Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
Read & Learn
 

মজার গল্প

Bengali Story

All Pages   ◍    13    14    15    (16)     17    18    19    ...


ডবল টাকার নোট

- হরপ্রসাদ সরকার


An offer to make a Website for you.

hostgator




১৯৯৮ সালের কথা। আগরতলাতে ভাংতি একটাকা, দুই টাকার খুব আকাল। আমাদের কলেজে যাবার ভাড়া আসল ভাড়া ছিল ৭.৫০ টাকা। কিন্তু আমরা বাসে যাবার সময় ১০টাকা আর ফিরার সময় ৫টাকা ভাড়া দিতাম। আজব হিসাব, তবে বড়ই সফল। যাবার সময় আমরা আড়াই টাকা বেশী দিয়ে যেতাম। আর আসার সময় আড়াই টাকা কম দিয়ে আসতাম। গাড়ীটা মনে রাখার দরকার নেই, যে কোন বাস গাড়ীতেই এই নিয়ম ছিল। ভাংতি টাকার কোন সমস্যাই রইল না। নতুন কেউ খুব অবাক হতেন, কেউ ঝগড়াও করতেন তবে কোন লাভ হত না। ভাংতি নোটের সমস্যা নতুন নিয়মে সমাধান।

তেমনি একদিন আমি আমার বড়দিদির বাড়িতে যাচ্ছিলাম। ভাড়া ছিল চার টাকা। আমি ৫ টাকার একটা নোট দিলাম। গাড়ীর ড্রাইভার আমাকে ১টাকার একটি আজব নোট ফিরত দিলেন। সেই নোটটির অর্ধেকটা ছিল ১টাকার আর অর্ধেকটা ছিল ২টাকার। অর্থাৎ একটি ছেঁড়া ১টাকা নোটের অর্ধেক এবং একটি ছেঁড়া ২টাকা নোটের অর্ধেক জোড়া দিয়ে সেই নোটটি তৈরী। নিশ্চয়ই এটা কোন দুষ্টের কাজ, তবে আজব।

ডবল টাকার সেই নোটটি হাতে নিয়ে আমি হেসে উঠলাম। ড্রাইভার ও আমার সাথে হাসতে হাসতে বলতে লাগল “দাদা, এটি ডবল টাকার নোট, যেখানে ১টাকার দরকার সেখানে ১টাকার মত চালিয়ে নিবেন আর যেখান ২টাকার দরকার সেখানে ২টাকার মত চালিয়ে নিবেন।” সেই ডবল টাকার নোটটি চালিয়ে নিতে আমার কোন অসুবিধা হয়নি। আর আমি সেটিকে ২টাকার হিসাবেই চালিয়েছিলাম।

Top of the page

তুফান আদেশ

- হরপ্রসাদ সরকার

এক মহাত্মা সাধুর দুই শিষ্য ছিল। সদানন্দ আর নীলানন্দ। তারা সেই মহাত্মা সাধুর কাছে জপ, তপ করে অনেক সিদ্ধি লাভ করল। অনেক দিব্য ক্ষমতাও অর্জন করল। সাধু তাদের নিজের থেকে আলাদা করে এক সুন্দর নদীর তীরে, এক সুন্দর তটে ধ্যান জপ করার আদেশ দিলেন। দুই শিষ্য সেখানে চলে গেল। তারা বনের বাঁশ, বেত, পাতা দিয়ে আলাদা আলাদা দুটি নড়বড়ে কুঠির তৈরী করল। তাতেই তারা গুরুদেবের আদেশ মত ধ্যান জপ করতে লাগল।

শীত বসন্ত পেড়িয়ে বর্ষার আগমন হল। একদিন দুই বন্ধু দেখল আকাশে কাজল কালো মেঘ জমেছে। চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসছে। পাগলের মত উন্মাদ হয়ে, ধূলা-বালি উড়িয়ে বাতাস ছুটেছে। দেখতে দেখতে তুফান শুরু হয়ে গেল। সদানন্দ আর নীলানন্দ নিজের নিজের নড়বড়ে ঝোপড়ি বাঁচাতে নিজের সব দিব্য ক্ষমতা দিয়ে তুফান আটকাবার চেষ্টা করল। একজন নিজের দিব্য ক্ষমতা দিয়ে তুফানকে আদেশ দিল “হে তুফান, আমাদের কুঠিরে আসার আগেই তুই ডানে দিকে ঘুরে যা। এ আমাদের আদেশ।”
আরেকজন নিজের দিব্য ক্ষমতা দিয়ে তুফানকে আদেশ দিল “হে তুফান, আমাদের কুঠিরে আসার আগেই তুই বাম দিকে ঘুরে যা। এ আমাদের আদেশ।” কিন্তু কোন লাভ হল না।

