতে যাচ্ছিল ওমনি ঈশান ওর সামনে গিয়ে দাড়িয়ে পড়ল, " না-না এখন যাওয়া হবে না। আগে একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, বল দিবি?"

- " কী প্রশ্ন?? করলে তাড়াতাড়ি কর, " আলেখ্য বিরক্তি ভাব নিয়ে বিছানায় বসে পড়ল।

-" সকালের কেসটা কি ছিল ভাই?" ঈশান শয়তানি হাসি হেসে আলেখ্যকে জিজ্ঞেস করল।

-" কোন কেস? এত হেঁয়ালি না করে সোজাসুজি বল, " ভুরু কুচকে ঈশানকে বলল আলেখ্য।

-" আরে ওই যে মেয়েটার সাথে ধাক্কা খেলি। তুই যে বলেছিলি যখন তুই প্রেমে পড়বি তখন যা-যা হবে, আজ ত সেগুলি হল; তার মানে কি?" ঈশান আলেখ্যকে জিজ্ঞেস করল।

আলেখ্যর মুখে আবার হাসি ফুটে উঠল। সামান্য লজ্জা পেয়ে মাথা চুলকাতে-চুলকাতে বলল, " হতেও পারে!" বলেই আলেখ্য ফ্রেশ হতে চলে গেল। আলেখ্যর মনটা খুব স্বচ্ছ; ওর মনে যটা থাকে সটা মুখে চলেই আসে। সেদিনের পর থেকে আলেখ্যর হাবভাবটা একটু বদলাতে শুরু হল। নিজের প্রতি একটু বেশি যত্ন নেওয়া, পড়তে-পড়তে হঠাৎ করে ভাবনায় হারিয়ে যাওয়া, একা একাই মুখে হাসি ফুটে ওঠা; ঈশান ব্যাপারটা ভালই বুঝতে পারত যে, ছেলে প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে।

আলেখ্য আর মেয়েটা যেহেতু একই ডিপার্টমেন্টে তাই মাঝে-সাঝে মেয়েটার সাথে কথা বলার সুযোগ পেত, কিন্তু সটা শুধুই পড়াশোনা নিয়ে। আসলে যেহেতু আলেখ্য ওদের ডিপার্টমেন্টর বেস্ট স্টুডেন্ট আর সিনিয়র, তাই ফাস্ট ইয়ারদের কোন সাজেশনের দরকার পড়লে সবাইকে আলেখ্যর কাছেই যেতে হত; সেই মেয়টাও বাদ যায়নি। এত সবের মাঝেও আলেখ্য নিজে থেকে মেয়েটার নাম জেনে উঠতে পারেনি। ঈশানের ওই মেয়েটার এক কাছের বান্ধবীর সাথে বেশ ভাল বন্ধুত্ব জমে উঠেছিল। ওর মুখ থেকেই আলেখ্য জানতে পারে, মেয়েটার নাম অন্তরা চৌধুরী। বাড়ি কোলকাতাতেই, পার্ক স্ট্রিট-এর কাছে। সামনেই দোল উৎসব আসছিল। রবীন্দ্র ভারতীর দোল উৎসব কোলকাতার সেরা দোল উৎসব। আলেখ্য ঠিক করেছে ওই দিনই অন্তরাকে নিজের মনের কথা জানিয়ে দেবে। দেখতে-দেখতে সেই দিন উপস্থিত হল -- সকাল থেকেই গান বাজছে " রাঙিয়ে দিয়ে যাও ..." নানারকম অনুষ্ঠান, চারিদিকে ভিড়। সবাই দোল খেলায় মেতে উঠেছে, কিন্তু আলেখ্যর মুখে কোন রঙ নেই। দিতে এসেছিল বন্ধুরা, কিন্তু ওর ইচ্ছা সবার প্রথম রঙটা আজ অন্তরার কাছ থেকে নেবে। তাই ওর ব্যাকুল দুই চোখ দুটি অন্তরাকে খুঁজে চলেছে চারিপাশে, শেষ অব্দি খুঁজে পেয়ে গেল; অন্তরা ওর বন্ধু রিমার সাথে দাড়িয়ে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে সবে মাত্র এসেছে ওরা, এখনো রঙ খেলা শুরু করেনি। আলেখ্য ছুটে ওর কাছে গেল -- " অন্তরা," অন্তরার কাছে গিয়ে ডাকল আলেখ্য।

