Home   |   About   |   Terms   |   Library   |   Contact    
A platform for writers

শশাঙ্কের শিলমোহর - পর্ব ১১

বাংলা গল্প

All Bengali Stories    116    117    118    119    120    121    122    123    (124)     125    126   

-------- বিজ্ঞপ্তি ----------
■ 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার - মে, ২০২৪' স্বরচিত গল্প লেখার প্রতিযোগিতা, ( প্রতি বছর মে মাসে ) Result
--------------------------



শশাঙ্কের শিলমোহর - পর্ব ১১
বাংলা গল্প
স্বরচিত গল্প প্রতিযোগিতার ( নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার , ২০২১) একটি নির্বাচিত গল্প
Writer: - Dr. Ipsita Bhattacharjee, Sahid Nagar, Dhakuria, Kolkata


অন্য পর্বগুলিঃ পর্ব ১    পর্ব ২    পর্ব ৩    পর্ব ৪    পর্ব ৫    পর্ব ৬    পর্ব ৭    পর্ব ৮    পর্ব ৯    পর্ব ১০    পর্ব ১১    পর্ব ১২   

## শশাঙ্কের শিলমোহর - পর্ব ১১
ভাল জুতো না পড়ে আসার ফলে হাঁটতে বেশ অসুবিধা হচ্ছিল নুরের। তাঁর উপর আলো আস্তে-আস্তে ফুরিয়ে আসছে। জায়গাটায় ৩-৪ পিস সাপ-খোপ থাকলে আশ্চর্য হওয়ার নেই। নুরি আর পাথুরে এই রাস্তাটা হয়তো কোনও জলাশয় ছিল বহু আগে,পড়ে শুকিয়ে এই অবস্থা হয়েছে। জয়ীর পায়ে মাউন্টেন বুট থাকায় কিছুটা সুবিধা হলেও এই মুহূর্তে প্রয়োজন একটা জোরালো ফ্ল্যাশ লাইটের। প্রায় মিনিট দশেক চলার পর তারা এসে দাঁড়াল একটি ছোট্ট মন্দির মত জায়গায়। একটি প্রাচীন ভগ্নপ্রায় মন্দির, চারিদিকে আগাছা আর শ্যাওলায় ঘেরা। ঢোকার মুখে একটি ছোট্ট দরজার মত জায়গা, তাতে পাল্লা নেই। বলাই বাহুল্য, এই জায়গায় বহুদিন কেউ আসেনি।

"এইখানে ঢুকব নাকি?" নুর বেশ চকিত হয়ে জিজ্ঞেস করল।

জয়ী বলল, "হ্যাঁ, তবে তাঁর আগে, মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট তা জ্বালিয়ে নি। তোমারটাও জ্বালাও।"

নুর ইতস্তত করছে দেখে জয়ী বলল, "নুর, আমি বুঝতে পারছি তোমার ব্যাপারটা। তুমি এতদূর আমার সাথে এসেছ, তোমায় অনেক ধন্যবাদ। তুমি কিন্তু ফিরে যেতেই পার। আমার মনে হয় আমার সন্ধানের শেষ পর্যায় উপস্থিত আমরা। এইখান থেকে বাকিটা আমার।"

নুর কিছু উত্তর করতে যাওয়ার আগে ভেতর থেকে একটা শব্দ এল। এই অন্ধকার গর্ভগৃহের ভিতরে কিসের শব্দ, কোনও প্রাণী কি? না:... একটি ধাতব শব্দ আসছে...কেউ যেন কোন লোহার কাজ করছে। জয়ী নুরকে মুখে আঙ্গুল দেখিয়ে চুপ করতে বলে,পা টিপে-টিপে প্রবেশ করল মন্দিরের ভিতর; শব্দটা একটানা হয়ে চলেছে। মোবাইলের আলোতে যতটুকু দেখা গেল তাতে বোঝা গেল, ভিতরের এরিয়াটা বেশ বড়, এতটাই যে টর্চের আলোয় পুরো ঘরটা আলোকিত হচ্ছে না। শব্দের উৎসের খোঁজে জয়ীরা আরও ভিতরে চলে গেল। অন্ধকারে একটি মাত্র আলো ছাড়া দূরে আর একটি আলো দেখা গেল, ছোট্ট একটা প্রদীপের শিখা, আর তাতে দেখা গেল একটি কাল জোব্বা পড়া ব্যক্তি নীচু হয়ে কিছু একটা করছে।

