Home   |   About   |   Terms   |   Library   |   Contact    
A platform for writers

ডাকবাক্স

Bengali Novel

All Bengali Stories    82    83    84    85    86    87    88    (89)     90    91    92   

-------- বিজ্ঞপ্তি ----------
■ 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার - মে, ২০২৪' স্বরচিত গল্প লেখার প্রতিযোগিতা, ( প্রতি বছর মে মাসে ) Result
--------------------------



ডাকবাক্স ( পর্ব ৪ )

লেখক - রাজকুমার মাহাতো, মহেশতলা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, কলিকাতা

অন্য পর্বগুলিঃ পর্ব ১    পর্ব ২    পর্ব ৩    পর্ব ৪    পর্ব ৫    পর্ব ৬   

◕ অদিতি চেঁচিয়ে বলল, "অরিন্দমদা এদিকে এসো।"

অনু চোখ খুলল। অনুর সেই কৌতূহলপূর্ণ মানুষটা ধীরে-ধীরে এগিয়ে এল তাদের দিকে। যদি হার্ট-বিটের ধুকপুকের চরম সীমার থেকেও ওপরে কিছু থাকে অনুর তখন ঠিক সেই হাল। তার মনে হল অদিতির হাতটা ছাড়িয়ে দৌড়ে পালিয়ে যেতে কিন্তু নিজেকে সংযত করল অনু।

অদিতি অনুকে দেখিয়ে বলল, "অরিন্দমদা, এই হল অনু। নিউ ফ্রাস্ট ইয়ার। সেদিন ক্যান্টিনে তো তুমি পাত্তা দাও নি, তাই আজ নিয়ে এলাম আলাপ করাতে।"

হাতটা বাড়িয়ে দিল অরিন্দম অনুর দিকে। অনু মুখটা না তুলেই হাতটাকে লক্ষ্য করলো। সেও হাতটা বাড়িয়ে দিল। প্রথম ছোঁয়া হল তাদের। একটা শক্ত কাঠের মত হাত অনুর নরম হাতটাকে ছুঁলো। অনুর সারা শরীরে একটা অজানা শিহরন খেলে গেল। "হায় অনু। আমি অরিন্দম। গম্ভীর একটা স্বর।"

"আমি অনু," মুখটা তুলল অনু। চোখটা ডিরেক্ট গিয়ে পড়ল অরিন্দমের চোখে। অনুর সারা শরীর বেয়ে একটা গরম বাতাস বয়ে গেল। অরিন্দমের চোখ থেকে চোখ সরাতেই পারল না সে। এ যেন মরুভূমির এক পিপাশার্ত পথিকের কাছে জলের খোঁজ। "চোখটা সরা, একদিনে সব দেখে নিবি নাকি?" অদিতির ব্যঙ্গাত্মক প্রশ্নে অনুর ঘোর কাটল। অনু লজ্জায় বেড়িয়ে গেল ইউনিয়ন রুম থেকে। সেদিন অনুর টিউশনের দফারফা হয়ে গেল। আর টিউশনে না গিয়ে সে সোজা বাড়ি এসে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে খাটে শুয়ে পড়ল। এ যেন এক অন্য ছোঁয়া ছিল তার জন্য। বহুদিন ধরে সে অপেক্ষা করে ছিল এই ছোঁয়ার। সারারাত ঘুম হয়নি অনুর। অরিন্দমের কথা ওকে সারারাত ঘুমাতে দেয়নি। কেন অরিন্দমের ব্যাপারে এত ভাবছে ও! এইতো এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত ওকে চিনতও না সে। আর আজ তার দেখা, তার ছোঁয়া এত বেশি ইম্পরট্যান্ট কি করে হল তার কাছে? এইসব সাত-পাঁচ ভেবে আর ঘুমের দেশে বিচরণ করতে পারেনি অনু। ভোর পাঁচটায় পাখির ডাকের সাথে বিছানা ছেড়ে উঠে এল সে। প্রমিলা দেবী তখন স্নান করে সবে পুজোর জোগাড় করা শুরু করেছে। তিনি তো অবাক হয়ে চেয়ে রইলেন মেয়ের দিকে। অনু আড় চোখে দেখল মাকে, "কি দেখছ ওই ভাবে?

