Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
A platform for writers

কেউ কারো নয়

বাংলা গল্প

All Bengali Stories    112    113    114    115    116    117    118    119    (120)     121    122   


■ প্রচারেই প্রসার। RiyaButu.com এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন করতে ... Details..

■ প্রতি বছর RiyaButu.com এর বাংলা বিভাগে প্রকাশিত সকল লেখাগুলির মধ্য থেকে সেরা ২৫টি লেখা নিয়ে এবং অবশ্যই লেখাগুলির লেখক / লেখিকাদের অনুমতিক্রমে, ডিসেম্বর মাসে বই আকারে[ Hardcopy ] প্রকাশিত হবে 'RiyaButu সাহিত্য সংকলন' Details..

■ অনেক বইয়ের কথা     ( A free platform to advertise your book on RiyaButu.com )     Details

RiyaButu.com কর্তৃক বিভিন্ন Online প্রতিযোগিতাঃ
■ 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার' মে, ২০২১ ( স্বরচিত গল্প লেখার প্রতিযোগিতা) ফলাফল Details..
■ স্বরচিত ছোট গল্প প্রতিযোগিতা ( ৬০০ শব্দের ), নভেম্বর- ২০২১ Details..
■ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, সেপ্টেম্বর - ২০২১ Details..



কেউ কারো নয়
বাংলা গল্প
লেখিকা -- জেবুন্নেছা জেবু, পিতার নাম--এম এ মাজেদ, সতীশ বাবু লেইন, কোতয়ালী থানা, চট্টগ্রাম , বাংলাদেশ


## কেউ কারো নয়
চার দিন ধরেই হাসু মিয়া ও আসমা শুধু ডাল আর আলুর ভর্তা দিয়ে খেয়ে যাচ্ছে, দুই তারিখটা কবে যে আসবে! ঘরে ডাল ছাড়া কিছুই নেই। প্রতি মাসের দুই তারিখ হাসু মিয়া পেনশনের টাকা পান, এই দিনটা ওদের খুবই আনন্দের। জীবনের সব চাওয়া এখন যেন ওটুকুই, খেয়ে -পড়ে দিন যাপন করা। সেই দিন মাসের পুরো বাজার করে নিয়ে আসা হয়।

হাসু মিয়া, স্ত্রী আসমাকে বলেন, " তাও তো আমার পেনশনের টাকাটা আছে, কোনও রকমে বেঁচে থাকা যায়। কিন্তু যারা পেনশন পায় না, এই কোভিড করোনা কালে তাদের বেঁচে থাকা কতো কষ্টময়, কতো বড় চ্যালেঞ্জ ভাবতে পারো? কতো আশা করে সব টুকু দিয়ে এ বাড়িটা করলাম, এগুলো কি আমি কবরে সাথে নিয়ে যাবো আসমা? কার জন্যে করলাম, একবারও ভাবল না ছেলেটা! আমি তো চাইলে সব টাকা নিজের জন্যে সঞ্চয় করে রাখতে পারতাম। হায়রে জীবন! বৃদ্ধ বয়স সবারই জন্যে আছে, এ বয়সের ভার বইতে হবে একদিন সবাইকে। ইচ্ছা করে কেউ তো বৃদ্ধ হয় না।"

একসাথে মাসের বাজার না করলে বিপদে পড়তে হয়। বাজার করে দেওয়ার মতো কেউ তো নেই। ছেলে শিহাব থাকলেও আজকে দুই বছর ধরে থেকেও না-থাকার মতোই। শিহাবের সরকারি চাকুরী হয়েছে তিন বছর হল। চাকুরী পাওয়ার পর-পরই হাসু মিয়া ছেলেটাকে বিয়ে করিয়ে দেন। ভেবেছিলেন বাকি জীবন আরামে কেটে যাবে। কতো স্বপ্ন ছিল ছেলে একদিন বড় হবে, হাসু মিয়ার দুঃখ কমবে। ছেলেকে ভালো করে পড়াশুনা করাতে পারলে আমাদের আর কোন অভাব থাকবে না। বিয়ের পর ছেলেটা হঠাৎ বদলে গেলো । মা-বাবার এতো কষ্ট, ত্যাগ, স্বপ্ন সব ভুলে গেলো।

মা-বাবা সন্তানদের কাছে খুব বেশী কিছু আশা করে না, একটু ভালবাসা ও সম্মানই চান। কে দেখবে বৃদ্ধ বয়সে, সেকথা ভেবে কখনো কোনও টাকাও সঞ্চয় করেননি হাসু মিয়া। আজকে এমন সময় আসবে কখনো ভাবেননি। সর্বস্ব দিয়ে খেয়ে না খেয়ে ছেলের সব আবদার পূর্ণ করে গেছেন, মা-বাবা এমনই হন।

হাসু মিয়া ও শিহাবের মা আসমা খুবই নরম ও ভালো মনের মানুষ। ছেলের পছন্দ মতো মেয়েকেই মেনে নিয়ে বিয়ে করালেন। মা-বাবার জন্যে শিহাবের কোন চিন্তাই নেই। ভাগ্য ভাল হাসু মিয়া পেনশনের টাকাটা পান, নয়তো কি যে হতো!!

