Home   |   About   |   Terms   |   Library   |   Contact    
A platform for writers

সোনালী প্রজাপতি

বাংলা গল্প

All Bengali Stories    106    107    108    109    110    111    112    (113)     114    115   

-------- বিজ্ঞপ্তি ----------
■ 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার - মে, ২০২৪' স্বরচিত গল্প লেখার প্রতিযোগিতা, ( প্রতি বছর মে মাসে ) Result
--------------------------



সোনালী প্রজাপতি
বাংলা গল্প
লেখিকা - ঐশিকা বসু, বাবা- স্বর্গীয় নির্মল বসু, তালপুকুর রোড, নৈহাটি, উত্তর ২৪ পরগণা


16 th July, 2021

## সোনালী প্রজাপতি
পর্ব ১
"বাবা কি এ মাসে বাড়ি ফিরতে পারবে না, মা?" আপন মনে বকতে-বকতে হঠাৎ প্রশ্ন করে ওঠে পরী। ওর মা তখন উনুনে হাওয়া করছিল। ভাত ফুটতে ঢের বাকী। কপালে তার বিন্দু-বিন্দু ঘাম জমেছে, গাল বেয়ে নেমে আসছে। আলগোছে একবার সে আঁচল দিয়ে ঘাম মুছে নিয়ে মেয়েকে উত্তর দিল, "না মা, পারবে। না।"

পরীর কৌতূহল আরো বেড়ে যায়, "কেন মা?"

মা তার নিজের কাজেই ব্যস্ত, মেয়ের প্রশ্নের দিকে তার অত নজর দেবার ফুরসৎ নেই। কারণ এবেলায় এই রান্না ছাড়াও কাচাকাচি আছে। পরীর দুটো জামা আর তার নিজেরও শাড়ি, ব্লাউজ রয়েছে, যেগুলো এবেলায় কেঁচে ফেলতে হবে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সে রান্নাটাকে সেরে ফেলতে চায়। মেয়ে অধৈর্য হয়ে পুনর্বার প্রশ্ন করায় সে চটজলদি উত্তর দিল, "ট্রেন চলছে না।"

- তাহলে বাসে আসতে পারবে না?

মা উত্তর দেয়, "ট্রেন, বাস সব বন্ধ মা। কি করে আসবে বল? সব চালু হলেই আসবে।"

পরী এতক্ষণ বিছানায় শুয়েছিল। এবার সে উঠে বসে বলে, "তাহলে আমার সোনার পালঙ্ক কবে আনবে বাবা?"

হাতা দিয়ে ভাত নাড়তে-নাড়তে মা নিজের মনেই হেসে ওঠে, তারপর বলতে থাকে, "যেমন তোর বাবা!"

প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে মেয়ে আবার বলে, "তাহলে কি কিছুই চলছে না, মা?"

- না সোনা, কিছুই চলছে না।

- তাহলে বাবা কবে আসবে, মা?

ভাত নাড়ানো থেমে যায়। উদাসী দৃষ্টিতে মা সামনের দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবতে শুরু করে। যেন চটচটে তেল-ঝুলি মাখা ঐ দেওয়ালটার গায়ে লেখা আছে তাদের অনাগত ভবিষ্যৎ।

