Home   |   About   |   Terms   |   Library   |   Contact    
A platform for writers

পিপীলিকার বিভীষিকা

( 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার'- ২০২২-এর একটি নির্বাচিত গল্প)

-------- বিজ্ঞপ্তি ----------
■ 'স্বরচিত ছোট গল্প প্রতিযোগিতা ( ৬০০ শব্দের )', নভেম্বর, 2022 Details

◕ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা - সেপ্টেম্বর ২০২২, Result
--------------------------



List of all Bengali Stories

পিপীলিকার বিভীষিকা
লেখক - কুন্তল কুমার দে, বাবা - কাঞ্চন কুমার দে, বিজিটি রোড, ভদ্রকালী, হুগলী
( 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার'- ২০২২-এর একটি নির্বাচিত গল্প)


## পিপীলিকার বিভীষিকা

লেখক - কুন্তল কুমার দে, বাবা - কাঞ্চন কুমার দে, বিজিটি রোড, ভদ্রকালী, হুগলী

"বা, জায়গাটা বেশ সুন্দর।" বললেন শ্যামলবাবু।

ম্যানেজার ঘোষাল বলল, " আপনি একেবারে সঠিক সময়ে এই জায়গায় ঘুরতে এসেছেন। এই সময় আপনি প্রচুর বাঘ, হরিণ সবই দেখতে পাবেন।"

শ্যামলবাবু বললেন, " আর ঠাণ্ডাটা কোন বেলাতে বেশি পড়বে?"

ম্যানেজার বলল, "ভোরবেলার দিকে আর সন্ধ্যের সময়টায় বেশি পড়ে। তখন একটু সাবধানে থাকবেন আর রাতের দিকটায় বাইরে বেরোবেন না।"

শ্যামলবাবু শুনে বললেন, "আচ্ছা, তবে লাঞ্চ-এর সময় দেখা হচ্ছে।"

এরপর রুম-বয়ের সাথে তার নিজের রুম দেখতে চলে গেলেন।

শ্যামলবাবুর পুরো নাম শ্যামলকান্তি নন্দী। তার মূল নেশা হল ভ্রমণ করা ও বিভিন্ন গাছ গাছালি সংগ্রহ করা। আসলে তিনি উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক। বলতে গেলে তিনি একটি গাছ পাগল মানুষ, শুধু তাই নয় তাকে এক ধরনের প্রকৃতি প্রেমিক বলা চলে। অতএব এ জগতের যত জীব জন্তু, পোকা-মাকড় সবই যেন তার বন্ধু স্থানীয়। তিনি নিজে কোনদিনও মাছ, মাংস ও ডিম এসব ছুঁয়েও দেখেন না। বাড়িতে তিনি একলা মানুষ এবং তার সঙ্গে চাকর রামহরি। তার তাতে কোন অসুবিধা নেই। যেখানে কলেজে সবাই এই বিংশ শতাব্দীর যুগে দাঁড়িয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করছে ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে অধ্যাপকরা সেখানে শ্যামলবাবু একটি কি-প্যাড যুক্ত আদ্যিকালের নোকিয়া ফোন ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, " এই যে স্মার্টফোনগুলো আবিষ্কার হয়েছে সেগুলো সবার সর্বনাশ ঘটিয়ে দিচ্ছে । তারচেয়ে সময় নষ্ট না করে একটা কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো জিনিস রাখলে হয়। এর চেয়ে বই পড়লে অনেক কাজ দেয়।"

সত্যিই তার বাড়িতে যত রাজ্যের বই! বলতে গেলে তার একটা ঘর শুধুমাত্র লাইব্রেরী বলা চলে। আর একটি কাজ করেন শ্যামলবাবু। তিনি রোজ টিফিনে রুটি তরকারি নিয়ে আসেন এবং সে নিয়মের কোন ব্যতিক্রম হয় না। একেবারে বাঁধা ধরা ছকের মধ্যে যেন গাঁথা হয়েছে। তা দেখে একবার তার বিভাগের সহকর্মী ও অধ্যাপক জগদীশ বসাক বলেছিলেন, "তুমি এক কাজ করো তোমার বাড়িতে তুমি এক-একটা বড় পশুশালা, বাগান ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে নাও। তোমার যা মতি-গতি দেখছি তাতে তুমি যোগী-সন্ন্যাসী হয়ে গেলেও আশ্চর্য হবো না।"

শ্যামলবাবু বোঝেন তাকে খোঁচা মেরে কথাগুলো বলা হচ্ছে। কিন্তু তিনি ওসবে না করেন না; তার উত্তরে বলেন, "হ্যাঁ সেই পথেই অগ্রসর হবো ভাবছি।" তবে তিনি পশুশালার গঠনের পথে অগ্রসর না হলেও সন্ন্যাসী হওয়ার পথে অগ্রসর হয়েছেন। সন্ন্যাসী মানে গেরুয়া বসনই পরতে হবে এমন তো নয়, মন থেকেও সন্ন্যাসী হতে চাইলে হওয়া যায়। কিন্তু তিনি সন্ন্যাসের ধর্ম পুরোপুরি পালন করেন না, তিনি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেন বটে তবে তীর্থক্ষেত্রে নয়, জঙ্গলে-পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানোই তার কাছে তীর্থে যাওয়ার সমান। বাড়িতে তিনি খুবই কম থাকেন এবং কোন জায়গায় গাছের সন্ধান পেলে আর তো কোনও কথাই নেই; তখন তাকে আর আটকায় কে? এবার তিনি যেই জায়গাটায় এসেছেন সেটা সিকিম ও দার্জিলিং এর মধ্যের অংশ এবং গ্রামটার নাম অদ্ভুত, লাভা। উঠেছেন উনি একটি কটেজে এবং কটেজটি দেখেই বোঝা যাচ্ছে একতলাটা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং দোতলাটা উঠতে শুরু করেছে। তাতে অবশ্য শ্যামলবাবুর কোন অসুবিধা নেই।

