Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
Read & Learn
 

List of Bengali Strories, Novels and Poems



Latest Bengali Strory

◕ উঠান পূজা

অনেক আগের কথা। এক দুর্ব্যবসায়ী বটপলাল; খুব লোক ঠকানো ব্যবসা তার। গ্রামের মানুষও নানা কারণে তার কাছে না গিয়ে আর পারে না। দুষ্ট বটপলাল এই সুযোগকে নিজের জন্য কাজে লাগিয়ে, গরীব মানুষদের নানা ভাবে ঠকিয়ে দিনের পর-দিন খুব ধনী হয়ে উঠল। সে মানুষকে খুব ঠকাত, কিন্তু ফিরিয়ে দিত না; সাহায্য করত। অনেকে তাকে খুব বোঝাল, কিন্তু বটপলাল লোক-ঠকানো ব্যবসা থেকে এক চুলও সরে এল না। শেষে মানুষের অন্তরের অভিশাপ একদিন ঠিক ফলল। More ...

বাংলা গোয়েন্দা গল্প

◕ মাণিক্য -
ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা। উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি ছোট্ট সুন্দর শহর। শহরটির ঠিক মাঝখানে ধবধবে সাদা রাজবাড়িটি ঠিক পূর্ণিমা চাঁদের মতই সদা ঝলমল করছে। ১৮৯৬-৯৭ সালে ত্রিপুরাতে এক বিধ্বংসী ভূমিকম্প হয়। চারিদিকে প্রচুর ক্ষয় ক্ষতি হয়, প্রচুর বাড়িঘর ভেঙ্গে পরে, রাজবাড়িও রেহায় পায়নি। সেই ভূমিকম্পের পরেই মহারাজ রাধাকিশোর মাণিক্যে বাহাদুর বর্তমানের উজ্জ্বয়ন্ত প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। ১৯০১ থেকেই এই প্রাসাদটি উজ্জ্বয়ন্ত প্রাসাদ নামে ইতিহাসের পাতায় বিদ্যমান। এই প্রাসাদ থেকে প্রায় ৫২০ ইতিহাস বছর দূরে পরে আছে ত্রিপুরার আরেক ইতিহাস। ঐ সময়ে ত্রিপুরার পরম পরাক্রমী রাজা গোপীপ্রসাদ প্রতিষ্ঠা করেন ত্রিপুরার বিখ্যাত কসবা কালীবাড়ি। যেই কালীবাড়িতে আজও সেই প্রায় ৫০০ বছর আগেকার নিয়ম মেনেই প্রথামত পূজো হয়। মহারাজ গোপীপ্রসাদের মত এমন বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান, পরাক্রমী আর প্রভাবশালী রাজা ত্রিপুরার ইতিহাসে আর দুটি পাওয়া যায় না। মহারাজ গোপীপ্রসাদকে আমরা সবাই মহারাজ ধন্যমাণিক্য নামেই জানি। হ্যাঁ, মহারাজ ধন্যমাণিক্যের আসল নাম ছিল গোপীপ্রসাদ। তবে প্রথম জীবনে উনাকেও বিভিন্ন রাজ-চক্রান্তের মধ্যে পড়তে হয়েছিল। More ...


