Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
Read & Learn
 

মজার গল্প

Bengali Story

All Pages   ◍    15    16    17    (18)     19    20    21    22    ...


কুসুমজবার ঘাট

-হরপ্রসাদ সরকার


An offer to make a Website for you.

hostgator




রাজ্যের রাজধানী শিউলনগর। সেই নগরের পাশ দিয়ে এঁকে বেঁকে অনেক অনেক গ্রাম পেড়িয়ে মৃদুলা নদী বয়ে গেছে অনেক অনেক দূর। তেমনি এক গ্রামে এক বিমাতা মায়ের ঘরে ছিল কুসুমজবা। সৎ মা তাকে খেতে পড়তে দিত না। কুসুমজবার সোনার রূপ, ছেড়ে আর মলিন কাপড়ে ঢাকা পড়ে থাকত। তবে কুসুমজবা ছিল বুদ্ধিমান, ধীর-স্থির, হিসেবি, সাহসী, নীতিপরায়ন ও সৎ। যেমন ছিল তার গায়ের রং তেমনি ছিল তার মনের রূপ। তার মা যখন মারা যায় তখন কুসুমজবা খুব ছোট। মা সব সময় বলতেন “আমার কুসুম একদিন রাজরানী হবে। আমার কুসুম একদিন রাজরানী হবে।” মার সেই কথা কুসুম কখনো ভুলেনি।

দিন পেড়িয়ে গেল, বছর পেড়িয়ে গেল অনেক। কুসুমজবা রোজ ভোরে মৃদুলা নদীতে স্নান করতে যায়। স্নান পরে সে কলসি কাঁখে নিয়ে ফিরে আসে। একদিন সে দেখল খুব সুন্দর, কাঁসের থালার মত বড় একটি পদ্ম ফুল ভেসে ভেসে আসছে নদীর জলে। ফুলটি দেখে কুসুমজবার খুব ভাল লাগল। সে সাঁতরে নদীর মাঝে চলে গেল আর ফুলটি নিয়ে এলো। পদ্মফুলটি বেশ সুন্দর। কিন্তু কি আশ্চর্য, নদীর পারে উঠতে না উঠতেই কুসুমজবার হাতের সেই তর-তাজা ফুলটি একটি ছোট্ট সোনার পদ্ম হয়ে গেল। কুসুমজবা বেশ চমকে উঠল। সে বুঝতে পারল এটি কোন মন্ত্রপূত ফুল। আর এত বড় একটি তাজা ফুল এমন ছোট্ট একটি সোনার ফুলে পরিণত হল, এতে ইশারা দেওয়া গেল যে এটি খুব মূল্যবান, একে যত্ন করে সামলে রাখো। কুসুমজবা সোনার পদ্মফুলটিকে আঁচলে বেঁধে বাড়ি নিয়ে গেল আর সবার অলক্ষ্যে সেটি ঘরে কোনে একটি গোপন জায়গাতে রেখে দিল। কিছুদিন পর আবার তেমনি ঘটল। তেমনি আরো একটি পদ্মফুল নদীর জলে ভেসে এলো। কুসুমজবা সেটি নিয়ে পারে উঠতেই সেটি সোনার একটি ছোট্ট পদ্ম হয়ে গেল। এই ফুলটিকেও কুসুমজবা আগের মতই লুকিয়ে রাখল। কুসুমজবা লক্ষ্য করল যে অমাবস্যা বা পূর্ণিমা’র পরে তৃতীয়ার চাঁদ যখন আকাশ উঠে সেই দিনই এই ফুলটি নদীর জলে ভেসে ভেসে আসে। এমনি ভাবে হিসাব মিলিয়ে কুসুমজবার কাছে ছয়টি ফুল জমা হল।

ওদিকে বৃদ্ধ রাজার আদেশে শিউলনগরের রাজগুরু যুবরাজের জন্য যোগ্য পাত্রী খুঁজতে প্রতি তৃতীয়াতে মন্ত্রপূত এই ফুল মৃদুলা নদীর জলে ভাসিয়ে দিতেন। ছয়টি ফুল ভাসানোর পর সপ্তম ফুলটি তিনি পরিকল্পনা মত তৃতীয়াতে না ভাসিয়ে অসময়ে পূর্ণিমার কাক-ভোরে ভাসিয়ে দিলেন আর গুপ্তচর আর সিপাহীদের মারফত ফুলটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন। পদ্মফুলটি ভাসতে ভাসতে সেই ঘাটের কাছেই এলো যেই ঘাটে কুসুমজবা রোজ স্নান করে। ফুলটি সেই ঘাট ছেড়ে আর এগিয়ে গেল না। দীর্ঘক্ষণ ওখানেই ভেসে থেকে সেটি ডুবে গেল। এই খবর রাজা আর রাজগুরুর কানে যেতেই রাজপ্রাসাদে এক খুশির হাওয়া, আনন্দের হাওয়া বয়ে গেল। সবাই বুঝতে পারল যে নতুন মহারানীর নগর খুঁজে পাওয়া গেছে। পরদিন রাজা সারা রাজ্যে ঘোষণা করে দিলেন যে, মৃদুলা নদীতে দ্বিতীয়া’র ভোরে একটি মন্ত্রপূত পদ্মফুল ভাসানো হবে। যে সেই ফুলটিকে ধরতে পারবে তার সাথে যুবরাজের বিয়ে হবে। কিন্তু মনে থাকে যেন, এটি একটি মন্ত্রপূত পদ্মফুল আর এটি শুধু ভাবি মহারানীর হাতেই আগের ফুলগুলির মত রং বদলাবে। কেউ যদি দুঃসাহস করে ফুলটি হাতে নেয় আর যদি ফুলটির রং না বদলায় তবে রাজ আদেশে তুরন্ত তার মৃত্যুদণ্ড হবে।

