Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
Read & Learn
 

Bengali Story

বাংলা গল্প

All Pages   ◍    13    14    (15)     16    17    18    19    ...


রাখাল আর ডাকাত

- হরপ্রসাদ সরকার


An offer to make a Website for you.

hostgator




হরিপুর গ্রাম থেকে এক ক্রোশ দূরে রঘু ডাকাতের জঙ্গল। ঘোর ঘন সেই জঙ্গলে রঘু ডাকাত তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে লুকিয়ে থাকে আর রাতের বেলায় গ্রামের পর গ্রামে লুটপাট চালায়। ধনী-গরীব, ধনবান-নির্ধন, ছোট-বড় কেহ তার অত্যাচার থেকে রেহায় পায়নি। রঘু ডাকাতের হাত থেকে তাদের বাঁচাবার জন্য প্রজারা রাজার কাছে করুন প্রার্থনা করতে লাগল। রাজা সৈন্য পাঠাল কিন্তু নির্দয়, নিষ্ঠুর রঘু ডাকাত সেনাদের উপর গুপ্ত আঘাতে আঘাতে রক্তের বন্যা বইয়ে দিল। রাজার সৈন্য গভীর জঙ্গলে খুব ভাবে পরাজিত হয়ে ফিরে গেল। রঘুকে তারা থামাতে পারল না।

মানুষ অসহায় হতে পারে কিন্তু সময় অসহায় নয়। সময় ঠিক সময়েই রঘুর হিসাব নিলো। সেই কাহানীটি ছিল এই রকম।

এক রাখাল সেই বনে গরু চড়াত। সে সেখানে এক নদীর ধারে, এক বটের ছায়ায় আপন মনে বাঁশি বাজাত। গভীর বনে তার বাঁশির মধুর সুর অনেক দূর দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ত, কিন্তু সেখানে সেই বাঁশি সুর শুনার মত কেউ ছিল না। রাখাল রোজ সেই বটের তলে আপন মনে বাঁশি বাজিয়ে যেত।

একদিন সেই রাখাল যখন আপন মনে বাঁশি বাজাচ্ছে তখন সে হঠাৎ নদীর জলে বিকট বিকট শব্দ শুনতে পেল। সে চোখ খুলে যা দেখল তা অবাক করার মত। সে দেখল সেই নদীর জলে বিশাল বড় এক মাছ বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এত বড় মাছ রাখাল কখনো দেখেনি। সে ঘাবড়ে দুই পা পিছিয়ে গেল। সে দূর থেকে সেই মাছটাকে বেশ ভাল করে লক্ষ করতে লাগল। সে অবাক হয়ে দেখল সেই মাছটার মাথায় একটা সোনালী মুকুট আঁকা। তার মুখে একটি সোনার টুকরা। মাছটি সেই সোনার টুকরাটি রাখালের দিকে ছুঁড়ে দেয়। কিন্তু সোনার টুকরাটি এত দূর উড়ে আসতে না পারে আবার জলে পড়ে যায়। মাছটি টুকরাটা লুফে নেয়, আবার ছুঁড়ে দেয় সেই রাখালের দিকে। রাখালের মনে হল মাছটি যেন রাখালের সাথে খেলা করতে চাইছে, যেন বন্ধুত্ব করতে চাইছে। রাখাল ভয়ে কাছে গেল না। দূর থেকেই সে মাছটির খেলা দেখতে লাগল।

পরদিন আবার সেই একই কাণ্ড। রাখাল যখন বাঁশি বাজাতে লাগল মাছটি আবার এলো আর সোনার টুকরাটি নিয়ে খেলা করতে লাগল। আজ রাখালের আর তেমন ভয় লাগল না। সে আপন মনে বাঁশি বাজাতে লাগল আর মাছটাও জলে নিজের মত খেলা করতে লাগল।