"যাক, অবশেষে দেখা হওয়ার সুযোগ হল..." ঐ ছায়ামূর্তির থেকে কথা বেরোল।

"এ...এ তো...ভুত..." নুরের কাঁপা গলা শোনা গেল।

প্রায় গগণ ফাটানো একটা হাসি বেরিয়ে এল। সেই উপুড় হয়ে কাজ করা ব্যক্তি বললেন, "একদম ঠিক বলেছ, আমার প্রভুর নামে সম্বোধন করে। তবে দাড়াও, সরাসরি আলাপটা সেরে নেই," বলে সে সেই প্রদীপের আলো নিয়ে ভিতরের কোথাও থেকে একটা মশাল নিয়ে এল। মশালের আলোয় তাকে দেখা গেল। প্রায় ৬ ফুট লম্বা এক ব্যক্তি, অতি রোগা বললে হয়তো খুব বেশী বলা হবে না। মনে হয় বহুদিনের ক্লেশ শরীরে দেখা দিয়েছে। পুরো শরীর ঢাকা কালো জোব্বার মত একটি কাপড়ে। মাথার চুল রুক্ষ, উসকো-খুসকো প্রায় কাঁধ অব্ধি নেমে গিয়েছে। নাক টিকালো এবং চোখ দুটি অতিরিক্ত কটা, যাতে একটা অদ্ভুত হিংস্র ভাবে চকচক করছে,"আহ, সো উই মিট এগেন, জয়ীতা দেবী। সেইদিন রাতে আপনার সাথে আলাপের সুযোগ হয়নি, আজ আর হাতছাড়া করছি না। প্রণাম, আমি বিশ্ব, বিশ্ববরেণ্য ও বলতে পারেন। রজত বোসকে ঘায়েল করার পর আপনার সাথে আলাপ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আপনি স্পিন্ট লাগালেন। নেহাত জেলে থেকে আমার পায়ের জোর গেছে, নয়তো এই চত্বরে যা দৌড় করিয়েছি লোকজনকে..."

"আপনি কি চান? কেনই বা আমার পিছু নিয়েছেন? কেন ক্ষতি করতে চান আমার?" বলল জয়ী।

বিশ্বর স্বরে আবার তির্যক, "বাঃ, আপনি আমার পৈতৃক ভিটায় দাড়িয়ে বলছেন আমি আপনার পিছু নিয়েছি। তবে হ্যাঁ, যে জিনিস আমার তা নিয়ে যদি কেউ ধানাই-পানাই করতে আসে, তার কি অবস্থা করি তা তো দেখেছেনই।"

নুর অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে জয়ীতাকে বলল, "শীগগির পালান, লোকটা পাগল এবং ডেনজা..."

নুরের কথা শেষ হওয়ার আগেই অন্য একটা স্বরে গমগমিয়ে উঠল চারিদিক, "আর তুমি কি হে ছোকরা, বিশ্বস্ত?" পিছনে আর একটি আলোর শিখায় উজ্জ্বল হয়ে উঠল জয়ীর আর এক পরিচিত মুখ। আপনা থেকেই জয়ীর স্বর কেঁপে আওয়াজ বেরিয়ে এল, "আ...আ...আপনি?"

"হ্যাঁ, আমি। জয়ীতা বোস, তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী, মেন্টর, ডঃ শেরগিল। অ্যান্ড ইফ আই মাইট সে, দি রাইটফুল ওনার ওফ দি Seal."

বিশ্ব একটা বিশ্রী শব্দ করল, ভাবটা এমন যেন প্রতিবাদ করতে চাইছে কিছু। মশালের আলোয় আর একটি হাত তুলে তাকে চুপ করতে ইঙ্গিত করলেন শেরগিল, "তোমাকে স্টোরি কাভার করানো ছিল একটি অ্যালিবাই, কিন্তু তুমি হঠাৎ মিস মার্পেল হয়ে যাবে তা কে জানত? মনে করে দেখ, একাধিক বার তোমাকে পরোক্ষ ভাবে সাবধান করার চেষ্টা করেছি। তোমার পরিবার করেছে, কিন্তু তোমার, 'ওয়হ কেয়া কহতে হ্যায়' অনুসন্ধান বন্ধ হচ্ছিল না, তাই এই নুর নামক আহাম্মককে হাতে আনতে হল৷" ক্রুর ও ঠাণ্ডা গলায় বললেন শেরগিল৷

জয়ীর এইবার আরও বড় ধাক্কা লাগল। এই অন্ধকার, গুমোট পরিবেশে খুব ঠাণ্ডা লাগল তার। সে নুরের নীচু হয়ে যাওয়া মুখের দিকে তাকাল, তারপর মুখ ফিরিয়ে নিয়ে আবার শেরগিলের দিকে আগের মতই দৃঢ়ভাবে প্রশ্ন করল, "দুর্গাবাবুকে মারলেন কেন? আপনার লোভ মিটিয়ে নিতেন নিজের ঐ কীটকে দিয়ে চুরি করিয়ে!"