অন্তরা আলেখ্যর দিকে ঘুরে তাকাল।

-" অন্তরা তোমার সাথে কিছু কথা আছে। একটু এদিকে আসবে প্লিজ, খুব জরুরি, " খুব নম্র ভাবেই আলেখ্য বলল কথাগুলি।

অন্তরাও কথা না বাড়িয়ে ওর সাথে-সাথে গেল। দুজনে ভিড় থেকে একটু দূরে একটা গাছের নীচে দাড়িয়ে। আলেখ্য খুব নার্ভাস ফিল করছে, আগে কখনো কাউকে মনের কথা বলতে হয়নি এভাবে, থেকে-থেকে ঘাম মুছে চলেছে সে। অন্তরাও পরিস্থিতি খানিকটা আন্দাজ করতে পারছে আর মুখ টিপে হাসছে। ফাইনালি আলেখ্য মনে সাহস জুগিয়ে বলা শুরু করল, " দেখো অন্তরা, আমি সব সময় চেয়েছি আমার জীবনে এমন কেউ আসুক যে সারাজীবন থেকে যাবে, আজ অবধি তেমন কাউকেই খুঁজে পাইনি কিন্তু তোমায় যেদিন প্রথম দেখলাম মনে হল তুমি সে-ই, জানি না কেন তোমায় খুব আপন মনে হচ্ছিল, একটা টান অনুভব করছিলাম তোমার প্রতি, তোমায় ভালবেসেছি অন্তরা। দেখো আমি অন্যদের মত পারি না, ফুল দিয়ে হিরোদের মত মনের কথা প্রকাশ করতে। আমি শুধু একটাই কথা বলবো, " আমার সারাজীবনের পথ চলার সঙ্গী হবে অন্তরা? কথা দিচ্ছি সারাজীবন তোমার সাথে থাকবো।"

অন্তরার চোখে জল এল। ও যেমনটা ছেলের স্বপ্ন দেখত আলেখ্য ওরকমই। তারপর কিছুক্ষণ পরে মুচকি হেসে বলল, " হমম হবো। তোমার পথ চলার সাথী। যেদিন তোমায় প্রথম দেখেছিলাম এক অজানা টান আমিও অনুভব করেছিলাম তোমার প্রতি। তোমার ব্যাপারে অনেক খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি তুমি আমার মনের মত ছেলে যার অপেক্ষা আমি করছিলাম। আমি এটাও জানতাম তুমি আমায় ভালোবাসো। রিমার কাছ থেকে জানতে পেরেছিলাম, তোমার বন্ধু ঈশান ওকে বলেছিল। সেদিন থেকে শুধু এই দিনটার অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু এই দিনটা এতটা স্পেশাল হবে সটা আমি ভাবতে পারিনি। তোমাকে আমার জীবনে পেলে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করবো।" আলেখ্য এক ভুবন ভোলান হাসি দিল, আজ ও খুব খুশি। অন্তরাকে প্রশ্ন করল, " আবির লাগাতে পারি ?"

- " নিশ্চয়ই!", অন্তরাও হাসি দিয়ে বলল।

এই বসন্ত ওদের জীবনের সেরা বসন্ত হয়ে উঠল। আস্তে-আস্তে দুজনে দুজনের আরও কাছাকাছি চলে এসেছে, এই ক'দিনে খুব ভাল ভাবে জেনে নিয়েছে দুজন দুজনকে। যতদিন গেল ওদের প্রেমটা আরও গভীর হয়ে উঠল। অন্যান্যদের মত ওরা বোরিং হয়ে যেত না, রোজ নতুন করে একে অপরের প্রেমে পড়ত। এভাবে একটা বছর কটে গেল, এখন দুজনেরই পরীক্ষা শেষ।

( রাত ৯ টা। )
আলেখ্যর ফোনে ফোন এল।

অন্তরা - "হ্যালো।"

আলেখ্য -" হম বল।"

অন্তরা - " তোমাকে বলতে ভুলেই গেছিলাম আমি কোলকাতার বাইরে যাচ্ছি, আমার এক দাদার বিয়ে কয়েকদিন ওখানেই থাকতে হবে।"

