Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
Read & Learn
 

ব্রজলাল

-হরপ্রসাদ সরকার

All Pages   ◍    1    (2)     3    4    5    6    7    ...



এক রাজ্যের এক শহরের কোনে এক মিঠায়ের দোকান ছিল। ব্রজলাল আর কেশবলাল মিলে ঐ মিষ্টি দোকান চালাত। মিষ্টির গুনাগুণ ছিল ভাল। তাই দূর দূর থেকে লোক তাদের ওখানে মিষ্টির জন্য আসত। অনেক টাকার কেনা বেচা হত। রোজকার মিষ্টি রোজই শেষ হয়ে যেত। তাদের দোকানের নাম দূর দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল।
এক সময় এক বিশেষ কাজে ছ’মাসের জন্য কেশবলালকে পাশের শহরে চলে যেতে হল। কেশবলাল চলে যাবার কয়েকদিন পরের ঘটনা।
একদিন ব্রজলাল তার এক খদ্দেরের মুখে শুনতে পেলে যে রাজ্য ব্যবসা বাণিজ্যের দিন খুব খারাপ আসছে , খুব খারাপ। এমন এমন সব নতুন আদেশ আসছে যে ব্যবসা আর করা যাবে না। ঐ খদ্দের কেন এমন বলল তা সেইই জানে। কিন্তু ব্রজলালের মনে তা ঘর করে গেল। সে মনে মনে ভাবতে লাগল যে হয়তো ঠিকই খারাপ দিন আসছে। তাই সে মন মরা থাকতে লাগল।
আগে সে ৫০ সের দুধের মিষ্টি বানাত। এখন ৪০ সের দুধের মিষ্টি বানায়। কারণ তার মনে ভয় যদি তার মিষ্টি বিক্রি না হয়। দেশে মন্দী চলছে যে। এমন করে করে তার মিষ্টির গুন ও কম হতে লাগল। পরিস্থিতি এমন হল যে এখন ব্রজলাল ৫ সের দুধের মিষ্টি বানায় তাও বিক্রি হয় না। সে ভাবতে লাগল ঠিকই দেশে ভীষণ মন্দী চলছে। তাই তার মিষ্টি আর বিক্রি হচ্ছে না। সে সব সময় একদম মন মরা থাকতে লাগল।
এমনি এক দিনে কেশবলাল একদিন ফিরে এলো। সে তাদের দোকানের এই করুন অবস্থা দেখে খুব দুঃখ পেল। সে ব্রজলালকে তার কারণ জিজ্ঞাস করল। ব্রজলাল তাকে সব খুলে বলল আর বলল যে সত্যি দেশে খুব মন্দী পড়েছে। ব্যবসা আর করা যাবে না। কেশবলাল সব বুঝতে পারল।
সে হাসতে হাসতে তার ভাইকে বলল “তুমি সত্যি বলেছ দাদা, মন্দী তো হয়েছিল। কিন্তু মন্দী গত মাসেই চলেগেছে। এখন চারিদিকে আবার নতুন ভাবে সবাই ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করছে। ব্যবসার দিন যে আবার ফিরে এসেছে দাদা।”
ব্রজলাল প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেনি। কিন্তু ভাই মিথ্যা বলবে কেন ? তাই সে ভাই এর কথা বিশ্বাস করল। তার মনে আবার ধীরে ধীরে নতুন আশা ঘর করতে লাগল। মনে নতুন সাহস আসতে লাগল। মুখে হাসি ফিরে এলো। সে ভাবতে শুরু করল “এবার আবার আমাদের ব্যবসা ভাল চলবে। খুব মিষ্টি বিক্রি হবে।”
আর ধীরে ধীরে তাইই হতে লাগল। আবার তাদের দোকানে গ্রাহক আসতে লাগল। ধীরে ধীরে বিক্রির পরিমাণ ও বাড়তে লাগল। দেখতে দেখতেই কিছু দিনের মধ্যে তাদের মিষ্টির পরিমাণ আবার ৫০ সেরের উপর উঠে গেল। একদিন হঠাৎ ব্রজলাল তার ভাইকে প্রশ্ন করল “কি রে , মন্দী কি আবার আসবে ?”
কেশবলাল হাসতে হাসতে দাদাকে বলল “ দাদা মন্দী, কখনোই কিছু ছিল না। তুমি অন্যের কথাতে ভাবতে শুরু করে ছিলে যে মন্দী এসেছে। আর তোমার মনের ভাবনা তোমার কাজের ও দেখা দিল। বিক্রি কমতে লাগল। আবার যেই তুমি ভাবতে শুরু করলে যে মন্দী চলে গেছে, অমনি তোমার কাজে তোমার মনের ভাবনা দেখা দিতে লাগল। আর বিক্রি বাড়তে লাগল।” ব্রজলাল- তবে কিভাবে বুঝব যে মন্দী আসছে ?
কেশবলাল – সোজা হিসাব। যেদিন দেখবে যে দিনের পর দিন তোমার ১৬ আনার মিষ্টি কেউ ১ আনা দিয়ে ও কিনছে না। তখন ভাববে যে কোথাও কোন গরবর আছে। তখন সাবধান হতে থাক। ততদিন আনন্দ আর ব্যবসা। দুই ভাই একসাথে হেসে উঠল।।
Top of the page

