Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
Read & Learn
 

গল্প-গাঁথা

পৌরাণিক

All Pages   ◍  Page:1   ◍   2    3    4    5    6    7    ...







এক রাজা সকাল সন্ধ্যায় তার রাজপ্রাসাদের ছাদে হাটাহাটি করতেন। রোজ তিনি দেখতেন পাশের পথটি দিয়ে একটি কাঠুরিয়া সকালে কাঠ কাটতে বনে যায় আরে বিকালে শুকনো কাঠ নিয়ে ঐ পথেই ফিরে আসে। রাজা যখন সকালে কাঠুরিয়াকে দেখেন তখন তার মনে কাঠুরিয়া জন্য খুব দয়া হয়। মনে হয় তাকে ১০০ স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে দেই। কিন্তু রাজা বিকালে যখন কাঠুরিয়াকে দেখেন তখন তার মনে হয়, এই পাজিটাকে যদি ফাঁসি দিতে পারতাম। একই কাঠুরিয়ার প্রতি রাজার মনের এমন পরিবর্তন কেন হয়, এই প্রশ্ন রাজা তার মহামন্ত্রীকে করলেন। মহামন্ত্রী দুই দিন সময় চাইলেন।



প্রথম দিন তিনি ছদ্মবেশে সকাল বেলাতে কাঠুরিয়ার পিছু নিলেন। তার সাথে ভাব জমালেন আর কাঠুরিয়ার সাথে বনে অনেক ঘুরাঘুরি করলেন। বিকালে আবার তার সাথে ফিরে এলেন। এমন চলল দুদিন। তারপর মহামন্ত্রী রাজার সামনে এসে হাজির হলেন।

তিনি রাজাকে বললেন “মহারাজ , আমি আপনার প্রশ্নের উওর খুঁজে পেয়েছি। সকালে কাঠুরিয়া যখন বনে কাঠ কাটতে যায় তখন সে মনে মনে ভাবে ‘সারাদিনের জন্য বনে যাচ্ছি, কি জানি আজ ভাল-শুকনো কাঠ পাবে কিনা ! ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কত কষ্ট পাতে হবে, তবু কঠোর পরিশ্রম করে ভাল কাঠ আনতে হবে। তা না হলে আমার ছেলে-মেয়েরা খাবে কি? বনে কত বাঘ-ভাল্লুক আছে। কত চোর-ডাকাত লুকিয়ে থাকে সেখানে। সাবধানে থাকতে হবে।’ এই কাঠুরিয়াই বিকালে যখন ফিরে আসে তখন সে মনে মনে ভাবে ‘ঘরে এত চন্দন কাঠ জমিয়ে রেখেছি, সেগুলি কোন কাজেই আসছে না ! না জানি কবে এই রাজা মরবে আর তার চিতা সাজাতে আমার এই চন্দন কাঠগুলি রাজবাড়িতে বিক্রি করতে পারব।’ ”

মহামন্ত্রী আবার বলতে লাগলেন “মহারাজ, আমাদের মন ও একটা আয়না। এই মনে অন্যের মনের প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। যেমন আপনার সাথে হয়েছে। আবার আমাদের মন চারিদিকে আমাদের ভাবনার তরঙ্গ ছড়িয়ে দেয়, যা অন্যকে প্রভাবিত করে। যেমনটা কাঠুরিয়ার সাথে হয়েছে।” রাজা সব বুঝতে পারলেন। পরদিন তিনি কাঠুরিয়াকে ডেকে তার সব চন্দন কাঠ কিনে নিলেন।

Top of the page

পাথরের মূর্তি

- প্রচলিত



Popular Google Pages:

এক শিল্পী ছিল। সে পাথর কেটে খুব সুন্দর মূর্তি বানতে পারত। সে একদিন এক বনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সেখানে সে দুটি পাথর দেখতে পেল। পাথর দুটিকে দেখে তার মনে হল এগুলি দিয়ে খুব সুন্দর দুটি মূর্তি বানানো যাবে। সাথে সাথেই সে সেখানে মূর্তি বানানোর কাজে লেগে গেল।
হাতুড়ি, ছেনী দিয়ে সে প্রথম পাথরটাকে কিছু আঘাত করতেই পাথরটা কাঁদতে শুরু করল। বলতে লাগল আমার বড় কষ্ট হচ্ছে। তুমি তোমার কাজ বন্ধ কর।
শিল্পী বলল “আমার কাজ হয়ে গেলে তোমাকে যে দেখতে খুব সুন্দর লাগবে। তুমি নতুন রূপ, নতুন আকার পাবে।”
পাথর বলল “তার আগেই যদি আমি ভেঙ্গে যাই। না বাবা তোমার ঐ হাতুড়ি, ছেনী রেখে দাও। আমার কাজ নেই নতুন রূপের, সুন্দর রূপের।”
শিল্পী ঐ পাথর ছেড়ে অন্য পাথরটাকে হাতুড়ি ছেনী মারতে লাগল। সেই পাথরটাও যন্ত্রণায় কাঁদতে লাগল , তবে সে শিল্পীকে কিছু বলল না।
শিল্পী তাকে জিজ্ঞাস করল “কি? তোমার কি ব্যাথা লাগছে না?”
পাথরঃ হ্যাঁ, কষ্ট তো হচ্ছে , কিন্তু তুমিই তো বললে আমি একটা নতুন রূপ পাব, একটা সুন্দর রূপ পাব।
শিল্পীঃ হ্যাঁ, সে তো বটে। কিন্তু যদি তুমি আমার হাতুড়ি-ছেনীর আঘাতে ভেঙ্গে যাও?
পাথরঃ হ্যাঁ, সে ও হতে পারে। কিন্তু যদি না ভাঙ্গি !! আর যদি ভেঙ্গেই যাই তবে তুমি তাদের আবার সুন্দর রূপ দেবে।
শিল্পী হা হা করে হেসে উঠল।
সে পাথরটাকে খুব সুন্দর শ্রীকৃষ্ণের রূপ দিল। মূর্তি তৈরীর পর সে তাদের কাছে থেকে বিদায় নিয়ে তার পথে চলে গেল। অনেক বছর পর, তখন সে অতি বৃদ্ধ আবার ঐ পথ দিয়ে ফিরে এলো।ঐখানে এসে সে দেখতে পেল পাথর দুটি ওখানে নেই। তবে পাশেই একটা মন্দির তৈরী হয়েছে। অনেক লোক সেখানে পূজা দিতে যাচ্ছে। সে ও মন্দিরের ভীতরে গেল।
সেখানে সে দেখল তার গড়া শ্রীকৃষ্ণের মূর্তিটা সবাই পূজা দিচ্ছে আর নীচেই পড়ে আছে সেই পাথরটি দুটি টুকরা হয়ে যে হাতুড়ি-ছেনীর ঘা সহ্য করতে চায় নি। লোকে তার উপরে জোরে জোরে আছাড় দিয়ে নারকেল ভেঙ্গে পূজা শুরু করছে।
দুটি পাথরই শিল্পীকে চিনতে পারল। মূর্তির পাথরটা বলল “তুমিই তো আমার গুরুদেব। তোমার কারণেই আমার এই রূপ, এই আকার, এই সম্মান।”
অন্য পাথরটি হাউমাউ করে কেঁদে বলল “হে শিল্পী আমাকে বাঁচাও, আমাকে বাঁচাও। রোজ রোজ এত আঘাত আমি আর সহ্য করতে পারছি না।”



Top of the page



All Pages   ◍  Page:1   ◍   2    3    4    5    6    7    ...