আলেখ্য - "ও আচ্ছা! ভাল ত। আসলে আমিও ভাবছি বড়ি থেকে ঘুরে আসবো, মা অনেক জোরাজুরি করছে, বলছে কিছু দিন ওখানে থেকে আসতে। একটু আগেই ঠিক হল আমিও কাল চলে যাচ্ছি। "

অন্তরা - " ওকে সাবধান যাবে কিন্তু, আর পোঁছে আমায় জানিয়ে দেবে। কী মনে থাকবে ত? "

আলেখ্য - " অবশ্যই ম্যাডাম।"

অন্তরা - " ওকে বাই, সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে হবে, লাভ ইউ।"

আলেখ্য - " বাই, লাভ ইউ টু।"

পরদিন প্রায় রাত হয়ে গেল নবদ্বীপ পৌঁছাতে-পৌঁছাতে। বাড়ি পৌঁছে সবার সাথে একটু সময় কাটিয়ে আলেখ্য অন্তরাকে ফোন দিল --

অন্তরা - " হ্যালো, পোঁছে গেছো ঠিক মত?? তোমারই ফোনের অপেক্ষায় ছিলাম।"

আলেখ্য - " হমম পৌঁছে গেছি, তুমি পৌঁছে গেছো?"

অন্তরা - " হমম আমিও, আচ্ছা তুমি এখন রেস্ট নাও, সকালে কথা বলছি।"

আলেখ্য - "ওকে।"

ফোনটা রেখে আলেখ্য ছোটো বেলার অভ্যাস মত আবার সেই জানলায় গিয়ে দাঁড়াল। পর্দা সরাতেই আলেখ্য দেখতে পেল এক চেনা মুখ ওরই জানলার দিকেই তাকিয়ে; 'অন্তরা!' বিস্মিত ভাবে তাকিয়ে রইল আলেখ্য।

অন্তরাও খুব অবাক। ফোনটা নিয়ে সাথে-সাথে আলেখ্যকে ফোন দিল -

অন্তরা - " তার মানে, তুমিই সেই বাবাই দা?"

আলেখ্য - "আর তুমি মৌ?"

দু'জেনেই খুব অবাক হয়ে প্রশ্ন করল। অন্তরা - " হমম আমি তোমার সেই মৌ।" অন্তরার চোখে জল চলে এল। আজ আলেখ্যর চোখেও জল এল। ওদের ভালবাসা আরও দ্বিগুণ বেড়ে গেল একে অপরের প্রতি। এ এক পরম প্রাপ্তি, দুজনেই দুজনের ছোটবেলার সেই সুপ্ত ভালবাসাকে খুঁজে পেয়ে গেল, জীবনের প্রথম ভালবাসা পাওয়ার সৌভাগ্য কজনেরই বা লাভ হয়?

( ৫ বছর পর )
দেখতে দেখতে বিয়ের দিন উপস্থিত হল। লাল টুকে-টুকে বেনারসিতে অন্তরাকে অসাধারণ লাগছে আজ ,আর বরের সাজে আলেখ্যকেও। অন্তরা পান পাতা সরালে আলেখ্য মন্ত্র মুগ্ধ হয়ে ওই দুই কাল চোখে চেয়ে রইল। ছোটবেলার সেই ছাট মৌ আজ ওর স্ত্রী হতে চলেছে, খুশির বন্যা বয়ে চলেছে দুজনের মনের মধ্যে। পাশ থেকে আওয়াজ এল ... "আগে বিয়েটা করে নে। তারপর সারাজীবন বসে বসে দেখিস। নাহলে লগ্ন বয়ে যাবে!" ঈশান আলেখ্যকে বলল ব্যঙ্গ করে। সবাই একসাথে হেসে উঠল। অবশেষে আলেখ্য আর অন্তরার শুভ বিবাহ সম্পন্ন হল।


All Bengali Stories    65    66    67    68    69    70    71    72    (73)     74   



◕ RiyaButu.com is a platform for writers. How? Details..

◕ Story writing competition. Details..

◕ লেখক / লেখিকারা আমাদের কাছে নির্দ্বিধায় গল্প / কবিতা / প্রবন্ধ পাঠাতে পারেন। তাছাড়াও RiyaButu.com Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ থাকলে নির্দ্বিধায় বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 7005246126



◕ This page has been viewed 186 times.