বিশ্বর থেকে একটি প্রতিরোধসূচক স্বর বের হওয়ার আগে অবশ্য শেরগিল তাকে হাত তুলে থামালেন, "উহহ...প্রশ্নের উত্তরগুলো দিতে দাও। বেশ কোথা থেকে শুরু করি তবে ...উমম... আজ থেকে কয়েক বছর আগে ফিরে যেতে হয়। তুমি এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝতে পারছ যে, তিন বছর আগে দুর্গামোহন এই তোমার সামনে দাড়িয়ে থাকা ব্যক্তি ও তার দলকে ধরতে সাহায্য করে। এদের সিরিয়াল কিলিং-এর সাথে যে কোনও আধ্যাত্মিক অ্যাঙ্গেল আছে, সেইটা দুর্গাই ধরতে পারে। এরা ধরা পড়ার পর কি হয়েছিল সে বিষয়ে বিশদে আমি গেলাম না। দুর্গা এইসময় অনেকগুলি এভিডেন্স পায়, তার মধ্যে একটি ছিল শশাঙ্কের শিলমোহর। গোঁড়ায় আমি কিছুই জানতাম না, দুর্গাই একদিন আমায় বলে, 'তুমি প্রাচীন জিনিস তো দেখলেই চিনে নাও, চলো তোমায় এক জায়গায় নিয়ে যাব,' কটা জিনিস ভেরিফাই করা প্রয়োজন বলে এই বিশ্বের আত্মীয় মোয়ণ এর কাছে নিয়ে যায়। পুরো ব্যাপারটা আমার সাথে শেয়ার করার পর আমি তাকে বোঝাই যে এই শিলমোহর বিক্রি করতে তাকে আমি সাহায্য করব, ইন্টারনেশানেল আর্ট বাজারে। প্রথমটায় সে নিমরাজি হয়েছিল। সে 'বেচা-কেনা' দুইতেই এক্সপার্ট ছিল। যেমন আর্টিফ্যাক্ট বিক্রি করেছে, তেমনি কিনেছে। কিন্তু পরের দিকে সে আমায় এড়িয়ে যেতে লাগল। শিলমোহরের ডিলটা এইভাবে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে দেখে আমি তাঁর বাড়ি যাই, তাঁর সাথে আলোচনা করি। শেষে সে আমায় জানায় যে, এই শিলমোহর চলে গেলে এঁর সাথে একটা ইতিহাস লুপ্তপ্রায় হয়ে যাবে; সেইটা সে চায় না। তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞেস করতে সে আর একটাও কথা বলল না সে ব্যাপারে।"

"তারপর আপনি এই লোকটিকে যোগার করে, পুরানো ঘা উসকে দিয়ে খুন করিয়ে ফেলেন। কিন্তু রজতবাবুকে আক্রমণ করলেন কেন?" জয়ীর কণ্ঠস্বর এখন ইস্পাত।

"সেও এক বড় গল্প। দুর্গার মৃত্যুর পর যখন সহানুভূতি দেখাতে যাই, তখন তাঁর সাথে কথা বলে বোঝার চেষ্টা করি সে কতটা জানে। সে আমাদের সমস্যার কিছুই জানত না। কিন্তু সে আমাকে এবং বিশিষ্ট অনেককেই জানায় যে, বিশেষ কিছু গবেষণা করে অনেক কিছুই জানতে পেরেছিলেন তিনি। হয়তো তা মানুষের কাছে আসার প্রয়োজন মনে করেছিলেন। তখন মনে হয়, দেয়ার ইস মোর টু ইট। কারণ শেষের দিকে রজত এতটায় গোপনীয়তা রক্ষা করত শিলমোহরটির ব্যাপারে যে, আমার সাথে বেশ কয়েকবার বড়সড় সমস্যা হয়েছিল। আমার এই আর্ট মাফিয়ার সত্ত্বাটা সবার সামনে এনে দেবে বলে হুমকি দেয়। কাজেই বিশ্বকে পাঠাই তার বাড়িতে, বাকি থাকা ইতিহাসের বিষয়ে কন জিনিস থাকলে তা চুরি করে আনতে; তখনই আক্রান্ত হয় সে।"

