Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
Read & Learn
 

ত্রিপুরার শিল্প

ত্রিপুরার শিল্প

◎ All Articles On Tripura     ◎ All Other Articles







This article is about the Industry of tripura.
Last updated on: .
Landguage: Bengali.

কেন ত্রিপুরাতে ভারী শিল্প গড়ে উঠেনি?



◕ ভারতের পূর্বোত্তরের এই পার্বত্য রাজ্যের অর্থনীতি প্রধানত কৃষি নির্ভর। সু-শিল্প গড়ে উঠতে যে পরিকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থা দরকার তার অধিকাংশই এখানে অনুপস্থিত। ফলে এখানে ভারী শিল্প গড়ে উঠেনি।

বর্তমানে (২০১৬) যদিও ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলাতে রেলগাড়ির আগমন ঘটেছে তবে তা এখনো শৈশবেই আছে। ৪৪ নং জাতীয় সড়কই ত্রিপুরার জীবন-রেখা। ফলে এই পার্বত্য রাজ্যের পার্বত্য পথে শিল্প সামগ্রীর যাতায়াতের যেমন অসুবিধা আছে তেমনি এই যাতায়াতের ফলে খরচের পরিমাণ ও বেড়ে যায়। ত্রিপুরার অনুন্নত শিল্প কাঠামোর পেছনে ইহাই মুখ্য কারণ।

এত সব অসুবিধার পরেও ত্রিপুরাতে কুঠির শিল্প খুব ভাল গড়ে উঠেছে। আর তা কোন ভাবেই বিশ্বমানের চেয়ে কম নয়।

ত্রিপুরার মুখ্য কুঠির শিল্পের নাম



ত্রিপুরার মুখ্য শিল্প গুলি হলঃ

◕ হস্ত-তাঁত শিল্প

◕ চা শিল্প

◕ পর্যটন শিল্প

◕ কৃষি শিল্প

◕ রাবার শিল্প

নীচে এদের বিশদ বিবরণ দেওয়া হল।

ত্রিপুরার হস্ত-তাঁত শিল্প

ত্রিপুরার পাহাড়, পর্বতগুলি শাল, সেগুন, গামাই প্রভৃতি গাছপালাতে পরিপূর্ণ। সাথে আছে বিপুল পরিমাণে বাঁশ, বেত প্রভৃতি গাছের ভাণ্ডার। ফল স্বরূপ আদি কাল থেকেই ধীরে ধীরে ত্রিপুরাতে গড়ে উঠেছে হস্ত-তাঁত শিল্প।

বাঁশ বেতের তৈরী এই সব পণ্য সমগ্র ভারত সহ সমগ্র বিশ্বের বাজারে সমাদৃত। সঠিক বিপণনে ক্ষুদ্র ত্রিপুরা এই শিল্প বিশ্বে প্রথম স্থান দখল করতে পারে। কারণ এখান ভরপুর কাঁচামাল ও উন্নতমানের কারিগর বর্তমান।

ত্রিপুরার পার্বত্য বনে জঙ্গলে থাকা গাছগুলির কাঠের তৈরী নক্কাসি, আসবাবপত্র খুবই সুন্দর এবং টেকসই। এর কারুকার্য এবং তার বৈশিষ্ট্য খুবই আলাদা এবং উন্নত। শুধু যথাযথ পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে ত্রিপুরার এই বিশাল শিল্পের সম্ভাবনা এখনো তেমন প্রসার লাভ করেনি।

ত্রিপুরার তাঁতশিল্প অতি সুপ্রাচীন। সেই রাজা রাজাদের আমল থেকেই ত্রিপুরার বুকে এই শিল্প বিস্তার লাভ করেছে। ত্রিপুরার তাঁতশিল্পরা শাড়ি, কাপড়, গামছা তৈরীতে পারদর্শী। ত্রিপুরার তাঁতশিল্পীদের তৈরী পরিধান সামগ্রী বিশেষ করে রিয়া এবং পাছরা চোখে দেখার মত। যদি বলা হয় যে, ত্রিপুরার তাঁতশিল্পীদের তৈরী রিয়া এবং পাছড়ার মতন এমন শিল্প সামগ্রী পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যাবেনা, তবে তা অত্যুক্তি হবে না। আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে ত্রিপুরার এই শিল্প ধীরে ধীরে প্রসার লাভ করতে থাকলেও, এখনো তা খুবই কম।