◕ সর্দার বাড়ির গুপ্তধন রহস্য -
আগরতলা শহর থেকে প্রায় সাতচল্লিশ কিলোমিটার দূরে হল উদয়পুরের রাজারবাগ। সেখান থেকেও প্রায় পনের কিলোমিটার দূরে হল গঙ্গাছড়া গ্রাম। এই গ্রামের এক বিখ্যাত বাড়ি হল সর্দার বাড়ি। লোকে এই বাড়িটিকে শিকারি বাড়ি বলেও জানে। ঐ তল্লাটে যুবক-বৃদ্ধ এমন কেউ নেই যে এই বাড়িকে চিনে না। খুব নামি ডাকি বাড়ি, আর হবেই বা না কেন? জমিদার না হলেও, এক সময় এই বাড়ির পূর্ব-পুরুষেরাই ছিল আসে পাশের দশ গ্রামের হর্তা কর্তা। তাদের কথাই ছিল শেষ কথা। জমিদারের লাঠিয়ালরাও ভয়ে তাদের এড়িয়ে চলত। এর যথেষ্ট কারণও ছিল। এই বাড়ি ছিল ডাকাতদের বাড়ি। বেশ কয়েক পুরুষ ধরে ডাকাতিই ছিল ওদের পেশা। বিশাল ডাকাত দল ছিল তাদের। এই দলের সবাইকে দেখতে রূপকথার দৈত্যের মতই লাগত। যেমন উঁচা লম্বা, তেমনি হট্টা-কট্টা। ওরা তীর ধনুক থেকে শুরু করে লাঠি, তলোয়ার, বল্লম, ছোরা সব কিছুতেই ছিল খুব পারদর্শী, একেবারে সুদক্ষ লড়াকু। বন্ধু ও শরণাপন্নদের প্রতি ওদের যেমন ছিল অসীম দয়া, তেমনি শত্রুর প্রতি ছিল অপরিসীম নিষ্ঠুরতা। ওরা প্রাণ নিতে যেমন চিন্তা করত না, তেমনি প্রাণ দিতেও দু-বার ভাবত না। এহেন বাড়ির সাথে কে আর শত্রুতা করতে চায়! নীতিতেই হোক আর অনীতিতেই হোক সর্দার বাড়ির সম্পত্তি অঢেল। প্রচুর জমি-জামা, অনেক পুকুর বিল। এছাড়া টাকা পয়সা ধন রত্ন তো আছেই। কিন্তু এ পথ এত সহজ ছিল না, সব কিছু এত সহজে চলে আসেনি। এর পিছনে ছিল প্রবল রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। More ...


◕ প্রেমিকার অন্তর্ধান রহস্য -
২০১৬ সালকে বিদায় দিয়ে গত রাতে ঘুমাতে-ঘুমাতে রাত প্রায় একটা। একটি বিশাল সরোবরের পাড়ে পাড়ে একা একা হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে রাজবংশী। সরোবরের কুচকুচে কালো জলে ফুটে আছে শ্বেতপদ্ম, লালপদ্ম, শালুক, সুঁদি। সামনেই একটি সুন্দর টিলা। তাতে অতি সুন্দর একটি ফুলবাগান। চারিদিকে শুধু ফুল আর ফুল। ফুলে ফুলে সেজে আছে ফুলবাগানটি। প্রজাপতিরা পাখা মেলে মনের সুখে উড়ে বেড়াচ্ছে। ফুলপরিরা আকাশ পথে নেমে আসছে ফুলবাগানে। রূপার সাজি ভরে ফুল নিয়ে আবার আকাশ পথে উড়ে চলে যাচ্ছে আকাশের ওপারে। সেখানে তাদের বিশাল এক রাজপ্রসাদ। সেই রাজপ্রসাদ থেকে মৃদু মন্দ হাওয়ারা ঠেলে ঠেলে নিয়ে আসছে সাদা মেঘের রথ। রথে বসে আছেন মেঘ-রাজা। তিনি ঐ ফুলবাগানে পুষ্পবৃষ্টি করছেন। মেঘ-রাজার আদেশে স্বর্ণপত্র ঝরে পড়ছে ফুলবাগানটির কোনায়-কোনায়। ফুল, মেঘ, প্রজাপতি, ফুলপরি, হাওয়া, মেঘ-রাজা সবাই নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আনন্দে নেচে-নেচে বেড়াচ্ছে। অবাক চোখে রাজবংশী চেয়ে রইল সেই দিকে। এমন সময় সে দেখল, হঠাৎ কোথা হতে রকেট বাজিতে চড়ে উড়ে আসছে সদানন্দ বসাক, মহিষাসুরের বেশে। পিছনে উড়ে আসছে তার শত শত কুমন্ত্রী-গন। সদানন্দ রকেট বাজিতে চড়ে উড়ে বেড়াচ্ছে আর হা-হা করে হাসতে হাসতে। হাতে ঝাঁকে-ঝাঁকে লঙ্কা পটকা। লঙ্কা পটকাগুলিতে ফু মেরে আগুন লাগিয়ে এদিক-ওদিক ছুঁড়ে মারছে আর ষাঁড়ের মত চেঁচাচ্ছে,"হ্যাপি নিউ ইয়ার! হ্যাপি নিউ ইয়ার!" সেই লঙ্কা পটকাগুলি ঠুস-ঠুস করে ফুটছে আর সদানন্দ রাবণের মত অট্টহাসি দিয়ে উঠছে। More ...

