Home   |   About   |   Terms   |   Book Rent   |   Contact    
A platform for writers

মৃত্যুর উপাখ্যান

বাংলা গল্প

All Bengali Stories    125    126    127    128    (129)     130    131    132    133   

-------- বিজ্ঞপ্তি ----------
◕ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা - সেপ্টেম্বর ২০২২, Details..
--------------------------



মৃত্যুর উপাখ্যান
বাংলা গল্প
লেখক: সজীব পাল, বাঁশ পুকুর, সোনামুড়া, সিপাইজলা, ত্রিপুরা
স্বরচিত গল্প প্রতিযোগিতার ( নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার , ২০২১) একটি নির্বাচিত গল্প


## মৃত্যুর উপাখ্যান
"মামণি ঘরে স্যারিডন আছে?" সাধন কাজ থেকে ফিরে অসহ্য মাথা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। কাঠ পোড়া রোদ শরীরে মেখে নিকুঞ্জের ধান টেনেছিল। নিকুঞ্জ আগে এত কিপটে ছিল না, গতবছর ছেলের চাকরির পর থেকেই যথেষ্ট হিসেবি হয়েছে। সারাদিন সাধন কাজ করল, একটু টিফিনের ব্যবস্থা পর্যন্ত করেনি। মুক্তা রান্না ঘরে তরকারি কুটছে। বাবার ডাক স্পষ্ট শুনতে পায়নি। সেও কেমন যেন দিনদিন হোঁতকা হয়ে যাচ্ছে। সবসময় অন্যমনস্কভাব। আন্দাজ করে জল নিয়ে বাবার সামনে এগিয়ে বলল, "আমারে ডাকছো বাবা?"

"দেখ তো শরিল গরম নি মা! মাথাডা ভুঁভুঁ করতেছে যন্ত্রণায়!" মুক্তা বাবার কপাল আলতো করে মাতৃস্নেহে স্পর্শ করল। এই স্পর্শ বাবার প্রতি মেয়ের নয়, একজন ছেলের প্রতি মা'র। এই নান্দনিক সুখ কেবল স্নেহতোরা পিতাই অনুভব করতে পারে। শরীর যথেষ্ট ঠাণ্ডা। মুক্তা মাথা ব্যথার ট্যাবলেট ঘরে খুঁজে নিয়ে বাবাকে খাইয়ে দিল।

রাতে আর কেউই ভাত খায়নি। ঘরে সুইজবন ছিল, তা খেয়ে ঘুমিয়ে যায় মুক্তা। সাধন নিচে একটা সেকালের পাটি বিছিয়ে ঘুমায়, মেয়ে খাটে। টানাপোড়নের সংসারে ভালো-ঘরের স্বপ্নের চেয়ে পেটের ক্ষুধাটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। গত বছর করোনায় স্ত্রী মারা যায়। অবশ্য করোনায় না মারলেও কিডনি যেহেতু ডেমেজ হয়ে গিয়েছিল তখন সে এমনিতেই মরতো। মরে গিয়ে ভালোই করেছে, ভালো চিকিৎসা কি আর সাধন দিতে পারত! দিলেই বা আর কতটুকু পারতো? একবছর পূর্ণ হতে-না হতেই কেমন অতীত হয়ে গেল সেই মানুষটা। মেয়েটাও কেমন বাবার সংসার সামলাতে ব্যস্ত। একদিন হয়তো তাকেও এইভাবে ভুলে যাবে তার মেয়ে, তার প্রতিবেশীরা।

গতবছর এমন বোশেখে মিনতি বারান্দায় বসে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। মুক্তা স্কুল থেকে ফিরতে দেরি হচ্ছে দেখেও মিনতি বাড়তি চিৎকার করতে পারেনি। সাধন কাজ থেকে ফিরে মিনতির উপর বিরক্ত হয়ে ঘরে গিয়ে যাচ্ছেতাই রকম উথাল-পাতাল করল। অথচ আজ এই বোশেখে সে নাই। সাধন আছে, বউটাই আগাগোড়া ফাঁকি দিয়ে পাড়ি জমালো অন্ধকার জগতে। সাধন প্রায়ই একলা হলে দুচোখ বন্ধ করে নিজের মৃত্যু চায়! করোনা কতশত প্রাণ নিচ্ছে, অথচ ছুঁয়েও দেখছে না তাকে। সে মিনতির মৃত্যুর পর বড় অসহায় হয়ে গেছে। বড় অসহায়!

