Home   |   About   |   Terms   |   Library   |   Contact    
A platform for writers

নয়নবুধী

ত্রিপুরার ইতিহাসের পটভূমিতে রচিত একটি উপন্যাস

-------- বিজ্ঞপ্তি ----------
■ 'স্বরচিত ছোট গল্প প্রতিযোগিতা ( ৬০০ শব্দের )', নভেম্বর, 2022 Details

◕ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা - সেপ্টেম্বর ২০২২, Result
--------------------------



All Bengali Stories    44    (45)    46    47    48    49   

নয়নবুধী
( এক পাঁজালীর প্রেমিকা )
পর্ব ২৬
ত্রিপুরার ইতিহাসের পটভূমিতে রচিত একটি উপন্যাস
লেখক - হরপ্রসাদ সরকার, ধলেশ্বর, আগরতলা
( এই উপন্যাসের সকল স্বত্ব সরকারি রেজিস্ট্রিকৃত ভাবে লেখক দ্বারা সংরক্ষিত )


নয়নবুধী: সমস্ত পর্বগুলি: All Parts

◕ নয়নবুধী
পর্ব ২৬
চারিদিকে এক ভয়ানক কোলাহল। বুকের রক্ত হিম করা হাজার প্রাণীর চীৎকার, ভয়ার্ত তীব্র আর্তনাদ, রণ হুঙ্কার, গর্জন; সব মিলিয়ে পরিবেশটা ভয়াবহ হয়ে উঠল। ইন্দ্র ভেবে পেল না নিজের প্রাণ-রক্ষায় এবার সে কি করবে? ওখানেই নীরবে বসে থাকবে, না কি গাছের আগায় উঠে যাবে, না কি ছুটে পালাবে কোনও দিকে। কোনটি বাঁচার পথ, ভেবে পেল না। বিপদে অধীর হলেই পরাজয়, আবার ধৈর্যই সাফল্যের চাবিকাঠি। ইন্দ্র ঝোপের মাঝে ধৈর্য ধরে পড়ে রইল। ততক্ষণে সামনের কোলাহল আর দুমদাম তীব্র আকার ধারণ করল। কী হচ্ছে তা দেখতে ইন্দ্র ধীরে-ধীরে ঝোপের ভিতর থেকে মাথাটা একটু বের করতেই পথে যে দৃশ্য দেখল তাতে সে থর-থর করে কাঁপতে লাগল। এ স্বপ্ন নয় তো!! সে বিশ্বাসই করতে পারছে না। সে দেখল উন্মত্ত হাতি একটি বিশাল দল চারিদিকে থেকে পথের উপর বসে থাকা বানর দলের উপর আক্রমণ করেছে, ছিন্ন-ভিন্ন করে দিচ্ছে তাদের। শুঁড় দিয়ে বানরদের ধরে মাটিতে আছাড় মারছে, শূন্যে উড়িয়ে দিচ্ছে, পা দিয়ে পিষে মারছে। গাছে-গাছে পালিয়েও বানরের দল রেহাই পাচ্ছে না। হাতির দল একের পর এক গাছ ভেঙ্গে বানরদের উপর ছুঁড়ে ফেলছে। বানরের দলও কম যাচ্ছে না, দল বেঁধে মৌমাছির মত ঝাঁপিয়ে পড়ছে এক-একটা হাতির উপর, কামড়ে-কামড়ে রক্তাক্ত করে দিচ্ছে এক-একটা হাতিকে। আক্রমণ, প্রতি-আক্রমণ, আর্তনাদ আর চীৎকারে গভীর বনের ঐ প্রান্তে তখন ভয়ানক অবস্থা। অথচ ইতিহাসের কেউ কোনোদিন হয়তো জানবেই না যে, এই বনের এক কোনে একদিন হয়েছিল হাতি আর বানরদের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। যদিও রণাঙ্গন ইন্দ্রের থেকে অনেকটা দূরে, তবু, রণাঙ্গনের অভিমুখ পাল্টাতে কতক্ষণ? ঠিক ঐ মুহূর্তে নিজের ঝোপটিকেই ইন্দ্রের সব চেয়ে বেশী নিরাপদ বলে মনে হল। সে পাথরের মত নিশ্চল হয়ে ঐ ঝোপে বসে সব কিছু দেখতে লাগল।