বাংলা উপন্যাস

কানামাছি

রাত না দিন বোঝার কোন উপায় নেই। ঘরের ভেতরটা ভীষণ অন্ধকার। জায়গাটা ঠিক কোথায় সেটাও বোঝার উপায় নেই। কতদিন এইভাবে আটকে পড়ে থাকতে হবে এখানে বুঝতে পারছে না মাধবী। তবে প্রথম দু-তিন দিন এখানে একা একা থাকতে ওর সামান্য ভয় ভয় লেগেছে বটে। কিন্তু এখন আর তেমন মন্দ লাগছে না। বিশেষ করে যেদিন প্রথম বুঝতে পারল পৃথিবীতে এই একটা জায়গা যেখানে তরুণকে একান্তে পাওয়া যায়। শ্বশুরবাড়ির ক্রমাগত নরক যন্ত্রণার চাইতে এই ফ্ল্যাটে একা পড়ে থাকা ঢের বেশি ভাল। কষ্টের দিনগুলি থেকে পালিয়ে এসে এই যে এখানে স্বাধীনভাবে পড়ে রয়েছে তা যেন বেঁচে থাকার জন্য ওকে অক্সিজেন দিচ্ছে। আজ আর কোন রাগ নেই তার মনে। আপাতত এটাই রিলিফ দিচ্ছে যে অবশেষে সব মায়া ছিঁড়ে ফেলে পালাতে সক্ষম হয়েছে। মায়া মমতা প্রেম কত শত নীতি বাক্য বিয়ের আগে থেকে মা নামতা-র মতো প্রতিদিন শিখিয়েছেন। মা-র শাসন তাকে অনেক সময় ক্লান্ত করে তুলতো। অথচ বিয়ের পর যে সংসার সে উপহার পেল তা মা-র কল্পিত সংসারের সাথে কোন মিল নেই। স্বাধীনতা হীন কোন জীবন কি কখনো কারও কাঙ্ক্ষিত হতে পারে? More ...


দেহরক্ষী

অলোলের মা-বাবা, ভাই-বোন আছে কি নাই- কেউ জানে না। সে একাই এক কামরার ঘরটিতে থাকে। কিন্তু ঘরটি এমন ভাবে সাজানো যেন সেকালের খুব আমির এক রাজকর্মচারীর বৈঠকখানা। তাতে খুব একটা আহামরি দামের কিছু নেই বটে তবে যা আছে তা নিশ্চয়ই অতি সাধারণ নয়। হাত বাড়ালেই সহজে এই সব জিনিস বাজারে পাওয়া যাবে না। এই জিনিসগুলির মধ্যেই ছিল একটি ছুরি। গোপনে সে কোন এক চোরা কারবারি কাছ থেকে এটি কিনেছিল। হাতের তালুর মধ্যে তা অতি সহজেই রাখা যায় এবং হাতের তালুর মধ্যে তা রেখে দিলে - বাইরে থেকে কেউ টেরই পাবে না। এটি নাকি কোন আমলের কোনও এক মনিপুরী রাজার ছুরি। এই ছুরিটির বিশাল এক ইতিহাস। হাতে নিলেই বুঝা যায় এই ছুরি সাধারণ ছুরি নয়। সাংঘাতিক একটা মারণাস্ত্র। তবে বহু পুরানো - কমপক্ষে দুই - আড়াই হাজার বছরের পুরানো তো হবেই। কিন্তু এত দিন পরেও তার জৌলুস যেন কিছুই কমেনি - যেন ঠিক আগের মতই আছে। ধার এখনো এমন তেজ যে, যে কোন মুহূর্তে চাইলেই শেষ করে দিতে পারে একটা তাজা প্রাণ। এটি হাতে নিলে বুকের রক্তটা হঠাৎ থমকে উঠে। এ কী আর যেমন তেমন ছুরি? More ...