আজকাল লোকেও কাজ করাতে চায় না, নিজেরাই টুকটাক করে নেয়। সাধন এক সপ্তাহ মতো বসে আছে বাড়িতে, কাজ নেই। একজনে বলেছিল মাটি কাটার জন্য, কিন্তু বৃষ্টির অভাবে মাটি পাষাণ হয়ে আছে, কোদাল বেঁকে যায়। একটুক্ষণ বৃথা চেষ্টা করেই ফিরে আসে। উত্তরের ভিটায় ছোট একটা রান্না ঘর। ঘরটা এইবার ঝড়ে টিকবে বলে মনে হয় না। শরীরের অবস্থাও তেমন ভালো না! এইদিকে দেশের অবস্থা সূচনীয়। কে মরে, কে বাঁচে তার দিনক্ষণ নেই। মুক্তার বয়স সতেরো। মেয়েটার বিয়ে দিতে পারলে বিরাট একটা দুশ্চিন্তা যেতো। জমানো টাকাও তেমন নেই। থাকার মধ্যে বড়-বড় পুরনো তিনটে জাম গাছ, দৈত্যাকার। সাধন মতে-মতে ছেলে খুঁজছে, মনের মতন সচ্ছল পরিবার পেলে বিয়ে দিয়ে দেবে।

#
বাড়ির পাশেই নিৰ্মলদের দোকান। সাধন এখানে বসেই গল্প গুজব করে। "সাধনদা দিল্লির খবর শুনছেন নি? মনে হয় আমরা কেউই বাঁচমু না সাধনদা! মৃত্যুর মিছিল শুরু হইছে গো!" নির্মল বলল।

সাধন দীর্ঘশ্বাস গোপন করে বলল, "সারাদিন মোবাইলডা হাতে নিয়া গুতাছ, এইসব দেইখ্যা মন আরো ছোট হয়, তহন ভয়ে রোগ চাইপা ধরে। তোর বৌদিডা কি এমনি-এমনি মরছে! হাসপাতালে থাইক্যা আজাইরা চিন্তা করছে আর মরছে। এইসব আর চিন্তা করি না, বুঝলি নির্মল, এখন দুইডা ভাত খাইয়া যাই, অল্প খাই আর বেশি খাই। দুশ্চিন্তায় যহন ধরবো নিজেও মরুম মাইয়াডারেও মারুম। নে অন্য ভালা কথা ক দুইডা।"

"চা খাইবেন?"

"তোর বাকি খাতায় তো হাজার টাকা জমছে মনে হয়। বৃষ্টি হোক, কাজ কইরা আগে তোর টাকা দেমু। দে, চা দে..."

নির্মল চা বানাতে-বানাতে বলছে, "তা জমছে, তবে আপনেরে কি চাপ দিছি টাকার জন্য! যেদিন পারেন অল্প কইরা দিয়েন। আবার দেইখ্যেন, বাকি নেওয়া নি ছাইড়া দেন; যখন যা লাগবো নিয়া যাইবেন। বিস্কুট দেমু একটা?"

সাধন চা খেয়ে নিকুঞ্জের বাড়িতে গেল কাজের খবর নিতে, কিন্তু সেখান থেকেও হতাশ হয়ে ফিরল। নিকুঞ্জ সরাসরি বলে দিল, "সাধন, বাবা পাড়লে দুইডা ভাত খাইয়া যা, তবুও কাজের খোঁজ নিস না।"

#
স্কুল কলেজ বন্ধ মেয়েটা ঘরেই থাকে সারাদিন। অনেক কষ্টে মেয়েকে একটা মোবাইল কিনে দিয়েছে মায়ের সোনার কানের বিক্রি করে। পড়া-লেখাটা আজকাল অনলাইন হয়। সাধন সকালে দা নিয়ে বনে গিয়েছিল শুকনো কাঠ আনতে সাইকেলে। দেড় দুইশো টাকা দরে বিক্রি হয়। সাইকেলটা উঠানে রেখেই মেয়েকে ডাকল। ঘর থেকে বেড়িয়ে দোয়ার থেকেই সায় দিল, মুক্তার কানে এয়ার-ফোন লাগানো। সাধন বিরক্ত হয়ে বলল, "জলদি একটা কাপড়ের টুকরো আন!" বন থেকে কাঠ সাইকেলের কাছে আনার সময় হোচট খেয়ে ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির নখ উল্টে গড়-গড় করে রক্ত বের হয়েছে। লতাপাতা দিয়ে কোনোমতে বেঁধে বাড়ি এল, কিন্তু যন্ত্রণা বেশ হচ্ছে। মেয়ে কাপড়ের টুকরো এনে হাতে দিয়ে পুনরায় ঘরে চলে গেছে, কর্ণপাত পর্যন্ত করেনি। সাধন একটু আক্ষেপ করল, কার জন্য সে এত পরিশ্রম করছে! মেয়েটা দিনের-দিন একটু বেশিই নিজের ভেতর কেমন ঢুকে যাচ্ছে। বাবার কষ্ট তার তেমন চোখে পড়ে না। দুপুরে খেতে বসে সাধন মেয়েকে বলল, "মা পড়ালেখার খবর কি তোর?"

