Home   |   About   |   Terms   |   Book Rent   |   Contact    
A platform for writers

নয়নবুধী

ত্রিপুরার ইতিহাসের পটভূমিতে রচিত একটি বাংলা উপন্যাস

-------- বিজ্ঞপ্তি ----------
◕ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা - সেপ্টেম্বর ২০২২, Details..
--------------------------



All Bengali Stories    44    (45)    46    47    48    49   

নয়নবুধী
( এক পাঁজালীর প্রেমিকা )
পর্ব ২৮
ত্রিপুরার ইতিহাসের পটভূমিতে রচিত একটি বাংলা উপন্যাস
লেখক - হরপ্রসাদ সরকার, ধলেশ্বর, আগরতলা
( এই উপন্যাসের সকল স্বত্ব সরকারি রেজিস্ট্রিকৃত ভাবে লেখক দ্বারা সংরক্ষিত )


নয়নবুধী: সমস্ত পর্বগুলি: All Parts

◕ নয়নবুধী
পর্ব ২৮
ইন্দ্র চুপ করে বসে রইল গাছের আগায়, পাতার আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রেখে। সেখান থেকে লালটিলার মাথা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। কিছুক্ষণ আগে টিলার উপরে যে কাজ সে করে এল তার ফলাফলে কিছু-না কিছু একটা যে সাংঘাতিক হবে তা সে নিশ্চিত। তাই সে অপলক সেদিক পানে তাকিয়ে রইল। ইন্দ্র জানে, এইক্ষণে গাছের আগায় লুকিয়ে থাকাটাই তার পক্ষে সবচেয়ে নিরাপদ, কারণ টিলার উপরের পূজার পরিস্থিতি বলছিল তান্ত্রিক বা তান্ত্রিকরা আশেপাশেই আছে। যদি ওরা টিলার এই পাশে অবস্থান করে থাকে তবে পথ চলতে গিয়ে ইন্দ্রের সাথে তাদের দেখা হওয়া নিশ্চিত, আর সেই অবস্থায় সংঘাত হবেই হবে। কারণ নিজের উপর আক্রমণ এলে ইন্দ্র তো আর হাতে-হাত রেখে বসে থাকবে না। যদি তান্ত্রিকরা পাল্লায় ভারী হয়, ইন্দ্রের বলি নিশ্চিত। ইন্দ্র এই মুহূর্তে কোনও ভাবেই কোনও সংঘাতেই জড়াতে চায় না। ইন্দ্র জানে, অতি-আত্মবিশ্বাসে বিপদ আসে বেশী। তাই সে কোনও ভাবেই এইক্ষণে নিজের কিংবা অপরের ফাঁদে পা দিতে রাজি নয়। বুদ্ধি, তর্ক, বিচার, সংযম এটাও যুদ্ধের কয়েকটি মানসিক হাতিয়ার এবং সকল যুদ্ধেই এদের অধিকার থাকে। যুদ্ধ তো মানসিক ও শারীরিক, দুই-ই হয়ে থাকে। মানসিক যুদ্ধে হেরে গিয়ে শারীরিক যুদ্ধে জয়ী হওয়া অত্যন্ত কঠিন। তাই অ-তার্কিক এবং অতি-আত্মবিশ্বাসী হয়ে নিজেই নিজের জন্য ফাঁদ পাততে প্রস্তুত নয় ইন্দ্র। তাই গাছের আগায় চুপ করে বসে রইল সে। এমন সময় হঠাৎ বিকট এক 'অর্থহীন শব্দের' মানব-চীৎকারে সারাটা বন যেন কেঁপে উঠল। ইন্দ্রের এমন মনে হল যেন কোনও মানুষ তার কানের পিছনে দাঁড়িয়ে প্রচণ্ড হুঙ্কার দিচ্ছে। থতমত খেয়ে পিছন ফিরে তাকাল ইন্দ্র, কাউকে দেখতে পেল না; তারপর চোখ ঘুরিয়ে নিচের দিকে তাকাতেই তার বুক কেঁপে উঠল। সে দেখল লাল কাপড় পরিহিত, লম্বা জটাধারী, দানবের মত বিশালকায় এবং অতি শক্ত পেশীবহুল এক মানুষ কোনও এক 'অর্থহীন শব্দ' চীৎকার করতে-করতে গাছের নীচ দিয়ে হেঁটে-হেঁটে সেই পথ ধরে লালটিলার দিকে যাচ্ছে। কপাল ভর্তি তার সিঁদুর। তার এক হাতে একটি নরমুণ্ড, অপর হাতে একটি পিতলের ধুনি, বগলে চেপে রাখা আছে মানুষের মেরুদণ্ড দিয়ে তৈরি লম্বা এক লাঠি। লোকটির গলায় ঝুলানো একটি শিঙা। লোকটি কিছুক্ষণ পরে-পরেই শিঙাটিতে বিকট ফু দিয়ে দিচ্ছে। গভীর নিস্তব্ধ বনে শিঙার ঐ সুতীক্ষ্ণ শব্দে সারা বন হঠাৎ-হঠাৎ যেন শিহরিত হয়ে কেঁপে উঠছে। এই লোকটিই যে তান্ত্রিক তা বুঝতে বাকি রইল না ইন্দ্রের। সে মরার মত চুপ করে বসে রইল গাছের আগায় আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখল লোকটির গতি-প্রকৃতিতে। লোকটি সেই অর্থহীন শব্দের বিকট চীৎকার করতে-করতে এগিয়ে যেতে লাগল টিলার দিকে। ইন্দ্র নিশ্চিত, কিছুক্ষণের মধ্যেই লালটিলার মাথায় একটি ঝড় উঠবে। সেই দৃশ্য মজারও হতে পারে। কেমন হবে সেই দৃশ্য তা দেখতে খুব কৌতূহলী হয়ে বসে রইল ইন্দ্র।

