Home   |   About   |   Terms   |   Book Rent   |   Contact    
A platform for writers

ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকার

Dr. Mahendralal Sarkar

------ বিজ্ঞপ্তি ----------
# 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার' স্বরচিত গল্প লেখার প্রতিযোগিতা, মে -২০২২ Details..
# গপ প্রতিযোগিতা, জুন ২০২২ ( হাসির নতুন দিগন্ত ) Details..
--------------------------

All Bangla Articles    12    13    14    15    ( 16 )    


ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকার, যিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ, ত্রিপুরার মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্য ও রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের মত মনিষীদের চিকিৎসা করেছিলেন

লেখক - শিলাজিৎ কর ভৌমিক, ধলেশ্বর, আগরতলা


Dr.Mahendralal Sarkar
ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকার, যিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ, ত্রিপুরার মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্য ও রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের মত মনিষীদের চিকিৎসা করেছিলেন
লেখক - শিলাজিৎ কর ভৌমিক, ধলেশ্বর, আগরতলা

##
১৮৫৪ সালের আশে-পাশের কথা, কলকাতা মেডিকেল কলেজের চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ আর্চার একদিন পঞ্চম বর্ষের ছাত্রদের পড়াচ্ছিলেন। পড়াবার সময় তিনি তাঁদের একটা প্রশ্ন করছিলেন। সেই প্রশ্নের উত্তর উপস্থিত ছাত্রদের মধ্যে কেউ দিতে পারছিল না। ওই মূহুর্তে কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র চক্ষুরোগ ওয়ার্ডের পাশে একটা ওষুধের দোকানে যাচ্ছিল। উদ্দেশ্য ছিল, সে তার এক আত্মীয়ের জন্যে ওষুধ কিনবে। ওষুধ কেনার সময়ই ডাঃ আর্চারের প্রশ্ন তার কানে এসে পৌঁছয়, এবং ততক্ষণাৎ সে ক্লাসে ঢুকে সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেয়। ডাঃ আর্চার অবাক! তিনি ভাবলেন যে, ব্যাপারটা কাকতালীয় হতে পারে। এই কারণে তিনি সেই দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রটিকে আরও কয়েকটা প্রশ্ন করলেন। কিন্তু ছেলেটি সেই সব প্রশ্নেরও নির্ভুল উত্তর দিল। ডাঃ আর্চারের বুঝতে দেরি হল না যে ছেলেটি আর পাঁচজনের চাইতে আলাদা। ছেলেটির অভাবনীয় মেধার পরিচয় মেডিকেল কলেজে ছড়িয়ে পড়তে বেশিদিন সময় লাগেনি।

এই ছেলেটির মেধা থাকা স্বত্তেও ছেলেটি শিশুকাল থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে গিয়েছিল বরাবর। আমরা সবাই জানি যে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রাস্তার গ্যাসবাতির তলায় বসে পড়াশোনা করেছিলেন। এই ছেলেটিরও একই অবস্থা ছিল। সন্ধ্যা হলে রাস্তার আলোতে বসে পড়াশোনা করত। কিন্তু কে ছিল এই ছেলেটি?

এই ছেলেটি বড় হয়ে বাংলা তথা ভারতের এক ধনন্তরী চিকিৎসক হিসেবে সুপরিচিতি পেয়েছিল। তিনি ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ, ত্রিপুরার মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্য ও রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের মত মনিষীদের চিকিৎসক ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকার।

