Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
Read & Learn
 

Bangla Story

( বাংলা গল্প )

All Pages   ◍    6    7    8    9    (10)     11    12    13    ...


শিল্পের দাম

- হরপ্রসাদ সরকার


An offer to make a Website for you.

hostgator




নয়ন কুমার আর অসীম দুই বাল্য বন্ধু। দুজনই ধনী ঘরের সন্তান। এক সাথে পড়াশুনা, এক সাথে খেলাধুলা। নয়ন কুমার ছোট বেলা থেকেই ভাল গল্প, কবিতা লিখত আবার ভাল গান ও গাইত। স্কুলে, পড়ার অনুষ্ঠানে সে তার লেখা গল্প, কবিতা পাঠ করে শোনাত। কোথাও আবার গান শোনাত। লোকের ও খুব ভাল লাগত। গল্প,কবিতা আর গান ছিল তার জন্মগত গুন।

অপর দিকে অসীমের আবার তেমন কোন গুন ছিল না। তবে সে বন্ধু নয়নের সাথে এখানে ওখানে অনুষ্ঠানে যেত। বন্ধুর সাথে সাথেই থাকত। নয়নের কবিতা, গল্প তার ও ভাল লাগত। আর এভাবেই ধীরে ধীরে তার মধ্যে গল্প, কবিতা লেখার সখ জাগল। সেও গল্প, কবিতা লেখতে লাগল কিন্তু তার লেখা নয়নের মত এত সুন্দর, এত ভাল হত না।

এভাবেই তার বড় হতে লাগল। স্কুল-কলেজ শেষ হওয়ার পর তাদের বিয়ের ও সময় এলো। অসীমের বাবা অসীমের জন্য এমন এক পাত্রী খুঁজলেন যার না ছিল রূপ, না ছিল ভাল শিক্ষা। এক বদ্ধ গ্রামের, অতি গরীবের মেয়ে অসীমের বৌ হয়ে ঘরে এলো। সে ছিল খুব কালো কিন্তু তার গুনের সীমা ছিল না। তার আচার-বিচার, চিন্তা-ভাবনা, বুদ্ধি সব ছিল খুবই বাস্তব এবং সুন্দর। সে তার গুন দিয়ে তার রূপ ঢেকে দিয়েছে।

অন্য দিকে নয়নের বাবা খুঁজে খুঁজে এক ধনী বাড়ির খুব সুন্দরী শিক্ষিতা মেয়ের সাথে নয়নের বিয়ে দিলেন। রূপে যেন নয়নের বৌ চাঁদকেও হার মানায়। নয়নের ঘরে যেন চাঁদের হাট এসে বসল। যারাই নতুন বৌকে দেখতে এলো তারাই তার রূপের খুব প্রশংসা করল। রূপ তার গুন ঢাকা পড়ে গেল।

নয়ন খুব উৎসাহে একদিন তার বৌকে তার গান শুনাতে গেল। তার গান শুনে বৌ খুব হাসতে লাগল। এই হাসি উপহাসের হাসি, উপেক্ষার হাসি। সে নয়নকে বলল “মনে হচ্ছে যেন কেউ গান গেয়ে ভিক্ষা চাইছে।” প্রথম প্রথম নয়নের বৌ, নয়নের গান শুনে উপেক্ষার আর উপহাসের হাসি হাসলেও ক্রমে ক্রমে সেই হাসি ধমকে পরিণত হল। যখনই নয়ন নিজের মন ভোলাতে একটু গান গাইতে শুরু করে তার বৌ হল্লা শুরু করে, সংসারের হাজার অভাবের কথা শুনাতে থাকে।

আর নয়নের কবিতা লেখা, গল্প লেখা? ঐ খাতা বই গুলিকে দেখিয়ে-দেখিয়ে তার বৌ দিনে দশ বার কথা শুনায়। কি হবে এই ছাই লিখে? কি হল এত দিন এই ছাই লিখে? ঘরে কি কোন পয়সা এলো? কে পড়বে তোমার এই বেল পাতা, তুলসী পাতা? আগা নেই, মাথা নেই সব জঞ্জালে খাতা, বই আর ঘর ভরে রেখেছ। নয়নের বৌ জানে না শিল্প কি আর শিল্পীই বা কি? শিল্পীর মন কি জিনিস? এক শিল্পী তার শিল্পকে কতটুকু ভালবাসে সে জানে না।