সারাদেশের লোক পরের দিন সেই ফুলটি দেখতে, ভাবি মহারানীকে দেখতে মৃদুলার পারে পারে জমা হল, কিন্তু কেহ নিজের প্রাণের মায়া ত্যাগ করে, সাহস করে সেই ফুলটি ধরতে নদীতে নামেনি। কুসুমজবা আজ সেই নদীতেই যায়নি। সে ঘরে কোনে বসে মুচকি মুচকি হাসতে লাগল। সেই ফুলটি ভাসতে ভাসতে আজো এসে সেই কুসুমজবার ঘাটেই আটকে গেল। আর দীর্ঘক্ষণ সেখানে ভেসে শেষে ডুবে গেল। রাজগুরু মহারাজকে চিন্তিত হতে দেখে বললেন “মহারাজ আপনি কিছুই ভাববেন না। আমরা যথার্থই যোগ্য মহারানী খোঁজে পেয়েছি, যিনি সবার সামনে নিজের দম্ভ প্রকাশ করতে চান না। আর তিনি যথেষ্ট বুদ্ধিমান আর হিসেবী। তা না হলে আমার মন্ত্রপূত ফুল এমন ভাবে এখানে ভেসে থেকে শেষে ডুবে যেত না। ডুবে গিয়ে ফুলটি ইশারা করে গেল যে আগের ছয়টি ফুলই ভাবি মহারানী পেয়েছেন আর ফুলগুলি তার কাছেই আছে। সুতরাং হিসাব মত আর নিয়ম মত আগামীকাল তৃতীয়ার ফুল আবার মৃদুলার জলে ভাসবে। আর এই ফুলটিই মহারানীকে বের করে আনবে।”

পরের দিন সেই কাক-ভোরেই গোপনে গুপচরেরা ছড়িয়ে রইল কুসুমজবার ঘাটের আসে পাশে। রাজগুরু মন্ত্র পড়ে শেষ ফুলটি ভাসিয়ে দিলেন মৃদুলার জলে। এদিকে প্রতিদিনের মত ভোর বেলাতে কুসুমজবা চলল ঘাটে স্নান করতে। তৃতীয়ার সেই পদ্মফুলটিও ভেসে আসতে লাগল। কুসুমজবা সাঁতরে গেল নদীর মাঝে, সেই ফুলটিকে নিয়ে পারে উঠে এলো। কিন্তু কি আশ্চর্য আজ সেই ফুলটি আজ আর ছোট্ট সোনার ফুলে বললে গেল না। বিস্ময়ে কুসুমজবা এর কারণ ভাবতে লাগল কি আচানক তার নিজের শরীরটাই নিজের কাছে ভারি ভারি মনে হল। নিজের অঙ্গের দিকে তাকিয়ে সে অবাক হয়ে গেল। সারা অঙ্গে তার রাজরানীর গয়নায় ভরে গেছে। গলায় হীরা,মনি-মুক্তার মালা। দু-হাতে সোনার চুড়ি ছনছন করছে। কানে হীরার দুল। খোঁপায় হীরার চূড়ামণি। গায়ে রেশমের মখমলে শাড়ী। পায়ে অপরূপ রূপার নূপুর। অবাক চোখে কুসুমজবা নিজেই নিজেকে দেখতে লাগল।

