Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
RiyaButu
A platform for writers

স্বামী বিবেকানন্দ


Swami Vivekananda


Swami Vivekananda

স্বামী বিবেকানন্দের কথা
পর্ব ৪
১৩-০৫-২০১৯ ইং


আগের পর্ব গুলি: পর্ব ১    পর্ব ২    পর্ব ৩   


swami-vivekananda



◕ A platform for writers Details..

◕ Story writing competition. Details..


◕ স্বামী বিবেকানন্দের যখন প্রাণনাশের পরিকল্পনা হচ্ছিল

পরিব্রাজক অবস্থায় স্বামীজী তখন লিমড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন। ঐ সময় তিনি ভিক্ষা করেই জীবন ধারণ করতেন। সারাদিন হাঁটতেন, দিনের শেষে কোথাও একটু আশ্রয় গ্রহণ করতেন।

লিমড়ী শহরের কাছাকাছি এক স্থানে এসে তিনি জানতে পারলেন যে, পাশেই একটি স্থানে কিছুসংখ্যক সাধু থাকে। তিনি একদিন ঐ স্থানে গেলেন। সাধুরা উনাকে খুব সম্মানের সাথে আদর-আপ্যায়ন করল, অভ্যর্থনা জানাল। স্বামীজী, কাছাকাছি কোথাও একটু আশ্রয় চাইলে, সাধুরা পাশেরই একটি নির্জন কুটির দেখিয়ে দিল। ওরা বলল, স্বামীজী যতদিন খুশি সেই কুটিরে বসবাস করতে পারেন।

স্বামীজী ঐ ঘরে থাকতে লাগলেন। ঐ স্থানটির সম্পর্কে স্বামীজীর বিশেষ কোনও ধারনা ছিল না।

একদিন সেই সাধুদের কথোপকথন স্বামীজীর কানে গেল। সেই কথোপকথন শুনে তিনি আকাশ থেকে পড়লেন, উনার সারা শরীর কাঁপতে লাগল। তিনি বুঝতে পারলেন, এই সাধুরা অতি নিম্ন-শ্রেণীর বকধার্মিক, বীজমার্গী সাধু। ধর্মের নামে নিজেদের সুখ-লালসা এবং ইন্দ্রিয়-তৃপ্তির জন্য নানা রকম কুকর্ম করে যাওয়াই তাদের নিত্য কর্ম। বেশ কয়েকজন নারীও এদের সাথে জড়িত।

স্বামীজী তৎক্ষণাৎ ঐ স্থান পরিত্যাগ করতে চাইলেন। তিনি ঘর থেকে বেড়িয়ে যেতে চাইলেন, কিন্তু পারলেন না। কারণ, দরজাটি বাইরে থেকে খুব শক্ত করে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। তিনি বুঝতে পারলেন, এই চণ্ডালেরা প্রথম দিন থেকেই উনার উপর নজর রাখছিল। বিদেশের এক নির্জন স্থানে আজ তিনি তাদের হাতে বন্দী।

বেশ কিছুক্ষণ পরে সেই চণ্ডালেরা ঘরে প্রবেশ করল। তাদের একজন স্বামীজীকে ধমকের স্বরে বলল যে, ওরা জানে স্বামীজী খুব উঁচু দরের একজন সাধু এবং আজীবন তিনি ব্রহ্মচর্য পালন করে আসছেন। তারা তাদের সাধনায় সিদ্ধিলাভ করতে এমনই একজন উচ্চকোটি সাধুকে খুঁজছিল, যাকে ভগবানের নামে উৎসর্গ করা যায়। যাবার সময় ওরা বলে গেল, "তুমি তোমার সকল সাধনার ফল আমাদের দান কর। আমাদের সিদ্ধিলাভ করতে সহায়তা কর, এটাই তোমার জীবনের লক্ষ্য। পরের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করাই প্রকৃত সাধুদের কর্তব্য। অতএব প্রস্তুত হও।"

কিন্তু স্বামীজী তো ছিলেন জগতের স্বামীজী। এই বিশাল বিপদের সময়ও তিনি নিজের গুরুদেব আর জগদম্বাকে ভুলেন নি, বরং স্বয়ংকে অতি শান্ত আর স্থির রাখলেন। এমন সময় একটি ঘটনা ঘটল।

একটি ছোট বালক সেই প্রথম দিন থেকেই স্বামীজীর কাছে রোজ আসত। সে স্বামীজীকে খুব ভালবাসত, খুব ভক্তি-শ্রদ্ধা করত। স্বামীজীর অন্ধ ভক্ত ছিল সে, আর স্বামীজীকে ভগবানের চোখে দেখত। এই বিপদের দিনটিতেও সে এসে হাজির হল, স্বামীজীর সাথে দেখা করতে। অতি ছোট বালক বলে দুষ্ট সাধুরা তার উপর তেমন নজর রাখেনি। স্বামীজী ছেলেটিকে গোপনে সব কথা খুলে বললেন, আর একটি মাটির হাড়ির টুকরায়, কয়লা দিয়ে দু'এক কথায় বিষয়টি লিখে দিলেন। ছেলেটি সেই টুকরাটিকে নিজের চাদরের নীচে লুকিয়ে রোজকার মত অতি স্বাভাবিক ভাবে চলে গেল। নিরাপদ স্থানে পৌঁছে, নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে দৌড়াতে লাগল ছেলেটি আর গিয়ে উঠল রাজবাড়িতে। সে রাজার কাছে সব ঘটনা খুলে বলল এবং সেই হাড়ির টুকরাতে কয়লায় লেখা স্বামীজীর চিঠিটিও দেখাল। সাথে-সাথেই রাজা সিপাহীদের ওখানে পাঠালেন, স্বামীজীকে মুক্ত করে আনলেন আর সেই দুষ্ট সাধুদের ঠিকানা লাগালেন।

এই ঘটনার পর থেকে স্বামীজী আর কখনোই যত্র-তত্র আশ্রয় গ্রহণ করতেন না। আশ্রয় গ্রহণের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকতেন।

Next Part



◕ A platform for writers Details..

◕ Story writing competition. Details..




◕ This page has been viewed 273 times.


আগের পর্ব গুলি: পর্ব ১    পর্ব ২    পর্ব ৩   


গোয়েন্দা গল্প ও উপন্যাস:
নয়নবুধী   
মাণিক্য   
সর্দার বাড়ির গুপ্তধন রহস্য   
প্রেমিকার অন্তর্ধান রহস্য   
লুকানো চিঠির রহস্য