কর্মনিয়োগ

-হরপ্রসাদ সরকার

এক গ্রামে দুই বন্ধু থাকত। পলাশ আর বিনয়। উভয়েই খুব পণ্ডিত, বুদ্ধিমান , সাহসী এবং বলবান। তাদের কথা ধীরে ধীরে রাজার কানেও গিয়ে পৌঁছল। শেষে একদিন রাজা তাদের রাজদরবারে ডেকে পাঠালেন। গ্রামবাসীদের নজরে তাদের সম্মান অনেক বেড়ে গেল।
সেই গ্রাম থেকে রাজ্যের রাজধানী অনেক অনেক দূর। পাঁচ দিনের পায়ে হাটার পথ। তাই তারা সঙ্গে সেই পরিমাণ খাবার দাবার নিয়ে একদিন শুভ মুহূর্তে গ্রামবাসীদের থেকে বিদায় নিয়ে রাজধানীর উদ্দেশ্য রওনা দিল। গ্রামবাসীরাও তাদের অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে গেল।
তারা পথে চলছে , গ্রামের পর গ্রাম, নগরের পর নগর পেরিয়ে যাচ্ছে। রাতের বেলায় তারা এক মন্দিরের প্রাঙ্গণে রাত কাঁটাল। সেখানে প্রচণ্ড মশা সারারাত তাদের ঘুমাতে দিল না। ভোর হতে না হতেই বৃষ্টি। অসময়ের বৃষ্টিতে পথ ঘাট সব কর্দমাক্ত আর পিচ্ছিল হয়ে গেল। অনেক কষ্টে তারা পথ চলতে লাগল।
পরদিন রাতে তারা থাকার কোন জায়গাই পেল না। ফলে রাতে তারা গাছের নীচেই শুয়ে পড়ল। এমন করে করে অনেক অসুবিধা-সুবিধার মধ্য দিয়ে শেষে তার রাজদরবারের সামনে এসে হাজির হল। আর পরদিন যথা সময়ে তাদের রাজদরবারে নিয়ে আসা হল।
রাজদরবারিগন দুই বন্ধুর পাণ্ডিত্যে , ব্যবহারে খুব খুশি হলেন। রাজার ও খুব পছন্দ হল। রাজা তাদের রাজকার্যে নিযুক্ত করতে চাইলেন আর রাজগুরুকে অনুরোধ করলেন তাদের কাজ ভাগ করে দেওয়া জন্য। রাজগুরু এক বন্ধুকে বাইরে অপেক্ষা করতে বললেন। বিনয়কে বাইরে নিয়ে যাওয়া হল আর পলাশ দরবারেই রইল।
রাজগুরু পলাশকে বললেন “তোমাদের এখানে আসার যাত্রা সম্পর্কে তুমি কিছু বল। তোমাদের পথের যাত্রা কেমন ছিল? রাত কেমন কাটল ইত্যাদি।”
- যাত্রা খুব খারাপ ছিল রাজগুরু। রাতে ঘুমাতে পারিনি , এত মশা চারিদিকে ছিল ! দিনে পথ চলতে কতবার যে পিছলে পড়লাম। পথ ঘাট এত পিচ্ছিল , এত খারাপ ছিল। একদিন রাতে আশ্রয়ই জোটেনি। গাছের তালাতেই ঘুমিয়েছিলাম দুই বন্ধু। ঠিক ঠাক জল পাওয়া যায় নি পথে তাই তৃষ্ণার ও খুব কষ্ট পেয়েছি। পলাশ দীর্ঘক্ষণ তার কথা বলে গেল আর রাজগুরু সব মন দিয়ে শুনলেন।
এবার পলাশ বাইরে চলে গেল আর বিনয় ভীতরে এলো। রাজগুরু তাকেও একই প্রশ্ন করলেন “রাজদরবারে আসার যাত্রা সম্পর্কে তুমি কিছু বল। তোমাদের পথের যাত্রা কেমন ছিল? রাত কেমন কাটল ইত্যাদি।”