তুফান তুফানের মতই এলো। কিন্তু সে নীলানন্দ এবং সদানন্দের কোন আদেশই মানল না। সদানন্দ আর নীলানন্দ দাঁড়িয়েই রইল আর তাদের ঝোপড়ি শুকনো পাতার মত উড়ে গেল। তারা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে দুরের এক গাছের তলায় আশ্রয় নিলো। একে অপরকে বলতে লাগল “সব মিথ্যা, সব মিথ্যা,যা জপ তপ করলাম সব মিথ্যা। এ সবের কিছুই দাম নেই। বৃথাই জীবনের এত সময় নষ্ট করলাম।” তারা গুরুদেব এবং ঈশ্বরের উপর খুব রুষ্ট হল। এমন সময় তুফানে উড়ে বিশাল এক গাছ এসে সেই জায়গাতেই পড়ল যেখানে তাদের ঝোপড়ি গুলি ছিল। বিকট এক শব্দে মাটি কেঁপে উঠল।

চোখের পলকে এমনটা ঘটে গেল। একটু দেরী হলেই সদানন্দ আর নীলানন্দ সেই গাছের নীচেই চাপা পড়ে মরে যেত।

Top of the page

ঈশ্বরের ছবি

- হরপ্রসাদ সরকার

এক রাজার রাজ্যে একদা খুব অনাচার, অনীতি আরম্ভ হল। দেশ অশান্ত হয়ে উঠল। চারিদিকে হাহাকার।রাজা অনেক নিয়ম নীতি তৈরী করলেন, অনেক বল প্রয়োগ করলেন, কোন লাভ হল না। দেশের অবস্থা যেই কি সেই রয়ে গেল। রাজা ভেবে পাচ্ছিলেন না এখন তিনি কি করবেন। শেষে রাজগুরুর পরামর্শে রাজা গভীর বনে এক সন্ত পুরুষের কাছে গিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করলেন। সেই সন্ত পুরুষ রাজাকে একটি পরামর্শ দিলেন সাথে একটি পরিকল্পনা ও তৈরী করে দিলেন।

রাজা দেশে ফিরে এসে সেই পরিকল্পনা মত কাজ আরম্ভ করে দিলেন। তিনি সারা দেশে ঘোষণা করে দিলেন যে সারাদেশ ব্যাপী একটি ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা হবে। যে সবচেয়ে সুন্দর ছবি আঁকবে সে পাবে ত্রিশ সহস্র স্বর্ণ মুদ্রা আর সাথে বিশাল এক চাষের জমি। ছবির বিষয় হবে “মানুষের রূপে কোন ঈশ্বরকে তুমি রোজ দেখতে পাও? কেন তিনি তোমার ঈশ্বর?” মাত্র এক মাস সময়ের মধ্যে ছবি রাজদরবারে পাঠাতে হবে। তবে এই প্রতিযোগিতায় একটি বিশাল শর্ত ও থাকবে। শর্তটি হল প্রতিযোগিতার শেষ যদি পাওয়া যায় যে কেউ মিথ্যা ছবি পাঠিয়েছে, তবে তাকে তুরন্ত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।

এই ঘোষণার সাথে সাথেই এত ধন সম্পদের লোভে চারিদিকে সাজ-সাজ রব পরে গেল। সবাই নিজের নিজের সঠিক ঈশ্বরকে খোঁজতে লাগল যাকে সে রোজ দেখতে পায়। এক মাস ফুরাতে না ফুরাতেই অসংখ্য ছবিতে রাজদরবার ভরে উঠল। রাজার আদেশে রাজকর্মচারীরা ছবিগুলিকে আলাদা আলাদা করতে লাগলেন। অনেকে নিজের মা-বাবার ছবি এঁকে পাঠাল, অনেকে তার শিক্ষকের ছবি এঁকে পাঠাল, অনেক তার আসে-পাশের, সমাজের কোন বিশিষ্ট মানুষের ছবি এঁকে পাঠাল, অনেকে কোন দোকানদারের ছবি এঁকে পাঠাল ইত্যাদি, ইত্যাদি।

যথা সময়ে সেই গভীর বনের সন্ত পুরুষ রাজদরবারে এলেন। তিনি রাজাকে বললেন, হে রাজন এখন আপনার কাছে দেশের ভাল, সভ্য, নিষ্ঠাবান, বীর মানুষদের বিশাল এক তালিকা তৈরী। এরাই পারে দেশের হাল ফিরিয়ে আনতে। প্রথাগত খোঁজ নিয়ে তাদের দেশের উন্নয়নের কাজে প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত করুন। নির্দ্বিধায় তাদের হাতে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা ছেড়ে দিন, তাদের নিজের নিজের কাজ করতে সহায়তা করুন আর পর্যবেক্ষণ করুন। সাথে তাদের পরামর্শ আর অভিযোগ শুনুন। আর সেই মত তুরন্ত সিদ্ধান্ত নিন। দেখবেন উন্নয়ন নিজেই নিজের পথে ঘোড়ার মত দৌড়াতে থাকবে।