আজ আর নয়ন কবিতা লেখে না, গান ও গায় না। গান গাওয়ার, কবিতা বা গল্প লেখার ইচ্ছাও হয় না। তার সেই শিল্পী মনটাই মরে গেছে। এখন সকাল বেলায় সে মরার মত মরতে মরতে অফিসে যায় আবার মরার মতই ফিরে আসে। কাউর সাথে কথা বলে না। কাউর কথা শুনতেও তার ইচ্ছা হয় না। সব সময় সে চুপ করে বসে থাকে। বৌয়ের হাজার গালাগালিতেও কোন শব্দ করে না। তার জীবনে না রইল হাসি, না রইল সুখ।

অন্য দিকে অসীমের বৌ একদিন ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে অসীমের লেখা একটি কবিতার বই পেল। সে মন দিয়ে কবিতা গুলি পড়ল। এত ভাল লাগেনি তার কিন্তু মনে হল এমন এমন হলে কবিতা গুলি আরো সুন্দর হত। সে অবসর সময়ে এই কবিতা গুলির কথা অসীমকে বলল। বৌয়ের পরামর্শ অসীমের ঠিক লাগল আর সে কবিতা গুলিতে একটু একটু পরিবর্তন করতেই সে গুলি যেন হাসি দিয়ে উঠল। লাজে এত দিন সে তার লেখাগুলি তার বৌকে দেখায়নি। কিন্তু বৌকে একজন ভাল পরামর্শদাতা হিসাবে পেয়ে সে তার সব লেখা একে একে তার বৌকে পড়ে শুনাতে লাগল। তার বৌ বিচার বুদ্ধি দিয়ে ঐ কবিতা বা গল্পের দোষ গুন বলে দিতে লাগল। অসীম সেই হিসাবেই তার লেখাতে পরিবর্তন করতে লাগল। ফলে তার লেখার সৌন্দর্য হাজার গুন বেড়ে গেল।

বৌয়ের এত উৎসাহ পেয়ে সে খুব যত্ন সহকারে লেখার দিকে মন দিল। আর কিছুদিনের মধ্যেই তার কয়েকটি বই প্রকাশিত হল। একে একে বড় বড় প্রকাশকরা এসে জুটতে লাগল। অনেক টাকা অগ্রিম দিয়ে যেতে লাগল পরবর্তী লেখার জন্য।

অসীম তার বন্ধুর কথা ভালই জানত। সে তার বন্ধুর জীবনকে নিয়েই একটি উপন্যাস লিখল আর উপন্যাসটি তাকেই উৎসর্গ করল। উপন্যাসটি বই হয়েও প্রকাশিত হল। যে সেই বই পড়ল তারই চোখে জল এলো। একদিন নয়নকে নিজের বাড়িতে ডেকে এনে অসীম সেই উপন্যাসের বইটি নয়নের হাতে তুলে দিল। বইটিতে নিজের কাহিনী পড়তে পড়তে নয়ন কাঁদতে লাগল। যেন কত যুগের ঝড় তার বুকে, চোখে জমা হয়েছিল। আজ সব এক সাথে মুক্তি পেল। দুই বন্ধু একে অপরকে জড়িয়ে ধরে খুব কাঁদল। শেষে নয়ন এক অতি করুন সুরে অসীমকে মিনতি করল “তোর বাড়িতে আমাকে একটু বসে লিখতে দিবি বন্ধু? আমি যে লিখতে চাই। অনেক কিছু লিখতে চাই। তুই কি আমাকে একটু জায়গা দিবি লিখতে? আমি সন্ধ্যা পর এসে কিছুক্ষণ সময় লিখব!”

