Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
A platform for writers
 

সহায়তা

-হরপ্রসাদ সরকার, ধলেশ্বর - ১৩, আগরতলা, ত্রিপুরা

All Pages   ◍    1    2    3    (4)     5    6    7    ...





◕ পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতার রোমাঞ্চকর কথা Details..

◕ Send your story to RiyaButu.com and get ₹ 500/- Details..

◕ Bengali Story writing competition. Details..





সেই রাজধানীতে এক ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন। নাম ছিল বাসুদেব।অনেক কিছুর ব্যবসা ছিল তার। আমদানি ও ছিল ভাল। এত ধন-সম্পদ কি আর সাথে নিয়ে যাবেন , তাই তিনি অনেক কাল যাবৎ গরিব মানুষকে সহায়তা করছেন।

কিন্তু লোকে তার সহায়তা নিতে চাইত না। খুব কম লোক উনার কাছে সহায়তা চাইত। তার কারণ ছিল আজব।

বাসুদেব খুব খিটখিটে মেজাজের ছিল। মুখে যা আসত তাই বলত। গালি ছিল তার মুখের অলংকার। কেউ সহায়তার জন্য এলে তাকে তেমনি অনেক কথার সন্মুখিন হতে হত। বাসুদেবের সেই কথার আঘাতে আধা লোক এমনি পালিয়ে যেত। আর যারা সেই কথা শুনে ও পাথরের মত দাঁড়িয়ে থাকত তাদের দেওয়া হত খেত-খামারের কাজ , গরু-মহিষের সাফ সাফায়ের কাজ অথবা চাল, ডালের বস্তা উঠা-নামানোর কাজ।যার যে রকম যোগ্যতা সেই রকম কাজ।
সেই কাজের বহর দেখেই আবার কিছু লোক পালিয়ে যেত। আর যারা তার পরেও টিকে থাকত, সারাদিন কাজ করত, তাদের দিনের শেষে বিশাল রান্না ঘরে মিলত ভরপেট খাবার আর জমিদারের দীবানের হাতে মিলত পয়সা-কড়ি। তাদের কেউ-কেউ আবার বাসুদেবের বাড়িতেই সারা বছরের কাজ ও পেয়ে যেত।

সেই বিশাল রান্না ঘরে সারাদিনই চলত রান্না-বান্না। সেই ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকত চার-পাঁচ লাঠিয়াল। শুধু ছোট-ছোট ছেলেমেয়েদের আর অতি বৃদ্ধদের সেই রান্না ঘরে যাওয়ার অনুমতি ছিল।

এই সব কারণে বাসুদেবের পিছনে পিছনে কুমতলবের লোক ও কম ছিল না ,যারা তাকে খুব ঈর্ষা করত। তারা প্রায়ই এ নিয়ে রাজার কাছে নালিশ করত। বাসুদেবের খুব নিন্দা করত। রাজা শুধু শুনতেন। হ্যাঁ, হুঁ কিছুই বলতেন না আবার কিছু করতেন ও না।শুধু মুচকি মুচকি হাসতেন।

কিছুদিন পর সেই নিন্দুকেরা একদিন হাসতে হাসতে রাজার কাছে এলো। অতি উৎসাহে আর আনন্দে রাজাকে বলল “ বাসুদেবের উচিত শিক্ষা হয়েছে। পর পর দুদিন তার বাড়িতে ডাকাত পরল। বাসুদেবের লাঠিয়ালদের মেরে-কেটে ,প্রায় সব ধন-সম্পত্তি নিয়ে ডাকাতরা পালিয়েছে। এখন বাসুদেব ফকির। তার সমাজসেবা ও বন্ধ আবার তার বিশাল রান্নাঘর ও বন্ধ।” নিন্দুকদের খুশীর অট্টহাসি অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পরল।

রাজা আর এক মুহূর্ত দেরী করলেন না। সোনার সিংহাসন ছেড়ে উঠলেন। সেনাপতিকে আদেশ দিলেন এখুনি ডাকাতদের খুঁজে বের করতে , সৈনিকদের আদেশ দিলেন এই নিন্দুকদের বন্দী করতে কারণ এটা এদের ষড়যন্ত্র ও হতে পারে আর মহামন্ত্রীকে আদেশ দিলেন রাজরথ সাজাতে। আদেশের যথাযথ পালন শুরু হয়ে গেল। রাজা তক্ষুনি মহামন্ত্রী, সেনাপতি আর রাজ সৈনিকদের নিয়ে হাজির হলেন বাসুদেবের বাড়ি।

স্বয়ং রাজাকে নিজ বাড়ীতে দেখে চারিদিকে হাঁক-ডাক পরে গেল। রাজা অসুস্থ বাসুদেবের পাশে বসলেন। তাকে উৎসাহ দিলেন। মহামন্ত্রীকে আদেশ দিলেন অবিলম্বে বাসুদেবকে আবার তার ব্যবসা শুরু করার জন্য সহস্র স্বর্ণ মুদ্রা দেওয়া হোক।

রাজা বললেন “আমি জানি আপনি একজন সৎ এবং সত্যিকারের পরোপকারী মানুষ। লোকে যাহাতে আপনার সহায়তার মিথ্যা লাভ না উঠায় তার জন্যই আপনি সব সময় এক কঠোর আর নিকৃষ্ট রূপ ধরে থাকেন। আর যারা পরিশ্রম করতে ভয় না পায় তাদের আপনি যথাযথ সাহায্য ও করেন। আপনার মত লোক আমার রাজ্যের শোভা।”

বাসুদেবর মনে ভরসা জাগল সে আবার ব্যবসা শুরু করল আর রাজ সহায়তায় বাসুদেব খুব তারাতারি আবার আগের জায়গায় ফিরে এলো।
Top of the page

◕ পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতার রোমাঞ্চকর কথা Details..

◕ Send your story to RiyaButu.com and get ₹ 500/- Details..

◕ Bengali Story writing competition. Details..



All Pages     1    2    3    (4)     5    6    7    ...