#
মার্চের শেষে আসবার কথা ছিল মিহিরের। অক্টোবর মাসের শেষে শেষবার বাড়ি এসেছিল। গুরগাঁওয়ে একটা নির্মাণ কর্মী হিসেবে সে গত দুবছর ধরে কাজ করে আসছে। আগে কাজ করত দিল্লীতে। তবে সেখানে মালিক খুব কম ছুটি দিত। বছরে সে বাড়ি ফিরতে পারত বড়জোর একবার। পুজোর সময় ছুটি দিতেও মালিকের কান্না পেত। আর মাইনেটাও কম। সেই কারণে মিহিরের মতো অনেকেই ঐ চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। গুরগাঁওয়ের মালিক লোক হিসেবে মন্দ নয়। ব্যবহার ভাল। মাইনে-পত্তরও যা দেয় তাতে যা হোক করে চলে যায়, ফলে এখানে এসে তার অবস্থা কিছুটা হলেও ফিরেছে। কোনোরকমে নিজে চালিয়ে নেয়। আর যতটা পারে সংসারের জন্য বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। তবে এখানে এসে সবচেয়ে যেটা লাভ হয়েছে সেটা হল পাঁচ / ছ মাস অন্তর হলেও সে বাড়ি আসতে পারে। আর এখানে এলে এক সপ্তাহের জন্য ছুটি কাটিয়ে যায়। এখানে তার মেয়ে পরী, তার স্ত্রী বিভা রয়েছে; শত কষ্টের মধ্যেও এই জায়গাটা তার কাছে একটা অক্সিজেন। আর পরী তো বাবাকে পেলে ছাড়তেই চায় না। বাবা বাড়িতে আসা মানেই চকলেট, লজেন্স, আর কথা বলা পুতুল। বার্বি ডলগুলো মেয়ের যে কত আদরের তা কি আর মিহির জানে না! বিভা অনুযোগ করে, "এতো খরচ করবার কি দরকার ছিল? ওর তো পুতুল রয়েছে..."

মিহির বলে, "আরে অত রাগ করো না। মেয়ের জন্য এনেছি বলে কি আর তোমার জন্য আনি নি ভেবেছ? এই দেখো..' এই বলে সে তার ব্যাগ থেকে দামী তাঁতের শাড়ি বের করে দেখায়। বিভা দেখে খুশি হয়েও কৃত্রিম রাগের সুরে বলে, "কত খরচ করেছ বল তো? এসব আমি পরে কি পাড়া ঘুরে বেড়াবো?"

"শুধু তুমি কেন? তুমি, আমি, আমাদের পরী - আমরা সবাই বেরোব। পুজোর সময় বেরোব না?" এই বলে মিহির আস্তে করে বিভার কোমর জড়িয়ে ধরে। "এই কি হচ্ছে কি? ছাড় আমায়। মেয়ে দেখছে কিন্তু..." বিভা মিহিরের হাত দুটো সরিয়ে দ্রুত পদে রান্নাঘরে চলে যায়। মিহির রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে বলে, "এই ক'টা তো দিন। তারপরেই তো আবার চলে যেতে হবে। আবার কবে আসবো..."

- এবার তাড়াতাড়িই আসবে, দেখো।

এই সময় হঠাৎ পরী বলে ওঠে, "পরের বার বাড়ি এলে আমার জন্য সোনার পালঙ্ক নিয়ে আসবে বাবা, কেমন?"

বাবা মৃদু হেসে বলে, "আচ্ছা মা, চেষ্টা করব।"

বিভা বলে, "মেয়েকে যেমন নাচিয়েছ!! এবার সামলাও... যেমন বাবা তেমন মেয়ে। রাজা-মহারাজার ঘরে জন্মেছেন কিনা, তাই সোনার পালঙ্কে শোবেন,"' কথাগুলো বলতে-বলতে বিভা উনুন ধরায়।

#
পরীর সোনার পালঙ্কের বায়নাটা শুনতে আকাশকুসুম মনে হলেও ব্যাপারটা সত্যি। কিছুদিন আগের ঘটনা। পরীর মা তখন বাড়ি ছিল না, হয়তো বাজার গেছিল। মিহির মোবাইলে গেম খেলছিল আর পরী বই পড়ছিল। মেয়ে রূপকথার বই পড়তে ভালোবাসে। গত বছর তাই জন্মদিনে ওর মেসো ওকে 'বাংলার উপকথা'- নামে একটা বই দিয়েছে। বইটা একবার পড়ে আশ মেটেনি মেয়ের। তাই বারে-বারে পড়ে সে। সেদিন পড়তে-পড়তে মেয়ে হঠাৎ বাবাকে জিগ্যেস করে ওঠে, "আচ্ছা বাবা, সোনার পালঙ্ক কেমন হয়?"

মিহির গেমে মশগুল। সে মোবাইলে মুখ গুঁজে উত্তর দেয়, "ঐ সোনার খাটের মত।"

- আচ্ছা বাবা, একটা সোনার পালঙ্ক কিনে দেবে? রাজকন্যা মণিমালা যেমন পালঙ্কে শুতো...

