Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
A platform for writers
 

জীবন দরজা

-হরপ্রসাদ সরকার, ধলেশ্বর - ১৩, আগরতলা, ত্রিপুরা

All Stories   ◍    8    9    10    11    (12)     13    14    15    ...








◕ পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতার রোমাঞ্চকর কথা Details..

◕ Send your story to RiyaButu.com and get ₹ 500/- Details..

◕ Bengali Story writing competition. Details..


এক শহরে দুই বন্ধু ছিল। রুদ্রচরন আর বানীচরন। দুজনই সৎ, বুদ্ধিমান, পরিশ্রমী। তবে কিছু কিছু ব্যাপারে দুজনেরই মতামত আলাদা ছিল আর এটাই স্বাভাবিক। ছোটবেলা থেকেই বানীচরনের পড়াশুনা ভাল লাগত না। তাই সে কোন না কোন ভাবে অক্ষর জ্ঞান নিয়ে এক খুব ছোট ব্যবসায় নেমে পড়ল। সে রোজ মানুষের বাড়িতে দুধ বিক্রি করত। টুক-টাক যাইই পেত তাই করত। সে অল্প রোজগার করত। তবে তার রোজগার নিয়মিত ছিল। তার এই ব্যবসা বা কাজ দেখে, অল্প রোজগার দেখে রুদ্রচরন মাঝে মাঝেই বানীচরনকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করত।

অপর দিকে রুদ্রচরন ভাল পড়াশুনা করল। দেশ বিদেশের অনেক জ্ঞান হল তার। সে রোজগারের চেষ্টা করতে লাগল। তার কাছে অনেক ছোট-ছাট, ছিট-পুট কম টাকার কাজের খবর আসতে লাগল। কিন্তু সে সব গুলিকেই মানা করে দিল। সে বেশী টাকার কাজের জন্য বসে রইল যেন দুই দিনেই তার কাছে অনেক টাকা চলে আসে। দুই দিনেই সে ধনী হয়ে যায়। দুই দিনেই যেন গাড়ী, বাড়ী সব হয়ে যায়। কিন্তু তেমন দিন আর এলো না।

বছর পেড়িয়ে বছর গেল। বানীচরন এক বিশাল গোশালার মালিক। তার নিজের এক আইসক্রিম ফ্যাক্টরি। প্রায় দুই শত লোক তার ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। বানীচরন তার নিজের বুদ্ধি, ধৈর্য্য আর পরিশ্রমে অল্প অল্প করে সাগর বানিয়ে ফেলেছে। রুদ্রচরনের দিন আনে দিন খায় অবস্থা। শেষে একদিন বাধ্য হয়েই সকল লজ্জা, অপমান ত্যাগ করে রুদ্রচরন, বানীচরনের কাছে কাজ চাইতে গেল।

বানীচরনের কাছে গিয়ে সে অবাক। সে ভাবতেই পারেনি বানীচরন এত দূর এগিয়ে গেছে। আজ বানীচরনের কাছে যা যা আছে তেমনটাই রুদ্রচরন তার নিজের জন্য চেয়েছিল। রুদ্রচরন অনুধাবন করল যে বানীচরন এক পা, এক পা করে এগিয়ে গেছে, থেমে থাকে নি। আর রুদ্রচরন নিজে এক পা, এক পা কখনো এগোতে চায়নি। সে দশ পা একবারেই এগোতে চেয়েছিল। তাই আর তার দশ পা চলা হয়নি।

বানীচরন রুদ্রচরনকে পেয়ে খুব খুশি হল। সে তাকে নিরাশ করেনি। সে রুদ্রচরনকে ভাল মাইনে দিয়ে কাজে রাখল। রুদ্রচরন বানীচরনকে বলল “ভাই আমরা দুই জনই এক সাথে ছিলাম। কিন্তু তুই কিভাবে এগিয়ে গেলি?” বানীচরন হাসতে হাসতে বলল “ভাই দেখ আমার একটাই সিদ্ধান্ত। আমার কাছে জীবন হচ্ছে একটা লম্বা আর বিশাল ঘর। তার হাজারটা দরজা। কিন্তু দরজা গুলি কোথায় আছে আমরা কেউ জানি না। আর একটা দরজা দিয়ে প্রবেশ না করলে পরের দরজার খরব পাওয়া যায় না। তাই আমি যখনই একটা ভাল দরজার খোঁজ পেয়েছি তার ভিতরে প্রবেশ করেছি। সেই দরজা ছোট কি বড় তা আমি বিচার করিনি। আর এভাবেই আমি একটার পর একটা দরজা পেতে থাকলাম আর চলতে চলতে এই ঘরে এসে পৌঁছলাম।”


◕ পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতার রোমাঞ্চকর কথা Details..

◕ Send your story to RiyaButu.com and get ₹ 500/- Details..

◕ Bengali Story writing competition. Details..



All Stories     8    9    10    11    (12)     13    14    15    ...