Home   |   About   |   Terms   |   Book Rent   |   Contact    
A platform for writers

সহযোগিতা

স্বরচিত ছোট গল্প প্রতিযোগিতা, নভেম্বর, ২০২১-এর একটি নির্বাচিত গল্প

------ বিজ্ঞপ্তি ----------
# 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার' স্বরচিত গল্প লেখার প্রতিযোগিতা, মে -২০২২ Details..
# গপ প্রতিযোগিতা, জুন ২০২২ ( হাসির নতুন দিগন্ত ) Details..
--------------------------



All Bengali Stories    135    136    137    138    139    140    141    (142)    

সহযোগিতা
স্বরচিত ছোট গল্প প্রতিযোগিতা, নভেম্বর, ২০২১-এর একটি নির্বাচিত গল্প
লেখিকা - সন্দীপা সরকার মুখার্জী, তালপুকুর, শ্রীরামপুর, হুগলী


## সহযোগিতা

লেখিকা - সন্দীপা সরকার মুখার্জী, তালপুকুর, শ্রীরামপুর, হুগলী

কুড়ি বছর বয়সে বিয়ে হয়ে আসা আমাকে প্রায়শই শুনতে হত, "কাজ না শিখিয়ে কেন যে মা-বাবা বিয়ে দেন!"

বৌ মানেই হয়ত চিরকাল বড় হয়েই তাদের আসতে হয়। সব পদের রান্না জেনে আসতে হয়; মাছ কাটা, ঘর পরিষ্কার থেকে কোমট অবধি তাকেই পরিষ্কার করতে হবে, ঘেন্নার বালাই ছেড়ে, কারণ সে ঘরের বৌ।

শ্বশুরবাড়িতে এসেই প্রথম শুনেছিলাম সাংসারিক কাজ মানেই মেয়েদের। ছেলেরা জলের গ্লাসটাও নিজে নিয়ে খাওয়া পাপ। ছেলে মানেই বড় মাছ-মাংসের পিসটা তারই প্রাপ্য। তাদের পরে ননদ আর শাশুড়ির। উদ্বৃত্তটা বাড়ির বৌয়ের বরাদ্দ। দুই ননদ, এক দেওর,শাশুড়ি আর স্বামী নিয়ে ছিল আমার সংসার। রান্নার দায়িত্ব আমার থাকলেও খাবার কাকে কতটা দিতে হবে সেটা মাপকাঠিতে মেপে শাশুড়িমাই ভাগ করে দিতেন। বাপের বাড়িতে এমন অভ্যস্ত না থাকাতে প্রথম কয়েকবছর কষ্টে চোখের জল পড়ত। বাড়িতে আমার মা-বাবাকে দুই ভাইবোনের মধ্যে কখনও বিভেদ করতে দেখিনি। বাবা বলেন, মেয়েদের নাকি বেশী পুষ্টিকর খাদ্য খেতে হয়। কারণ তাদের শরীরের ধকল অনেক বেশী সহ্য করতে হয়। আয়রন, ক্যালসিয়ামের ঘাটতিও মেয়েদেরই বেশী হয়।

পেরিয়ে এসেছি পনেরোটা বছর। বছর চারেক হল শাশুড়ি মা গত হয়েছেন। ননদরাও সংসারী। দেওরও সংসারী হয়ে আলাদা। এখন নিজের সংসার হলেও পরিবর্তন কিছুই ঘটেনি। ছেলেটাও কেমন যেন বাড়ির ধারা পেয়েছে। 'আমি ছেলে বলে আলাদা,' এই মনোভাব নিয়ে চলতে শিখেছে। আমার স্বামী বা ছেলের কাছে কোনদিন শুনলাম না, "বড় পিসটা আজ তুমি খাও।" কিংবা, "তরকারি রেখেছ তো তোমার?" চায়ের কাপটাও যে সরাতে শেখেনি। ছোটবেলায় শেখাতে গেলে শাশুড়িমা বলতেন, "বুবাইকে করাবে না এসব। ওর বাপ-কাকাও করে না। এসব মেয়েদের কাজ।"

বুবাইও ছোট থেকে এই প্রশ্রয়েই বড় হয়েছে। পারিনি আমি ছেলেটাকে শেখাতে যে, কাজের ছেলে-মেয়ে হয় না।, কাজ সবার। ছোট থেকে যেহেতু শেখাতে পারিনি এখন পনেরো বছর বয়সে এসে শেখাতে গেলে সে নির্দ্বিধায় বলে, "মাম্মা এটা গার্লসদের কাজ, মানে তোমার কাজ। নট মাইন ওয়ার্ক, ওকে।"

