Home   |   About   |   Terms   |   Library   |   Contact    
A platform for writers

শশাঙ্কের শিলমোহর - পর্ব ১২

বাংলা গল্প

All Bengali Stories    116    117    118    119    120    121    122    123    (124)     125    126   

-------- বিজ্ঞপ্তি ----------
■ 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার - মে, ২০২৪' স্বরচিত গল্প লেখার প্রতিযোগিতা, ( প্রতি বছর মে মাসে ) Result
--------------------------



শশাঙ্কের শিলমোহর - পর্ব ১২
বাংলা গল্প
স্বরচিত গল্প প্রতিযোগিতার ( নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার , ২০২১) একটি নির্বাচিত গল্প
Writer: - Dr. Ipsita Bhattacharjee, Sahid Nagar, Dhakuria, Kolkata


অন্য পর্বগুলিঃ পর্ব ১    পর্ব ২    পর্ব ৩    পর্ব ৪    পর্ব ৫    পর্ব ৬    পর্ব ৭    পর্ব ৮    পর্ব ৯    পর্ব ১০    পর্ব ১১    পর্ব ১২   

## শশাঙ্কের শিলমোহর - পর্ব ১২
দেওয়ালে বড় বড় সটুকো আর্ট, হিন্দু পুরাণের বহু ছবি রয়েছে। চারিদিকে অনেকগুলি শিবের মূর্তি; 'কোন ধাতু' অবশ্য বলা যাচ্ছে না। দেখতে অনেকটা সোনা আর পিতলের মত। সিলিঙের দুদিক থেকে ফরমানের মত কটি স্ক্রোল ঝুলছে। তাতে সংস্কৃতে শ্লোক লেখা বলে মনে হল। পালঙ্কের থেকে একটু দূরে একটি উঁচু বেদী। সেইদিকে সকলে এগিয়ে গেল। একটি পোক্ত কাঠের মত জায়গা। সেইখানে বিরাজমান একটি প্রাচীন দোয়াত-কলম। কয়েকটি পুঁথি এবং যেই জিনিসটির জন্য সবকিছুর সূত্রপাত; কতগুলি শশাঙ্কের শিলমোহর; সোনার। তার একটি শেরগিল তুলে নিল হাতে। পৈশাচিক হাসি হাসল এবং বলল, "শুরু থেকে শেষ" বলেই এক হুঙ্কার ছাড়ল বিশ্বকে, "মূর্খ, একদম হাত দেবে না!! রাখ, পুথিগুলোকে রাখ।"

বিশ্ব অবাক হয়ে চতুর্দিক দেখছিল, যেন সে ঐশ্বর্যের সন্ধান পেয়েছে। হঠাৎই তার চেতনা ভাঙল শেরগিলের বাজখাঁই কণ্ঠস্বরে, "এই, তুমি, চটপট করে এই সব মূর্তি, আসবাব পত্র ঢোকাও, একটা থলে দিচ্ছি। কুইক... " জয়ীদের দিকে পিস্তলের নল উঁচিয়ে, বিশ্বকে আদেশ দিল।

বিশ্ব কিন্তু অনড়, সে যেন এক অপার শান্তির খোঁজ পেয়ে গেছে। দ্বিতীয়বার হুংকার শুনে এবার সে গর্জে উঠল, "একদম চুপ! তোর একটা কাজও আমি করব না। আমি তোকে আগেই বলেছিলাম যে, আমার রাজত্ব চাই। আমাকে সে ব্যবস্থা করে দিলেই আমি তোর হয়ে কাজ করব। তোর কাজ শেষ। এইবার তুই বিদায় হ। আমার বংশের একটা জিনিসও তোকে দেব না...যা তুই।"

শেরগিল ব্যাপারটা প্রায় মিনিট খানেক হজম করে বলল, "বেশ, তোর মত কালসাপ পোষা মানে নিজের বিপদ ডাকা। সবার আগে তোকেই সাবাড় করতে হবে," বলে কোনও সময় না দিয়েই বিশ্বের পা লক্ষ্য করে গুলি চালাল। আর্তনাদ করে বিশ্ব ককিয়ে উথল। তার হাতের মশালটি গড়াগড়ি খেতে লাগল মাটিতে। "পিক দ্যাট আপ,' বলে নুরকে আদেশ করল শেরগিল, "চুপচাপ তুলে এই জিনিসগুলি গোছাতে থাকো। এই বিশ্বর কাজ তুমি ই করবে, করলে তোমাকে প্রাণে ছেড়ে দেব, নাও তাড়াতাড়ি..."