"কেমন খবর বাবা?"

"শুনছি স্কুল খুলবো, তুই শুনছ-ত এমন?" সাধন কি বলবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। মেয়েকে সরাসরি জিজ্ঞাসাও করতে পারছে না। ছোট মেয়ে লজ্জা-টজ্জা পাবে।

"তুমি কি বলতে চাও বলে ফেলো বাবা। কথা এলিয়ে-বেলিয়ে বলছ কেন?"

সে বাবার মনের কথা শুনতে পায় নাকি! সাধন বিস্মিত এবং উৎসাহ নিয়ে বলে ফেলল, "আচ্ছা মা, তোর জানা-শোনা কোনও ছেলে আছেনি, যারে তোর পছন্দ?"

মুক্তা বাবার দিকে কটমট করে তাকালো। পুনরায় থালার দিকে চেয়ে বলল, "তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে বাবা?"

সাধন আর কোনও কথা বলেনি। তার বোধ হয় এমন প্রশ্ন করা উচিত হয়নি মেয়েকে। মেয়েরা মায়ের কাছে এই সব কথা ভাগ করে, কিন্তু মেয়ের এটাও বোঝা প্রয়োজন ছিল, মা নেই বলে কি বাবাকে এইসব বলা যায় না!

#
খুব ভোরে খবর এলো নিকুঞ্জের ছেলে মারা গেছে গতকাল রাতে। আগরতলা থেকে যে বাসে ফিরছিল বিশালগড় এসে বাসটা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খামপোস্টে আঘাত করে। তিনজন মারা যায়। নিকুঞ্জের ছেলে আর মেলাঘরের একটা আট বছরের মেয়ে,আরেকজনের এখনো আত্মীয়স্বজন আসেনি। সকাল থেকেই সাধন নিকুঞ্জের বাড়িতে। সাতাশ বছরের একটা তরতাজা ছেলের মৃত্যু কোন বাবা সইতে পারে! যে ছেলের বাবার লাশ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার কথা সেই বাবা ছেলের লাশ কাঁধে নিয়েছে, এরচেয়ে বড় নিদারুণ ছবি জগতে আর থাকতে পারে না। সমস্ত বাড়িময় শোক-ছায়া। ছেলের অগস্ত্য যাত্রায় বাবা কাঁদছে, এই কান্না সহজে কোনও বাবা। কাঁদে না। এই বেদনার উৎপত্তি হৃদয় থেকে নয়, রক্তের প্রতিটা কণা থেকে। এই দৃশ্য যারা প্রত্যক্ষ করেছে কিংবা অনুভব করেছে পারবে তারা মূহুর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেছে।

সাধন ভাবছে, ছেলের মৃত্যুতে বাবার যেমন বুকে পাথর ভাঙে, ছেলেও কি সে রকম কাঁদে! নিশ্চয়ই না। কারণ ছেলের কাছে বাবার মৃত্যু স্বাভাবিক; বাবার কাছে নয়।

সাধন এইসব চিন্তা করতে-করতে হঠাৎ দেখলো শরীর ঘেমে বুক ধপ-ধপ করছে। নিকুঞ্জের বাড়ি থেকে বাড়িতে ফিরে নিঃশব্দ শুয়ে রইল। বুকের ব্যথাটা কেমন ছেড়ে-ছেড়ে আসছে। মনে হচ্ছে তার বুকে ভারি কোনও বস্তু তুলে রেখেছে। ধৈর্য ধরে তবুও শুয়ে আছে। মেয়ে একবার বুক মালিশ করে দিয়ে গেছে। সে উঠে জল খাওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু ভেতরে ঢুকছে না, বুকে কোথাও আটকে যাচ্ছে। ছটফট করতে লাগলো সাধন। মুক্তা তার এক বান্ধবীর সাথে দেখা করতে গেছে, বাবার এমন অবস্থা দেখেও।

বিকালে কিছুটা হালকা লাগছে শরীর, নির্মলের দোকানে চা খেলো। আগামীকালের জন্য একটা কাজ পেল, বেশ ফুরফুরেই লাগছে অনেকদিন পর।