রাজা সেই মতই কাজ করলেন। আর দেখতে দেখতে কিছুদিনের মধ্যেই দেশের অনীতি, অনিয়ম আর অনাচার একেবারে নগণ্য হয়ে এলো। সারা দেশের কোনায় কোনায় আবার আনন্দের, খুশির হাওয়া বইতে লাগল। রাজা একদিন সেই ছবি প্রতিযোগিতার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করলেন আর তাকে শর্ত-মত পুরস্কৃত করলেন।

Top of the page

পূর্ণিমা

- হরপ্রসাদ সরকার

এমনি পূর্ণিমার রূপ। পূর্ণিমা, পূর্ণিমা চাঁদের মতই সুন্দর। গায়ের রং যেন পূর্ণিমা চাঁদের আলো। শালিক পাখীর চোখের মত দুটি টান টান চোখ। রংবাহারী পোশাক আর গয়না দিয়ে পূর্ণিমা যখন সাজে তখন মনে হয় যেন আকাশের ঐ পারের কোন ফুলপরী পৃথিবীর বুকে নেমে এসেছে। সে যখন শরতের সকালবেলা একা একা মাটির পথে ঘুরে বেড়ায় তখন মনে হয় যেন বনদেবী তার সাধের বনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বনলতারা তার ছোঁয়া পাওয়ার জন্য ব্যাকুল। শিশির ভেজা শিউলি ফুল তার উপর ঝড়ে পড়তে আকুল। সৌরভ যেন তার অঙ্গে লেপটে থাকতে চায়। পথের ধুলা তার পায়ের ছাপ বুকে জড়িয়ে ধরে থাকতে চায়। এমনি পূর্ণিমার রূপ।

সে যখন জলাশয়ের স্নিগ্ধ শীতল জলে স্নান করতে নামে, জলাশয়ের কাদা যেন নূপুরের মত তার পা জড়িয়ে থাকতে চায়। জলপদ্ম গুলি যেন তার দিকে চেয়ে থাকে। রাতের স্নিগ্ধ হাওয়া যেন তার কাঁধ ছোঁয়ে বয়ে যেতে চায়। স্বপ্ন নেচে নেচে তার চোখে নেমে আসে। এমনি পূর্ণিমার রূপ।

এত রূপ তবু পূর্ণিমা, পূর্ণিমা চাঁদের মতই এক। তারারা পূর্ণিমা চাঁদের সাথে থেকেও নেই। কারণ তারারা জানে যে পূর্ণিমা চাঁদের নিজের কোন আলো নেই। সূর্যের আলো চাঁদের উপর না এলে অভাগা চাঁদে আজীবন অমাবস্যা লেগে থাকবে। ঠিক তেমনি পূর্ণিমা অশিক্ষিত এবং অহংকারী। সে তার বাবার পয়সায় আলোকিত। তার রূপকে সবাই ভালবাসে, তার অশিক্ষাকে কিছু লোক মানিয়ে নেয়, কিন্তু তার অহংকারকে কেউ গ্রহণ করে না।

বছরের পর বছর পেড়িয়ে গেল, পূর্ণিমা আজ বড়ই একা। আজ আর তার কণা মাত্র রূপ নেই কিন্তু তার অশিক্ষা আজো তার সাথে রয়ে গেল।

Top of the page

রাজ ভিক্ষা

- হরপ্রসাদ সরকার

এক দেশের এক রাজা একদিন মহামন্ত্রীকে সাথে নিয়ে ছদ্মবেশে নগর ভ্রমণে বের হলেন। পথে যেতে যেতে তিনি দেখলেন অনেক অন্ধ, খোঁড়া রাজপথের পাশে বসে ভিক্ষা করছে। রাজার বেশ দয়া হল। তিনি মহামন্ত্রীকে বললেন “মহামন্ত্রী এদের এরকম দুর্দশা কেন? আমরা কি রাজকোষ থেকে এদের সাহায্য করতে পারি না? তা হলে তো এরা একটু সুখে থাকতে পারে। এদের তখন এত কষ্ট হবে না।”

মহামন্ত্রী বললেন “মহারাজ, আমার মতামত একটু ভিন্ন। এদের রাজকোষ থেকে সহায়তা দেবার পরিবর্তে এদের এমন কোনে কাজে নিযুক্ত করা হোক যা এরা অনায়াসে বসে বসেই করতে পারে। আর রাজকোষ থেকে এদের সহায়তা দিতে থাকলে এরা তার সদপ্রয়োগ করবে না। কারণ মানুষ তার চরিত্র অনুসারে বিনা পরিশ্রমের উপার্জনকে সচরাচর ভুল পথে বা আরাম-আয়েশেই ব্যয় করে।”