নুরের মুখের অবস্থা প্রচণ্ড ভয় ও রাগের মাঝখানে একটার। সে বাধ্য হয়ে এগিয়ে মশালটা তুলল, তারপর পাশের জিনিস কোরানোর বদলে এক নিমেষে মশালটা ছুড়ে দিল শেরগিলের দিকে। মুহূর্তের উত্তেজনায় শেরির হাত থেকে বন্দুকটা ও লাইটনিং ডিভাইসটা পড়ে গেল। আর তখনই একটা হাত জয়ীকে হ্যাঁচকা টেনে বলল, "আপনি শিগগির পালান, এঁকে আমি দেখছি।"

নিকষ অন্ধকার চারিদিকে। নুর বুদ্ধি করে মশালটা এমনভাবে ফেলেছে যাতে সেটা পাঁকের জলে পড়ে নিভে যায়। বিদীর্ণ করা বিশ্বের চিৎকার, আর শেরগিল আর নুরের একটা ধস্তাধস্তির আওয়াজের মধ্যে দিয়েই জয়ী তালকানার মত ছুটতে লাগল ঢোকার মুখের ঐ মশালটার আলোক বিন্দু লক্ষ্য করে। এইটুকু পথ, তবু কত যেন দূর। একদম শেষাংশে এসে জয়ীর মনে হল যেন ভূমিকম্প শুরু হল। এই গর্ভের মধ্যে সবকিছু যেন কাঁপতে শুরু করেছে। ভেঙে পড়ছে চাই, স্তূপের মধ্যে যেন জয়ী আকাশ দেখতে পেল, হ্যাঁ ঐ তো। না, তা কি করে হয়? সে ভুলই দেখছে তবে। তার মাথায় কি কিছু লাগল। হঠাৎ সব কিছু মিলিয়ে যাচ্ছে; দূরে ওরা কারা? কিছু মানুষ যেন পিল-পিল করে ধুকছে। আচ্ছন্ন অবস্থায় জয়ীর একবার মনে হল এরকম ভাবেই হয়তো শশাঙ্কদেবের পরিবার আশ্রয় নিয়েছিলেন। তারপর, তারপর সব অন্ধকার।

#
এ পথ অত্যন্ত কঠিন, আচার্য। আপনি সকলকে নিয়ে মার্কণ্ড শর্মার ওইখানে যাবেন। এতজন স্ত্রী, পুরুষ, শিশু, সবাইকে নিয়ে? তাও কামরূপে? খোদ ভাষ্করবর্মার ডেরায়?"

"তোমার ঝুঁকির ভয় বুঝতে পারছি ব্রম্মদত্ত, কিন্তু মার্কণ্ডের উপর আমার এবং পরিবারের পূর্ণ ভরসা আছে। তাছাড়া যে স্থানে আমরা থাকব, সেইখান থেকে আমাদের কেউ খুঁজে বের করতে পারবে না।"

ব্রম্মদত্ত অবিশ্বাসের সুরে বলল, "এমন কোনও স্থান আছে আচার্য?"

"মহাদেবের অন্তরে।"

#
জয়ী যখন চোখ মেলল তখন প্রায় সকাল হয়ে গিয়েছে। ভোরের আলো এসে পড়ছে তার চোখে-মুখে। একটা ঘরে শুয়ে রয়েছে সে। বাইরে বেশ সারি-সারি ধানের ক্ষেত দেখা যাচ্ছে, কত অজানা পাখির গুনগুন। মোটের উপর এইরকম একটা সুন্দর সকাল খুব বেশী আসে না। উঠে বসে জয়ী অনেকক্ষণ চিন্তা করল, কোথায় সে, কেন? আর আদৌ কি সে জেগে আছে, না স্বপ্ন দেখছে?"