বাংলা ছোট গল্প

এক রাজা সকাল সন্ধ্যায় তার রাজপ্রাসাদের ছাদে হাটাহাটি করতেন। রোজ তিনি দেখতেন পাশের পথটি দিয়ে একটি কাঠুরিয়া সকালে কাঠ কাটতে বনে যায় আরে বিকালে শুকনো কাঠ নিয়ে ঐ পথেই ফিরে আসে। রাজা যখন সকালে কাঠুরিয়াকে দেখেন তখন তার মনে কাঠুরিয়া জন্য খুব দয়া হয়। মনে হয় তাকে ১০০ স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে দেই। কিন্তু রাজা বিকালে যখন কাঠুরিয়াকে দেখেন তখন তার মনে হয়, এই পাজিটাকে যদি ফাঁসি দিতে পারতাম। একই কাঠুরিয়ার প্রতি রাজার মনের এমন পরিবর্তন কেন হয়, এই প্রশ্ন রাজা তার মহামন্ত্রীকে করলেন। মহামন্ত্রী দুই দিন সময় চাইলেন। More ...


এক উৎকৃষ্ট শিল্পী ছিল। সে পাথর কেটে খুব সুন্দর মূর্তি বানতে পারত। একদিন সে একটি নির্জন বনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সেই বনে, তার পথের মাঝে সে দুটি বড় বড় পাথর দেখতে পেল। সে পাথর দুটির দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল। তার চোখের সামনে সেই পাথরের উপর দুটি মুর্তি যেন ভেসে উঠল। সে বুঝতে পারল এই পাথর দুটি দিয়ে খুব সুন্দর দুটি মূর্তি বানানো যাবে। সে আর দেরী করল না - সাথে সাথেই সেখানে মূর্তি বানানোর কাজে লেগে গেল। হাতুড়ি, ছেনী দিয়ে সে প্রথম পাথরটাকে কিছু আঘাত করতেই পাথরটি কাঁদতে শুরু করল। বলতে লাগল - থামো! থামো! এ তুমি কী করছো? আমার আরামটা ভেঙ্গে দিলে, আমার বড় কষ্ট হচ্ছে। তুমি তোমার কাজ বন্ধ কর। শিল্পী বলল - একটু অপেক্ষা করো। একটু ধৈর্য ধরো। আমার কাজ হয়ে গেলে তোমাকে দেখতে যে খুবই সুন্দর লাগবে। তুমি নতুন রূপ, নতুন আকার পাবে। পাথরটি চীৎকার করে বলল - রাখো তোমার রূপ! তোমার আঘাতে তার আগেই যদি আমি ভেঙ্গে যাই! না না বাবা! তোমার রূপ তোমার কাছেই থাক। ওতে আমার কাজ নেই। তুমি তোমার ঐ হাতুড়ি, ছেনী রেখে দাও। আমার কাজ নেই নতুন রূপের, সুন্দর রূপের। More ...


এক রাজার দেশে এক পণ্ডিত ব্যক্তি বাস করতেন। যেমন ছিল তার পাণ্ডিত্য তেমনি ছিল তার সদাচার। প্রজারা উনাকে খুব সম্মান করতেন। রাজাও উনাকে ভালবাসতেন ফলে রাজদরবারে উনার যাতায়াত ছিল। একদিন তিনি ভাবলেন যে সবাই আমাকে সম্মান করে , ভালবাসে এর কারণ কি ? এরা কি আমার গুনকে ভালবাসে নাকি আমার সদাচারকে ভালবাসে ? পরদিন যখন তিনি রাজদরবারে গেলেন ফিরে আসার সময় কাউকে কিছু না বলে রাজকোষ থেকে চুপচাপ একটি মোহর নিয়ে গেলেন। রাজকোষের অধিকারী ভাবল, হয়তো কোন বেশ গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে তাই তিনি একটা মোহর নিয়ে গেলেন। বলতে ভুলে গেছেন। More ...