রোজ রাখাল যখন বাঁশি বাজায় মাছটাও তখন আসে আর সোনার টুকরাটা নিয়ে খেলা করে। ধীরে ধীরে তাদের দুজনের মধ্যে ভাল এবং গভীর বন্ধুত্ব হয়ে উঠল। একজন অপরজনকে না দেখলে অস্থির হয়ে উঠে। তেমনি এক দিনে রাখাল সাহস করে মাছটির কাছে গেল, তার পিঠে হাত রেখে আদর করল। মাছটির ও খুব ভাল লাগল। জল আর স্থলের প্রাণীর মধ্যে এক মহা মিলন হল। মাছটি তার মুখের সোনার টুকরাটি রাখালের উপর ছুঁড়ে দিয়েই উধাও। রাখাল সেদিন আর তাকে দেখতে পায়নি। রাখাল বুঝল যে মাছটি এই সোনার টুকরাটি তাকেই দিয়ে গেছে। সে তার বন্ধুর স্মৃতি হিসেবে সেই সোনার টুকরোটি কোমরের গামছাতে বেঁধে ঘরে নিয়ে গেল আর যত্ন করে রেখে দিল।

পরদিনই সেই গ্রামে ডাকাত পড়ল। রঘু সেই গ্রামের অনেক ঘর জ্বালিয়ে দিল। গ্রামবাসীদের উপর অনেক অত্যাচার করল। অনেক ধন সম্পদ লুট করে সে রাখালের ঘরে ডুকে সেই সোনার টুকরাটি পেল। এক গরীব রাখালের ঘরে এমন সোনার টুকরা পেয়ে রঘু খুব অবাক হল। সে রাখালকে সেই সোনার টুকরাটির কথা জিজ্ঞাস করতে লাগল। রাখালের উপর সে অনেক অত্যাচার করতে লাগল। শেষে রাখাল অসহায় হয়ে নিজের প্রাণ বাঁচাতে রঘুকে সব কথা সত্যি বলে দিল। প্রথমে রঘু তা বিশ্বাস করতে পারেনি। কিন্তু রাখাল বারে বারে একই কথা বলতে লাগল। শেষে রাখালের কথার প্রমাণ পাওয়ার জন্য রঘু তার দল বল নিয়ে তক্ষুনি, রাতের বেলায় বনে সেই নদীর পারে বটের তলায় গেল। রাখালকে সে বাধ্য করল বাঁশি বাজাতে। রাখাল তার বাঁশি বাজাতে লাগল।

ধীরে ধীরে নদীর জলের উপর অসংখ্য জোনাকি জ্বলে উঠল। রাখাল এই জোনাকির আলোকে চিনতে পারেনি। কিন্তু রঘুর বুঝতে বাকী রইল না যে এগুলি সব মনি-মুক্তার আলো। এত গুলি রত্নের লোভে সে তক্ষুনি তলবার হাতে, সঙ্গী সাথীদের নদীর জলে ঝাঁপিয়ে পড়ার আদেশ দিল আর নিজেও ঝাঁপিয়ে পড়ল সেই নদীর জলে। কিন্তু সে বুঝতে পারেনি মনি-মুক্তা মাথায় নিয়ে কালসাপেরা ভেসে আছে। যা হবার তাই হল। কালসাপের ছোবলে ছোবলে সঙ্গী সাথী সহ রঘুর লীলা সাঙ্গ হল।
Top of the page

পারুল

- হরপ্রসাদ সরকার

হরিপুর গ্রামের লাল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী পারুল। সে যখন প্রথম শ্রেণীতে পড়ত তখন তার টাইফয়েড জ্বর হয়। সেই জ্বরের ভুল চিকিৎসায় সে সারা জীবনের জন্য খোঁড়া হয়ে যায়। ঈশ্বরের আশীর্বাদ বা অভিশাপ যাহাই হোক না কেন, এই ফুটফুটে ছোট্ট মেয়েটি অন্যের ভুলের কারণে স্বীকার করে নিয়েছে তার সারা জীবনের অসীম যন্ত্রণার ভার।

আজ সে শিশু, হয়তো সবার দয়ার পাত্র। কিন্তু যৌবনে কজন মানুষ একটি খোঁড়া মেয়েকে জীবন সঙ্গী বানাতে রাজী হয়?