আসছি দিদি, এখন ঠিক আছেন?" ঘরের সামনের একটি পাল্লা ঠেলে হাসিমুখে এক মহিলা হাজির হলেন। ভদ্রমহিলার পরনে পাটের শাড়ি,খুব ফর্সা, উচ্চতায় জয়ীর চাইতে অনেকটা ছোট। চোখগুলি খুব মায়াময়। জয়ী বলল, "আপনি? আপনাকে তো ঠিক..."

"আমি এই গ্রামের উপ-প্রধান, নাম মিলি বোরা। এটা আমারই বাড়ি। কাল পুলিশের বড়বাবু এক অভিযানের পর আপনাকে ও আপনার সহকারীকে উদ্ধার করেন। আপনার হুঁশ ছিল না। তাই ডাক্তারবাবুকে ডেকে আপনার এইখানেই বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা হয়। সে যাক গে, এখন কি একটু সুস্থ বোধ করছেন?"

"অনেকটা..."

"আমি আপনার জন্য কিছু জলখাবারের ব্যবস্থা করি। এদিকে আপনার বন্ধুরা সকলেই আপনার সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছেন। আমি কি পাঠিয়ে দেব?"

"নিশ্চয়ই..."

মিলি দেবী হাসিমুখে বিদায় জানিয়ে দরজার পাল্লা খুলে বললেন, "আপনারা দেখা করতে পারেন।"

একের-পর এক দরজা ঠেলে ঢুকলেন অফিসার রাঠোর, অতুলবাবু ও তার স্ত্রী, নুর এবং মিম। মিমেরই গলা ছাপিয়ে উঠল, "আর...র...রে... আমার ন্যান্সি ড্রিউ, তুমি তো জাস্ট ফাটিয়ে দিয়েছ। ভারতের আর্ট মাফিয়া এখন জেলের ঘানি টানবেন। লোকটাকে প্রথম থেকেই ফিসি লেগেছিল আমার। আমি..."

"আচ্ছা, একটু শান্ত হয়ে বোস। আর সকলকে একটু জায়গা করে দে," ক্লান্ত কণ্ঠে বলল জয়ী।

সকলে ঘরে উপস্থিত একটা সোফা ও দুটি মোরায় ভাগ করে বসল। জয়ী শুরু করল, "আমি জানি আপনাদের অনেকের অনেক প্রশ্ন আছে, এবং তা যথাসম্ভব উত্তর করার চেষ্টা করব আমি। তবে সবার আগে আমি ধন্যবাদ জানাবো রাঠোর সাহেবকে, আমার প্ল্যানের উপর আস্থা রাখার জন্য। আমার সাথে এইখানে যে কিছু ঘটবেই তা আমি আগেই আন্দাজ করেছিলাম। এও বুঝেছিলাম যে, আমার উপর হয়তো নজর রাখা হচ্ছে। তাই খুবই সন্তর্পণে ডি এস পি সাহেবের সাথে যোগাযোগ করি। সাহায্য প্রার্থনা করি।"

ডি এস পি বললেন, "আমি প্রথমে একটু হেসিট্যান্ট ছিলাম। কিন্তু নিজের সূত্র লাগিয়ে জানতে পারি যে, এ এক বড় গ্যাং; নিয়মিত এইরকম মহামূল্য জিনিসের কারাবার করে, রিসেন্টলি ইস্ট আর নর্থ-ইস্ট করিডোরে বেশ সক্রিয় হয়েছে। তাই জয়ীতা আসাম যাচ্ছেন শুনে আমি ওনাকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নি। আমাদের এক অফিসার ওনাকে বিমানবন্দর থেকে ফলো করেন। ইনফ্যাক্ট, জয়ীতাকে আমি একটা স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং ঘড়ি দিয়েছিলাম, যা খুব রিমোট স্থানেও সক্রিয় থাকে। সাহায়, অর্থাৎ যে অফিসার জয়ীতাকে ফলো করছিলেন, তাকে বলে রেখেছিলাম যে সবসময় নিজের সাথে একজন ব্যক্তি রাখতে, যে নাকি দরকার পড়লে রি-এনফোর্সমেন্ট ডেকে আনতে পারবে, হোয়াইল হি টেকস অ্যাকশন। জয়ীতাকে শুধু বলে রেখেছিলাম যে, অসুবিধা হলেই ঘড়ির লাল বোতামটা টিপে রাখবেন। উনি একদম সঠিক সময় অ্যালার্ট করে দেন। সাহায় সেই সময়ই রওনা দেন ঐ পোড়ো মন্দিরের দিকটাই। তারপর ফোর্স এসে একটা ইমপ্যাক্ট করায় শিবলিঙ্গের মুখ-গহ্বর খুলে যায়।"