মিহির হয়ত প্রশ্নটা ভালো করে শোনেনি। কিম্বা শুনলেও তত গুরুত্ব দেয়নি। গুরুত্ব দিলে কি আর দিনে আড়াইশো টাকা মাইনের চাকরি করা বাবা তার মেয়েকে বলতে পারে, "কিনে দেব মা?"

তবে বাবা ব্যাপারটায় মনোযোগ না দিলেও মেয়ে কিন্তু বাবার কথায় খুব খুশী। সে বাবার কথাটাকে ধ্রুবসত্য ধরে নিয়ে তারপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই মিহিরকে বলতো, "বাবা, কবে কিনে দেবে সোনার পালঙ্ক? একদিন তো মিহির ওকে হাল্কা বকেওছিল, "ধুর পাগল, সোনার পালঙ্ক কিনবো কি করে? ও তো কথার-কথা বলেছিলাম। সব কথা কি ধরতে আছে?"

বাবার মুখে এই কথা শুনে মেয়ের তো কান্না শুরু হয়ে গেল। মা ও-ঘর থেকে হাসতে-হাসতে বলে, "নাও, সামলাও এবার..."

বাধ্য হয়ে মিহিরকে তার কথা ফিরিয়ে নিতেই হয়, "আচ্ছা বাবা, ঘাট হয়েছে। ঠিক আছে, আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা কর। আমরা তো এখন গরীব। আমাদের আরেকটু পয়সা হোক, তারপর তোমার জন্য সোনার পালঙ্ক এনে দেব।"

মা পরীর জন্য খাবার নিয়ে আসতে-আসতে এবার ব্যঙ্গের সুরে বলে, "হ্যাঁ, সোনার পালঙ্ক কিনে দেবে... রাজা-মহারাজা কিনা তোমার বাবা। আর তুমি তার রাজকন্যা। তোমায় সোনার পালঙ্ক কিনে দেবে না তো কাকে দেবে!!"

মিহির এবার তার মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে গালে একটা চুমু খেয়ে বলে, "রাজকন্যাই তো। সব মেয়েরাই তার বাবার কাছে রাজকন্যা।"

#
সেদিন ভাত রাঁধতে-রাঁধতে এইসব টুকরো অতীতের স্মৃতি ভেসে আসছিল বিভার মনে। তার হঠাৎ খেয়াল পড়ল মেয়ের দিকে। পরী ততক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে। রান্নার হাতটা একটু খালি হলে বিভা মেয়ের কপালে হাত দিয়ে দেখল, গা'টা একটু গরম লাগছে। গত চারদিন ধরে পরীর জ্বর। বিভা প্রথমে ভেবেছিল এই গরমের দুপুর, তার ওপর আবার অ্যাসবেস্টসের ছাদ। এতেই ঘেমে ঠাণ্ডা লেগেছে। তাই ব্যাপারটায় তেমন আমল দেয়নি। এমনি-এমনি জ্বর এসেছে, এমনি-এমনিই আবার কেটে যাবে।। কিন্তু সমস্যা কাটেনি, বরং আরো বেড়েছে। গতকাল থেকেই শুরু হয়েছে হাল্কা শ্বাসকষ্ট। পরীর শ্বাসকষ্টের সমস্যা জন্মগত। মাঝে-মাঝে এমন হয় যে হাসপাতালে পর্যন্ত ভর্তি করতে হয়। বাড়িতে ইনহেলার রয়েছে। পাড়ার অনির্বাণ ডাক্তার দু'মাস আগে ফ্রিতে দিয়েছে। তাতে অনেক সুরাহা হয়েছে। কিন্তু জ্বর তো ছাড়তে চায় না। মিহির ফোনে বলল, "দেখো, দু'দিন তো হয়ে গেল, জ্বর নামছে না। তুমি অনির্বাণ ডাক্তারকেই দেখাও।"

