Home   |   About   |   Terms   |   Book Rent   |   Contact    
A platform for writers

একটা সাদা ঘোড়া

বাংলা গল্প

------ বিজ্ঞপ্তি ----------
# 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার' স্বরচিত গল্প লেখার প্রতিযোগিতা, মে -২০২২ Details..
# গপ প্রতিযোগিতা, জুন ২০২২ ( হাসির নতুন দিগন্ত ) Details..
--------------------------



All Bengali Stories    152    153    154    155    (156)     157   

একটা সাদা ঘোড়া
লেখিকা-বৈশালী মহান্তী, রামগড়, সিমলাপাল, বাঁকুড়া, পশ্চিমবঙ্গ


## একটা সাদা ঘোড়া

লেখিকা-বৈশালী মহান্তী, রামগড়, সিমলাপাল, বাঁকুড়া, পশ্চিমবঙ্গ

#
দরজাটা সামান্য একটু খোলা। সূর্যের উজ্জ্বল রোদটা জানালা দিয়ে ভেতরে উঁকি দিচ্ছে। সেই আলোয় দেখা যাচ্ছে এক বৃদ্ধ একটা ইজি-চেয়ারে বসে বিড়বিড় করছেন, তখনো সেই অবস্থায় হাতে ধরে রেখেছেন একটা লাঠি। আমি দরজাটা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করলাম। আমাকে দেখে বৃদ্ধ যেন চমকে উঠলেন, কিন্তু তবুও মুখের ভাব লুকিয়ে রেখে বললেন, "তোমাকে বলেছিলাম, এখানে আসবে না, কেন এসেছো তুমি এখানে?"

আমি শান্ত-দৃষ্টিতে চেয়ে দেখলাম বৃদ্ধ মানুষটির চোখ দুটো রেগে ফেটে বেরিয়ে আসছে, মুখটা আক্রোশে গরগর করছে আর তিনি মুখে সেই একইরকম বিড়বিড় করছেন। আমি এবার একটু ভালো করে শোনার চেষ্টা করলাম; 'একটা সাদা ঘোড়া', হ্যাঁ, এই কথাটাই উনি বিড়বিড় করছেন, 'একটা সাদা ঘোড়া...'

আমি আশ্চর্য রকমের অবাক হয়ে গেলাম। বৃদ্ধের বয়স নব্বইয়ের কাছাকাছি, গায়ের চামড়া কুঁচকে গিয়েছে অথচ তিনি পাগলের মতো অস্থির চিত্তে কেবল এই তিনটে শব্দ বকে যাচ্ছেন। আমি ওনাকে শান্ত হতে বললাম, ওনাকে ধীরে-সুস্থে চেয়ার থেকে তুলে বাইরের নরম রোদে নিয়ে গিয়ে বসালাম। বাইরে তখন শীতের মিষ্টি রোদ, সামনেই একটা পাহাড়, কাছাকাছি আর কোন বাড়ি নেই। আমি বৃদ্ধ মানুষটির জন্য চা বানিয়ে নিয়ে এলাম, তারপর ওনাকে বললাম, "দাদু আমি আপনার কাছে কিছু শুনতে এসেছি, কিছু জানতে এসেছি। সকলের মুখে শুনেছিলাম আপনি একাকী নিজেকে এই পাহাড়ে নির্বাসনে পাঠিয়েছেন আর সাথে বকে যাচ্ছেন এই প্রলাপ। কেন দাদু? কেন আপনি এই তিনটে শব্দ অবিরত বকে যাচ্ছেন? আমাকে বলুন, এই সাদা ঘোড়ার মধ্যে কী রহস্য রয়েছে!"