সন্ধ্যা প্রায় হয়-হয়। সন্ধ্যার এমন ভয়াবহ রূপ সে আগে কখনো দেখে নি, ভবিষ্যতে কখনো দেখবে বলেও মনে হল না; দেখতে চায়ও না। এই পৃথিবীতে জন্ম-মৃত্যুর মত যদি কিছুর নিশ্চিত বদল হয়, তাহলে তা হল সময়। সময়ের সাথে-সাথে যেকোনো মহাযুদ্ধেরও পরিসমাপ্তি ঘটে।

অবশেষে সন্ধ্যায় বানরের দল রণে ভঙ্গ দিল। এ যেন আরেক ভেলকি, এতক্ষণ শত-সহস্র বানর ছিল, হঠাৎ সব যেন গাছে-গাছে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। এদিকে বানরের দল পালালে কী হবে, হাতিদের রাগ তো আর কমছে না। ওরা যুদ্ধ জয়ের আনন্দেই হোক, কিংবা আরও বেশী শত্রু নিধন করতে না পারার ক্ষোভেই হোক উন্মাদের মত দলে-দলে আশে-পাশের নির্দোষ, নিরপেক্ষ বড়-বড় গাছগুলিকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিতে লাগল। দলে-দলে বিশাল বৃক্ষ মাটিতে আছড়ে পড়তে লাগল। এই শব্দও কিছু কম নয়। রূপে-গুনে ভিন্ন হলেও সকল যুদ্ধের রূপ-রেখা এক। অবুঝ-নির্দোষ-নিরপেক্ষ-নিরপরাধীরা এখানে বিনা কারণে যুদ্ধের তৃতীয় পক্ষ। জয়ে, পরাজয়ে, উভয় ক্ষেত্রেই এরা শত-সহস্রে বলি হয়। তাই যুদ্ধের পরবর্তী সময়টা যুদ্ধের মতই ভয়ঙ্কর। যুদ্ধের পরিণতি পড়ে থাকে সুদূর পর্যন্ত।

তাণ্ডব চালিয়ে বনের তাজা বৃক্ষরাশিকে মহাক্রোধে ভাঙ্গতে-ভাঙ্গতে উন্মত্ত হাতির বিশাল দল পূর্ব দিকের বনের গভীরে চলে গেল। যদিও তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে। তবু সেই আবছা আলোতে ইন্দ্র ঊর্ধ্বশ্বাসে ঐ পথ ধরে সামনের দিকে দৌড়াতে লাগল। যে করেই হোক কিছুক্ষণের মধ্যে এস্থান পার করতেই হবে। তা না হলে আগামী দুই-তিন দিনেও এ স্থান পার করা যাবে না, কারণ তাজা মাংসের লোভে কিছুক্ষণের মধ্যেই শিয়াল, বনো-কুকুর আর বাঘেরা দলে-দলে এখানে এসে জুটবে। চেটে-পুটে তাজা মাংস খাওয়ার এই ভোজ কয়েক দিনেও শেষ হবে না, তেমনি আবার তাজা মাংস নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে গিয়েও আরও কত দ্বন্ধের সৃষ্টি হবে তার ঠিক নেই। তখন এ স্থানটি আবার ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করবে। এমনও হতে পারে ভোজের পরে হয়তো অনেকে এখানেই বহু দিনের জন্য ঘর-সংসার পাতবে, তখন? তাই এই অল্প সময়ের যে মুক্তির ফাঁকটা পাওয়া গেল, তাকেই আগা-গোড়া কাজে লাগিয়ে এখান থেকে পালাতে হবে।

ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে থাকল ইন্দ্র। সামনের অন্ধকার পথের দিকে দৌড়ানো ছাড়া আর কোনোদিকে কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই তার। সামনের এই অন্ধকার পথই মুক্তির পথ। ইন্দ্র ছুটছে, পাশে পড়ে রইল তাজা ধ্বংসলীলা। অসীম সাহস, শক্তি আর আত্মবিশ্বাসে ভর করে দৌড়াতে-দৌড়াতে ইন্দ্র এগিয়ে গেল অনেকটা পথ। চাঁদের ক্ষীণ আলো যতটুকু পারল সাহায্য করল বনের অচেনা পথ দেখাতে। যখন ইন্দ্রের মনে হল, সেই ভয়ানক রণাঙ্গন সে অনেক পিছনে ফেলে এসেছে, এখন সে নিরাপদ, তখন সে থামল। হাঁপাতে- হাঁপাতে সে তর-তর করে একটি বড় গাছে কিছুটা উঠে গেল। তারপর কি-না কি মনে করে আবার ধর-ধর করে নেমে গেল। সে ভাবল, "ঐ বানরের দল পালিয়ে কোন দিকে গেছে কে জানে... ওরা যদি এদিকেই এসে থাকে, তাহলে তো গাছের আগায় উঠে তাদের মুখেই পড়তে হবে, তখন!!"

সে তার সামনেই একটি বাঁশ ঝাড় দেখে ঝটপট সেই বাঁশ ঝাড়ের নীচে কিছু শুকনো বাঁশে দিয়ে বেশ বড় এক আগুন জ্বালিয়ে দিল। রাত ঘনিয়ে আসছে, চারিপাশে গভীর অন্ধকার, সামনে দাউ-দাউ করে জ্বলছে আগুন। নির্জন গভীর অরণ্যে একাকী সেই আগুনের পাশে বসে কিছুটা আনমনা হয়ে গেল ইন্দ্র। সারাদিনের ঘটনাবলী একে-একে মনে ফিরে-ফিরে আসছে। গত ক'দিনে নিজের পৃথিবীটাই যেন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এই অল্প সময়ের মধ্যে কতই না বিচিত্র অভিজ্ঞতা, কতই না যুদ্ধ করতে হল অন্তরে-বাইরে। তুলারাম পাড়ার কথা আর নয়নবুধীর কথা ভাবতে-ভাবতে বাইরের আগুনের মত একটা সুতপ্ত দীর্ঘশ্বাস দাউ-দাউ করে বেরিয়ে এল বুকের ভিতর থেকে। সে মনে-মনে ভাবল, "না জানি এমন আরও কত রাত পার হবে একা এই জঙ্গলে, নয়না কি কোনোদিন জানতে পারবে এ-সব কথা?"

নয়নবুধীর কথা মনে পড়তেই আঁধার-ভেজা এক হিমেল হাওয়া আলতো ভাবে বয়ে গেল ইন্দ্রের দেহ-মনের উপর দিয়ে। উদ্ভ্রান্ত, বিষাদাছন্ন, ব্যাকুল প্রাণে নেমে এল প্রেমের প্রশান্তি। ধীরে-ধীরে নয়নবুধীর সুখ-ভাবনার ভারে সে তলিয়ে গেল অদৃশ্য মনের অতলে। অপ্রকাশিত প্রণয়ীর বহু স্মৃতি, বহু কথা, নানা রূপে ভেসে আসতে লাগল মনের চিত্রপটে। প্রেম নিয়ে ইন্দ্র হারিয়ে গেল নিজেরই মনের মাঝে। বহুক্ষণ পর ধীরে-ধীরে আবেশ ভাঙ্গল তার। কল্পনা থেকে সে ফিরে এল কঠিন বাস্তবে। তখন যেন পাহাড় প্রমাণ ক্ষুধা-তৃষ্ণা তাকে চেপে ধরল। সত্যিই তো, দুপুরের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনও কিছুই পেটে পড়েনি; না জল, না অন্য কিছু; শুধু যুদ্ধের মাঝখানে পড়ে হিসাব-নিকাস করে-করে প্রাণ বাঁচাতে-বাঁচাতেই সময়টা পার হয়ে গেল। খাওয়া-শান্তি কখন!!