মিহিরের কথা-মাফিক বিভা গেল ডাক্তারের কাছে। কিন্তু ডাক্তারবাবুর অ্যাসিস্ট্যান্ট বুদ্ধ আগেই বলে দিল, "বৌদি, আগে তুমি টেস্ট করিয়ে আনো। কোভিড টেস্ট করে নেগেটিভ রিপোর্ট এলে ডাক্তারবাবু দেখবেন। না হলে এখন জ্বরের পেশেন্টদের ডাক্তারবাবু দেখছে না।"

কাছে যে সরকারী হাসপাতাল আছে সেটাকে কেবলমাত্র করোনা রুগীদের চিকিৎসার জন্য চালানো হচ্ছে। অবশ্য এখানে কোভিড পরীক্ষা করা যাবে। তবে বিভার কোভিডের কথা শুনলে ভয় করে। সে শোনে, এই ভয়াবহ মহামারী গোটা পৃথিবীকে গ্রাস করে ফেলছে। কত লোক তাতে মারা যাচ্ছে। টেস্ট করালে যদি পজিটিভ আসে! তবে তো সর্বনাশ! না, না। তার মেয়ের এসব কিছু হয়নি। সামান্য জ্বর এসেছে। আর শ্বাসকষ্টটা তো ওর ছোটবেলা থেকেই ছিল। আর দুটো দিন দেখা যাক। তারপর মিহির যা বলে সে তাই করবে। এই ভেবে গতকাল সে কোভিড পরীক্ষা না করিয়েই বাড়ি ফিরেছিল। আজ বিভা থার্মোমিটার দিয়ে দেখল জ্বর একশো ছাড়িয়েছে। মেয়েকে ঘুম থেকে তুলে একটা প্যারাসিটামল খাইয়ে দিল। এখন শুধুমাত্র প্যারাসিটামল ছাড়া তার আর উপায় নেই। "ওষুধের গুণে জ্বরটা কিছুক্ষণের জন্য কমলেও বিকেলের দিকে ফের গায়ের তাপমাত্রা বাড়তে লাগল। কি করি বল তো?" বিভার বিহ্বল প্রশ্ন শুনে ফোনের ওপারে থাকা মিহির কিছুক্ষণ চিন্তা করল। তারপর বলল, "না গো, আর দেরী করা ঠিক হবে না। তুমি এক কাজ কর, রাজুকে সব জানাও। ওকে বল, করোনার টেস্ট করে এমন কারুর খবর যদি দিতে পারে... ওর তো অনেক জানাশোনা।"

মিহিরের কথা শুনে কাঁদতে থাকে বিভা, "তুমি কি বলছ গো? আমার মেয়ের কিছু হয়নি। আমার মেয়ের কিচ্ছু হবে না।"

"আরে, চুপ করো তো। না কেঁদে যা বলছি তাই করো। রাজুকে খবর দাও। আমিও ওকে ফোন করে সব জানাচ্ছি।" ধমক দিয়ে বিভার কান্না থামায় মিহির।

রাজু ওদের পাড়াতেই থাকে। দুটো বাড়ি পরেই রাজুর বাড়ি। পেশায় সে টোটো চালায়। তবে খুব করিৎকর্মা। প্রয়োজন হলে যে কাউকেই ও যতদূর সম্ভব সাহায্য করে। আর তাছাড়া মিহিরের ছোটবেলাকার বন্ধু সে। একই স্কুলে, একই ক্লাসে ওরা দুজনে পড়েছে ক্লাস এইট অব্ধি। তাই মিহিরের পরিবারের যেকোনো প্রয়োজনে সে সবসময় পাশে দাঁড়ায়। এবারেও তার ব্যতিক্রম হল না। ফোন করতেই রাজু বলে দিল, "কোন চিন্তা করো না। আমি তোমায় কালকেই সব খোঁজ এনে দেব।"

পরেরদিন শুধু খোঁজ নয়, স্থানীয় হাসপাতালে কার সাথে দেখা করলে কাজ হবে ফোন নাম্বারসহ তার সমস্ত পরিচয় বিভাকে রাজু দিয়ে দিল। বিভা ভয়াকুল গলায় বলে, "আমাকে এতো কিছু বললে কি হবে রাজু। আমি এতো সব কিছু বুঝে উঠতে পারছি না রে। তুই একটু পাশে থাকিস।"

