Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
Read & Learn
 

দেবানন্দ

দেবানন্দ

◄ All Articles


An offer to make a Website for you.

hostgator




১৯২৩ সালে ২৬শে সেপ্টেম্বর তখনকার পাজ্ঞাবের গুরদাসপুর জেলায় (বর্তমান পাকিস্তানের নরওয়াল জেলায়) শকরগর নামক স্থানে ‘ ধরম দেবদত্ত পিশোরিলাল আনন্দ ’ নামে একটি শিশুর জন্ম হয়। পরবর্তী সময়ে সে দেব আনন্দ নামে ভারতীয় হিন্দী সিনেমাতে একটা নতুন যুগের সূচনা করে।

পিতা পিশোরিলাল আনন্দ ছিলেন পেশায় উকিল। উনার চার ছেলে, এক মেয়ে। ছেলেরা হলেন মনমোহন আনন্দ, চেতন আনন্দ , দেব আনন্দ , বিজয় আনন্দ আর মেয়ে শীলা।

মনমোহন আনন্দ ছিলেন বাবার মতই পেশায় উকিল। শীলা কাপুর হলেন সনাম ধন্য হিন্দী অভিনেতা ও নির্দেশক শেখর কাপুরের মা।

চেতন আনন্দ ছিলেন নির্মাতা এবং নির্দেশক। উনার নির্দেশিত কয়েকটি ছবি হল ট্যাক্সি ড্রাইভার (১৯৫৪), হকিকত (১৯৬৪), হীর-রানঝা (১৯৭০), কুদরত (১৯৮১), পরম বীর চক্র (টেলিভিশন ধারাবাহিক ১৯৮৮)।

বিজয় আনন্দ ছিলেন নির্মাতা, নির্দেশক এবং অভিনেতা। উনার নির্দেশিত কয়েকটি ছবি হল কালা-বাজার (১৯৬০), গাইড(১৯৬৫), তিসরী মনজিল (১৯৬৬), জুয়েল থিফ (১৯৬৭), জনি মেরা নাম (১৯৭০), রাম-বলরাম (১৯৮০)।
দেব আনন্দের শৈশব গুরদাসপুরের ঘরোটাতে কাটে।তিনি লাহোরের তৎকালীন ইংরেজ সরকারের সরকারী কলেজ থেকে ইংরেজিতে B.A ডিগ্রী লাভ করেন। কলেজের পড়া শেষ করে তিনি বম্বেতে চলে আসেন। এখানে চার্চগেইটে (মুম্বাই এর মেরিন ড্রাইভ এর পাশের একটি স্টেশন) তৎকালীন মিলিটারি সেন্সর অফিসে চাকরী জীবন শুরু করেন। একদিন তিনি পাশের সিনেমা ঘরে সিনেমা দেখতে যান। সিনেমার নাম ছিল ‘অচ্ছুত কন্যা।’ নায়ক ছিলেন ঐ সময়ের সুপারস্টার অশোক কুমার। এই সিনেমা দেখে তিনি অবিভুত হয়ে যান এবং তার মনে একটা সিনেমার নেশা তৈরী হয়। এর ঠিক কিছুদিন পরেই তিনি আবার সিনেমা দেখতে যান। ছবির নাম ‘কিস্মত।’ নায়ক আবার অশোক কুমার।

এই সিনেমা দেখার পর দেব আনন্দ আর দ্বিতীয়বার ভাবেন নি। তিনি কয়েকদিনের মধ্যেই তার চাকরী ছেড়ে দেন। ভাই চেতন আনন্দের সাথে মিলে Indian People's Theatre Association (IPTA) এর সদস্যতা গ্রহণ করেন। এবার কাজের সন্ধানে স্টুডিও থেকে স্টুডিও ঘুরার পালা।

শেষে ১৯৪৬ সালে এক ছবিতে কাজের সুযোগ মিলে। ছবির নাম ‘ হাম এক হ্যাঁয় ।’ Clip of that movieএই ছবিটি হিন্দু-মুসলমান এর ঐক্যবদ্ধতার ছবি। এখানে দেব আনন্দ একটি হিন্দু ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করেন। ছবিটিতে নায়িকা ছিলেন কমলা কোটনিস।