অতুলবাবু বললেন, "আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে শেরগিলের মত লোক মাফিয়াদের দলে নাম লেখাল। এত উজ্জ্বল উচ্চপদস্থ লোক... লোভ মানুষকে কোথায় নিয়ে যায়। আচ্ছা, ভেতরের এলাকাটা কি দেখা যায় না?"

রাঠোর বলেন, "না অতুলবাবু, এ এস আই এসে যা করার করবে। শেরগিল এবং বিশ্ব এখন রাজ্য পুলিশের জিম্মায়। আপাতত স্থানটা সিল্ড।"

"জয়ীতা তুমি আমাদের ঘটনাটা বল না..." বললেন অতুলবাবু।

জয়ী উঠে বসল। তার শরীর ক্লান্ত হলেও স্বর খুব দৃঢ়, "তার আগে আমি আপনাকে একটা প্রশ্ন করি? সঠিক উত্তর দেবেন কিন্তু। সেইদিন, যেদিন বিশ্বনাথ আমায় তাড়া করেছিল, আপনি আমার পিছু নিয়েছিলেন কেন? কেনই বা আমায় দুষ্টচক্রের হুমকির চিঠি দিয়েছিলেন?" জয়ীর আচমকা প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়ে পড়লেন অতুলবাবু। নুর, ডি এস পি বেশ অবাক চোখে তাকিয়ে রইলেন অতুলবাবুর দিকে। তার স্ত্রী অবশ্য নিশ্চুপ, মাথা নীচু করে আছেন।

চোখের চশমা খুলে রুমাল দিয়ে মুছে গলা খাঁকারি দিয়ে অতুলবাবু বললেন, "আমি তোমায় সন্দেহ করেছিলাম। বিশেষ করে যখন রজতের হামলার পর সরাসরি তুমি ওর বাড়িতে পৌঁছেছিলে। আমার ধারণা ছিল যে তুমি আর রজত, দুর্গার অনুপস্থিতিতে সেই শিলমোহর বিক্রি করতে চাইছ। রজতের কাছে হয়ত সেই শিলমোহর আছে, হয়তো সে সুযোগ পেয়ে তা পকেটস্থ করেছে এবং তোমার সাথে মিলে সে হয়ত আন্তর্জাতিক বাজারে পাচার করতে চাইছে। তোমাকে চিঠি লেখাটা তোমায় গুলিয়ে দেওয়ার জন্য; ইচ্ছে করেই অহমীয়াদের মত করে 'র'টা লিখি যাতে তুমি মনে কর এ সেই বিশ্বেরই হুমকি চিঠি। আমি যথেষ্ট অনুতপ্ত আমার ব্যবহারের জন্য। ডি এস পি সাহেবের সাথে কথা বলে আমার ভুল ভাঙে।"

জয়ী বাঁকা স্বরে বলল, "হিসেবে তো আমারও ভুল ছিল অতুলবাবু। যাকে আমি সব থেকে ভরসা করেছিলাম এই অভিযানে সে-ই অন্যের হয়ে কাজ করছিল। যদিও কালকের ঘটনার জন্য নুরের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, তবু এই ধাক্কাটা যেন শেরগিলের ধাক্কার থেকেও অনেক বেশী।"