ফুলটি আজ নিজে বদলায়নি, কিন্তু কুসুমজবাকেই বদলে দিয়েছে। আজ আর কুসুমজবার লুকানোর জায়গা রইল না। সাথে সাথেই কুসুমজবার ঘাটের চারিদিকে শঙ্খধ্বনি বাজতে শুরু হয়ে গেল। নদীর উভয় পারে বেজতে লাগল ঢোল-নাগারা। সৈন্য সিপাহীরা সবাই ভাবি মহারানীর জয় ধ্বনি করতে লাগল। খবর গেল রাজগুরু আর মহারাজার কাছে। সারা গ্রামের লোক দেখল দীন-দুঃখী, হতভাগী কুসুমজবাকে রাজকীয় সম্মানে দেশের যুবরাজ নিজের রথে নিয়ে রাজপ্রাসাদের দিকে ফিরে যাচ্ছেন।
Top of the page

হিংসুটে পাতা

-হরপ্রসাদ সরকার

গভীর বনে এক ফুল বাগান। চারিদিকে শাখায় শাখায় রং-বিরঙ্গের ফুল ফুটি আছে। পাখীরা আনন্দে উড়ে বেড়াচ্ছে, শাখায় শাখায় বসে গান করছে। রঙ্গিন প্রজাপতিরা ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সবুজ পাতারা সূর্যের আলোতে তরুণ তাজা হয়ে আছে। চারিদিকে খুশির হাওয়া, আনন্দের হাওয়া। একটি শাখায় শুধু একটি কলি অঝরে কেঁদে যাচ্ছে। তার কান্নার শব্দ কারো কানে গেল না। শুধু সেই গাছটি কলিটি কান্নার শব্দ শুনতে পেল। গাছটি কলিটিকে জিজ্ঞাস করল “ভাই! সবাই হাসছে, নাচছে, গাইছে আর তুমি একা বসে কাঁদছো কেন?”

কলিটি কাঁদতে কাঁদতে বলল “ দেখ ভাই আমি যতবার প্রাণ ভরে, সুন্দর হয়ে সেজে গুজে ফুল হয়ে ফোটে উঠার চেষ্টা করি ততবারই পাশের গাছের পাতাগুলি আমার সাথে হিংসা করে আমাকে ঢেকে রাখে। ফলে আমার কাছে কোন আলো পৌঁছায় না। পাখীরা প্রজাপতিরা আমাকে দেখতে পায় না। আমি তাদের সাথে খেলাও করতে পারিনা। কত বার আমি এভাবেই কেঁদে কেঁদে ঝড়ে পড়েছি। বারেবার আমি নতুন আশা নিয়ে, আরো সুন্দর মনমোহক আর রঙে নিজেকে সাজিয়ে নিয়ে ফুল হয়ে ফুটে উঠেছি। কিন্তু প্রতিবারই আমি তাদের কাছে হেরে গেছি। আজো হেরে যাবো। এবার ও কোন পাখী আমাকে দেখতে পারবে না, কোন প্রজাপতি আমার সাথে খেলা করবে না। তাই মনের দুঃখে আমি কাঁদছিলাম।”

গাছটি হেসে বলল “তাইই বুঝি। তবে আমি তোমাকে এই সমস্যার সমাধান বলে দিতে পারি।” কান্না থামিয়ে কলিটি বলল “কি সমাধান?” গাছটি বলল “দেখ ভাই তুমি তোমার রূপের কথাই শুধু চিন্তা করেছ আর তোমার রূপকেই তুমি শুধু বাড়িয়েছ। এতে কখনোই তেমন কিছু কাজ হয় না। তবে তোমার কাছে তোমার রূপ ছাড়াও আরো একটি জিনিস আছে আর সেটি হল তোমার গুন। তোমার সৌরভ। তোমার রূপ নয় পাতার আড়ালে ডাকা পড়ে গেল কিন্তু তোমার সৌরভকে কে আটকাতে পারবে? তুমি তোমার চেষ্টায় তোমার সৌরভকে এত সুন্দর, মধুর আর মিষ্ট করে তোল যেন প্রজাপতি, ভ্রমর আর পাখীরা পাগলের মত খুঁজতে খুঁজতে তোমার কাছে আসে।”

কলিটি তাইই করল। তার মিষ্ট-মধুর গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল বনের কোনায় কোনায়। ঝাঁকে ঝাঁকে প্রজাপতি, ভ্রমর ছুটে এলো সেই সৌরভের টানে। সেই হিংসুটে পাতারা অনেক চেষ্টা করেও তাকে আর ঢেকে রাখতে পারেনি। প্রজাপতিরা, ভ্রমরেরা পাতার আড়ালে খুঁজে বের করল সেই ফুলটিকে। দলে দলে পাখীরা উড়ে এলো ফুলটির কাছে আর নিজেদের ডানা আর পায়ের আঘাতে আঘাতে হিংসুটে পাতাদের ছিন্ন-ভিন্ন করে দিল। ডাল ভেঙ্গে হিংসুটে পাতারা লুটিয়ে পড়ল ধুলায়।
Top of the page

