Home   |   About   |   Terms   |   Book Rent   |   Contact    
A platform for writers

সেই পাগলীটি

বাংলা গল্প

All Bengali Stories    126    127    128    129    130    131    132    (133)     134    135   

------ বিজ্ঞপ্তি ----------
# 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার' স্বরচিত গল্প লেখার প্রতিযোগিতা, মে -২০২২ Details..
# গপ প্রতিযোগিতা, জুন ২০২২ ( হাসির নতুন দিগন্ত ) Details..
--------------------------



সেই পাগলীটি
বাংলা গল্প
লেখিকা - নন্দীতা সেন পাল, টাউন বড়দোয়ালী, আগরতলা, ত্রিপুরা
স্বরচিত গল্প প্রতিযোগিতার ( নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার , ২০২১) একটি নির্বাচিত গল্প


## সেই পাগলীটি
লেখিকা - নন্দীতা সেন পাল, টাউন বড়দোয়ালী, আগরতলা, ত্রিপুরা
আমাদের পাড়াতে একটি মহিলা প্রায়ই আসতেন, কিন্তু কে ছিল সেই মহিলাটি, জানতাম না। মহিলাটি দেখতে বেশ সুন্দর ছিল। প্রথমদিন ভেবেছিলাম মহিলাটি হয়তো কোনও কাজের জন্য এসেছেন। কিংবা কারোর কাছে কোনও প্রয়োজন ছিল। কিন্তু না তেমন কিছু ছিল না। তবে প্রায়ই মহিলাটিকে আমাদের গ্রামে দেখা যেত।

একদিন দুপুরবেলা শুয়ে আছি, হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল একটি শব্দে, "পাগল এসেছে, পাগল এসেছে!"

বাইরে বেরিয়ে দেখলাম সেই মহিলাটি, যাকে কোনোদিন আমার পাগল বলে মনেই হয়নি!!

আমাদের পাড়াতে প্রতিটি বাড়িতে সে কিছু-না কিছু খেয়ে যেত, কিন্তু কোনও কথা বলত না। কিছু জিজ্ঞাস করলে কেবল হাসত। আমি তার ভাব-ভঙ্গি দেখে অবাক হয়ে ভাবতাম, "এ আবার কেমন পাগল?"

পরে বুঝলাম সেই মহিলাটির একটি স্বভাব ছিল কাঁচা-লঙ্কা চুরি করা। যেখানেই পেত কাঁচা-লঙ্কা চুরি করত। এতে মানুষও বিরক্ত হত। এই কাঁচা-লঙ্কা চুরির কারণ হল, যখনই তার পেটে কিছু পড়ত না তখন তিনি কাঁচা-লঙ্কা খেতেন। তারপর ঘটি ভরে-ভরে জল খেতেন খিদে মিটানোর জন্য।

একদিন আমাকে বাড়ির সামনে পেয়ে বলল, "দুটো ভাত দেবে আমাকে?"

বললাম, "হ্যাঁ, দেব এসো।"

মহিলাটি কোনোদিকে না তাকিয়ে আপন মনে পেট ভরে ভাত খাচ্ছিলেন আর আমি অবাক আর তৃপ্তির চোখে উনার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। ভাবছিলাম, "কে এই মহিলাটি? কি উনার পরিচয়? কেন লোকে উনাকে পাগল বলে? উনি পাগল হলেন কীভাবে?"

উনাকে উনার পরিচয় জিজ্ঞেস করলাম। প্রথমে উনি কিছুই বলতে পারলেন না। অনেকবার জিজ্ঞেস করার পর তিনি ধীরে-ধীরে অনেক কথা বলতে লাগলেন। লোকে উনাকে পাগল বললেও উনি সম্পূর্ণ তেমন ছিলেন না। তবে নার্ভ গুলি প্রায় অকেজো ছিল। আমি জানতে চাইলাম, "তোমার কে কে আছে?"

উনি বলতে লাগলেন, "আমার স্বামী আছে; সরকারী কর্মচারী। আমার দুই ছেলে নবোদয় বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। বাবা-মা নেই ,তবে একজন ভাই আছে। সেও সরকারী কর্মচারী। আমার সবাই আছে, কিন্তু এখন কেউ থেকেও নেই। কেন জানো? কারণ আমি যে পাগল, তাই!!" কথাগুলি বলতে-বলতে মহিলার চোখ দিয়ে টপ-টপ করে জল পড়তে শুরু করে। মহিলাটির মনের ভিতর কত ব্যথা যে লুকিয়ে আছে তা যেন আমি বুঝতে পেলাম। আমার বয়স তখন তেমন ছিল না, তবু এটুকু বুঝতে পারলাম যে, চিকিৎসা করালে তিনি নিশ্চয়ই ভাল হয়ে যেতেন, সুস্থ হয়ে আমার ঘর সংসার করতে পারতেন।

