Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
Read & Learn
 

মজার গল্প

Bengali Story

All Pages   ◍    17    18    19    20    21    22    23    (24)     25   


Mobile দোকানের মেয়েটি

-হরপ্রসাদ সরকার


An offer to make a Website for you.

hostgator




প্রথম দৃশ্যঃ
এই কিছুদিন আগের ঘটনা। আগরতলা শহরের একটা বেশ বড় মোবাইল কোম্পানির দোকান। অনেক কর্মচারী। দীপক সেই দোকানে মোবাইল কিনতে গেল। সঙ্গে তার কোন টাকা পয়সা ছিল না, কিন্তু একটি ব্যাঙ্কের ATM কার্ড ছিল। সে চার হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন ভাল করে দেখে শুনে পছন্দ করল।

দোকানের রিসেপসানের মেয়েটি তাকে বলল, "আপনি যদি ATM কার্ড দিয়ে মোবাইল ফোনটি কিনেন তবে ২% বেশী টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ ৪০০০ টাকার মোবাইল ফোনটির দাম পড়বে ৪২০০ টাকা। আমাদের দোকানের মালিকের এমনই আদেশ দেওয়া আছে।"

প্রসঙ্গত বলে রাখি, খোঁজ নিলে জানা যায় যে দোকানদার এভাবে বেশী টাকা নিতে পারেন না।

দীপক ঐ ৪০০০ টাকার মোবাইলটি ৪২০০ টাকায় কিনতে রাজি হয়ে গেল। মেয়েটি, একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা তার আরেকটি সহকর্মীকে ডাক দিয়ে বিল তৈরী করতে বলল। এই বলে সে ভিতরে গেল, একটু পরে কিছু ফাইল পত্র সাথে নিয়ে বাইরে বেড়িয়ে গেল।

দ্বিতীয় দৃশ্যঃ
দ্বিতীয় মেয়েটি দীপককে বিল বানিয়ে দিল। তাতে ৪২০০ টাকার বদলে ৪০০০ টাকা লেখা রইল। দীপক বিলটি দেখেও চুপ করে রইল। নিজের ২০০ টাকা বেঁচে যাওয়ায় সে ভীষণ খুশি হল আর ঐ প্রথম মেয়েটিকে মনে মনে অকথ্য ভাষায় অনেক অনেক গালি দিতে লাগল। একটু পরে দোকানের মালিক বাইরে বেড়িয়ে এল আর দীপকের ATM কার্ড থেকে ৪০০০ টাকা রাখল।

মোবাইলটি হাতে নিয়ে দীপক খুব তাড়াতাড়ি দোকান থেকে পালিয়ে গেল, কারণ যদি আবার ঐ দোকানদার পিছু থেকে ডাক দিয়ে তার থেকে ২০০ টাকা রেখে দেয়। নিরাপদ দূরত্বে এসে সে মনে মনে ওই প্রথম মেয়েটিকে আচ্ছা করে অনেকক্ষণ গালি দিল। সে দ্বিতীয় মেয়েটি আর দোকানদারটিকে অসংখ্য ধন্যবাদ দিল।

অদৃশ্য দৃশ্যঃ
অদৃশ্য দৃশ্যটি হল, প্রথম মেয়েটি, দ্বিতীয় মেয়েটিকে মোবাইল হস্তান্তর করার সময় ফিসফিস করে বলেছিল, "চার হাজার টাকার বিল বানাবি।" তারপর সে ভীতরে গিয়ে দোকানের মালিকের কাছে বলেছিল, "অন্য দোকানের একজন খদ্দের ATM কার্ড দিয়ে মোবাইল কিনতে চায়, কিন্তু ২% বেশী দিতে রাজি নয়। তাকে কি 'না' বলে দেব?"

মালিক ভেবে বললেন, "ঠিক আছে তাকে ৪০০০ টাকা দিয়েই দিয়ে দাও।"

বিচার দৃশ্যঃ
নিজেকে প্রশ্ন করেছি, কার কতটুকু কি ক্ষতি হল? কার কতটুকু লাভ হল? আমরা কি সব সময় সত্যটা জেনে কথা বলি?

