Home   |   About   |   Terms   |   Library   |   Contact    
A platform for writers

সমাজ এখনো কুসংস্কার থেকে মুক্তি পায়নি

( 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার'- ২০২২-এর একটি নির্বাচিত গল্প)

-------- বিজ্ঞপ্তি ----------
■ 'স্বরচিত ছোট গল্প প্রতিযোগিতা ( ৬০০ শব্দের )', নভেম্বর, 2022 Details

◕ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা - সেপ্টেম্বর ২০২২, Result
--------------------------



All Bengali Stories    171    172    173    (174)     175   

সমাজ এখনো কুসংস্কার থেকে মুক্তি পায়নি
Writer- দিশা সিংহ, বিদ্যালয়- সারদা শিশু তীর্থ, সারদা বিদ্যামন্দির, পূর্ব খাগরাবাড়ি কোচবিহার
( 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার'- ২০২২-এর একটি নির্বাচিত গল্প)


## সমাজ এখনো কুসংস্কার থেকে মুক্তি পায়নি

Writer- দিশা সিংহ, বিদ্যালয়- সারদা শিশু তীর্থ, সারদা বিদ্যামন্দির, পূর্ব খাগরাবাড়ি কোচবিহার

২৬-০১-২০১৪; আমরা চার বন্ধু; আমি, ব্রাভো, আকাশ, সৃজনী ঘুরতে বের হয়েছি‌। আমরা চারজন ছোটবেলায় বন্ধু। আমাদের গ্রামে ভালো স্কুল নেই বলে আমাদের মা-বাবারা আমাদের কলকাতা বোর্ডিংয়ে পড়াশোনা করান। বড়ো হয়ে আমি চাকরির পরীক্ষা দিতে শুরু করলাম, হঠাৎ আমি বিমান বাহিনীতে পাইলটের চাকরি পেয়ে গেলাম। আমার মায়ের স্বপ্ন পূরণ করলাম। আমারা গ্ৰামে থাকতে পারি, কিন্তু এই গ্ৰামে আমাদের চার জনের বাড়িই ছাদ পিটানো। আমাদের মায়েরা চার বান্ধবী ছিলেন আর আমাদের বাবারাও চার বন্ধু ছিলেন। ব্রাভো ক্যারটের টিচার, ক্যারাটে শেখায়। সৃজনী বড়ো গায়িকা, আর আকাশ শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ। আমরা বিভিন্ন সময় ছুটিতে একসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাই। এবারে আমরা এসেছি মফস্বল গ্ৰাম মাঘপালাতে। প্রথমদিন আমরা ওখানে গিয়ে ঘুরে-ঘুরে সব দেখছি। হঠাৎ করে আকাশ বলল, দেখ মেয়েটিকে ঘিরে কত লোক জড়ো হয়েছে। আমরা ওদিকে তাড়াতাড়ি দৌড়ে গেলাম। গিয়ে দেখলাম একজন কুৎসিত লোক, পরনে লম্বা কুর্তা, ছোট পাজামা, মাথায় কালো কাপড় বাধা, গলায় ঝুলছে তিন চারখানা বড়ো-বড়ো তাবিজ, হাতে একগোচ্ছা ময়ূর পুচ্ছ। লোকটা ময়ূরপুচ্ছ দিয়ে মেয়েটার গায়ে বোলাচ্ছে এবং আরবি অথবা ফারসি ভাষায় কী যেন বলেই চলছে। হঠাৎ করে লোকটা ময়ূর পুচ্ছ ছেড়ে মেয়েটির গায়ে ঠাণ্ডা জল ঢালছে। চারপাশে সবাই বাকরুদ্ধ এবং একজন মহিলা এবং একজন পুরুষ অঝোরে কেঁদেই চলছে। হঠাৎ লোকটি মেয়েটিকে নারকেলের ঝাড়ু দিয়ে আঘাত করতে শুরু করে। এর সাথে সাথেই শুরু হয় মেয়েটির আর্তনাদ। এই দেখে ব্রাভো নিজের ধৈর্য রাখতে না পেরে বাজখাই গলায় চিৎকার করে বলল, থামুন, বলেই দৌড়ে গিয়ে ওই কুৎসিত লোকটিকে এক ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে মেয়েটিকে উঠিয়ে নিয়ে এল। এই ঠাণ্ডাতেও মেয়েটার গা থেকে ঘাম পরছে, সারা গায়ে ক্ষত। আকাশ যেখানেই যায় ওর কিছু দরকারি ওষুধ পত্র সঙ্গে রাখে।