বিনয় বলতে শুরু করল “যাত্রা খুব ভাল ছিল। কত নতুন জায়গা দেখলাম। কত লোকের সাথে পরিচয় হল , কত অভিজ্ঞতা হল।” তার কথা শুনে সবাই অবাক।
রাজগুরুঃ রাতে ঘুমাতে পেরেছিলে ? মশা কামরায় নি ?
বিনয়ঃ হ্যাঁ। কামড়েছিল বটে, কিন্তু আমি একদম চাদর মুড়ি দিয়ে বসেছিলাম। আর খুশীর স্বপ্ন দেখছিলাম।কিভাবে মহারাজের সাথে দেখা করব ? কি কথা বলব ? আর আকাশের সুন্দর তারাদের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
রাজগুরুঃ বৃষ্টিতে রাস্তা ও তো খারাপ ছিল, পিচ্ছিল ছিল। চলতে অসুবিধা হয় নি ?
বিনয়ঃ সেটাতে আমার কোন অসুবিধা হয়নি। আমিতো আসে পাশের গাছ গাছালি দেখছিলাম। তাতে বসে থাকা পাখীদের দেখছিলাম। তাদের গান শুনছিলাম। সে এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা।
রাজগুরঃ আর ক্ষুধা-তৃষ্ণা ?
বিনয়ঃ ভ্রমণে বের হলে ও সব একটু হয়ই। নতুন জায়গা , অচেনা জায়গা অসুবিধা একটু হওয়াই স্বাভাবিক।
রাজদবারিগন সবাই বাঃ বাঃ করে উঠলেন।
বাইরের বন্ধুকেও এবার দরবারের ভীতরে নিয়ে আসা হল। রাজগুরু দুই বন্ধুকে কাজ ভাগ করে দিলেন। পলাশকে দেওয়া হল রাজকার্য পরীক্ষণ আর নিরীক্ষণের কাজ। বিভিন্ন সামাজিক রাজপরিকল্পনাতেও তাকে সামিল করা হল। বিনয়কে দেওয়া হল শিক্ষা ও সাহিত্যের কাজ। সারা রাজ্যে শিক্ষার প্রসারের কাজে তাকে সামিল করা হল।
শেষে দুই বন্ধু রাজদরবার থেকে চলে যাওয়ার পর রাজগুরুকে মহারাজ প্রশ্ন করলেন “কিভাবে তিনি তাদের কাজ ভাগ করলেন ?”
রাজগুরু বললেন “মহারাজ, এরা দুজনেই জ্ঞানী আর বুদ্ধিমান। কিন্তু এদের বিচার আলাদা। পলাশের বিচার যে রকম তাতে সে রাজকার্যের বিভিন্ন দোষ খুঁজে বের করবেই। ফলে সেই দোষ ঠিক করে রাজ্যের লাভ হবে। আমরা জানতে পারব কোথায় আমাদের ভুল হচ্ছে।”
আর বিনয়ের স্বভাব অনুসারে সে শিক্ষার কাজ ভাল করতে পারবে। সে ছাত্রদের মনে নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা ভরে দিতে পারবে যা পরবর্তী সময়ে একটা সুন্দর, সবল রাষ্ট্র গঠন করবে। সভাসদ সবাই ধন্য ধন্য করে উঠল।


Top of the page

◕ Bengali Story writing competition. More..



All Pages     1    (2)     3    4    5    6    7    ...