তান্ত্রিক অর্থহীন-শব্দ চীৎকার করতে-করতে টিলার মাথায় চড়ল। ওখানে উঠেই সেই তান্ত্রিক হঠাৎ থমকে গেল। সামনের পূজার সামগ্রীর এমন লণ্ডভণ্ড অবস্থা দেখে সে নিজের চোখকে বিশ্বাসই করতে পারল না; দৌড়ে গেল গাছ তলায়। সব লণ্ডভণ্ড এবং ছারখার দেখে সে আর তার মাথা ঠিক রাখতে পারল না। পাগলের মত গলা ফাটানো চীৎকার করতে-করতে টিলার মাথাতেই এদিক-ওদিক ছুটতে লাগল। তার চীৎকারের শব্দ ক্ষীণ হয়ে ভেসে আসছে ইন্দ্রের কানে। গাছের আগায় বসে ইন্দ্র সব পরিষ্কার দেখছে। তান্ত্রিকটি কিছুক্ষণ পাগলের মত এদিক-ওদিক ছুটাছুটির পর হঠাৎ টিলার উপর ঝুঁকে পড়ে দু'হাতে দু'মুঠো মাটি নিয়ে বিড়বিড় করে কি সব মন্ত্র পড়ল তারপর চীৎকার করে তা ছুড়ে দিল আকাশের দিকে। ইন্দ্র জানে, নিষ্ঠুররা শুধু ধ্বংসই করতে পারে, সৃজন করতে পারে না। তাদের ধ্বংস-মন্ত্র ফিরে এসে তাদের উপরেই পড়ে। এটাই মহাপ্রকৃতি; কর্মফলকে ছায়ার মত নিজ থেকে কখনো আলাদা করা যায় না।

তান্ত্রিক চীৎকার করতে-করতে আর শিঙা ফু দিতে-দিতে অপরাধীকে ধরতে দৌড়ে টিলার অপর ঢালু পথ বেয়ে নামতে লাগল। তান্ত্রিক ভেবেছে, অপরাধী ঐ পথে জঙ্গলে পালিয়েছে। কারণ এদিকের পথে অপরাধী এলে তান্ত্রিকের সাথে তার দেখা হতই। তাই অপরাধীকে শীঘ্র ধরতে এবং তাকে উপযুক্ত সাজা দিতে তান্ত্রিক দ্রুত ঐ পথে জঙ্গল পানে ছুটতে লাগল। তান্ত্রিককে যখন আর দেখা গেল না, তখন ইন্দ্র দ্রুত গাছ থেকে নেমে ঐ বনোপথ ধরে সামনের দিকে খুব দ্রুত দৌড়াতে লাগল।