নয়নের এই কথা শুনে অসীমের যেন খুশির ঠিকানাই রইল না। আনন্দে, খুশিতে তার দুই চোখ ভরে এলো। সে দুই হাতে গভীর ভাবে বন্ধুকে জড়িয়ে ধরল। আজ তার কাছে এটাই সবচেয়ে বড় পাওনা।

Top of the page

বিজয় মাষ্টার

- হরপ্রসাদ সরকার

আগরতলা শহর থেকে অনেক অনেক দূরের এক গ্রাম, নাম বক্সি নগর। গরিব চাষিদের গ্রাম। গ্রামের প্রায় সবাই কৃষি কাজ করে। সেই গ্রামে যাতায়াতের কোন সুবিধা নাই। বহু দূর পায়ে হেটে তবে সেই গ্রামে যেতে হয়। থাকার মধ্যে আছে একটি স্কুল। নামেই স্কুল, কিছু কাঠির খুঁটি উপর দাঁড়িয়ে থাকা লম্বা এক টিনের চাল ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না। মাত্র তিন জন শিক্ষক। এরাই প্রথম শ্রেণী থেকে শুরু করে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ান। ফলে পড়াশুনা যা যেমন হবার তেমনি হয়। আর ছাত্র বলতে মাত্র শ খানেক। সবার জন্যই স্কুল শুরু হয় সকাল এগারোটায়।

গরিব চাষির সংসার চালানোই দায় সে তার ছেলে মেয়েকে পড়াবে কি? তবু কিছু স্বপ্ন চোখে নিয়ে ছোট-ছোট ছেলে মেয়েরা স্কুলে ভর্তি হয়। তবে তাদের পড়াশুনা কিছুই হয় না। প্রতি দিনই স্কুল ছুটি হয়ে যায়। কারণ তিন মাত্র শিক্ষক কোন কোন ক্লাস পড়াবে! ছাত্র-ছাত্রীরা বিনা পড়াশুনাতেই পাশ তো করত কিন্তু তাদের কোন কিছুই শিখা হত না। ফলে সেই গ্রাম থেকে কেউ কোন দিন মাধ্যমিক পরীক্ষাও পাশ করেনি।

অনেক বছর পর একদিন সেই গ্রামে এক শিক্ষক এলো। নাম বিজয়। তরুণ তাজা এক যুবক। তার নতুন চাকরির নতুন জীবন এই গ্রাম থেকেই শুরু হল। বিজয় খুব মেধাবী, বুদ্ধিমান আর বাস্তব জ্ঞান সম্মত ছিল। গ্রামে শিক্ষার এই করুন দশা দেখে তার মনে খুব কষ্ট হল। তবে এভাবে তো বসে থাকা যাবে না। কিছু একটা করতেই হবে। বিজয় বাকী দু’জন শিক্ষককে তার মনের কথা এবং পরিকল্পনা খুলে বলল। বাকী দ’জন শিক্ষক মহা উৎসাহে আনন্দে রাজী হয়ে গেল।

পরদিন থেকেই স্কুলের ধরন পাল্টে গেল। নতুন ভাবে শুরু হল স্কুল। আজ আর কোন শ্রেণীকে ছুটি দেওয়া হল না। পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের চার ভাগ করে তাদের কাজ ভাগ করে দেওয়া হল। এক ভাগ গেল ১ম শ্রেণীর কচিকাঁচাদের অ-আ শিখাতে, আরেক ভাগ গেল ২য় শ্রেণীকে পড়াতে। আরেক ভাগ ৩য় শ্রেণীকে আর শেষ ভাগ ৪র্থ শ্রেণীকে পড়াতে। একজন শিক্ষকের উপর দায়িত্ব হল পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের সাহায্য করা। ছাত্র-ছাত্রীরা এই নতুন খেলা পেয়ে মহা আনন্দে নিজের কাজ করতে লাগল। হাসা-হাসি আর আনন্দের মধ্য দিয়ে সবাই এক ঘণ্টা পড়া শুনা করল। এতে কয়েকটি কাজ হল। পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক কিছু শিখল আবার ছোট ক্লাসের ছেলে-মেয়েরাও শিখল। এক ঘণ্টা পর নীচের ক্লাসদের ছুটি হয়ে গেলে সেই শিক্ষক পঞ্চম শ্রেণীকে নিয়ে পড়াতে বসলেন আর তাদের ও এক ঘণ্টা পড়ানো হল।