এক মুহূর্ত সবাই চুপ, দূরে কোথাও যেন কিছু সন্ধ্যার পাখি আওয়াজ করে ঘরে ফিরছে। কটা বাজে এখন?কে জানে! হঠাৎই একটা ঝনাৎ করে লোহার দরজা খোলার মত শব্দ হল।

"খুলে গেছে, আসুন..." বলে পিছন থেকে বিশ্বর গলা শোনা গেল। দুটি মশালের আলোয় জয়ীরা দেখতে পেল যে সামনের শিবলিঙ্গের মত জিনিসটি একটি টার্ন ডোরের মত করে খুলে গেল। ভেতরের হাঁ মুখ খুলে গিয়ে কতগুলি সিঁড়ির মুখ বর্তমান হল। জয়ী পিঠে একটা ঠাণ্ডা নলের মত কিছু ঠেকল, "এইবার তুমি ও তোমার সাগরেদ, শশাঙ্কের পরিবারের কাছে যাবে। চল, সে ব্যবস্থাই করেছি।"

খুব কঠিন পরিস্থিতিতেও আবিষ্কার ও নতুনকে জানার আগ্রহ যে মানুষকে কি প্রকার আনন্দ দিতে পারে তা আজ বুঝল জয়ী। স্যাঁতস্যাঁতে একটি সিঁড়ির মত কিছু দিয়ে নামতে-নামতে জয়ীর মনে হল যে বর্তমান বুঝি অনেক দূরে, এক-এক পা করে সে ১০০০ বছর পিছিয়ে যাচ্ছে। 'বিশ্ব' বলে লোকটার হাতে মশালের আলোয় নিকষ কালো অন্ধকারে এক- একটা ছেঁদ সৃষ্টি হচ্ছে। বেশ কয়েকটা সিঁড়ি ভাঙার পর একটি সমতলের মত জায়গায় এল তারা। বেশ বোঝা যাচ্ছে জায়গাটি মাটির অনেক নীচে, বেশ ঠাণ্ডা লাগছে।

"ফ্ল্যাশলাইট এনেছ? আনো নি নির্ঘাত..." বলে বিশ্বর উদ্দেশ্যে বিশ্রী একটা কথা বলে শেরি তার পাউচ থেকে একটি বড় ডিভাইস বার করলেন; একটা হাই ভোল্টেজ লাইটনিং ডিভাইস।

এক মুহূর্তে অনেকটা জায়গা আলোকিত হয়ে গেল। জায়গাটা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে, কিন্তু বোঝা যায় এটি কোনও সময় একটি রাজকক্ষের মত ছিল। মাটি পিচ্ছিল এবং জায়গায়-জায়গায় পাকের মত জল জমে আছে; সাংঘাতিক গুমোট ও ঠাণ্ডা। ধুলো ও মাকড়সার জালের মধ্যে দিয়েও জায়গাটা যে সুবৃহৎ তা বুঝতে বাকি থাকে না।

যে জায়গাটায় এসে দাঁড়াল জয়ীরা তার দেওয়ালগুলিতে আলো ফেলা হল। এটি সম্ভবত উপাসনা গৃহ। প্রতিটি দেওয়ালে বিভিন্ন রকম মূর্তি খোদাই করা। বেশীরভাগই মহাদেব বা অন্যান্য হিন্দু দেবদেবীদের। প্রত্যেকটি কারুকার্য প্রায় নিখুঁত এবং বিশেষ কোনও ক্ষতির চিহ্ন বর্তমান নেই। এক একটি স্থানে এসে শেরগিল ভাল করে পরীক্ষা করতে লাগলেন। বললেন, "ব্রিলিয়ান্ট, ধন্যি, ধন্যি তোমার আবিষ্কার দুর্গা। বেকার তুমি নিজের প্রাণ হারালে," বলতে-বলতে এগোতে থাকল।

এর পরের ঘরটি অনেকটা ছোট। কিন্তু এক কথায় অভাবনীয়! ঘরটির একটা বড় অংশ জুড়ে একটি সুবিশাল পালঙ্ক। প্রায় ৭-৮ ফিট লম্বা, প্রায় ৩ ফিট উঁচু, চারিদিকে কাঠের সুন্দর নকশা করা। পালঙ্কের উপর একটি পোড়া পিদিম ও একটি সোনার রুদ্র মূর্তি।"
Next Part


All Bengali Stories    116    117    118    119    120    121    122    123    (124)     125    126   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 6009890717