বৃদ্ধ মানুষটি সামনের ওই পাহাড়টার দিকে চোখ বন্ধ করে বেশ কিছুক্ষণ বসে রইলেন তারপর ধীরে-ধীরে বলতে শুরু করলেন, "সালটা ১৯৩৪ কি ১৯৩৫, তখন আমি অনেকটা ছোট, বয়স সবে আট কি দশ। ভারতে তখন পরাধীন অবস্থা, ব্রিটিশ শাসকদের অত্যাচারে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ। ভারতের আকাশ-বাতাস তখন আন্দোলন মুখরিত, আমার বাবাও ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন স্বদেশী আন্দোলনে। বাবার ছিল একটা সাদা ঘোড়া, বাবা যেখানে খুশি যেতেন এই ঘোড়ায় চড়ে। কোথাও যেতে হলেই ঘোড়াটা 'চিঁহি-চিঁহি' করে উঠতো। আমাদের বাড়ির দাওয়ায় দাঁড়িয়ে লোকের যাওয়া-আসা দেখতো। ঘোড়াটা ছিল আমাদের প্রাণ, আমাদের একবিন্দুও চলতো না ঘোড়াটা ছাড়া।খুব সুন্দর দেখতে ছিল ঘোড়াটা, আর ছুটতও সেইরকম। একবার এক ব্যক্তি বেশ দাম দিয়ে কিনে নিতে চেয়েছিলেন ঘোড়াটাকে, কিন্তু বাবা রাজি হন নি। তারপর একদিন বাবাকে ধরে নিয়ে গেল, বাবা চলে যাওয়ার পর ঘোড়াটা বেশ মনমরার মতো চেয়ে রইতো খালি। তারপর মাস চারেক পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাবা ফিরে এলেন। বাবা ঠিক করলেন আর আন্দোলনে যোগ দেবেন না। এরপর বাবা ঘোড়া সওয়ারী হয়ে যখন-তখন যেখানে খুশি চলে যেতেন। যতই দিন যেতে লাগলো বাবা ততই উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়লেন, এক-দু-দিন বাড়িও ফিরতেন না। মা খুব দুশ্চিন্তায় থাকতেন। আমরা ছিলাম দুই ভাই আর এক বোন। বাড়িতে অভাব দেখা দিতে লাগল, মা যেভাবেই হোক একটা কাজ জোগাড় করলেন তবেই আমাদের সংসার চলতে লাগলো। এরমধ্যে পরপর টানা পাঁচদিন বাবা বাড়ি ফিরলেন না। সেদিন রাত্রি তিনটে হঠাৎ দরজার বাইরে আমরা ঘোড়াটার ডাক শুনলাম, মা ধড়মড় করে উঠে দরজা খুলে দেখলেন ঘোড়াটা দাঁড়িয়ে চিঁহি-চিঁহি করছে, যেন কিছু বলতে চেয়েছে। আমি আর দাদা ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসলাম। ঘোড়াটা একটা দুর্গের কাছে নিয়ে গিয়ে দাঁড়াল। আমরা ভয় পেয়ে গেলাম, বুঝলাম বাবা মোটেও আন্দোলন ছাড়েন নি, বরং গুপ্তচর হিসেবে কাজ করছিলেন। ঘোড়াটা সোজা গিয়ে ছুট লাগাল দুর্গের ভিতরে, যেখানে বাবাকে ওরা বন্দী করে রেখেছিল। আমরাও ঘোড়াটার পেছনে ছুটে গেলাম। ইংরেজরা আমাদের অতর্কিতে প্রবেশ করতে দেখে বন্দুক তুলে ধরলো, বাবা চিৎকার করে উঠলেন। আমি ভাবলাম এবার আমরা দু'ভাই শেষ। কিন্তু ঘোড়াটা ছুটে এসে আমাদের আড়াল করে দাঁড়াল, গুলি গিয়ে লাগলো সাদা ঘোড়ার গায়ে। আমাদের অবাক আর হতবুদ্ধি করে দিয়ে ঘোড়াটা আমাদের বাঁচানোর জন্য নিজের প্রাণটা দিয়ে দিলো।"

বৃদ্ধ একটু থেমে জোরে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, "একটা সাদা ঘোড়ার প্রাণের বিনিময়ে আজো বেঁচে আছি, আর বাঁচতে চাই না আমি, বাঁচতে চাই না..." কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন বৃদ্ধ। বৃদ্ধের সেই করুন কান্না পাহাড়ের গায়ে ধ্বনিত হতে লাগলো।
( সমাপ্ত)


Next Bangla Story

All Bengali Stories    152    153    154    155    (156)     157   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 7005246126