মজাদার ছোট বংলা গল্প
“দিন সমান নাহি যায়”

যা লিখছি তা একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে লিখছি। আমার এক বন্ধু আছে রঞ্জন। বাড়ী ওড়িশার এক গ্রামে। কথাটি তার মুখেই শুনা। তাদের গ্রামের ঘটনা।বৃদ্ধ সেই লোকটাকে তিনিও দেখেছেন। ঘটনাটা এই রকম , ঐ গ্রামে একজন জমিদার মতন লোক ছিল। সবাই তাকে দরবারি নামেই চিনত। আসল নামটা খুব কম লোকেই জানত। তবে দরবারি নামে আশেপাশের ৫ গ্রামের লোক তাকে চিনত আর সবাই তাকে এড়িয়ে যেত। কারণ – লোকটা খুব ভেজাল পাকাত। কি রকম ? লোকটার প্রচুর টাকা পয়সা ছিল , জমিজমা ও ছিল অনেক। বাড়ীতে সারাবছর আট-দশটা চাকর থাকত। More ...

দুই বন্ধু

এক গ্রামে দুই বন্ধু ছিল। অমল আর বেণু। দুজনই দোকানদার।পাশাপাশি বাড়ি, পাশাপাশি দোকান। দুজনের মধ্যে কিছু পার্থক্য ও ছিল। অমলের মনে ঈর্ষা ছিল। সে সব সময় ভাবত, বেণু আজ না জানি কেমন ব্যবসা করেছে? হয়তো আমার থেকেও বেশী। সে যদি না থাকত তবে আমার কাছে আরও বেশী খদ্দের আসত! আমার দোকান আরও ভাল চলত! প্রথম প্রথম তার মনে এ রকম ভাবনা ছিল। কিন্তু কথায় বলে ঈর্ষা কখনো একা আসে না। তার পিছে পিছে কুবুদ্ধি, হিংসাবৃত্তি ও আসে। অমলের মনেও তাই এলো। সে তার গ্রাহক বা অন্য গ্রামবাসীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে লাগল More ...

দুই মূর্খ চেলা

এক জমিদার ছিলেন। তার দুই চেলা ছিল। গদু আর মধু। জমিদার যখন যেখানে যেতেন গদু উনার পেছন পেছন ছাতা নিয়ে চলত। আর মধু জমিদারের বই পত্র, চাদর নিয়ে চলত। জমিদার যখন রাতে বিশ্রাম করতেন গদু সব সময় বাম পা টিপে দিত আর মধু ডান পা। গদু জমিদারের বাম পা টা নিজের মনে করত আর মধু জমিদারের ডান পা টা নিজের মনে করত। গদু আর মধুর মধ্যে সব সময় একটা বিষয় নিয়ে বিবাদ চলত যে কে বাবুর বেশী ভক্ত ? কাকে বাবু বেশী ভালবাসে ? এই বিবাদ এতই বেশী যে তারা একে অপরকে সহ্যই করতে পারত না। More ...

বন্ধু

ঘটনাটি আমার এক ডাক্তার বন্ধুর, আর তার মুখেই শুনা। বন্ধুটির নাম সুপ্রতিম। তার বাবাও ডাক্তার। ফলে সে কোন দিন জানত না অভাব কাকে বলে। ছোটবেলা থেকেই ধনীর ছেলে ধনীর মতই বড় হয়েছে। তবে সে মনের দিক দিয়ে ধনী হয়েছে অনেক অনেক পরে। তখন তার বয়স বার/তের। পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। সকাল এগারটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত স্কুল চলত। দুপুরে এক ঘণ্টার ছুটি ছিল। বেসরকারি স্কুল, খরচাও খুব বেশী। তাই ধনী ছাত্ররাই তার সহপাঠী ছিল। তবে একজন ছিল আলাদা, দেবেশ। তার বাবা বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সামনে More ...