এই ছবির কিছু অংশ মহারাষ্ট্রের পুনেতে শুটিং হয়েছিল। এই শুটিং এর সময়ই একদিন দেব আনন্দের সাথে একটি ছেলের পরিচয় হয়। সেও সিনেমার পাগল। তবে এই জগতে নতুন, কোথাও কাজ পাচ্ছেনা , কিছুই হচ্ছে না। দুই জনের মধ্যে বন্ধুত্ব খুব গভীর হল। তারা ঠীক করল যে যদি তাদের মধ্যে কেউ সিনেমাতে কাজ পায় তবে সে অন্যজনকে কাজ পাইয়ে দিতে সাহায্য করবে ( ঠীক যেমন হয়েছিল ধর্মেন্দ্র আর মনোজ কুমারের মধ্যে। পরের পর্ব সে সম্পর্কে )। দুই বন্ধুর মধ্যে তেমনটাই হয়েছিল। দেব আনন্দের সেই বন্ধুটি ছিলেন গুরুদত্ত। যার এক একটা সিনেমার টেকনিক্যাল দিক নিয়ে দেশ বিদেশে আজো গবেষণা হয়।
guru datt এই ‘হাম এক হ্যাঁয়’ ছবিটি খুব একটা চলেনি। কিন্তু এর ফলে একটি অন্য বড় কাজ হয়ে যায়। যে অশোক কুমারের ভক্ত ছিলেন দেব আনন্দ সেই অশোক কুমারেরই নজর পড়ল দেব আনন্দের উপর। অশোক কুমার লক্ষ্য করলেন ঐ ছেলেটি রোজ স্টুডিওতে আসে ঘুরাঘুরি করে , এর ওর সাথে দেখা করে। তবে ছেলেটার মধ্যে আলাদা একটা স্টাইল আছে, একটা প্রতিভা আছে। তাই একদিন ডেকে নাম, ধাম জিজ্ঞাস করলেন। অশোক কুমারের খুব ভাল লাগল। তিনি ঐ সময়ের ‘ বম্বে টকিজে ’ দেব আনন্দের জন্য সুপারিশ করলেন। যথারীতি একটা কাজ ও পাওয়া গেল।

আর সেই ছবি জন্ম দিল এক নতুন ইতিহাসের, এক নতুন যুগের। ছবির নাম জিদ্দী (Ziddi 1948)। ছবিতে নায়িকা ছিলেন কামিনী কৌশল।
Kamini Kaushal এই ছবিটি শুধু দেব আনন্দর জন্যই একটি মাইলস্টোন নয়। এ ছবিটির সাথে আরো কয়েকটি মহান ইতিহাস যুক্ত। এই ছবিতেই গায়ক হিসেবে কিশোর কুমার প্রথম গান গাইলেন। নায়ক-গায়কের এই জুটি আমৃত্যু বজায় ছিল। গানটি ছিল ‘ মরণে কি দুয়ায়েঁ… ।’গানটি দেখতে ক্লিক করুন .
শুধু এইই নয় এই ছবিতেই কিশোর কুমার আর লতা মঙ্গেশকর প্রথম ডুয়েট গান গাইলেন। আর গানের জগতের আরেকটা নতুন দিগন্তের সূচনা হল। গানটি ছিল ‘ ইয়ে কৌন আয়া করকে ইয়ে সোলা সিংগার ।’গানটি দেখতে ক্লিক করুন দেব আনন্দকে আর পিছন ফিরে দেখতে হয়নি।

ঠীক এর পরেই ভাই চেতন ও বিজয়ের সাথে মিলে দেব আনন্দ নিজের প্রডাকশন কোম্পানি খুলে দিলেন ১৯৪৯ সালে। নাম রাখলেন নবকেতন। আর ডেকে নিয়ে এলেন সেই বন্ধু গুরুদত্তকে। নবকেতনের প্রথম ছবি বাজী (Baazi 1949)।

এই সিনেমার গান চারিদিক মাতিয়ে দিল।সুপার ডুপার হিট। এই ছবিতে দুটি নতুন ইতিহাসের সিঁড়ি তৈরী হল। এক, গুরুদত্ত নির্দেশক হিসেবে প্রথম আত্মপ্রকাশ করলেন। দুই, এই ছবিতে যে নায়িকা ছিলেন তিনি। সিমলার একটি মেয়েকে ভাই চেতন আনন্দ ধরে নিয়ে এসেছিলেন একদিন এই ছবির নায়িকা হিসেবে। নাম মোনা সিং। রূপালী পর্দায় নাম কল্পনা কার্তিক আর ১৯৫৪ সালে ইনিই দেব আনন্দকে বিয়ে করেন।