বর্তমানে ত্রিপুরার বহু স্থানে রেশম ও তুঁত চাষ হয়। তন্তু সুতার উৎপাদন ও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বহু স্থানে নতুন উদ্যমে রেশমি কাপড় তৈরীর কাজ শুরু হয়েছে।


ত্রিপুরার চা শিল্প

ত্রিপুরার মাটি ও আবহাওয়া চা গাছের খুবই উপযোগী। ফলে ত্রিপুরাতে চা শিল্প একটি সংগঠিত রূপ নিয়েছে। আগরতলা সহ সারা ত্রিপুরাতেই ছড়িয়ে আছে বহু চা বাগান। ত্রিপুরাতে বর্তমানে মোট চা বাগানের সংখ্যা প্রায় ৫৫।

ত্রিপুরার পর্যটন শিল্প

প্রতিটি জায়গার একটি ইতিহাস থাকে। ত্রিপুরার ইতিহাস খুব গৌরবময়। এই পার্বত্য প্রদেশ তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে অসংখ্য রূপ-রং এ সেজে আছে।

ত্রিপুরার পাহাড়গুলির প্রাকৃতিক শোভা দেখার মত। ৪৪ নং জাতীয় সড়কটি আঠারোমুড়া, বড়মুড়া প্রভৃতি পাহাড়ের মধ্য দিয়ে সাপের মত এঁকে বেঁকে চলেগেছে। তার দুই ধারে ছড়িয়ে আছে সবুজ আর সবুজ গাছপালা। ছোট ছোট পাহাড়ি পথ, পাহাড়ি ঝর্ণা নেমে গেছে পাহাড়ের গা বেয়ে। নামি অনামী বহু ফুল ফুটে আছে সেই বনো গাছপালাতে। বিশুদ্ধ ও নির্মল হাওয়া ঝিরঝির করে বয়ে চলে সেই গাছের ফাঁকে ফাঁকে। চারি দিক শান্ত, নিস্তব্ধ। শুধু পাখীদের কিচিরমিচির হাওয়ার সাথে সাথে চারিদিকে ছড়িয়ে যায়। এমন মনোরম পরিবেশ হয়তো পৃথিবীতে আরো লক্ষ্য কোটি খুঁজে পাওয়া যাবে, তবে অতি কম খরচে, সাধারণ-সহজ-সরল মানুষের অকৃত্রিম ভালবাসায় এমন সুন্দর ভ্রমণ হয়তো ত্রিপুরা ছাড়া খুব কম স্থানেই পাওয়া যাবে। ত্রিপুরার মনোরম, মধুর প্রাকৃতিক শোভা ত্রিপুরার একটি সম্পদ।


ত্রিপুরাতে বাকি দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম হল:

মন্দির

ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির

চতুর্দশ দেবতা মন্দির

লক্ষ্মীনারায়ণ ঠাকুরবাড়ি

জগন্নাথ-বাড়ী

কসবা কালীবাড়ি

কমলেশ্বরী কালীমন্দির


রাজবাড়ী

উজ্জ্বয়ন্ত প্রাসাদ

নীরমহল


দিঘী এবং ঝিল

লক্ষ্মীনারায়ণ দিঘী

জগন্নাথ দিঘী

মহাদেব দিঘী

ডুম্বুর লেক

কমলা-সাগর

রুদ্র-সাগর


পাহাড় ও ভাস্কর্য

ঊনকোটি

পিলাক

জম্পুই

আঠারোমুড়া

বড়মুড়া


চিড়িয়াখানা

সিপাই-জলা

তৃষ্ণা অভয় অরণ্য


মেলা

ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরের দীপাবলির মেলা

খার্চী মেলা

ব্রহ্মকুণ্ড মেলা

তীর্থমুখের মেলা

◕ এছাড়াও দেখার মত আছে ডুম্বুর জলপ্রপাত, মহারাজা বীরবিক্রম কলেজ প্রভৃতি।




Top of the page