বড় গল্প
অপুর কথা

সে অনেক অনেক দিন আগের, ঈশানপুরের কথা। ঈশানপুর আগরতলা শহর থেকে অনেক অনেক দূরের এক গ্রাম। গ্রামে যাবার তেমন কোন বড় রাস্তা নেই। মাটির পথটি একটু প্রসস্থ। ঐটুকুই। গ্রামের পাশ দিয়ে চলে গেছে গোমতী নদী। সব সময়ই জল ভরপুর। তাই ছোট্ট অপুকে তার মা সব সময় বলত “অপু, তুমি কিন্তু কখনো ঐ নদীর দিকে একা যাবে না। যদি যাও তবে কিন্তু আমাকে আর পাবে না। আমি চিরদিনের জন্য তোমাকে ছেড়ে ঐ আকাশে চলে যাব।” সজলার আদরের ছোট্ট অপু কতটুকুই কি বুঝত কে জানে? তবে সে ফ্যাল ফ্যাল করে তার মার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকত। চুপ করে মা ‘র গলা জড়িয়ে ধরে মার বুকে মাথা রেখে দিত। ব্রজহরি আর সজলার আদরের ধন অপু। অভাবী সংসারেও অপুর আলতো আলতো কথাতে হেসে খেলে দিন চলে যাচ্ছিল তাদের। ঐ শ্রাবণ মাসে চারিদিকে জল থৈ-থৈ। অপু সকাল বেলা চুপি চুপি কাউকে কিছু না বলে একা একা গুটি গুটি পায়ে চলে এল গোমতীর পারে। নদীর পারে পারে হাঁটল অনেকক্ষণ। নদীর পাশের সেই মাটির পথটিতে বসে মহা-আনন্দে তাকিয়ে রইল সেই গোমতীর দিকে। যখন তার খেলা শেষ হল সে আবার চুপিচুপি ফিরে চলল বাড়ির দিকে। More ...

বুড়ি ভিখারি

সেই সময়ে সেই রাজার দেশে, এক পাহাড়ের পাদদেশে, এক গ্রামে এক গরিব বিধবা মা ও তার মেয়ে থাকত। তাদের ভাঙ্গা ঘরের চাল দিয়ে আকাশের তারা সুন্দর দেখা যেত। মা লোকের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে এক আনা- দুই আনা রোজগার করত। তার রূপসী যুবতী মেয়ে ঘরে বসে গ্রামবাসীদের জামাকাপড় সিলাই করে এক আনা- দুই আনা পেত। কোন ভাবে খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে তাদের সংসার চলছিল। তাদের না ছিল ভাল ঘর, না ছিল ভাল কাপড়। না ছিল ভাল থাকার জায়গা, না ছিল দামী গয়না, না ছিল ভাল খাবারের জোগাড়। তবে তাদের মন ছিল সোনার। তাই গ্রামের সবাই তাদের স্নেহ করত। আর কনক দেখতেও ছিল কনকের মতই সুন্দরী, সুশ্রী, নম্র, ভদ্র। কিন্তু কনক তাদের অবস্থা এমন ছিল না। তারাও এক সময় ভাল অবস্থায় ছিল। কনকের বাবার ভাল ব্যবসাও ছিল। কিন্তু কনকের কাকা তার বাবাকে খুব ঠকিয়ে সব টাকা পয়সা নিজের করে নেয়। এই দুঃখে দুঃখে কনকের বাবা মারা গেল। আজ কনক দুবেলা খেতে পায়না, কিন্তু তার কাকা, কাকী আর কাকাতো বোন, হেমা প্রতিদিন মাছ-মাংস আর দশ-পনের তরকারি দিয়ে ভাত খায়। যতটুকু খায় তার থেকে বেশী লোকসান করে। কাউকে কিছুই দিতে চায়না। More ...

ছোট-ছোট গল্প
রাহু চোর

এক দিন এক রাজ দরবারে এক চোর এসে হাজির হল। তার কদাকার, কুৎসিত রূপ। সে রাজাকে প্রণাম জানিয়ে বলল “মহারাজ, আমি একজন চোর। সবাই আমাকে রাহু চোর বলে ডাকে। জীবনে আমি অনেক চুরি করেছি, অনেক মানুষের ক্ষতি করেছি। কিন্তু আমি প্রতিজ্ঞা করেছি আর কখনো চুরি করব না। আমি এখন ভাল হয়ে চলতে চাই। আমি একজন গুণী শিল্পী হতে চাই। ছোট বেলা থেকেই মাটির মূর্তি গড়ার সখ ছিল আমার। এই কাজটাকে আমি ভালবাসি আর সেই মত কাজ ও করেছি। কিন্তু যত চেষ্টাই করিনা কেন আমার মূর্তি আর সুন্দর হয় না, কুৎসিত-কুরূপ হয়। কেন আমি শত চেষ্টাতেও সুন্দর মূর্তি গড়তে পারছিনা? এই প্রশ্নের জবাব আমি খুঁজে পাচ্ছিনা। দয়া করে আমার সমস্যার সমাধান করুন।” More ...