পারুলের মনের জোর অসীম, তার জীদ একটি জ্বলন্ত কয়লার মত। সে নিজেকে কোন কিছুতেই পিছনে রাখতে চায় না। সে বন্ধুদের সাথে সমান তালে তালে চলতে চায়। স্কুল থেকে ফিরার পথে বন্ধুরা যখন এগিয়ে যায় তখন সে সবার পিছনে পড়ে থাকে। সে আরো জোরে, আরো জোরে ছুটতে চায়, কিন্তু পারেনা। শুধু ধুলোমাখা পথটি তার সঙ্গী হয়ে তার সাথে সাথে চলে। পারুলের মনে হয় এই ধুলোমাখা পথটি যেন তাকে বলে “এগিয়ে চল সই, এগিয়ে চল। থেমে থাকিস না। কেউ তোর সঙ্গে থাকুক বা নাইই থাকুক আমি চিরদিন তোর সঙ্গে থাকব।”

নাঃ। পারুল কোন দিন জীততে পারেনি, তবে সে হার ও মানেনি। যখন সে সবার শেষে বাড়ীর কাছাকাছি আসে তখন সে দূর থেকে দেখতে পায় তার স্নেহময়ী মাকে। মা এক মধুর হাসি মুখে নিয়ে বাড়ীর পাশের মোড়ে একটি গাছের নীচে অধীর আগ্রহে পারুলের অপেক্ষা করে। পারুল মা’র নয়নের মনি। মা’র কাছে এসে পারুল মা’র বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মা ও পারুলকে পরম স্নেহে জড়িয়ে ধরে। পারুলের ক্লান্ত, শ্রান্ত মুখ দেখে মা ঠিক বুঝতে পারেন যে এই পথটুকু চলতে পারুলের খুব কষ্ট হয়েছে, তবে তিনি পারুলের মুখে লেখা পড়ার এক তৃপ্তি ভাব দেখতে পান।

সময় সবাইকে যেমন পেছনে ফেলে এগিয়ে যায়, ঠিক তেমনি পারুল ও সবার পিছনেই পড়ে রইল। সে সবার আগে স্কুলে এলেও সবার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কোনদিন চলতে পারেনি। দীর্ঘদিনের এই মনের যন্ত্রণা সে একদিন আর লোকাতে পারেনি। এক গভীর রাতে পারুল ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। মা চমকে উঠে পারুলকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। পারুল কাঁদতে কাঁদতে মাকে বলল “মা, আমি কেন সব সময় সবার শেষে থাকি?” মা’র দুটি চোখ ছলছল করে উঠল। তিনি মিষ্টি হাসি হেসে মেয়ের গালে দুটি চুমু দিয়ে বললেন “দূর পাগলী, তুমি কেন সবার শেষে থাকবে? এমন কিছু কর যেন সবাই তোমার সাথে থাকে।” মা’র কথা ছোট্ট পারুল কিছুই বুঝতে পারেনি। সে কান্না থামিয়ে মা’র মুখের দিকে চেয়ে বলল “হ্যেঁ?”

মা এক গাল হেসে বললেন “তুমি পড়াশুনা দিয়ে সবার থেকে এগিয়ে যাও। তখন দেখবে সবাই তোমাকে ধরতে তোমার পিছু পিছু ছুটবে।”

গভীর রাতে মা’র এই কথাটা পারুলের মনে খুব দাগ কাটল। সে জীবনের এক নতুন দিশা পেল। পারুল ঠিক করল যে পড়াশুনা দিয়ে সে সবার থেকে এগিয়ে যাবে। শুরু হল তার এক নতুন দিগন্তে পথ চলা। দিন রাত এক হয়ে গেল পারুলের। পড়াশুনা নিয়ে সে কঠোর পরিশ্রম করতে লাগল। পরিশ্রম ফল দিল। সকল পরীক্ষায় একের পর এক অতি দুর্দান্ত রেজাল্ট করতে লাগল পারুল। লাল স্কুলের শিক্ষকরা পারুলকে নিজেদের গর্ব মনে করতে লাগলেন।