প্রমিলা দেবী বলল, " তোর শরীর ঠিক আছে তো মা?"

"শরীরের আবার কি হল? হ্যাঁ, একদম ঠিক আছি।"

"না, এত সকালে তো উঠতে দেখিনা তোকে, তাই চমকে গেলাম।"

কিছু না বলে অনু চলে গেল নিজের রুমে। প্রমিলা দেবী এবার গভীর চিন্তায় পড়ল। যে মেয়ে ভোরে ঘুম থেকে ওঠার ভয়ে সরস্বতী পুজোতে পুষ্পাঞ্জলি দেয় না, সেই মেয়ে এত তাড়াতাড়ি কেন উঠে গেল। গোয়েন্দা-মা হবার চেষ্টা শুরু হল প্রমিলা দেবীর।

সকাল নটা বাজতেই অনু বেড়িয়ে পড়ল কলেজের উদ্দেশ্যে। মিনিট কুড়ি পর পৌঁছে গেল কলেজে। তখনও কেউ আসেনি। কলেজে পৌঁছেই প্রথমে সে গেলো ইউনিয়ন রুমে, কিন্তু সেখানেও পুরো ফাঁকা। একটা অজানা হতাশা ঘিরে ধরল অনুকে। বেড়িয়ে এল ইউনিয়ন রুম থেকে। একটা বড় গাছের তলায় বসলো সে। ধীরে-ধীরে সবাই কলেজে এল। রমা এসেই আগে অনুকে জিজ্ঞেস করলো, " কি ব্যাপার আজ এত তাড়াতাড়ি এলি?

কোন কথা না বলে অনু সোজা চলে যায় ক্লাস রুমে। ক্লাস চলাকালীন ক্লাসে মন দিতে পারে না অনু। তার মন পড়ে থাকে ইউনিয়ন রুমে। কিছুতেই সে নিজের মনকে বোঝাতে পারছে না। নানা ছল ছুতোয় বারবার একলা ইউনিয়ন রুমের চারপাশে ঘুরতে থাকে সে। একটা অজানা তাগিদ তাকে বারবার এই রুমের কাছে টেনে আনে। কিন্তু একবারও সে অরিন্দমকে দেখতে পায় না। আজ কি ও আসেনি? কেন আসেনি? শরীর খারাপ? নানা প্রশ্ন ভীর করে অনুর মনে। কিন্তু উত্তর মেলার আশা নেই। একবার ভাবে অর্ণবকে জিজ্ঞেস করবে, একবার ভাবে অদিতিকে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাউকেই জিজ্ঞেস করতে পারেনা সে। উৎসুক হয়ে তাকিয়ে-তাকিয়ে শেষ হয় কলেজের সেই দিন, কিন্তু অরিন্দমের দেখা পায় না অনু। বাড়িতে গিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ে সে। আজও সারারাত ঘুম আসে না অনুর। একটা অজানা ভয় তাকে ঘিরে ধরে। আবার পরদিন ভোরবেলা উঠে যায় এবং সেই নটার সময় একাই কলেজে বেড়িয়ে যায়। কলেজে এসে চলে যায় সোজা ইউনিয়ন রুমে, তারপর কাউকে না পেয়ে আবার সেই গাছের তলা। আবার মন না লাগা কয়েকটা ক্লাস ,আবার বিষণ্ণতা সঙ্গে করে বাড়ি ফিরে আসা। এইভাবে কেটে গেল আরও দুদিন। এবার অনুর ভয়টা আতঙ্কে পরিণত হল, "ওর কিছু হয়নি তো? টানা চারদিন কলেজে না আসার কারণ কি?" নিজেকে সামলাতে না পেরে বেহায়া হয়ে অদিতিকে জিজ্ঞেস করল, " আচ্ছা অদিতি, অরিন্দমদাকে দেখছি না তো, কোথায় রে সে?"