পবন-পাহাড়

ভুবনগড়ের রাজা খুব পরাক্রমী, বুদ্ধিমান আর জ্ঞানী। সে দেশের কিশোর রাজপুত্র একদিন রাজাকে বললেন “বাবা, কেউ কেউ সুন্দর কথা বলে, তাদের কথা শুনারই ইচ্ছা হয়। এমন কেন? আর লোকের মুখে আমি ভাগ্যের কথা শুনি। এই ভাগ্যটা কি?তুমি কি আমাকে তা বুঝিয়ে দিতে পারবে?” রাজপুত্রের মুখে এ কথা শুনে রাজা খুব খুশী হলেন। তিনি মনে মনে হাসলেন আর বললেন “বাঃ রাজকুমার। আমি এই প্রশ্নে খুব খুশী হয়েছি। কালকে সকালে আমরা পবনপাহাড়ে যাব। সেখানেই আমি আপনার প্রশ্নের উওর দেব।” পবনপাহাড় হল স্বল্প উচ্চতার একটি পাহার। চারিদিকে সবুজ আর সবুজ। এই পাহাড়ের উপর থেকে ভুবনগড়কে খুব সুন্দর দেখা যায়। More ...

ঘাটের অতিথি

বকুল দেশের রাজা প্রায়ই রাজমহল ছেড়ে ছদ্মবেশে নিজ দেশের আনাচে কোনাচে ঘুরে বেড়ান। একদিন রাজা বকুল দেশের নিজল নদীর পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি লক্ষ্য করলেন ঘাটে খুব সুন্দর একটি নৌকা বাঁধা আছে। নৌকাটি তাজা ফুলে ফুলে সাজানো। তাজা ফুলের সুভাষ চারিদিক ম-ম করছে। রাজার মনে কৌতূহল হল। তিনি এগিয়ে গিয়ে সেই নৌকাটিতে বসলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই এক সুন্দরী-রূপসী যুবতী এসে সেই নৌকায় হাজির হল। সে নিজের নৌকায় এক পরপুরুষকে দেখে অবাক হয়ে রাজার পরিচয় জানতে চাইলেন। রাজা নিজের পরিচয় গোপন করে তাকে বললেন, “আমি এমন সুন্দর নৌকা আর এমন সুন্দর ফুল আগে কখনো দেখিনি। তুমি কোথা থেকে এমন সুন্দর ফুল সংগ্রহ কর? More ...

ঈশ্বর রাজা

এক দশে এক রাজা ছিলেন। তিনি নিজেকে সর্বশক্তিমান ভাবতেন। তিনি ভাবতেন, ঈশ্বরই উনাকে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন রাজত্ব করতে। তাই তিনিই ঈশ্বর। তিনি যা আদেশ দেবেন তা স্বয়ং ঈশ্বরেরই আদেশ। রাজা কখনো ভুল করতে পারেন না। রাজার ইচ্ছাই ঈশ্বরের ইচ্ছা। কিন্তু কথায় বলে প্রদীপের তলাতেই অন্ধকার থাকে। তেমনি অনিচ্ছা স্বত্বে সারা প্রজা রাজার ভুল আদেশ মেনে নিলেও, রাজগুরু কখনোই রাজার ভুল আদেশকে মানতেন না। রাজগুরু ছিলেন মহাপন্ডিত আর সত্যিকারের সাধক। এত রাজ ঐশ্বর্যের মধ্যে থেকেও তিনি ফকিরের মতই থাকতেন। সব সময় তার মুখমন্ডল থেকে যেন এক দিব্য জ্যোতি নির্গত হত। More ...



Top of the page


View All Pages