নরবলি দেওয়া সেই ঘোর তান্ত্রিকের প্রভাবিত এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে চলে যেতে ইন্দ্র তখন মরিয়া। অনেকটা পথ দৌড়ে পার হয়ে এলেও ইন্দ্র বুঝতে পারছে না যে, সে ঐ লালটিলা থেকে কত দূর পার হয়ে এসেছে এবং আর কতদূর পার হলে সে ঐ তান্ত্রিকের প্রভাবিত এলাকা থেকে মুক্তি পাবে। এটা তার কাছে একটা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সে জানে, ঐ তান্ত্রিকের যেমন বলিষ্ঠ দেহ এবং দানবের মত শক্তি, তাতে বিশাল দূরত্ব সহজেই অতিক্রম করা কোনও কঠিন ব্যাপার নয়। তাছাড়া যেহেতু সেই তান্ত্রিক এই বনেই সদা বাস করে, তাই বনের অনেক গোপন পথ তার নিশ্চয়ই জানা থাকবে। সেই গোপন পথে অতি সহজেই কোনও নবীন পথিককে ধরে ফেলা অসম্ভব কিছু নয়। আর যদি তেমনটা হয়ে যায়, তবে তা হবে অতি ভয়ানক। 'নরবলি দেওয়া সেই তান্ত্রিককে' কোনও সুযোগ দিতে নারাজ ইন্দ্র। তাই বনের দূরত্ব মাপতে না পেরে নিজের নিরাপত্তাকে মাপতে লাগল ইন্দ্র; মনে-মনে এবং তর্ক-বিচারে।

অনেকক্ষণ ধরে বহু পথ দৌড়ে আসার পর এক জায়গায় সে দেখল একটি গাছের নীচে একটি শিবলিঙ্গ; ঠিক তেমনি, যেমনটা সে লালটিলাতে উঠার আগে ঐ বনে দেখেছিল। শিবলিঙ্গের পাদদেশে বনোফুল আর গাছের পাতা। শিবলিঙ্গটি দেখে ইন্দ্র থেমে গেল সেখানে। কিছুটা অবাক হলেও ইন্দ্র অনুমান করল যে, এই জায়গাটা সেই তান্ত্রিকের প্রভাব থেকে মুক্ত। কারণ, বহু তান্ত্রিক তাদের তন্ত্র-সীমানাকে কোনও-না কোনও দেব-দেবীর মূর্তি দিয়ে নির্দিষ্ট করে চিহ্নিত রাখে। লালটিলার দুই পাশের দুই বনে দুটি শিবলিঙ্গ তেমনটাই ইঙ্গিত করছে। সে যাই হোক, এই শিবলিঙ্গের সামনে এসে কিন্তু ইন্দ্রের মনে অনেকটা নিশ্চিন্ত ভাব ফিরে এল। পাশাপাশি যেন কিছু হারিয়ে যাওয়া শক্তি পুনরায় তার বুকে ফিরে এল, সাহস ফিরে এল, মনোবল ফিরে এল। কিছুক্ষণ আগে মরিয়া হয়ে পালাতে থাকা ইন্দ্রকে কেউ যেন ফিসফিসিয়ে বলছে, "ভয় কিসের? আসুক না ঐ তান্ত্রিক, এখানেই তার বলি চড়াব।" এ যেন চম্পকের কথা, যেন চম্পক কথা বলছে ইন্দ্রের সাথে। একথা মনে হতেই ইন্দ্র তড়িৎ পিছন ফিরে তাকাল, আশে-পাশে তাকাল, কিন্তু গভীর বনের সেই নির্জন পথে কাউকে দেখা গেল না। ইন্দ্র মনে-প্রাণে অনুভব করল, এখানে এখন সে আর একা নেই; বন্ধু চম্পক তার সাথে আছে; নয়নবুধীর প্রেম তার সাথে আছে। শিবলিঙ্গের সম্মুখে কোনও এক অদৃশ্য শক্তি যেন তাকে আবার চাঙ্গা করে দিল। অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসে মন-প্রাণ এক করে ইন্দ্র হাত জোর করে শিবলিঙ্গটিকে প্রণাম করল। পাশের কিছু বনোফুল এবং বনোপাতা তুলে অঞ্জলি প্রদান করল। তারপর দৃঢ়-ধীর পায়ে হেটে সামনের দিকে এগোতে লাগল।
Next Part

গোয়েন্দা গল্প:
মাণিক্য   
সর্দার বাড়ির গুপ্তধন রহস্য   
প্রেমিকার অন্তর্ধান রহস্য   
লুকানো চিঠির রহস্য   
কান্না ভেজা ডাকবাংলোর রাত


All Bengali Stories    44    (45)    46    47    48    49   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 6009890717