১৮৩৩ সালের ২রা নভেম্বর বাংলার 'পাইকপাড়া' গ্রামে তারকনাথ সরকার ও অঘোরমণি দেবীর গৃহে জন্ম হয় মহেন্দ্রলাল সরকার নামক এক বিরল প্রতিভার। এর কিছু বছর পরে তাঁদের ঘরে আর এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। একদিন অঘোরমণি দেবী দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুরতে যান। এর কয়েক মূহুর্তের পর, অকস্মাৎ খবর আসে যে তাঁর স্বামী মারা গিয়েছেন। তড়িঘড়ি তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে স্বামীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। তারপর তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে নিজের আত্মীয়ের বাড়িতে স্থায়ীভাবে আশ্রিত হন। শুরু হয় এক কঠিন জীবনসংগ্রামের কাহিনী। মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া আর তাদের দয়ার পাত্র হওয়া একই কথা। সে নিজের ভাই-বোনই হোক না কেন, অঘোরমণি দেবী ও তাঁর দুই শিশুপুত্র সংসারের যাবতীয় কাজ করতেন। সন্ধ্যার পরে ছোট্ট মহেন্দ্র রাস্তার আলোতে বসে পড়াশোনা করত। ইতিহাসের পাতায় এমন কষ্ট করে পড়াশোনা করার দৃষ্টান্ত একমাত্র বিদ্যাসাগর মহাশয় ছাড়া আর কেউ সম্ভবত স্থাপন করতে পারেননি। ১০ বছর বয়সে ছেলেটি নিজের মাকে কলেরায় হারাল। মার মৃত্যুর পর ছেলেটা নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ল। ছেলেটির দুর্ভাগ্যের সঙ্গে লড়াই এখানেই থেমে থাকেনি। অসুস্থ থাকাকালীন সে দীর্ঘদিন স্কুলে যেতে পারেনি। ফলত তার নাম কেটে দেওয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য হেডমাস্টার যখন ছেলেটির পরিস্থিতির কথা জানতে পারেন, তখন তিনি পুনরায় তাকে ভর্তি করিয়ে দেন। জীবন ছেলেটাকে দমিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারল কই? সে তার অদম্য জেদ ও মেধার জোরে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছিল।

বহু দশক পরে, স্বামী বিবেকানন্দ অনন্ত ইচ্ছাশক্তির যেই বাণী আমাদের শুনিয়েছিলেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকারে জীবন দেখলে সেই বানীর সত্যতা আমরা পাই। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকার সেই বানীকে নিজেদের জীবনে বাস্তবে পরিণত করে দেখিয়ে দিয়েছিলেন যেন অনেক আগেই।

১৮৪৯ সালে মহেন্দ্রলাল সারা স্কুলে প্রথম স্থান অর্জন করে এবং বৃত্তি পেয়ে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। তাঁর মেধার প্রতি রীতিমতো আকৃষ্ট হন কলেজের অধ্যক্ষ প্রোফেসার সাটক্লিফ ও প্রোফেসার জোন্স। ১৮৫৪ সালে মহেন্দ্রলাল সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি ক্যালকাটা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হবেন। তখন তাঁর অধ্যাপকরা বলেন যে, তিনি যদি আরেকটা বছর হিন্দু কলেজে পড়াশোনা করেন তাহলে তিনি সিনিয়র স্কলারশিপ পাবেন।

কঠিন বাস্তবের সঙ্গে যুদ্ধ করে ওঠা মহেন্দ্রলাল জানতেন যে, 'একটাকে পেতে গেলে আরেকটা ছাড়তে হয়'। এই কারণে মহেন্দ্রলাল স্কলারশিপের মোহ ত্যাগ করে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। তাঁর মেধার জন্যে অল্পদিনের মধ্যেই তিনি সারা কলেজের জনপ্রিয়তম ছাত্র হয়ে উঠলেন। কঠিন জিনিসকে অতি সহজভাবে বোঝাবার ক্ষমতা ছিল তাঁর। তাই অন্যান্য ছাত্রছাত্রিরা দাবি করল, অধ্যাপকদের বদলে ওরা তাঁর কাছে পড়বে। দাবি এমন জোড়ালো হল যে ডাঃ আর্চার কলেজের অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়ে মহেন্দ্রলালকে দিয়ে 'আলোক-রশ্মির' উপর কয়েকটা ক্লাস করালেন। এরপর অন্যান্য সংস্থা থেকেও আমন্ত্রণ এল মহেন্দ্রলালের কাছে বিজ্ঞানসংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে বক্তব্য রাখার জন্যে। যেমন, বেথুন সোসাইটিতে 'দৃষ্টিশক্তি' নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন তিনি।

গোড়া থেকেই শ্রোতের বিপরীতে চলতে ভালোবাসতেন মহেন্দ্রলাল। যেমন, পাঠ্যপূস্তক ছাড়াও তিনি অনেক সদ্য প্রকাশিত চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক স্মরণিকা বা জার্নাল পাঠ করতেন। ফলত, তিনি তাঁর অধ্যাপকদের চাইতেও অনেক জ্ঞান-বুদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু, শ্রোতের বিপরীতে চলে সাফল্য পেতে গেলে অনেকরকম পুরস্কার থেকে বঞ্চিত থাকতে হয়। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, মেডিকেল জুরিসপ্রুডেন্স পরীক্ষায় প্রশ্ন ছিল যে, এক রোগীকে কত ডোজ আর্সেনিক দিতে হয়। ছাত্র মহেন্দ্রলাল প্রকাশিত জার্নাল থেকে নেওয়া উত্তর লিখে ফেললেন, আর সেই উত্তর কলেজের পাঠ্যপূস্তকের বাইরে ছিল। ফলে পরীক্ষক জার্নালের উত্তরের ব্যাপারে অবগত ছিলেন না। কাজেই, তাঁর নম্বর কমে গেল এবং তিনি গোল্ড মেডেল পেল না।