অন্য দিকে একই রকম ভাবে নবম ও দশম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের একত্র করে তাদের তিন ভাগে ভাগ করে ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণীতে পাঠিয়ে দেওয়া হল। তাদের পেছনে ও রইলেন বাকী দু’জন শিক্ষক। এখানেও এক ঘণ্টা পর নীচের ক্লাসদের ছুটি দেওয়া হল। তারপর শিক্ষকরা ৯ম ও ১০ম শ্রেণীকে নিয়ে পড়াতে বসলেন। সব ছাত্র-ছাত্রীরাই বাড়িতে গিয়ে মহা আনন্দে আজকের স্কুলের কথা মা বাবাকে বলল। গ্রামে একটা আলোড়ন পড়ে গেল। পরদিন গ্রামের বেশ কিছু লোক উৎসাহ নিয়ে স্কুলের এই নতুন এই পড়া দেখতে এলো। স্কুলের মাঠে দাঁড়িয়ে তারাও হাসা-হাসি করে এই নতুন পড়ার আনন্দ অনুভব করতে লাগল। ক্রমে সেই গ্রামের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে পড়াশুনার এক নতুন তাজা ঝড় বইতে শুরু হল। ফলে অন্য ছেলেমেয়েরা যারা স্কুলে আসত না তারাও এই স্কুলে আসতে পাগল হয়ে গেল। দেখতে দেখতে স্কুলের পড়াশুনার গুনগত মান খুব বেড়ে গেল। আর সেই মান এমনই বাড়ল যে, যে গ্রামের কেউ কোনদিন মাধ্যমিক পাশ করেনি, বছর ঘুরতেই যখন মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল বের হল যেই গ্রামের কেউ মাধ্যমিকে ফেল করেনি। গ্রামের চারি দিকে রব পরে গেল। ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলের স্যারদের জড়িয়ে ধরে আনন্দে মেতে উঠল। সবার মুখে এক নাম বিজয় স্যার, বিজয় স্যার। বহু বছর পার হয়ে গেল। আজো ঐ গ্রামের কেউ বিজয় স্যারকে ভুলেনি। নিজেদের গ্রামের নামকে তারা পাল্টে বিজয় নগর রেখে দিল।

Top of the page

ভুল বিচার

- হরপ্রসাদ সরকার

রূপনগর এক সুন্দর, শান্ত রাজ্য। চারিদিকে খুশির হাওয়া বইছে, শান্তির হাওয়া বইছে। তেমনি এক দিনে হঠাত রূপ নগরের মহারাজার মৃত্যু হল। মহামন্ত্রী আর তার কয়েকজন অনুরাগী মিলে চক্রান্ত করে মহারাজের মূর্খ সন্তান, নেত্র কুমারকে রাজা বানিয়ে দিল। তারা ভেবেছিল যে মূর্খ নেত্র কুমার তাদের কথাই শুনবে, তাদের কথাতেই চলবে আর এই সুযোগে তারা নিজেদের স্বার্থ এক এক সফল করে তুলবে।

মহামন্ত্রী নিজেকে খেলোয়াড়ই ভাবত কিন্তু ভুলে গিয়েছিল যে খেলা সব সময় পরিচালনা করে আরেকজন। তেমনি হল। এক দিন রাজকোষের গরমিল সামলাতে মহামন্ত্রী রাজা বলল যে রাজকোষে খুব ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রজাদের উপর কর বাড়ানো প্রয়োজন। মূর্খ নেত্র কুমার ভাবল “রাজকোষ তো আমার। আমার টাকার ঘাটতি হচ্ছে? এখুনি দেখতে হবে কে আমার টাকার চুরি করছে বা ফালতু খরচ করছে।” সাথে সাথে সে রাজ দরবার ডাকল আর রাজকোষের অধিকারীর কাছে জানতে চাইল রাজকোষের টাকা কিভাবে খরচ হচ্ছে? সেই বিবরণ থেকে রাজা জানল যে মন্ত্রীদের বেতনে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। আর সবার চেয়ে মহামন্ত্রীর বেতনই বেশী। রাজা তুরন্ত সবার বেতন পাঁচ ভাগের এক ভাগ করে দিল। আর রাজকোষের ঘাটতি দূর করতে প্রজাদের উপর ও অনেক কর চাপিয়ে দিল। সারাদেশে হাহাকার পরে গেল। মহামন্ত্রীর চাল উল্টা পড়ে গেল।