সে দুই বছর আগের কথা ... একদিন ছেলেকে ডেকে বললেন, "দেখো বাবা নিজের জন্যে কখনো ভাবিনি, ভেবেছিলাম তুমি বড় হয়ে চাকরী পেলেই আমার আর কোন চিন্তা থাকবে না। তুমিও এখন বাবা হয়েছ। সেদিন বউমা বলছে, আমি শুনলাম ...আমাদের ত্যাগ করতে হবে ...বউমাকে বলো, আমাদের নাতিকে ত্যাগ করতে? ওকেও ওর মতোই করে বলা উচিত ছিল তোমার -- হয় স্বামী, নয় বাচ্চা একটা বেছে নিতে! আজ আমরা কেউ না । আরে, এই তুই শিহাবকে বউমা কিভাবে পেলো, সে কথা ভাবে না? আমি গরীব স্কুল মাস্টার হলেও এখনো সম্মান বোধ আছে আমার । তোমাদের সুখের কাঁটা হতে চাই না।"

ওদের প্রথম বাচ্চা হবার ছয় মাস পরেই বউ বলে দিলো শিহাবকে, "হয় তোমার মা-বাবা, নয় আমাকে বেছে নাও।"

শিহাবও হঠাৎ করে 'একসাথে থাকতে পারবে না' বলে দিলো মা-বাবাকে। হাসু মিয়া রাগ ধরে রাখতে পারেননি সেদিন। মনের ভেতর প্রচণ্ড কষ্ট পেলেন। ছেলের মুখে এমন কথা শোনে, কষ্টটা বুঝতে না দিয়ে স্ত্রী আসমাকে নিয়ে চলে আসলেন দেশের বাড়িতে। বাড়িতে আসার পর এই দুই বছরে অনেক কিছু পাল্টেছে। পেনশনের যে টাকাটা পান এটা দিয়ে হাসু মিয়া ও স্ত্রী আসমার কোন রকম দিন কাটিয়ে দেন। হঠাৎ করে এই মাসে টাকাটা দুই তারিখের আগে শেষ হয়ে গেছে চোখের ডাক্তার দেখাতে গিয়ে। একসাথে কয়েকটা পরীক্ষা করাতে বাজার করার পুরো টাকাটা শেষ হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বলেছেন, "চোখের ছানি অস্ত্রোপচার করাতে হবে। করালে একদম আগের মতো সবকিছু স্পষ্ট দেখতে পাবেন।"

"কতো টাকা লাগতে পারে ডাক্তার সাহেব?"

"চল্লিশ হাজারের উপরে খরচ হবে।"

এ টাকাটা হাসু মিয়ার জন্য অনেক বেশি। আসমা একমাত্র ছেলে শিহাবের কাছে চিকিৎসার টাকা গোপনে মোবাইল করে চেয়েছিল, টাকার কথা শুনে ছেলে শিহাব বলল, "এই বয়সে সবার চোখে একটু ঝাপসা লাগে। তাই বলে চিকিৎসার জন্য এতগুলো টাকা খরচ করতে হবে কেন? এতো টাকা খরচ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।"

আসমা সেদিন বলে ছিল, "দোয়া করি তোমার ছেলে যেন অনেক বছর বেঁচে থাকে আর ঠিক এমনই কথা তোমাকেও যেন শুনিয়ে দেয়..." মা হয়ে ছেলের এমন কথাটা তবুও মেনে নিতে না পেরে সারা রাত নিঃশব্দে কাঁদলেন।

আসমার কিছু জমি ছিল। হাসু মিয়া দুই কাঠা জমি আসমার নামে নিয়েছিলো অনেক আগে। সে সময় খুবই কম টাকায় জমিটা কেনা । আসমা তার ভাইয়ের ছেলেকে ফোন করে জানাল যে, তিনি জমিটা বিক্রয় করতে চান। আসমার ভাইয়ের ছেলে, রহিম বলল, সে কিনে নিবে। "মোট জমির মূল্য বারো লাখ হবে, আমি এখন আপাতত: বায়না বাবদ পাঁচ দিয়ে দিবো।"

