Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
RiyaButu
Read & Learn

দরবারি


বাংলা ছোট গল্প


All Bengali Stories    35    36    37    38    39    40    41    42    (43)    44   

হরপ্রসাদ সরকার, ধলেশ্বর-১৩, আগরতলা







দরবারি
বাংলা ছোট গল্প
- হরপ্রসাদ সরকার, ধলেশ্বর-১৩, আগরতলা
২৪-০২-২০১৯ ইং


◕ Bengali Story writing competition. More..


একটি সত্য ঘটনা লিখছি। আমার এক বন্ধু রঞ্জন। বাড়ী ওড়িশার এক গ্রামে। কথাটি তার মুখেই শুনা, তাদের গ্রামের ঘটনা। সেই বৃদ্ধ লোকটিকে তিনিও দেখেছেন। জমিদারের মতন পয়সাওয়ালা, ডাকাবুকো লোক, জমিজমাও ছিল অনেক। বাড়ীতে সারা বছর আট-দশ জন চাকর খাটত। লোকটির আসল নামটি খুব কম লোকেই জানত, তবে 'দরবারি' নামে আশেপাশের দশ গ্রামের লোক এক-ডাকে তাকে চিনত। কিন্তু সবাই তাকে এড়িয়ে চলত। কেন?

কারণ, লোকটি কম-বেশী সবার সাথে ভেজাল পাকাত। কি রকম ভেজাল?


জমি নিয়ে সে যার-তার সাথে বিবাদ করত। ছোট-খাট ঘটনা ঘটলেও টাকার জোর দেখিয়ে যার-তার বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা করে দিত। গরীব-ধনী, কোনও বাছ-বিচার ছিল না তার কাছে। বিনা কারণে, শুধু নিজেকে 'বড়' দেখাতে, মামলার প্যাঁচে সে প্রচুর লোকের ক্ষতি করেছে, অনেক গরীব লোককে ভিটা-মাটি ছাড়া করে। এমন মামলা করতে-করতে এক সময় তার মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৫০ এর কাছাকাছি। দেশের উকিল, আদালত আর মামলার হিসাব আমাদের সবারই জানা। যেই মামলা দিয়ে সে এত মানুষের ক্ষতি করল, সেই মামলার খরচ বয়ে যেতে-যেতে সেও একদিন শেষ হয়ে গেল। কথায় বলে পতনের বীজ লুকিয়ে থাকে পত্তনের মধ্যেই। তাছাড়াও এক প্রবাদ আছে, এক বাঁশ ঝাড়ের মামলায় দুই জমিদার ফকির, আর তাদের দুই উকিল, জমিদার।

সময় সদা বহমান, সে কারোর জন্য অপেক্ষা করে না। সত্যিই একদিন সেই দরবারির দিন পাল্টাল। অবস্থা এমন হল যে, ভাতই জোটে না। ততদিনে তার বয়সও হয়ে গেছে , দেহে আগের জোর আর নেই। ছেলে-মেয়েরা বড় হয়েছে , রোজগার করতে শিখেছে। কিন্তু তবু দরবারির ভাত জোটে না, থাকার জায়গা জুটে না। কারণ, ছেলেমেয়েরা তাকে বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছে। তারা চায় না, দরবারির পিছু-পিছু পুলিশ- আদালত বাড়িতে ঢুকুক। দরবারি ঠিকানা এখন গ্রামের মাটির পথ, গাছের তলা। ছেলে-মেয়েদের সাথে তার অহি-নকুল সম্পর্ক। দয়া হলেও বৃদ্ধ দরবারিকে গ্রামের কেউ জায়গা দিতে চায় না, ভিক্ষা দিতে চায় না, খেতেও দিতে চায় না। কারণ, গ্রামের কেউ দরবারিকে ভিক্ষা দিলে অথবা খেতে দিলে, দরবারির ছেলে-মেয়েরা এসে তাদের সাথে প্রচণ্ড ঝগড়া শুরু করে দেয়, কখনো-কখনো মারামারি পর্যন্ত হয়ে যায়। ছয় ঋতু, বার মাস দরবারির পথে-পথেই কাটে। রাস্তার পচা-গলা খেয়ে কোনও ভাবে জীবন চলে। তবে তার জন্য গ্রামের লোকদের তেমন দুঃখ হয় না। কারণ, গ্রামের প্রায় সব পরিবারই কোন-না কোন ভাবে তার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাগ্যক্রমে শেষে ঐ গ্রামে কিছুদিন পরে একটি মন্দির স্থাপিত হয়। সেখানে রোজ দুপুরে মহা-প্রসাদ বিতরণ করা হত। একদিন দরবারির ছেলে-মেয়েরা জানতে পারল যে, দরবারি প্রতিদিন ঐ মন্দিরে মহা-প্রসাদ গ্রহণ করে পেট ভরে খিচুরি খায়। ব্যাস, পরদিন থেকেই ছেলে-মেয়েদের কেউ-না কেউ রোজ ঐ মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে, যেন দরবারি কোনও ভাবেই মন্দিরে প্রবেশ করতে না পারে, মহা-প্রসাদ গ্রহণ করতে না পারে। মানুষও এমন হয়, না কি ঈশ্বরই চান না? অনাহারে একদিন ঐ বৃদ্ধ দরবারি সেই মন্দিরের সামনেই মরে পড়ে রইল।

◕ Bengali Story writing competition. More..




পরের 'ছোট গল্প' আগামী রবিবারে প্রকাশিত হবে।
লেখক / লেখিকাদের কাছে স্বরচিত লেখা আহবান করছি।

◕ This page has been viewed 83 times.


ত্রিপুরার পটভূমিতে রচিত গোয়েন্দা গল্প:
মাণিক্য
সর্দার বাড়ির গুপ্তধন রহস্য
প্রেমিকার অন্তর্ধান রহস্য
লুকানো চিঠির রহস্য


All Bengali Stories    35    36    37    38    39    40    41    42    (43)    44