রাজু বলে, "সত্যি বৌদি, তোমাকে নিয়ে আর পারি না। তুমি কি ভেবেছ আমি এখন চলে যাব? পুচকির টেস্ট পুরোপুরি না করিয়ে যদি আমি যাই, তবে দাদা আমাকে আস্ত রাখবে ভেবেছ?" তারপর একটু থেমে রাজু আবার বলে, "তুমি কিছু চিন্তা করো না। আমি সবসময় আছি। তুমি আর পুচকি - দুজনে রেডি হয়ে নাও। আমি একজনকে বলে নাম লিখিয়েছি, এখনই যেতে হবে।"

সেদিন কোভিড পরীক্ষা করিয়ে আনার সময় টোটোর মধ্যেই শরীরটা খারাপ লাগতে শুরু করল পরীর। বুকের কষ্টটা বাড়ছিল। জ্বরটাও আসছে। বিভা রাজুকে বলে, "কি হবে বল তো রাজু? তোর দাদাও নেই এখন। কি যে করি?"

রাজু নির্দ্বিধায় বলে ওঠে, "ওসব নিয়ে একদম চিন্তা করো না বৌদি। ওর কিছু হবে না। এসব নিয়ে বয়স্কদেরই চিন্তা থাকে বেশি।"

টেস্টের রিপোর্ট এলে ফোন করে জানিয়ে দেওয়া হবে। দিন দু'য়েক সময় লাগতে পারে তাতে। আর সেখানেই মুশকিল। এই অবস্থায় কোনও হাসপাতাল ভর্তি নিচ্ছে না, কোন ডাক্তারও দেখতে চাইছে না। রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তবেই সাধারণ হাসপাতালে দেখানো যাবে। আর পজিটিভ এলে ভর্তি নেবে কোভিড হাসপাতাল।

অগত্যা মেয়েকে আপাতত বাড়িতে রাখা ছাড়া বিভার আর উপায় রইল না। সে জানত না, এভাবে তার মেয়ে ধীরে-ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে, নাকি চিকিৎসা না পাওয়ার ফল উলটো হবে। শুধু অপেক্ষা করা ছাড়া তার আর কিছুই করার ছিল না। সন্ধেবেলায় আবার জ্বর এল পরীর। এবার এক লাফে ছাড়িয়ে গেল একশ-দুই মাত্রা। জ্বর নামানোর ওষুধ দেওয়া ছাড়াও সমস্ত সময়টা ধরে বিভা মেয়ের কপালে জলপট্টি দিয়ে তাপমাত্রা কমানোর সর্বপ্রকার চেষ্টা করে যাচ্ছিল। কিন্তু এবার জ্বরের সাথে-সাথে শুরু হল শ্বাসকষ্টের যন্ত্রণা। শ্বাস নেওয়ার জন্য গলার শিরা ফুলে-ফুলে উঠছিল। বিভা সঙ্গে সঙ্গে মিহিরকে ফোন করল। দু'হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা মিহির তখন যে কি করবে, তা সে নিজেও জানতো না। মেয়ের অবস্থার কথা জানতে পেরে সে ঠিক করল বাড়ি ফিরে আসবে। বিভা বলল, "কি বলছ তুমি? কিভাবে আসবে এখন?" মিহির জানাল যেভাবে হোক সে বাড়ি পৌঁছোবেই। দরকার হলে সে কাল থেকে হাঁটতে শুরু করবে। বিভা বলল, "তুমি পাগল হয়ে গেছো? তুমি শুধু বল, আমার মেয়েকে কিভাবে বাঁচাবো আমি। কিভাবে বাঁচাবো?" এর উত্তরে মিহিরের কাছ থেকে কোন জবাব পেল না বিভা।

ক্রমাগত জলপট্টি দিতে দিতে রাত দশটার সময় জ্বরটা সম্পূর্ণ ছেড়ে গেল। তারপর পরীকে দু'মুঠো ভাত খাইয়ে নিজে অভুক্ত থেকে বিভা কোনোরকমে কাটাতে লাগল সেই দুঃস্বপ্নের রাত।
Next Part


All Bengali Stories    106    107    108    109    110    111    112    (113)     114    115   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 6009890717