অদিতি এই প্রশ্নটার জন্য একেবারে প্রস্তুত ছিল না। হঠাৎ অনুর মুখে অরিন্দমের কথা শুনে কিছুটা চমকেই গেল সে। তারপর সেদিনের তাকানোর কথা মনে করে কিছুটা হলেও ব্যাপারটা পরিষ্কার হল তার কাছে। "অরিদার কথা তুই জেনে কি করবি?" কিছুটা কৌতুকের সুরে বলল অদিতি।

"না-মানে এমনি জিজ্ঞেস করলাম। ক'দিন দেখছি না ওনাকে; তাই ... না বললেও কোন ব্যাপার নেই ..." অনু বলল।

"আচ্ছা ঠিক আছে; তাহলে শুনে লাভ নেই।" বলে মুখটা ঘুরিয়ে নিল অদিতি।

অনু আবার চিন্তায় পড়ে গেল। "যাও খবরটা আসতো, তাও আসবে না," ভেবেই মুখটা শুকনো করে বসে রইল। অদিতি বারবার তার মুখের দিকে তাকাতে থাকল। আবার কিছুক্ষণ পর অনু জিজ্ঞেস করল, " আচ্ছা অরিদা কতদিন এই কলেজে? কোন ইয়ার ওনার?"

"আবার??" অদিতি এবার হেসেই ফেলল।

"বল না অদিতি, প্লিজ।" কাকুতির সুরে বলল অনু।

"অনুউউ... সামথিং ...সামথিং তাই তো?"

"উফফ কি যে বলিস?" বিরক্ত হয়ে বলল অনু।

"অরিদা পুরুলিয়া গেছে।"

"কেন?"

"অরিদা একটা সমাজ সেবক দলের সাথে কাজ করে। যারা এই বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মত আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে মানুষদের সাহায্য করে। ওনাকে মাঝে-মাঝেই যেতে হয়। আবার চার-পাঁচদিন পর ওনাকে দেখতে পাবি ইউনিয়ন রুমে।

"আর বাড়ি?" আগ্রহের সাথে প্রশ্ন করল অনু।

"বাড়িতে থাকে না অরিদা। ওদের দলের একটা বৈঠকখানা আছে এলগিনে। নেতাজির বাড়ির ঠিক পাশেই। উনি ওখানেই থাকেন। মাঝে-সাঝে বাড়িও যান।"

"কেন, বাড়িতে থাকে না কেন?"

"ঠিক অতটা জানি না, তবে শুনেছি ওনার বাবার সাথে ওনার ঠিক পটে না। তাই ওই বাড়িতে খুব কম থাকে অরিদা। ওনার বাবা খুব বড় পুলিশ অফিসার। অনেক বড় বাড়ি ওনাদের, বেশ ভালো অবস্থা। তাও সব কিছু ছেড়ে উনি ওই পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য ছুটে বেড়ায়।"

অনুর মনের কৌতূহল আজ মিটে গেল। মানুষটার প্রতি শ্রদ্ধাটা আরও বেড়ে গেল অনুর। বড় বাড়ি, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ছেড়ে কি করে একটা মানুষ জঙ্গলে গিয়ে পড়ে থাকে! বুঝতে পারল অনু, সে অরিন্দমের শ্রদ্ধার প্রেমে পড়েছে।
Next Part

অন্য পর্বগুলিঃ পর্ব ১    পর্ব ২    পর্ব ৩    পর্ব ৪    পর্ব ৫    পর্ব ৬   


All Bengali Stories    82    83    84    85    86    87    88    (89)     90    91    92   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 6009890717