আজ পারুলকে আর একা পথ চলতে হয়না। বন্ধু-বান্ধবীরা তার জন্য পথে অপেক্ষা করে থাকে। সবাই এক সাথে চলে। পারুল সবার সাথে চলে। তবে আজো ধুলোমাখা সেই মাটির পথটি পারুলকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়। আজো মা সেই গাছটির নীচে পারুলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন।
Top of the page

পিঁপড়ার শিক্ষা

- হরপ্রসাদ সরকার

কেশবলালের কোন কাজ-কর্মই ভাল লাগত না। তা বলে সে অলস বা বাজে ছেলে ছিল না। সে সব সময়ই নিজের মত করে ব্যবসা করে এগিয়ে যেতে চাইত। তার বাবা তাকে সেই ব্যবস্থা করেও দিলেন। কিন্তু সে বারে বারে অসফল হতে লাগল। তার কারণ ও ছিল। সে সব সময় কম পরিশ্রমে বেশী লাভ করতে চাইত। আর এতেই সে বারে বারে অসফল হত।

তার বাবা সব সময় তাকে বলতেন “তুই পরিশ্রমের হিসাব রাখিস না। কম-বেশী যেখানেই যা লাভ হবে তার জন্য যতটুকু কাজ করার দরকার তাইই কর। পরিশ্রমের হিসাব করিস না। আজ যেখানে তোর কম লাভ হবে কাল সেখানেই তোর বেশী লাভ হতে পারে। কেউ ব্যবসার অংক কখনোই আগে থেকে বলে দিতে পারে না।” কেশব তার বাবার কথার অর্থ কিছুই বুঝতে পারত না। তাই সে তার বাবার সাথে কখনোই সহমত হতে পারত না।

একের পর এক অসফল হয়ে কেশবলাল একদিন তার ঘরে উদাস হয়ে বসে আছে। মেঝেতে অনেকগুলি পিঁপড়া ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কেশব সেই পিঁপড়াগুলির দিকে তাকিয়েছিল। সে লক্ষ্য করল ঘরের এক কোনা থেকে একটি পিঁপড়া চলতে শুরু করছে। সেটি চলতে চলতে মেঝের অপর প্রান্তে চলে এলো। সেখান সে একটি ক্ষুদ্র চালের কণা পেল। সেই পিঁপড়াটি সেই ক্ষুদ্র চালের কণাটি নিয়ে চলতে শুরু করে আবার সারা ঘর পেড়িয়ে মেঝের অপর প্রান্তে নিজের আবাসে ঢুকে গেল।

এই ঘটনাটি বিজলীর মত কেশবের মাথায় দৌড়ে গেল। সে অনুভব করতে লাগল যে অতি সামান্য একটা চালের কণার জন্য যদি একটি পিঁপড়ে এত পরিশ্রম করতে পারে তাহলে আমি কেন শুধু শুধু বেশী লাভের আশায় বসে থাকব। এবার সে তার বাবার কথাগুলির মানে বুঝতে পারল। তার মনে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হল। এক নতুন মন্ত্রে, এক নতুন উদ্দামে সে তার ব্যবসা শুরু করল। এবার সে আর অসফল হয়নি, খুব সুন্দর ভাবে সফল হল।
Top of the page

ঝরা পাতার কথা

- হরপ্রসাদ সরকার

গ্রামের এক কৃষকের ঘরের ঈশান কোনে একটি আম গাছ ছিল। সেই আম গাছের মগ ডাল থেকে একদিন একটি শুকনো পাতা ঝড়ে পড়ল। হাওয়ায় দুলে দুলে যখন সে নীচে নেমে আসছিল তখন গাছের কিছু সবুজ পাতা তাকে দেখে খুব হাসা হাসি করতে লাগল, তারা তার খুব উপহাস করতে লাগল। ঝরা পাতাটি নীরবে তা সহ্য করে গেল। হাওয়ায় দুলে দুলে সে সেই কৃষকের ঘরের চালের এক কোনে আটকে গেল। সে ঘরের চালের এমন এক জায়গায় আটকাল সেখান আলো,বাতাস বা জল কিছুই পৌঁছায় না।