১৮৫৯-৬০ সালে অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এল যখন মহেন্দ্রলাল 'Licentiate in Medicine and Surgery' (LMS) ডিগ্রী অর্জন করলেন। তারপর ১৮৬৩ সালে তিনি 'Doctorate in Medicine' ডিগ্রী অর্জন করলেন। পাইকপাড়া গ্রামের অকালে 'বাপ-মা' হারা ছেলেটি, যে রাস্তার আলোতে বসে পড়াশোনা করেছিল, তিনি হয়ে উঠল 'ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার'। মিষ্টিমুখ করার জন্যে তাঁর 'বাপ-মা' পাশে ছিলেন না।

এরপর শুর হল তাঁর প্র্যাক্টিস। দাপিয়ে প্র্যাক্টিস করছিলেন তিনি। অল্প সময়েই তাঁর এমন পসার হল যে বাংলার অন্যান্য চিকিৎসকরা যখন রোগীর চিকিৎসা করতে অক্ষম হতেন, তখন মুশকিল-আসান সেই ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার। স্বাভাবিক ভাবেই, ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোশিয়েসন যখন বাংলায় তাঁর শাখা প্রতিষ্ঠা করল, তখন ডাঃ সরকার সেই শাখার সচিব হিসেবে নির্বাচিত হলেন এবং সেখানেই তিনি হোমিওপ্যাথিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন, কিন্তু ওই অবস্থানে তিনি বেশিদিন অনড় থাকেননি।

একদিন তাঁর এক বন্ধু মর্গ্যানের 'Philosophy of Homeopathy' দিয়ে অনুরোধ করলেন 'Indian Field' নামক জার্নালে এ্রর পর্যালোচনা করতে। ডাঃ মহেন্দ্রলাল ভাবলেন যে, তিনি সুযোগ পেয়ে গেলেন হোমিওপ্যাথিকে তুলোধনা করতে। কিন্তু হল উল্টো। ওই বই পড়তে-পড়তে হোমিওপ্যাথির প্রতি তাঁর মনোভাব বদলে যেতে লাগল। যুক্তিবাদি ডাক্তারবাবু ঠিক করলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। এই কারণে, সেকালের প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক রাজেন্দ্রলাল দত্তের কাছে গেলেন এবং তাঁর কাছে বিষয়টি নিয়ে সবিস্তারে জানতে চাইলেন। ডাক্তার দত্তের অনুমতি পেয়ে তিনি নিজের হাতে কিছু হোমিওপ্যাথি ওষুধ তৈরী করেন এবং রোগীদের উপর প্রয়োগ করেন। এর সুফল নিজের চোখে দেখে তাঁর আর সন্দেহ রইল না যে, হোমিওপ্যাথি বিজ্ঞানসম্মত শাস্ত্র।

১৬ই ফেব্রুয়ারী ১৮৬৭ সালে মেডিকেল অ্যাসোশিয়েসনের বার্ষিক সভায় তিনি হোমিওপ্যাথির পক্ষে সওয়াল করলেন। উপস্থিত দর্শক ও শ্রোতাদের মধ্যে শোরগোল পড়ে গেল। ফলত, তাঁকে অ্যাসোশিয়েসন থেকে বহিষ্কার করা হল। তাঁর বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, রোগী এবং শিক্ষক ঠাকুরদাশ দে অনুরোধ করেছিলেন অ্যালো্প্যাথি চিকিৎসা ছেড়ে দেওয়ার হটকারি সিদ্ধান্ত না নিতে। কিন্তু ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকার ছিলেন অদম্য জেদি ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। একবার কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে তিনি অনড় থাকতেন। তিনি করে দেখাতেন যে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। বিশ্বের কোনো শক্তি তাঁকে পরাস্ত করতে পারত না। প্রথমে যখন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করা শুরু করেছিলেন, তখন ছ'মাস ধরে তাঁর কাছে কোনো রোগী আসেনি। ততদিন তিনি 'Materia Medica of Homeopathy' পড়ে সময় কাটাতেন। এবং সেটা তাঁর কাজে লেগেছিল সারাজীবন। সেই সঙ্গে নিজের হাতে এক জার্নাল প্রকাশ করা শুরু করলেন। সেই জার্নালের নাম ছিল 'ক্যালকাটা জার্নাল অব মেডিসিন'। নিজেই সম্পাদনা করতেন সেই জার্নাল। এবং হোমিওপ্যাথির পক্ষে জনমত গঠন করেছিলেন। অর্থাৎ অবসর হয়ে বসে সময় নষ্ট করা পছন্দ করতেন না তিনি। এরপর ধীরে-ধীরে সারা বাংলার এক নম্বর চিকিৎসক হয়ে উঠলেন তিনি।