কিন্তু কে চিকিৎসা করাবে তাকে? এখানে নারীকে শুধু শাস্ত্রেই দেবীর নজরে দেখা হয়, বাস্তবে নয়। সেই মহিলাটির স্বামী আরেকটি বিয়ে করে দূরে চলে গিয়েছিল। মহিলাটির ভাইও তার নিজের সংসারের বাইরে আর কিছু দেখতে চাইল না। মহিলাটি তার মামা-মামীর গ্রামে অতি কষ্টে পড়ে থাকতেন।

এরপর থেকে মহিলাটির সাথে প্রায়ই দেখা হত। দেখা হলেই তিনি শুধু হাসতেন, কিন্তু কিছু বলতেন না। এমনি করেই দিন চলছিল। এরপর কি জানি কেন, বহুদিন মহিলাটিকে আর দেখি নি। বহুদিন পর হঠাৎ একদিন আবার চোখে পড়ল। কিন্তু তাকে যেন অন্যরকম লাগছে। সবাই তাকে দেখে তানা-বানা করছিল, একটু অন্যরকম ভাবে হাসাহাসি করছিল। কিন্তু কেন? আমি অতটা বুঝতে পারি নি। পরে জানলাম, মহিলাটি নাকি গর্ভবতী। অবাক হয়ে ভাবতে লাগলাম, "এ আমাদের কেমন সমাজ, যেখানে একটি নিরীহ পাগলও স্বাধীন ভাবে বাঁচতে পারে না!! আমার কোন স্বাধীনতা পেয়েছি; দেহের, মনের নাকি সমাজের?"

ঐ বয়সে কোনোরূপ প্রতিবাদ করার ক্ষমতা আমার ছিল না, তাই তথাকথিত ভদ্র-পুরুষেরা যখন ঐ মহিলার প্রতি বিদ্রূপ ছুঁড়ে দিত, তখন নীরবে সুধু শুনতাম আর ভাবতাম, "মহিলাটি যখন দ্বারে-দ্বারে যেতে একটু খাবারের জন্য, তখন ওরাই খাবার দেওয়া তো দূর, গালাগাল দিয়ে তাড়িয়ে দিত। আর আজ এই মহিলাটির প্রতি কত বিদ্রূপ, হাসাহাসি!! বাস্তবে এই উপহাস, এই বিদ্রূপ, এই হাসাহাসি কার প্রতি, সেই মহিলাটির প্রতি, নাকি নিজের প্রতি।"

এখন প্রায় একমাসের উপর হয়ে গেল মহিলাটিকে আর দেখছি না। আমি অনেককে জিজ্ঞেস করলাম, কেউ কিছু বলতে পারল না। একদিন বিকেলে বঁড়শি নিয়ে পুকুরে যাই মাছ ধরতে। ঠিক সেই সময় দেখলাম একটি পুলিশের গাড়ি যাচ্ছে একটি রাবার বাগানের দিকে। রাবার বাগানটি একটু দুরেই ছিল। পুলিশের গাড়ি সেদিকে কেন গেল, তখন জানতে পারি নি। পরদিন সকালে পাড়ার লোকদের কাছে জানতে পারলাম, "ঐ যে পাগলীটি আসত, কে যেন তাকে রাবার বাগানে মেরে ফেলেছে।"

সেই রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি। শুধু মনে হচ্ছিল, "একটা পাগলকেও মানুষ খুন করতে পারে? একটা পাগলকেও ওরা মেরে ফলল? কী অপরাধ ছিল তার, কী অপরাধ থাকতে পারে একটি পাগলের?"

শুনেছিলাম, মহিলাটির মৃতদেহ নাকি পচে গিয়েছিল। তার মানে অনেক আগেই তাকে খুন করা হয়েছে। মহিলার পরনের কাপড় দিয়েই তার মৃতদেহ সনাক্ত করা হয়।

কিন্তু কে এই মহিলাটিকে খুন করে থাকতে পারে? কেউ-কেউ বলছে যারা মহিলাটির সর্বনাশ করেছিল তারা; কেউ বলছে মহিলাটির স্বামী, কারণ তার নাকি সামাজিক সম্মান নষ্ট হচ্ছিল। কেউ বলছে অন্য কেউ। কিন্তু আসল কথা হল, কেউ কোনোদিন জানতে পারবে না, কে এই মহিলাটিকে খুন করেছে। কারণ সে তো একটি পাগল। আর একটি পাগলের খুনিকে তালাস করার সময়, ধৈর্য কী আমাদের আছে।
( সমাপ্ত )


Next Bangali Story

All Bengali Stories    126    127    128    129    130    131    132    (133)     134    135   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 7005246126