কয়েক মুহূর্ত সবাই চুপ। মিলি সম্ভবত কোনও পরিচারিকাকে দিয়ে চা-জলখাবার পাঠিয়েছে। এই অস্বস্তিকর পরিবেশ তা যেন এইরকম একটা কিছুর জন্যই অপেক্ষা করছিল। বেশ কিছুক্ষণ নীরবতার পর ডি এস পি ই মুখ খুললেন, "নুরের সাথে আমি কথা বলেছি ম্যাডাম। ওর উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না। আপনার বিপদের ঝুঁকি দেখেই উনি শেরগিলকে সাবধান করেন। বাট দি ম্যান ইজ আ স্নেক। সুবর্ণ সুযোগ কে কাজে লাগাতে সে বলে যে আপনাকে চোখে চোখে রেখে আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে; এবং তিনি আপনার পারিবারিক বন্ধু, তাকে সব খবর দিতে। আসামে নুর যেতে চায় নি, শেরগিলই তাকে বলে যেতে, যাতে আপনার কোনও ক্ষতি না হয়। একজন স্থানীয় সাহায্যপ্রার্থী তাদের আশে-পাশেই থাকবেন, সে প্রতিশ্রুতি ও দেন। অতএব সাহায় যেমন আপনার শ্যাডো ছিল, নুরের ছিল বিশ্ব। তার মোবাইলের লোকেশনও শেয়ার করা ছিল। বোরঠাকুরের সাথে আপনাদের কথাবার্তা, আপনাদের শিবমন্দির তল্লাশ করার সমস্ত নির্ণয়ই বিশ্ব শুনছিল। বাকিটা তো তার নিজের ভিটে, সে অন্য একটি রাস্তা দিয়ে শিবমন্দিরটিতে হানা দেয়। ঐ শিবলিঙ্গ খোলা যায়, এটা সম্ভবত সে আগে থেকেই জানত। শেরগিল আপনার আগের ফ্লাইটেই আসাম আসে, আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি। সেও এই গ্রামেই কোথাও লুকিয়ে ছিল, সুযোগ বুঝে আপনাদের করনার করে। কিন্তু, আপনার কি সত্যিই মনে হয় যে ...।"

জয়ী বলল, "শশাঙ্কদেবের পরিবারের জন্যই ঐ কক্ষ তৈরী হয়, এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত। দেওয়ালগুলিতে স্থানে-স্থানে ওনার এম্বব্লেম বর্তমান। তাছাড়া যে বিগ্রহগুলি, ও যে আসবাবগুলি রয়েছে তাতে সংস্কৃততে কিছু হরফ আছে, সেইগুলি হয়তো পরীক্ষা করলে দেখা যাবে যে দ্রব্যগুলি সেই পরিবারের। হয়তো বহুদিন ছিলেন তারা ওইখানে।"

মিম বলল, "তারপর? সেই পরিবারের কি হয়?"

জয়ী বলল " জানি না। হয়তো তারা আবার পলাতক হন। বা হয়তো কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের স্বীকার হন। বা হয়তো ধীরে-ধীরে এইখানেই মিশে যান। যেটা মন চায় ভাবতে পারিস। কিন্তু এইরকম একটা ঘটনা কিছু মানুষের জন্য পৃথিবীর বুক থেকে মিলিয়ে যেত; এটা ভাবলে সমস্ত ক্লান্তি দূরে চলে যায়।" সকলে কথা শুনে অনেকক্ষণ চুপ। জয়ী বাইরে দিকে তাকাল, আজ খুব হালকা লাগছে তার। বাড়ি ছাড়ার দুঃখ আজ যেন খুব নতুন করে অনুভব করছে সে, হয়তো এই আখ্যানের মধ্যে দিয়ে। সে অবশ্য শিগগীর বাড়ি ফিরবে, কিন্তু ওরা, ওরা কি কখনো ফিরেছিল?
( সমাপ্ত )


Next Bangla Story

All Bengali Stories    116    117    118    119    120    121    122    123    (124)     125    126   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 6009890717