সকাল থেকেই শরীরটা ম্যাজ-ম্যাজ করছে। এই নিয়েই কাজ সারছি। বুবাইয়ের আজ স্কুল বন্ধ। শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে। সে নিজের ঘরে পড়ছে। ওর বাবা অফিস বেরিয়ে গেছে। দুপুরের দিকে তীব্র জ্বর এল। কত জানি না, কারণ থার্মোমিটারে মাপার সময় পাইনি। মাথা ঘুরছে। বিছানাতে যাওয়ার আগেই ঘটল বিপত্তি, মাথা ঘুরে পড়লাম। বেসিনে খট করে মাথাটা লাগল। তারপর আমি জ্ঞানশূন্য। চোখ খুলে দেখলাম নার্সিংহোমের বেডে শুয়ে। মাথায় ছ'টা সেলাই পড়েছে। একদিন পুরোই অচৈতন্য ছিলাম। পাশেই ছেলে, বর চিন্তিত মুখে বসে। নার্স স্যালাইনের আরেকটা বোতল সেট করতে-করতে বললেন, "যাক, বিপদ কেটে গেছে। যা বাধিয়েছিলেন। প্রেশার লেভেল ছিল 60/40... "

ছেলে, "মাম্মা..ম.." বলে পেটের কাছে আলতো করে মাথাটা রাখলো। শুনলাম চার বোতল রক্তও লেগেছে। আমার স্বামীও মাথায় হাত বোলালো। এই প্রথমবার মানুষটার ভালবাসার স্পর্শ পেলাম।

একটি ছেলে প্রতিদিন আমার রুম মুছতে আসে। বুবাই,আমার সাথে কাজের ফাঁকে গল্প করে। দশদিন পর বাড়ি এলাম। ঘর-দোর বেশ পরিষ্কার। এখানে-ওখানে ওদের পোশাকের চিহ্নও নেই। ফ্রেস হয়ে রান্না ঘরে গিয়ে দেখি বাবা-ছেলেতে বেশ গুছিয়ে ব্রেড টোস্ট করছে। আমি এগিয়ে গিয়ে বললাম, "সরো তোমরা। এসব মেয়েদের কাজ। তোমরা করতে পারবে না।"

বুবাই চট করে বলল, "নো মাম্মা, কাজের গার্লস-বয়েজ হয় না। ওই ওয়ার্ডবয় কাকুটাও তো ওর মা সিক বলে রুম সাফাই থেকে রান্না সব করে। শুনলে না..."

আমার স্বামী খাবারের প্লেটটা এগিয়ে দিতে দেখলাম ওতে দুটো ডিম। ওদের প্লেটে একটা করে। লজ্জিত কণ্ঠে বললাম, "ছিঃ ছিঃ আমাকে দুটো ডিম দিচ্ছ কেন? অভ্যেস আছে নাকি এত খাওয়ার।"

বুবাই বলল, " মাম্মা, দাদুন ফোনে তোমার রক্তাল্পতা, প্রেশার লো শুনে বলেছেন মেয়েদের বেশী করে প্রোটিন, ভিটামিন, আয়রন, ক্যালশিয়াম যুক্ত খাবার খেতে হয়, না হলে এমন হয়; তোমার যেমন হয়েছে। আজ থেকে তুমি বেশী করে ফ্রুটস, খাবার খাবে ডাক্তারের চার্ট অনুযায়ী।"

বললাম, "কে করে দেবে?"

"আমি করে দেব মাম্মা। তবু তুমি প্লিজ আমাদের ছেড়ে যেও না..."

আমার স্বামীও আমাকে স্নেহভরে জড়িয়ে ধরে বলল, "বুবাই ঠিক বলেছে। এখন থেকে তিনজনে মিলে কাজ ভাগ করে নেব। একলা তুমি চাপ নেবে না।" বুঝলাম সেও আমাকে হারানোর ভয় পেয়েছে। দেরিতে হলেও বুঝেছে, খাদ্যপুষ্টি সকলের সমান প্রয়োজন, আর কাজ ভাগ করে নিলে পুরুষত্বে ভাঁটা পড়ে না, বরং সহযোগিতাতে বাড়ে ভালবাসা।
( সমাপ্ত )


All Bengali Stories    135    136    137    138    139    140    141    (142)    


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 7005246126