কিছুদিনের মধ্যেই দেশে আকাল পড়ল। মহামন্ত্রী রাজাকে বলল, “দেশে আকাল পড়েছে। চারিদিকে খাবারের জন্য হাহাকার।”

নেত্র কুমার ভাবল “বাপরে যদি আমিই শেষে খেতে না পাই। না জানি এই আকাল কত দিন চলবে!” সাথে সাথেই রাজা আদেশ দিল রাজ শস্য ভাণ্ডারে আরো বেশী করে শস্য মজুত করা হোক। যেন-তেন-প্রকারেই হোক প্রজাদের থেকে আরো বেশী করে শস্য সংগ্রহ করা হোক। সাথে সাথেই রাজ আদেশ পালন হতে থাকল। অবস্থা এমন দাঁড়াল যে মহামন্ত্রীরই অবস্থা।

ঠিক তেমনি দিনে নেত্র কুমারের পটরানী তাকে বলল যে ঐ ঝিলটির ধারে তার একটি মনের মত রাজ উদ্যান বানানোর সখ। আর সাথে সাথেই তার সেই সখের উদ্যান বানাতে মহামন্ত্রীর মন্ত্রীমহলকে ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া হল। মহামন্ত্রী অনেক অনুনয় বিনয় করল কোন কাজ হল না।

মহামন্ত্রীর না রইল ঘরের ঠিকানা না রইল খাওয়ার ঠিকানা। এক মূর্খ নেত্র কুমার, সোনার রূপ নগরকে ছারখার করে দিয়ে দিল। মহামন্ত্রী মনে মনে খুব অনুশোচনা করতে লাগল, কেন সে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এক মূর্খকে চয়ন করল? চারিদিকে হাহাকার, কান্না, মারামারি, হানাহানি এ সব কিছুর জন্য সে নিজেকেই দায়ী করল।

রূপ নগরে সুখ শান্তি আর কিছুই রইল না। পাশের দেশের রাজা এই সুযোগে রূপ নগরকে আক্রমণের পরিকল্পনা শুরু করল। এই খবর নেত্র কুমারের কাছে আসতেই সে ভাবল “আমার সুরক্ষা আগে। আগে আমাকেই বাঁচতে হবে।” সাথে সাথে সে আদেশ দিল দেশের সব সিপাহীদের রাজ প্রাসাদের কাছে-কাছি নিয়ে আসা হোক। রাজ প্রাসাদের সুরক্ষা আগে প্রয়োজন। রাজ আদেশে দেশের সীমা থেকে সিপাহীদের সরিয়ে রাজ প্রাসাদে নিয়ে আসা হল। ফলে যা হবার তাইই হল। বিনা বাধায় দুই পাশের দুই রাজ্য রূপ নগরে দখল শুরু করল। শুরু হল প্রজাদের উপর ও অত্যাচার। কিছুদিনের মধ্যেই তারা রাজ প্রাসাদের কাছা-কাছি চলে এলো।

আর উপায় না দেখে নেত্র কুমার প্রচুর ধন সম্পদ সাথে নিয়ে গুপ্ত পথে রাজ প্রাসাদ থেকে পালিয়ে গেল। কেউ তার নাগালই পেল না। পেছনে পড়ে রইল একটা ছিন্ন-ভিন্ন দেশ, যে শুধু এক মূর্খ রাজার কারণে নিজের অস্তিত্ব হারাল।