১৯৪৯ এর আশেপাশে দেব আনন্দের জীবনে কিছু ঘটনা ঘটে। একের পর এক তিনি ঐ সময়ের এক স্টার নায়িকার সাথে ছবি করার অফার পেতে থাকেন। কারণ ঐ নায়িকার সাথে দেব আনন্দের জুটি দর্শকরা খুব পছন্দ করত। মনে রাখতে হবে ঐ নায়িকা তখন একজন স্টার আর দেব আনন্দ মাত্র উঠতি নায়ক। ফলে দেব আনন্দ সেই নায়িকা থেকে ,পারিশ্রমিক ও অনেক কম পেতেন।
যখন বম্বেতে এই ঘটনা চলছিল তখন ঠিক সেই রকমই একটা ঘটনা কোলকাতাতেও চলছিল। এখানে ছিলেন মহানায়ক উত্তমকুমার আর সুচিত্রা সেন।
ফিরে যাই বম্বে। ঐ নায়িকার সাথে দেব আনন্দ অনেক গুলি ছবি করেন। যেমন Vidya (1948), Jeet (1949), Shair (1949) (1949), Afsar (1950), Nili (1950), Do Sitare (1951) and Sanam (1951) ইত্যাদি।

এই বিদ্যা(Vidya) ছবিটির শুটিং এ একটি দুর্ঘটনা ঘটে। দেব আনন্দ আর নায়িকাকে নৌকাতে গান গাইতে গাইতে যাওয়ার কথা। ঠীক তেমনটাই হচ্ছিল। কিন্তু মাঝ নদীতে নৌকা উল্টে গেল। সেদিন দেব আনন্দ যদি অতি সাহসিকতার সাথে, নিজের জীবনের কথা না ভেবে সুরাইয়াকে না বাঁচাতেন তবে আমরা আর সুরাইয়াকে কোন দিন পেতাম না। এই মহান তারকার সলিল সমাধি হত। গানটি দেখতে ক্লিক করুন
ব্যাস , সুরাইয়া আর দেব আনন্দের মধ্যে একদম ফিল্মী স্টাইলের সেই নিখাদ প্রেম শুরু হল। দেব আনন্দের পরিবার তাদের দু-জনকেই মেনে নিলেন। জীত (Jeet) ছবির শুটিং চলার সময় দেব আনন্দ সবার সামনেই সুরাইয়াকে ভালবাসার প্রস্তাব দিয়ে একটি হীরের আংটি দেন। যার দাম ঐ সময়ে ৩০০০ টাকা ছিল। কিন্তু সুরাইয়ার ঠাকুরমা এই বিয়েতে মত দেননি। কারণ সুরাইয়া মুসলমান আর দেব আনন্দ হিন্দু। দেব আনন্দ আর সুরাইয়ার ভালবাসা সেদিন ধর্মের সেই শিকল ভাঙ্গতে পারেনি। ফলস্বরূপ সুরাইয়া ভালবাসাকে হারিয়ে আর কোনদিন বিয়ে করেন নি। আর দেব আনন্দ ১৯৫৪ সালে রাশিয়াতে এক শুটিং চলাকালীন অতি সাধারণ ভাবে কল্পনা কার্তিককে বিয়ে করেন।

সুরাইয়া ধীরে ধীরে নিজেকে সিনেমা জগত থেকে দূরে সরিয়ে নেন। আর তিনি ফিরে আসেন নি। ৩১ জানুয়ারি ২০০৪ উনার মৃত্যু হয়। আর বিয়ের পর কল্পনা কার্তিক ও আর সিনেমা করেন নি। কল্পনা কার্তিক আর দেব আনন্দের জুটির কয়েকটি সফল ছবি হল Aandhiyan, Taxi Driver, House No.44 , Nau Do Gyarah(এই জুটির শেষ ছবি)
Kalpana Kartik
kalpana kartik1
১৯৫৬ সালে তাদের ঘরে তাদের প্রথম সন্তান আসে। ছেলে সুনেইল (Suneil)। ক্রমে তাদের ঘরে দ্বিতীয় সন্তান ও এল। আদর করে মেয়ের নাম রাখা হল দেবীনা (Devina)।


Top of the page

Amazon & Flipkart Special Products

   


Top of the page