বিকালের ক্লান্ত রোদ অন্ধকারে মলিন হয়ে গেছে। আকাশে ফুটে উঠেছে অসংখ্য নক্ষত্র এবং নক্ষত্ৰনাথ। কৃত্রিম আলোর বাইরে তাকানোর শক্তি চোখের নেই। অপাপবিদ্ধ পৃথিবীর মানুষ-কূল জেগে ওঠেছে নিজের ভেতর। ওরা এখন সমস্ত দিনের ক্লান্তি ভুলে সন্তান ও স্ত্রীর মুখোমুখি দাঁড়াবে। জীবনানন্দ যেমন বলেছেন-
"সব পাখি ঘরে আসে - সব নদী; ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন"

সাধন বসে আছে মেয়ের সম্মুখে। মুক্তা চুলোয় আগুন দিতে-দিতে বলল, " বাবা তোমার বুকের ব্যথা কমছে?"

"কমছে মা..."

"তুমি বিড়ি খাওয়াটা একটু কমাও এবার!"

"এইডাই তো সুখের সঙ্গী। আচ্ছা তুই যখন কইসছ আর খামু না। আচ্ছা কাপে একটু দুধ দে খাই, শরীলডা দুর্বল লাগে, দেখি দুধে কিছু দুর্বল কাটেনি।"

মুক্তা বাবার দিকে অপরাধী চোখে তাকালো। সাধন লক্ষ্য করেনি। মুক্তা ইতস্তত করে বলল, "বাবা আজকে দুধ দেয়নি! টাকা নাকি তিনশো হয়ে গেছে।"

সাধন কিছু বলল না, একটা নিঃশ্বাস ফেললো। কে জানে এই নিঃশ্বাসে কোন আক্ষেপ গোপন করেছে! গরিবরা দুঃখ লুকিয়েই হয়তো বাঁচতে চায়।

"কালকে সকালে কথা কমু... আমরা কি দেশ ছাইড়া ভাগতাছি নাকি! দে মা, একটু চা দে, খেয়ে বাজার থেকে একটু ঘুরে আসি।"

ভোর রাতে বুকের ব্যথা আরো প্রবলভাবে শুরু হয়েছে। সাধন দুচোখে ঝাপসা দেখছে। মুক্তা শুয়ে আছে খাটের উপরে, সাধন তাকে ডাকও দিতে পারছে না। সাধন জ্ঞান হারাচ্ছে। ঘামের উপর ঘাম দিচ্ছে। পৃথিবীটা বুকের উপর ভেঙে পড়েছে, সে এই ভার নিতে পারছে না। জল, জল খাবে সে। বা হাতে অন্ধের মতন জলের বোতলটা খুঁজলো, কিন্তু পেল না। হাত পা এমন অবশ হয়ে যাচ্ছে কেন? সে কি। তাহলে মরে যাচ্ছে? শ্বাসও ভারী হয়ে আসছে! না, সে মরতে পারে না। তার অনেক কাজ। মেয়েকে ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিতে হবে। সে এইভাবে চোরের মত মরতে পারে না। কিন্তু সে এইরকম ছটফট করতে থাকলে কয়েক মূহুর্তের মধ্যে মরে যাবে! সকালে মুক্তা মৃত দেহটা একা কি করবে! না না, সে মরতে পারে না। আগামীকাল সকালে সে ঋণ করে হলেও ডাক্তারের কাছে যাবে। মেয়ের জন্য তাকে আরো কয়েক বছর বাঁচতে হবে...

সাধন জানে না মৃত্যু মানুষের কাছে আসে না, মানুষেই মৃত্যুর কাছে যায়। হতভাগা জানে না, সবার কপালে সুদিন আসে না। সে কেন মৃত্যুর কাছে হার মানছে না? কে জানে, সে সকাল দেখবে কি না? আহারে! মানুষ বেঁচে থাকতে মরার জন্য ছটফট করে, মরণ দোয়ারে আসলে বাঁচার কি ইচ্ছা জাগে। এই সময় যদি মেয়েটা বাবার পাশে বসে বুকে হাত রাখতো, একটু সুখে মরতে পারতো। কে ডেকে বলবে, " মুক্তা, দেখ তোর বাবা তোকে একা রেখে চলে যাচ্ছে! যা মা, বাবাকে জরিয়ে ধর, যেতে দিস না। বাবা ছাড়া যে তোর আর কেউই নেই হতভাগী!"
( সমাপ্ত )


Next Bangla Story

All Bengali Stories    125    126    127    128    (129)     130    131    132    133   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 6009890717