রাজা মহামন্ত্রীর কথা শুনলেন না। তিনি রাজকোষ থেকে একটা মোটা টাকা সেই ভিখারিদের প্রতিমাসে সাহায্য দেবার আদেশ দিলেন। আর তেমনটাই হতে লাগল।

সময় বয়ে গেল। বহুদিন পর রাজা আর মহামন্ত্রী আবার ছদ্মবেশে নগর ভ্রমণে বের হলেন। তারা যখন রাজপথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তখন হঠাৎ দেখলেন রাজপথের পাশেই একটি গলির মধ্যে একটি মদের দোকান। সেখানে অনেক ভিড় আর অনেক লোক এদিক ওদিক হেলে-দুলে বেড়াচ্ছে। অনেক লোক এদিক ওদিক নেশায় বিভোর হয়ে ধূলার মাঝে পড়ে আছে। এসব দেখে রাজার খুব কষ্ট হল, খুব রাগ ও হল। তিনি অগ্নিশর্মা হয়ে মহামন্ত্রীকে জিজ্ঞাস করলেন, “মহামন্ত্রী, এ সব কি হচ্ছে?”
মহামন্ত্রী হাত জোড় করে বিনীত ভাবে বললেন “মহারাজ, ঐ যে অন্ধ-লোকটি নেশা করে ধূলায় লুটিয়ে আছে, সে প্রথমে ভিখারি ছিল। আপনার আদেশে তাকে প্রতিমাসে রাজকোষ থেকে দুটি স্বর্ণমুদ্রা দেওয়া হয় আর সে তা এই মদের দোকানেই খরচ করে। ঐ যে খোঁড়া লোকটি নেশার ঘোরে পথ যাত্রীদের অকথ্য গালাগাল দিচ্ছে, সেও প্রথমে ভিখারিই ছিল। সেও এখন রাজকোষ থেকে প্রতি মাসে দুটি স্বর্ণ মুদ্রা বিনা পরিশ্রমে সহায়তা পায় আর এই মদের দোকানেই খরচ করে। এমন আরো অনেক মানুষ আছে।” রাজা অবাক হয়ে গেলেন। তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারলেন। তিনি মহামন্ত্রীকে বললেন “কে এই মদের দোকানের মালিক, যে আমার রাজ্যে এমন নেশার প্রচার করছে? তাকে এখুনি বন্দী করে আনো।”
মহামন্ত্রী বিনীত ভাবে বললেন “মহারাজ, যে এই মদের দোকানের মালিক সে ও প্রথমে এক ভিখারি ছিল। রাজ আদেশেই তাকে প্রতিমাসে দশ স্বর্ণমুদ্রা দেওয়া হয় আর সে তা দিয়েই এই মদের দোকান চালায়।” রাজা মনে মনে খুব অনুতপ্ত হলেন আর মহামন্ত্রীকে তক্ষুনি আদেশ দিলেন “রাজপথের যে সব ভিখারিদের আমি রাজকোষ থেকে সহায়তার আদেশ দিয়েছিলাম তাদের সবাইকে কাল সকালেই রাজ দরবারে হাজির করা হোক।”

পরদিন থমথমে রাজ দরবারে ভিখারিদের হাজির করা হল। রাজা তাদের সব সহায়তা বন্ধ করে দিলেন। সেই মদের দোকানটিও বন্ধ করার আদেশ দিলেন। তিনি তাদের তিনটি পথের একটি পথ চয়ন করতে বললেন, পরিশ্রম করে রোজগার করো নতুবা রাজপথে আবার ভিক্ষা করো নতুবা মৃত্যুদণ্ড।

প্রায় সব ভিখারিই আবার রাজ পথে ভিক্ষা করতে চাইল। শুধু কয়েকজন পরিশ্রম করে রোজগার করতে চাইল। যারা পরিশ্রম করে রোজগার করতে চাইল, রাজা তাদের উপযুক্ত কাজের শিক্ষার ব্যবস্থা করলেন। আর যারা আবার রাজপথে ভিক্ষা করতে চাইল, রাজা তাদের নিজের দেশের স্বার্থে সাত দিনের মধ্যে দেশ ত্যাগ করে চলে যাবার আদেশ দিলেন নয়তো তাদের প্রাণদণ্ড দেওয়া হবে।



Top of the page
All Pages     13    14    15    (16)     17    18    19    ...

Amazon & Flipkart Special Products

   


Top of the page