ঈশ্বর ও কাজ

-হরপ্রসাদ সরকার

দুই ভাই, যতীন আর গোপাল। দুজনেই খুব পয়সাওয়ালা এবং দুজনেরই খুব ভাল ব্যবসা। পাশা পাশি দোকান, পাশা পাশি ঘর। কিন্তু দুজনের ব্যবহারে আর কাজ কর্মে বিস্তর ফারাক।

যতীনের কিছু একটা সমস্যা হলেই সে মা কালীর কাছে, ভোলানাথের কাছে, শ্রী বিষ্ণুর কাছে মানসী করে, "আমার যদি একি কাজটা হয়, তবে আমি রূপার তুলসী পাতা দেব। আমার যদি ঐ কাজটা হয় তবে সোনার হার দেব ইত্যাদি ইত্যাদি।" কখনো যতীনের ভাল ব্যবসা হলে সে গিয়ে ঠাকুরের জন্য রূপার থালা কিনে আনে, কখনো রূপার গেলাস কিনে আনে।

আর এটা ইতিহাস যে যতীন তার মানসী মনে প্রাণে পূর্ণ করে। তবু ও সমস্যা তার পিছু ছাড়ে না। আর সমস্যা গুলি ক্ষুদ্র ক্ষাদ্র সমস্যা নয়, সব বড় বড় সমস্যা। আজ বৌয়ের হাত ভাঙ্গল তো কাল যতীন গাড়িতে উঠতে গিয়ে হুচুট খেয়ে নাক ভাঙ্গল ইত্যাদি ইত্যাদি। ফলে যতীন তার সমস্যার পিছু পিছু মন্দিরে মন্দিরে চক্কর কাটতে থাকে। আবার মানসী করে - আবার মানসী পূর্ণ করে। বছরের পর বছর এমনি চলতে থাকে।

যতীনের ঘরে কচীৎ কোন অতিথি গিয়ে উঠে। তার উপর যতীনের ঘরে কেউ গেলে, যতীন তাকে নিজের অফুরন্ত দুখের কাহানী শুনাতে থাকে। এখানেই শেষ নয়, ভগবানকে খুশি করতে সে কি কি কাজ করে, তার বিষদ বিবরণ শুনতে শুনতে অতিথি দিশাহারা হয়ে যায়। এ সব কারণে কেউ যতীনের ঘরে যেতেই চায় না।

অপর দিকে গোপাল, পাঁচ বছরেও একবার মন্দিরে যায়না। তার কোন সমস্যাও হয় না। সে হৈ - হৈ করে দিব্যি রোজ বাজারে যায়, দুই তিন ব্যাগ ভর্তি করে বাজার আনে। ঘরের অতিথি বা পরিবার পরিজনদের নিয়ে পেট ভরে খায়। আনন্দ ফুর্তি করে। তার কোন সমস্যা হয় না। আর তার ঘরে সদাই অতিথি লেগেই থাকে। তার উপর আবার, গোপাল কাউকে এক পয়সা ও ধার দেয় না। তুমি খেতে চাও, আনন্দ করেতে চাও? আমার ঘরে এসো, আমার বাড়িতে এসো। তোমার মেয়ের বিয়ে? আমি নিজ হাতে তোমার মেয়ের বিয়েতে খরচ করব, কিন্তু তোমাকে ধার দেব না।

একবার এমনি হাজার সমস্যায় আর মানসীতে ঘিরে গেল যতীন। কোন উপায় সে চোখে দেখতে পেল না। নিরুপায় হয়ে সে তার গুরুদেবের কাছে গিয়ে মনের সব দুঃখ কথা খুলে বলল। সে জানতে চাইল, 'এত ঠাকুর, ঠাকুর করেও তার কেন এত করুন অবস্থা? আর এত নাস্তিক হয়েও গোপাল কেন সুখে থাকে?'

গুরুদেব খুব হাসলেন। শেষে বললেন, 'তুমি ভগবানকে কি ভাবো? তিনি কি তোমাকে দুঃখ দিয়ে খুব খুশি হন? উনি কি শুধু নামেই থাকেন। নাঃ। তুমি ভুল ভাবছ, ভগবান নামের চেয়ে কাজে বেশী খুশি হন। যেখানে শান্তি, আনন্দ সেখানেই তিনি আছেন। তুমি তার নাম নাও কিংবা না নাও, যদি তার উদ্দেশ্য কাজ করতে থাক, তার সৃষ্টিকে - তার রচনাকে ভালবাসতে থাক তবে তিনি খুশি হবেনই।'

- 'হে যতীন তুমি শুধু লোক দেখানো ভক্তি কর। তুমি মানসী করে, ভগবানের নাম নেওয়ার বদলে কিছু শর্ত জুড়ে দাও। তুমি তো অপর পক্ষে ভগবানের সাথে লেন দেন শুরু করে দিলে। ঈশ্বর কি লেন দেনের পাত্র? গোপালকে দেখ, সে ঈশ্বরের রচনাকে ভালবাসে। কম-বেশী তাতেই সদা খুশি থাকে, আনন্দে থাকে। সে মুখে ঈশ্বর না বলে - কাজে ঈশ্বর বলে। আর তাই ঈশ্বর তার সাথে সাথেই চলছেন।'




Top of the page
All Pages     17    18    19    20    21    22    23    (24)     25   

Amazon & Flipkart Special Products

   


Top of the page