১৮৭০ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্সের 'ফেলো' হিসেবে নির্বাচিত হন। প্রসঙ্গক্রমে, বলে রাখা উচিত যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতায় ক্যালকাটা মেডিকেল কলেজ চলত।, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকে এক অ্যালো্প্যাথি-ত্যাগী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে এত বড় পদে মেনে নিতে পারছিলেন না। এই কারণে তাঁকে হটাবার জন্যে এক আন্দোলন সংগঠিত হয়। ২৭শে এপ্রিল ১৮৭৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডাঃ সরকারকে বহিষ্কার করার প্রস্তাব গ্রহণ করে। দমে না যাওয়ার পাত্র ডাঃ সরকার উপাচার্যকে দুটো চিঠি লিখে নিজের মতামতের পক্ষে সওয়াল করেন। সেই সঙ্গে রমেশ্চন্দ্র মিত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে তাঁকে বহিষ্কার করার প্রস্তাব ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পুরো ঘটনায় অপমানবোধ করলেন তিনি এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ডাঃ মহেন্দ্রলাল স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেন।

সারাজীবন সংগ্রাম করতে করতে তিনি বুঝেছিলেন যে নিজেরটা নিজেকেই করতে হয়। মানুষের কাছে প্রত্যাশা করা বোকামি। উনি বুঝেছিলেন যে লোকে বলে মানুষই মানুষের প্রয়োজনে আসে, কিন্তু এসব নিছক আবেগ। এই কারণে তিনি ছিলেন চরম আত্মনির্ভরশীল। ব্যক্তি হিসেবে তিনি ছিলেন অদম্য জেদী, বাস্তববাদী, যুক্তিবাদী, পরোপকারি, সাহসী, স্পষ্টবক্তা এবং সরব নাস্তিক। তাঁর জেদ কেমন অদম্য ছিল সেটা এই ঘটনা শুনলেই বোঝা যাবে যে, মৃত্যুর বারো ঘণ্টা আগে তিনি তাঁর একমাত্র ছেলেকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, "আমাকে অ্যালো্প্যাথির ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করো না।" এই কথা বলার কারণ ছিল, তিনি দ্বিচারিতা ঘৃণা করতেন। জীবনের প্রথমদিকে অ্যালো্প্যাথির চিকিৎসা শুরু করেছিলেন ঠিকই। কিন্তু তাও স্বল্প সময়ের জন্যে। এরপর সারাজীবন রোগীদের হোমিওপ্যাথি ওষুধ দিয়ে নিজে অ্যালো্প্যাথি ওষুধ সেবন করতে চাননি।

২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৯০৪ সালে এই বোহেমিয়ান চিকিৎসক-যোদ্ধা ও বিজ্ঞানসাধক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর জীবনসংগ্রামের কাহিণী উইলিয়াম আর্নেস্ট হেনলির সেই বিখ্যাত কবিতা 'Invictus'-এর পঙক্তিটি মনে করিয়ে দেয়,
"In the fell clutch of circumstance,
I have not winced nor cried aloud,
Under the bludgeonings of chance,
My head is bloody, but unbowed."

তথ্যসূত্রঃ
১/ Sri Ramakrishna's Physician Dr Mahendralal Sarkar: His Life and Thoughts
Original Author (Bengali): Dr. Jaladhikumar Sarkar
Translator: M Sivaramkrishna
Edited by: Swami Shuddhidananda


২/ প্রথম আলো – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়


All Bangla Articles    12    13    14    15    ( 16 )    


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 7005246126