দুই মেঘ

-হরপ্রসাদ সরকার

একদিন কাঠফাটা রোদে দুইটি কুচকুচে কালো মেঘ আকাশ দিয়ে উড়ে উড়ে যাচ্ছিল। তারা দুই বন্ধু, ওনা আর বনা । তারা উড়ে যেতে যেতে দেখল এক রাজ্যে জলের খুব অকাল পড়েছে। চারিদিকে জলের জন্য হাহাকার। সব পুকুর, নালা শুকিয়ে আছে। গাছপালা সব শুকিয়ে মরার মত দাঁড়িয়ে আছে। কোন গাছেই কোন পাতা নেই, ফল নেই। তপ্ত রোদে মাঠের পর মাঠ ফেটে আছে। মাঠের ফসল সব মরে গেছে, জ্বলে গেছে। ঘরে ঘরে অন্নের জন্য, জলের জন্য কান্না, হাহাকার আর হানাহানি।

এই সব দেখে ওনার মনে খুব দয়া হল। সে সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়ল। ওনাকে এমন ভাবে দাঁড়াতে দেখে বনা বলল “কি হল ওনা? তুমি হঠাৎ দাঁড়িয়ে কেন?”

ওনা বনাকে নীচের করুন দৃশ্য দেখাল। সে বলল “আমার কাছে তো অনেক জল আছে। আমার জলে সবার দুঃখ চোখের নিমিষেই দূর হয়ে যাবে। আমি এখনই এখানেই ঝড়ে যেতে চাই।”

এ কথা শুনে বনা হায়! হায়! করে উঠল। সে বলল “একি বলছিস ওনা! এখানে ঝড়ে গেলে তোর এমন সুন্দর কুচকুচে কালো রূপ আর থাকবে না। তোর মেঘের অস্তিত্বই শেষ হয়ে যাবে। তুই চিরদিনের জন্য মরে যাবি। চল দুই বন্ধু মিলে হিমালয় পর্বতে যাই, সেখান বরফ হয়ে দীর্ঘদিন সুখে শান্তিতে থাকবো।”

ওনা বনার কথা না শুনে তখনি ঝড়ে পড়ল মাটিতে। বনা তা দেখে বন্ধুকে খুব গালাগাল দিতে দিতে উড়ে গেল আকাশে।

ওনা মাটিতে ঝড়ে পড়তেই চারিদিকে খুশির বন্যা বয়ে গেল। আনন্দ উৎসবে সবাই মেতে উঠল। গাছপালা আবার সবুজ পাতা মেলল, বীজেরা আবার অঙ্কুর মেলে দিল। দেখতে দেখতে কিছু দিনের মধ্যেই আবার চারিদিক সবুজে সবুজ হয়ে গেল। চারিদিকে জলে থৈ থৈ। খাওয়া পড়ার আর কোথাও কোন অভাব রইল না। সবার মুখেই হাসি। এমনি করে বহু বছর পেড়িয়ে গেল।

বহু বছর পড়ে আবার একদিন যখন বনা কুচকুচে কালো মেঘ হয়ে ঐ জায়গা দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল তখন নীচে থেকে তার কানে একটি আওয়াজ ভেসে এলো “কি বন্ধু কেমন আছ? কোথায় যাচ্ছ।” বনা থমকে সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়ল। সে দেখল সুবিশাল একটি বটগাছ মাথা নাড়িয়ে নাড়িয়ে তাকে বলছে “বনা, আমাকে তুমি চিনতে পেরেছ? আমি তোমার বন্ধু ওনা। এই দেখ আমি কত বিশাল এক বটগাছ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। লোকে আমার ছায়ায় বসে বিশ্রাম করে, আমার চারিদিকে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে, আমাকে ঘিরে লোকে মেলা নিয়ে বসে, আমাকে বনদেবতা বলে পূজা করে। বন্ধু আমি মরে গিয়েও খুব সুখে আছি। ওই দেখ আমার এক একটা জল বিন্দু ঐ দুরের বিশাল বিশাল শাল, সেগুন গাছ হয়ে দাঁড়িয়ে, এই গ্রামের কোনায় কোনায় আমার কণা ছড়ি আছে নানান রূপে। আজ আমার মেঘের রূপ নাই কিন্তু অসংখ্য রূপে আমি ছড়িয়ে আছি। তুমি এখানে যেদিকেই পা দিবে আমাকে পাবে বন্ধু। কিন্তু এত বছর পরেও দেখি তোমার রূপ তেমনি আছে, তেমনি তুমি হাওয়ায় উদ্দেশ্যহীন ভাবে উড়ে বেড়াচ্ছ? ভাল আছো তো বন্ধু? ”

কোন শব্দ না করে বনা চুপ করে সেখান থেকে উড়ে গেল।


Top of the page
All Pages     15    16    17    (18)     19    20    21    22    ...

Amazon & Flipkart Special Products

   


Top of the page