ব্রাভো বলল, আকাশ ওকে ওষুধ লাগিয়ে দে তো। আকাশ বলল, মাধুরী আমার ব্যাগটা দে তো। আমি দিলাম। আকাশ মেয়েটির গা ভালো করে মুছিয়ে গায়ে তারই একখানি জ্যাকেট জরিয়ে দিয়ে ক্ষত জায়গাটি পরিষ্কার করে ওষুধ লাগিয়ে দিচ্ছিল। আস্তে আস্তে সব লোক চলে যাচ্ছিল। কুৎসিত লোকটা এদিকে এসে বলল, আপনারা কাকে সেবা করছেন জানেন, এই মেয়েটার শরীরে জীন বাসা করেছে।

ব্রাভো ওনার কথা শুনে বলল, চুপ করুন, আপনি কি মূর্খ। সৃজনী এতক্ষণ চুপ করে ছিল। এখন লোকটার কথা শুনে বলল, আপনি যদি আর একটা কথা বলেন তাহলে আমরা পুলিশে ফোন করব।

শুনে লোকটা বলল, ভুল করেছেন আপনারা, বলে চলে গেল। লোকটা যাওয়ার প্রায় সঙ্গে-সঙ্গেই একটা ছেলে এসে বলল, আপনাদের আল্লা পাঠিয়েছেন।

আমরা বললাম, তুমি কে?

ও বলল, আমার নাম নাসির; ও আমার বোন নুসরত। আমরা খুব গরিব। আমি রঘুদার চায়ের দোকানে কাজ করি। আমার আব্বাজান কিছু কাজ করে না, সারাদিন মোল্লা মৌলবিদের ফাইফরমাস মতো কাজ করে। আমার আম্মা মানুষের বাড়িতে কাজ করে। আমার বোনের যে কি হলো ঠিক মতো খায় না, চুপ করে বসে থাকে। একদিন মোল্লা সাহেব আমার বোনকে দেখে বলল, ওকে নাকি জীন ধরেছে।

সৃজনী বলল, ওকে কয়েকটা বিস্কুট দে।

আমি ওকে দুইটি বিস্কুটের প্যাকেট দিয়ে বললাম, এখন বোনকে নিয়ে যাও। ওই কুয়োটার পাশে আমাদের তাঁবু। যদি ওই লোকটি আবার কিছু করে, বা কিছু বলে তাহলে আমাদের এসে বলবে‍।

তারপর আমরা বাকি সময় ঘোরাঘুরি করেই কাটিয়ে দিলাম। সকালে চা খেতে-খেতে আড্ডা দিচ্ছি। নাসির নামের ছেলেটা দৌড়ে এসে ভয়ার্ত মুখে বলল, ওরা আবার আমার বোনকে মারছে।

চা খাওয়া মাথায় উঠল। আমরা ওকে অভয় দিয়ে বললাম, কিছু হবে না। তুমি আমাদের ওখানে নিয়ে চলো।

ও আমাদের নিয়ে এল। আমার ওখানে গিয়ে যা দেখলাম তা ভয়ানক। আজকেও লোকটি মেয়েটিকে ঝাড়ু দিয়ে মারছে। আর চিৎকার করে বলছে, যা যা বোতলের ভিতরে গিয়ে ঢোক। মেয়েটার চোখ দিয়ে জল পরছে। এবার লোকটি মেয়েটিকে ঝাড়ু দিয়ে আঘাত করা শুরু করল। লোকটি এত জোরে-জোরে মারছিল যে এবার মেয়েটা অজ্ঞান হয়ে গেল। এটা দেখে ব্রাভো দৌড়ে গিয়ে লোকটিকে একটা সাইড কিক মেরে দিল। লোকটি লুটিয়ে পরল। আকাশ বলল, ওকে এখনি হসপিটালে ভরতি করতে হবে, না হলে ওকে আর বাঁচানো যাবে না। বলেই ও মেয়েটাকে আমাদের গাড়িতে উঠিয়ে আমাকে আর সৃজনীকে গাড়িতে উঠে বসতে বলল। ব্রাভো বলল, আমি এখানেই থাকছি। পুলিশ কে খবর দিয়েছি ওনারা এখনি আসছেন।

মেয়েটিকে হসপিটালে ভরতি করানো হয়েছে। মেয়েটির না খাওয়ার কারণ জানা গেছে; তার মুখে ও গলায় ঘা। ওই লোকটির শিশুর ওপর অত্যাচারের মামলায় চোদ্দ বছরের জেল হয়েছে। আজকেও ২৬-০১-২০১৫; একই তারিখ, একই মাস; শুধু বছরটা এক বছর এগিয়েছে। চা খেতে-খেতে এগুলোই গল্প করছি।
( সমাপ্ত )


Next Story

All Bengali Stories    171    172    173    (174)     175   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 6009890717