আগুনের ওপারে ; আগুনের অপর পাশেই জঙ্গলে দেখা যাচ্ছে সাথে অন্ধকারের গভীর রূপ। এই অন্ধকার রাতে খাবার কোথায় পাওয়া যাবে? আশেপাশে একটু তাকাতেই আগুনের অপর পাশে একটু দূরে একটি ঝোপ-ঝাড়ের আড়ালে একটি বড় বনো কুমড়া চোখে পড়ল তার। কুমড়া চোখে পড়তেই, চোখের সামনে খাবার পেয়ে প্রাণটা যেন ঝম-ঝম করে লাফিয়ে পড়তে চাইছে খাবারের উপর। ইন্দ্র ঝটপট সেইদিকে দৌড় দিতে যাবে তখনই তার ভিতর থেকে কে যেন তাকে আটকে দিল, তাকে এক পা-ও বাড়াতে দিল না। ভিতর থেকে কে যেন বলতে লাগল, "থাম ইন্দ্র! থাম! গভীর বন, অন্ধকার রাত, সব কিছুই কি এখানে এত সোজা? তাহলে তো হয়েই গেল। ধৈর্য ধর, বুদ্ধি খাটা, নিজের বিপদের কথা আগে চিন্তা কর। এত উতলা ভাল নয়, এত লোভও ভাল নয়। এটা বনের জীবন... এটা কি এতই সোজা!!"

ইন্দ্র মুহূর্তে নিজেকে স্থির করল। কি করবে এবং কি করতে হবে ভেবে নিয়ে সে দুই পা পিছিয়ে এসে আগুনের মধ্য থেকে দাউ-দাউ করে জ্বলতে থাকা দুটি জ্বলন্ত বাঁশ অঙ্গার-সহ ছুঁড়ে দিল সেই কুমড়া গাছের উপর। যেন অন্ধকার এক আকাশগঙ্গার মাঝে উড়ে গেল একদল উত্তপ্ত জোনাকি আর গিয়ে আছড়ে পড়ল ঘুমন্ত অন্ধকারে। সাথে-সাথেই যা ঘটল তাতে ইন্দ্র ঘাবড়ে দু'হাত পিছিয়ে গেল। এ কি কাণ্ড? আগুনের ছেঁকা খেয়ে প্রচণ্ড ফুঁত-ফঁত শব্দ করতে-করতে বিশাল এক অজগর সাপ অতি দ্রুত পালিয়ে যেতে লাগল জঙ্গলের দিকে। বুঝতে বাকি রইল না সাপটি ঐ কুমড়া গাছে পাশে ইন্দ্রের জন্য উৎ পেতেই ছিল। ইন্দ্র আর একটু বেশী আত্মবিশ্বাসী হলেই সব যুদ্ধ শেষ হয়ে যেত আজকের রাতের অন্ধকারে কুমড়া গাছের তলায়, যা কেউ কোনও দিন টেরও পেত না। আর একটু আত্মবিশ্বাসী হলেই ইন্দ্রের সব স্বপ্ন, প্রেম, জীবন সব খেয়ে নিত অজগর। চোখের সামনে নিজের এমন পরাজয়কে পালাতে দেখে ভয়ে কাঁপতে লাগল ইন্দ্র। খাবার আনতে গিয়ে নিজেই খাবার হয়ে যেত সে। ইন্দ্র আর সেই পথে এগোলো না। খিদে-তৃষ্ণা সহ্য করে ওখানেই বসে রইল। এটাই বনের জীবন, প্রাণ বাঁচানোটাই এখানে সম্পদ। শারীরিক অনুভূতিগুলির দাম এখানে নেই। ক্ষুধা-তৃষ্ণা জয় করতে বন এবং পরিস্থিতিই শিখিয়ে দেয়; বাধ্য করে। আজ তৃষ্ণাটা না হয় সারারাত বুকেই চাপা থাক আর খিদেটা পেটেই পড়ে থাক। ভোর হোক, তখন দেখা যাবে।

ক্রমে রাত বাড়তে লাগল। রাত যত বাড়তে লাগল ততই সেই রণাঙ্গনের দিক থেকে বনো শূয়র আর বাঘের গর্জন ঘন-ঘন ভেসে আসতে লাগল। ইন্দ্র বুঝতে পারল, তাজা মাংসের মহাভোজ লেগেছে রণাঙ্গনে, সাথে ঐ বনগর্ভে জন্ম নিচ্ছে পরাক্রম প্রমাণের নতুন-নতুন দ্বন্ধ। অধিকার কার, এ নিয়েই দ্বন্ধ।