আসমা বলল পুরো টাকাটা খুবই তাড়াতাড়ি লাগবে, ওটা সঞ্চয়-পত্র করে ব্যাংকে রেখে দিলে ওনাদের সংসার কিছুটা সচ্ছল হবো। "আর কয়দিন বাঁচবো! শেষ বয়সটাতে অসুখে-বিসুখে এমনিতেই কষ্ট, তার উপরে আর্থিক কষ্টটা সহ্য হয় না। উন্নত দেশের মতো সরকার বৃদ্ধদের দায়িত্ব নিয়ে নিলে ভাল হতো। বাবা-মাকে বৃদ্ধ হয়ে গেছে বলে অবহেলা করিস না কখনো। গাছ বুড়ো হলেও ছায়া দেয়, শান্তি দেয়, বাতাস দেয়... মা-বাবার দোয়া, ভালবাসা ও পরামর্শ জীবনকে সুন্দর করে, এ কথাটা মনে রাখিস।"

# কয়েক দিন পর ...
হঠাৎ শিহাবের বউয়ের কান্না বিজড়িত কণ্ঠে ফোন ...আসমা রিসিভ করতেই শুনল, "মা আমাদের মাফ করে দিন মা ..."

আসমা বলল, "কি হল বলো? কাঁদছ কেন?"

"মা শিহাবের কোভিড পজেটিভ এসেছে ..."

"কি বলছো?...তুমি ভয় পেয়ে গেলে তো হবে না, এতে শিহাব মনোবল হারাবে। ডাক্তাররা যা-যা বলে শুনো। সময় করে আমরা আসবো ..."

শিহাবের বউ বলল, "না মা, আপনারা একেবারেই চলে আসুন। আমার ভয় হচ্ছে ..."

"না বউ মা, কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে আমাদের যাওয়া ঠিক হবে না। বাবা-মা কখনো সন্তানের উপরে রাগ করে থাকে না। আর তোমার উপরেও কোন রাগ নেই, প্রকৃতির নিয়ম এমনই। আসলে কিছুই কারোর নয়, আমরা তোমাদের জন্যে, তোমরা তোমাদের ছেলের জন্যে, এভাবেই সব ক্রমান্বয়ে চলতে থাকে। পৃথিবীর কিছুই কেউ দখল করতে পারে না। অনর্থক লোভে পড়ে আমরা কাড়াকাড়ি-মারামারি করি।"

তিন চার দিন পর ছেলেকে দেখতে গিয়ে কেঁদে ফেললো মা বাবা ...

শিহাবের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। করোনার চিকিৎসা ব্যয় ভার বেশী, মা বলতে লাগলো, "আমার শিহাবকে বাঁচাও ...টাকা যা লাগে লাগুক। আমার জমি-বাড়ি সব বিক্রয় করে দেবো। আমার ছেলেকে বাঁচাও।"

আসলে পৃথিবীতে মা-বাবার মতো আপন আর কেউ হয় না।
( সমাপ্ত)


Next Bangla Story

All Bengali Stories    112    113    114    115    116    117    118    119    (120)     121    122   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay or Articles by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##

◕ ◕ Online Book Shop
নামঃ রাজগি ত্রিপুরা ও চাকলা রোশনাবাদ
লেখক - পান্নালাল রায়

Books on Tripura

ভারতে মোগল শক্তির অভ্যুদয়ের পর মোগলরা ত্রিপুরার সমতল এলাকা জয় করে তার নাম রেখেছিল রোশনাবাদ। ধীরে-ধীরে ত্রিপুরার স্বাধীন রাজা চাকলা রোশনাবাদের জন্য মোগলদের অধীনস্থ এক করদাতা জমিদারে পর্যবসিত হয়। মোগলদের পর ইংরেজ আমলেও এই ধারা অব্যাহত থাকে। কি করে বিভিন্ন রাজার আমলে বহিঃশক্তি স্বাধীন ত্রিপুরাকে ধীরে-ধীরে গ্রাস করে নেয় তা-ই এই অমূল্য বইতে উন্মোচন করতে চেষ্টা করেছেন লেখক। Details..
List of all books ■ ■

RiyaButu.com কর্তৃক বিভিন্ন Online প্রতিযোগিতাঃ
■ স্বরচিত গল্প লেখার প্রতিযোগিতা - মে, ২০২১ ফলাফল Details..
■ স্বরচিত ছোট গল্প প্রতিযোগিতা ( ৬০০ শব্দের ), নভেম্বর- ২০২১ Details..
■ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা - সেপ্টেম্বর, ২০২১ Details..
■ Hindi Story writing competition... Details..
■ RiyaButu.com হল লেখক / লেখিকাদের গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ প্রকাশ করার একটি মঞ্চ। ঘরে বসেই নির্দ্বিধায় আমাদের কাছে লেখা পাঠাতে পারেন সারা-বছর ... Details..


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 7005246126