Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
Read & Learn
 

রাষ্ট্র সংঘ

United Nations

◄ All Articles


An offer to make a Website for you.

hostgator




This article is regarding United Nations.
Last updated on: .
Language: Bengali.



রাষ্ট্র সংঘের প্রতিষ্ঠা ও কার্য

প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের (১৯১৪- ১৯১৯) পর জাতী সংঘ (The League Of Nations) প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জাতী সংঘের চরম ব্যর্থতায় ইহার অপমৃত্যু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ এবং ভয়ঙ্কর পরিণতি দেখে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে ১৯৪৫ সালে ২৪শে অক্টোবর United Nation বা রাষ্ট্র সংঘ গঠিত হয়।

United Nations এই দুটি শব্দ ইংরেজ কবি লর্ড বেরনের ‘ Childe Harold’s Pilgrimage ’ থেকে তৎকালীন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট চয়ন করেছিলেন। ১৯৪৫ সালে United Nations এর গঠনের সময় ৫১টি রাষ্ট্র সদস্য ছিল। বর্তমানে United Nation এর সদস্য সংখ্যা ১৯৬। প্রতিবছর ২৪শে অক্টোবর দিনটি United Nation’s day হিসাবে পালিত হয়।

United Nations এর সদর দপ্তর নিউ-ইয়র্কে অবস্থিত। United Nations এর খরচ-পত্র এর সদস্য দেশ গুলিই বহন করে। United Nations এ ছয়টি ভাষা ব্যবহৃত হয় যথা আরবি, চায়নিজ, ইংরেজি, ফ্রান্স, রাশিয়ান এবং স্প্যানিশ।

United Nations এর উদ্দেশ্য সমূহ রূপায়নের জন্য ছয়টি প্রধান সংস্থা আছে।
১) সাধারণ সভা (General Assembly )
২) নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council )
৩) অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (Echonomic and Social Council )
৪) অছি পরিষদ (Trusteeship Council)
৫) আন্তর্জাতিক বিচারালয় ( International Court Of Justis)
৬) কর্ম দপ্তর ( Secretariat )

সাধারণ সভা (General Assembly )
প্রত্যেক সদস্য দেশের প্রতিনিধি নিয়ে এ সভা গঠিত। প্রতিটি দেশ অনধিক ৫ জন প্রতিনিধি প্রেরণ করতে পারে যদিও প্রতিটি দেশের ভোট একটিই থাকে। প্রতি বছর ১লা সেপ্টেম্বরের পর প্রথম মঙ্গলবার এ সভা বসে।

নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council )
বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ১৫ টি। ৫টি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র এবং ১০ টি অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র। স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র গুলি হল রাশিয়া, আমেরিকা, চীন, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ড। অস্থায়ী সদস্য দেশ গুলি ২ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। কোন প্রস্তাবে কোন স্থায়ী সদস্যের অসম্মতির অর্থ হল ভেটো দেওয়া।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (Echonomic and Social Council )
বর্তমানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা হল ৫৪ টি। সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ তিন বছর।

অছি পরিষদ (Trusteeship Council)
এই পরিষদে সেই অঞ্চলের কথা বলা হয় যেখানে অধিবাসীরা এখনো স্বাধীনতা লাভের উপযুক্ত হয়ে উঠেনি। ১৯৯৪ সালে পালাও স্বাধীনতা করার সাথেই অছি পরিষদের বিলুপ্তি ঘটে।

আন্তর্জাতিক বিচারালয় ( International Court Of Justis)
১৫ জন বিচারপতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচারালয় গঠিত। বিচারপতিরা সাধারণ সভা ও নিরাপত্তা পরিষদের সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোটে ৯ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। আদালতের ভাষা ফরাসি ও ইংরেজি। আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডের দি হ্যাগ ( The Hague) এ অবস্থিত।

কর্ম দপ্তর ( Secretariat )
ইহার সদর দপ্তর নিউ-ইয়র্কে অবস্থিত। এই দপ্তরের প্রধান হলেন সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি নিরপত্যা পরিষদের সুপারিশ ক্রমে সাধারণ সভা কর্তৃক ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।

৭০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান
২০১৫ সালে রাষ্ট্র সংঘের ৭০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের সাধারণ সভায় বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশের রাষ্ট্রনেতা অংশগ্রহণ করেন। আরো উন্নত সংগঠন, সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু বদল ইত্যাদি বিষয়ে এই সভায় আলোচনা হয়।

রাষ্ট্র সংঘের সাফল্য ও ব্যর্থতা

সাফল্য

রাষ্ট্র সংঘের সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়তো এটাই যে, পৃথিবীতে আর তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়নি। এটাও হয়তো রাষ্ট্র সঙ্ঘের আরেকটি সাফল্য যে, ১৯৪৫ সালের পরে ছোট বড় অনেক গৃহযুদ্ধ বা আন্তঃ-রাষ্ট্রীয় যুদ্ধ হলেও হিরোশিমা বা নাগাসাকির মত পারমানবিক বোমা ব্যবহার হয়নি।

তাছাড়া ও কম্বোডিয়া, নামিবিয়া, কুয়েত প্রভৃতি দেশে শান্তি স্থাপনে রাষ্ট্র সংঘের যথেষ্ট ভূমিকা ছিল। তবে সেই শান্তির পিছু পিছু অশান্তিও এগিয়ে এসেছিল।

রাষ্ট্র সংঘের কাড়নেই বহু দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছে। লক্ষ্য-কোটি মানুষের জীবনমান উন্নত হয়েছে। বহু দেশে মানুষ তাদের মানবাধিকার রক্ষা করতে পেরেছে। এখনো রাষ্ট্র সংঘ সেই পথে কাজ করে যাচ্ছে।

যেমনঃ-

UNESCO: এই সংগঠনটি সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি নিয়ে বিশ্বে কাজ করছে।

FAO: এই সংগঠনটি চাষ-বাস ও খাদ্য নিয়ে বিশ্বে কাজ করছে।

ILO: এই সংগঠনটি শ্রমিক স্বার্থ সুরক্ষা নিয়ে বিশ্বে কাজ করছে।

WHO: এই সংগঠনটি স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে বিশ্বে কাজ করছে।



ব্যর্থতা

অনেক উন্নত ও দৃঢ় পরিকাঠামো এবং সংগঠন থাকা স্বত্বেও রাষ্ট্র সংঘ বহু আন্তঃরাষ্ট্রিয় ও গৃহযুদ্ধকে আটকাতে পারেনি। রাষ্ট্র সংঘের চোখের সামনেই অনেক ধ্বংসলীলা সংগঠিত হয়েছে।

১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র সংঘেরই এক প্রস্তাবে ফিলিস্তিনি বা প্যালেস্টাইন ভূখণ্ডে ইজরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম হয়। বর্তমান কাল পর্যন্ত ঐ অঞ্চলে অশান্তি বিদ্যমান।

মধ্য প্রাচ্যের ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক, মিশর প্রভৃতি রাষ্ট্রে বর্তমান হিংসা আর ধ্বংস অনেকটাই রাষ্ট্র সংঘের ব্যর্থতার রূপ।


Other Pages: Daily Online Practice Test For Compititive Exam





Top of the page

Amazon & Flipkart Special Products

   


Top of the page