দিন গেল, রাত গেল। একদিন সেই সবুজ পাতাগুলিও একে একে শুকিয়ে গেল, আর শেষে একদিন ঝড়ে পড়তে লাগল। তারা একে একে হাওয়ায় দুলে দুলে ঘরের কোনের সেই ঝরা পাতাটির সামনে দিয়ে নীচে পড়তে লাগল। সেই ঝরা পাতাটি যখন তাদের দেখল তখন তেমনি তাদের মত হাসি হাসতে লাগল আর হাত নেড়ে তার বন্ধুদের বিদায় জানাতে লাগল। সে তাদের বলতে লাগল “কি বন্ধু কেমন আছো? কোথায় যাচ্ছ? এই তো সেই দিন তোমারা আমার উপর হেসেছিলে আর আজ কিন্তু আমার হাসির পালা। সময় চিরদিন এক থাকে না বন্ধু। কিন্তু এই কথাটা বুঝার সময় হয়তো আর তোমাদের নেই। আশা করি ধূলার মাঝে, রোদে-জলে খুব তাড়াতাড়িই তোমাদের শ্রীইতি হবে। আর আশা করি আমি অন্তত আরে বছর দুই-তিন খুব সুখেই এখানে থাকতে পারব।” ঝরাপাতাগুলির আজ আর কিছু বলার ছিল না। তারা মাথা হেট করে একে একে ধূলার মাঝে লুটিয়ে পড়ল।
Top of the page

সুজনহরির বিনা পয়সা

- হরপ্রসাদ সরকার

সুজনহরি নিজেকে খুব চালাক ভাবত। সে যখনই দীনেশের দোকান থেকে কিছু জিনিস কিনত তখন মিথ্যা বলে বা কোন না কোন ফন্দি খাটিয়ে, দীনেশের সাথে চালাকি করে বা মিথ্যা ঝগড়া করে কিছু না কিছু জিনিস হাতিয়ে নিত। বেশীর ভাগ সময় সে বিড়ি বা জর্দা পান নিয়ে পয়সা দিত না। দীনেশ অনেক সময় সব বুঝেও চুপ থাকত।

সুজনহরি যখন বাড়িতে বসে বিড়িতে সুখটান দিত তখন সে নিজেকে খুব চালাক ভাবত, বীর ভাবত। সে মনে মনে নিজেকে খুব সাবাসী দিত এই ভেবে যে, সে আজ দীনেশকে খুব ঠকিয়েছে। সে যখন আরাম করে জর্দা পান চিবিয়ে পানের পিক ফেলত তখন সে নিজের উপর খুব গর্ব অনুভব করত। সে ভাবত, বাঃ খুব মজা পাওয়া গেল দীনেশকে বোকা বানিয়ে।

সুজনহরি একটি জিনিস মনে রাখেনি। সে কখনো ভাবেনি এই খেলায় সদা সেইই বোকা সাজছে। সে বিনা পয়সায় একের পর এক বিষ খেয়ে যাচ্ছে আর অকারণে নিজেকে বাহবা দিচ্ছে। এতে দীনেশের ক্ষতি ছিল যৎসামান্য কিন্তু সুজনহরির ক্ষতির পরিমাণ ছিল অপরিসীম।

আর একদিন সেই দিনটি ও এলো। সুজনহরি এক কঠিন রোগে আক্রান্ত হল। রোগের চিকিৎসায় ধীরে ধীরে, একে একে তাকে তার ঘর-বার, সোনা-দানা সব বিক্রি করতে হল। তবু সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠল না। বিনা পয়সার জিনিস তাকে চিরদিনের জন্য পথে বসিয়ে গেল।



Top of the page
All Pages     13    14    (15)     16    17    18    19    ...

Amazon & Flipkart Special Products

   


Top of the page