আগুনের সামনে বসে-বসেই রাত পার করতে লাগল ইন্দ্র। ঘুম যে আসেনি তা নয়, কিন্তু বনের ঘুমের গতি-প্রকৃতিও ভিন্ন। এখানে নিশ্চিন্ত-ঘুমের দাম অত্যন্ত বেশী, যার হিসাব করাই দায়। তাই ইন্দ্র বসে-বসেই রাত কাটাতে লাগল। ক্রমে রাতের রেখা মুছে গিয়ে নতুন রূপে দেখা দিতে লাগল ভোরের আলো। ভোরের আলোতে ইন্দ্র চারিদিকে চেয়ে দেখল, সে এই বনের প্রায় বনের শেষ প্রান্তে এসে পড়েছে। পথটি এবার সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে একটি উঁচু টিলাতে উঠে গেছে। ঐ তো টিলাটি দেখা যাচ্ছে। রাতের অন্ধকারে সে এতটা বুঝতে পারে নি। কিন্তু এবার ইন্দ্র অবাক হল এই দেখে যে, সামনের টিলাটি এত উঁচু, তবু তাতে কোনও গাছপালা নাই। দুর-দুর পর্যন্ত টিলাটির চারিদিকে শুধু লালমাটি আর লালমাটি। এখান থেকেই তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সেই লালমাটির মধ্য নতুন ভাবে খুব হাল্কা কচি গাছপালা জন্ম নিচ্ছে। টিলার ঠিক মাঝখান দিয়ে চলে গেছে পথটি। কিন্তু এই গভীর বনের টিলা, চারিদিকে যার গভীর-গভীর বন, অথচ টিলাটির মাঝে একটিও গাছ নাই!! কেন? কেন এমনটা? এটা তো প্রকৃতির বিপরীত লক্ষণ। তাহলে এর রহস্য কি? ইন্দ্র অনেক ভাবল, কিন্তু কিছুই বুঝে উঠতে পারল না। তবে তাকে যেতেও হবে এই পথ ধরেই, এই টিলার মধ্য দিয়েই। তাই ইন্দ্র যে কোনও বিপদের সম্মুখীন হতে ধীরে-ধীরে মানসিক ভাবে প্রস্তুত হতে লাগল। সে তাকিয়ে থাকল টিলাটির ঠিক মাথার উপর। ওখানে, টিলাটির ঠিক মাথায় শুধু একটি বড় গাছ দেখা যাচ্ছে, তবে খুব দূর থেকে দেখায় গাছটিকে খুবই ছোট লাগছে। ইন্দ্র ঠিক বুঝতে পারল যে, ওখানে হিংস্র জন্তু জানোয়ারের কোনও ভয় না থাকলেও জাত সাপের ভয় আছে। টিলাটিতে চড়াই-উতরাই এত বেশী যে তা পার করতে অনেক সময় লাগবে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে ওখানে কোনও খাবার কিংবা জল পাওয়া যাবে না। তাই ক্ষুধা-তৃষ্ণা আগে থেকেই সাথে করে নিয়ে যেতে হবে।

ইন্দ্র অপেক্ষা করতে লাগল বেলা বৃদ্ধির। দিন আরও একটু বেড়ে উঠতেই ইন্দ্র সেই কুমড়ার চারপাশে দুর-দুর পর্যন্ত আবার জ্বলন্ত কয়লা ছুঁড়ে দিল। সন্তর্পণে সেই বনো কুমড়াটি এবং কিছু বনো মরিচ এনে বাঁশের আগুনে পোড়া দিল। তারপর অতি সাবধানে পাশের একটি মোটা কলাগাছ বেছে নিয়ে তার গোড়ার দিকে আড়াআড়ি কেটে দিল এবং তার কাণ্ডের মাঝে একটি গর্ত করে দিল। দেখতে দেখতে সেই গর্তটি জলে ভরে উঠল। প্রাণ ভরে সে জল পান করল। তখনকার মত বনো মরিচ দিয়ে পোড়া কুমড়া আর পাকা কলা খেয়ে পেট ভরল সে। তারপর ধীর পায়ে চলল সামনের দিকে, সেই লালটিলার দিকে।
Next Part

গোয়েন্দা গল্প:
মাণিক্য   
সর্দার বাড়ির গুপ্তধন রহস্য   
প্রেমিকার অন্তর্ধান রহস্য   
লুকানো চিঠির রহস্য   
কান্না ভেজা ডাকবাংলোর রাত


All Bengali Stories    44    (45)    46    47    48    49   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 6009890717