Top of the page

সৎ বন্ধুর পরিচয়

- হরপ্রসাদ সরকার

সুশান্ত আর অমলেশ একই অফিসে কাজ করে। দুজনের বয়স ও এক। দুজনেরই ঘর ঐ শহর থেকে প্রায় দেড়-দুই শত কিলোমিটার দূরে। ওখানেই তাদের মা-বাবারা থাকেন। তারা দুজনই এখানে নিজের বাড়ি করেছেন কিন্তু যেহেতু দুজনই অবিবাহিত তাই একা একাই থাকে। তাদের দুজনই বুদ্ধিমান, পরিশ্রমী ও ইমানদার। তারা দুজনই আবার মোটর সাইকেলে অফিসে আসে। তাদের মধ্যে এমন আরো অনেক মিল আছে কিন্তু তবু তাদের মধ্যে সব সময় ঝগড়া চলে। এক অপরের নাম পর্যন্ত শুনতে পারে না। এ এই পথে চলে তো ও ঐ পথে চলে। একমাত্র ঝগড়ার সময় ছাড়া আর তাদের মধ্যে কথাই হয়না। বড়বাবু অনেক চেষ্টা করেও এর একটা বিহিত করতে পারলেন না।

তেমনি এক দিনে সুশান্তর কাছে একদিন খবর এলো যে তার মা খুবই অসুস্থ। এখুনি তাকে বাড়িতে যেতে হবে, এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করলেই তা ভারী হবে। সুশান্তু আকস্মিক এই খবর শুনে নিজের মোটর সাইকেলের চাবিটা হাতে নিয়ে দৌড়ে দৌড়ে অমলেশের কাছে গেল। সবাই তো ঘটনাটা দেখে আকাশ থেকে পড়ল। বড় বড় চোখ করে সবাই তাকিয়ে রইল এখন না জানি আবার কি ঝগড়া বাধে। সবাই অবাক হলেও অমলেশ অবাক হল না। কারণ সে জানত সুশান্তের জায়গাতে অমলেশ থাকলে, অমলেশ ও তাই করল। অমলেশ সুশান্তকে অনেক সান্ত্বনা দিয়ে অফিসের গাড়িতে তাকে রেল-স্টেশনে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করল।

পথে যেতে যেতে গাড়ি চালক বেশ অবাক হয়ে সুশান্তকে প্রশ্ন করল “সাহেব, আপনাদের দুজনের মধ্যে এত ঝগড়া, এত কলহ। তবু আপনি অমলেশবাবুর হাতে আপনার নতুন মোটর সাইকেলের চাবিটা দিয়ে এলেন? অমলেশবাবু যদি মোটর সাইকেলটার কিছু করে দেয়?”

সুশান্ত হা হা করে হেসে বলল “হ্যাঁ, তুমি ঠিক বলেছ যে আমাদের মধ্যে অনেক ঝগড়া এবং কলহ। কারণ আমার মত আর তার মত সব সময়ই ভিন্ন হয় আর তাই এত ঝগড়া। কিন্তু একটা ব্যাপার সত্যি। সেটা হল আমি জানি যে আমাদের অফিসের সবাই সৎ এবং বুদ্ধিমান। তবু অমলেশ সবার উপরে। সে তার কর্তব্যের প্রতি খুব ইমানদার। সে তার দায়িত্ব খুব ভাল ভাবে জানে এবং সে নিষ্ঠার সাথে তা পালন করে। সে যথেষ্ট বিবেকবান। সে আমার মতের বিরোধিতা করতে পারে কিন্তু তার নিষ্ঠা আর সততায় আমার এক তিল ও সন্দেহ নাই। আমি জানি সে তার মোটর সাইকেল থেকেও আমার মোটর সাইকেলকে বেশী যত্নে রাখবে।”

আর তার কথাই সত্যি হয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যেই মা ঠিক হয়ে গেলে সুশান্ত আবার ফিরে এলো। এবার আর দুই জনের মধ্যে কোন শত্রুতা রইল না। তার দুজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে গেল।



Top of the page
All Pages     6    7    8    9    (10)     11    12    13    ...

Amazon & Flipkart Special Products

   


Top of the page