রুম-বয় তাকে ঘরের কাছে নিয়ে এসে তালা খুলতে-খুলতে বলল, "সাব এখানে তো মাঝে-মধ্যে লোডশেডিং হয়, ওই জন্য দুটো মোমবাতি রাখা আছে, আর একটা দেশলাই বাক্স। বাথরুমে গরম জলের ব্যবস্থা আছে। আর কিছু লাগবে আপনার?"

শ্যামলবাবু বললেন, "এক কাপ চা দিয়ে যেও ঘরে।"

রুম-বয় বলল, "আচ্ছা।" বলে চলে গেল। শ্যামলবাবু তার হাত ঘড়িটা আর আর মোবাইল ফোনটা দেখে সময় বুঝলেন, এখন চারটে বাজতে দশ মিনিট। বোঝাই যাচ্ছে যে, এখন বেরোনো যাবে না এবং এখানে হঠ করে সন্ধ্যা নেমে যায়। তাছাড়া আজ অনেকটাই জার্নি করে ক্লান্ত হয়েছেন, তাই তোয়ালেটা নিয়ে সোজা বাথরুমে ঢুকে গেলেন। শীতকাল হলেও অনেকে যেমন ঠাণ্ডা লাগার বাতিকের জন্য স্নান করে না, শ্যামলবাবু সেই দলে পড়েন না। শীত-গ্রীৰ্ম-বর্ষা বাঁধা ধরা গতে স্নান করেন। যখন স্নান সেরে বেরোলেন তখন দরজায় টোকা দেওয়ার শব্দ শুনে দরজা খুলে দেখলেন রুম-বয় বাইরে চা নিয়ে অপেক্ষা করছে। তিনি তার হাত থেকে চা টা নিয়ে চুমুক দিয়ে বুঝলেন যে, একেবারে ফ্রেস চা। চা খেতে-খেতে বললেন, "তোমার নাম কি?"

রুম-বয়টি বলল, "আমার নাম রাজু।"

—"এখানে কত বছর আছো?" —"তা বছর পাঁচেক হবে।" —"আচ্ছা..."

কথা চলাকালীন হঠাৎ ম্যানেজার ঘোষাল প্রবেশ করলেন এবং বললেন, " সব ঠিক-ঠাক আছে তো?"

শ্যামলবাবু বললেন, "আপাতত সব ঠিকই আছে।"

ম্যানেজার রাজুর দিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, "রাজু আমার জন্য এক কাপ চা নিয়ে এসো তো।"

রাজু বলল, " আজ্ঞে স্যার।" বলে চলে গেল। শ্যামলবাবু বললেন, "আপনার এখান থেকে প্রাকৃতিক দৃশ্য সুন্দর ভাবে দেখা যায়।"

—"এই ভিউ বলেই তো হোটেল বানানোর ছক মশাই। আর তাছাড়া একতলা কমপ্লিট হয়ে গেছে প্রায়, দোতলার জন্য সবে ঢালাই হচ্ছে। তবে আপনি এই হোটেলের একমাত্র খদ্দের নন, আরও একজন এসে উপস্থিত হয়েছেন।"

শ্যামলবাবু বললেন, "কে তিনি?"

—"প্রফেসর সৌমেন বারিক। তিনিও আপনার মতই কলেজে পড়ান। তবে তার বিষয়টা একটু আলাদা, পোকামাকড় নিয়ে গবেষণা করেন। আমি অবশ্য তার সঙ্গে আলাপ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু, বড্ড অদ্ভুত গোছের লোক। খুব বেশি কথা বলেন না বটে, কিন্তু আপনার মত লোক পেলে কথা বলবেন নিশ্চয়ই। তবে উনি সবসময় ঘরে থাকেন না। আমি কিছুদিন লক্ষ্য করছি যে, যতদূর মনে হয় সকালের দিকটা বেরিয়ে যান এবং দুপুরবেলাটা ঘরেই থাকেন আর কখনো বেরোন না। যখন বেরোন তখন একটা ঝোলা নিয়ে বেরোন এবং সেই একই জিনিস নিয়ে ফেরেন৷ খাবার তার ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।"

শ্যামলবাবু বললেন, "তাহলে লোকটাকে তো একবার দেখতে হচ্ছে।"

ম্যানেজার বললেন, "আপনার সাথেই বনবে ভালো।"

শ্যামলবাবু বললেন, "আজ আর যাব না, এমনিতেই ক্লান্ত; কাল দেখা করব।" এই কথার পর রাজু চা নিয়ে এলো। ম্যানেজার চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন, "সে আপনি যা ভালো বুঝবেন। রাতের ডিনার আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে। সুতরাং, চলে আসবেন।"

—"নিশ্চয়ই।"

রাতে শ্যামলবাবু রুটি দিয়ে সয়াবিনের কারি ডিনার করলেন। সয়াবিনের কারিটা এতো সুস্বাদু হয়েছিল যে, তিনি দু-বাটি সয়াবিনই খেয়ে ফেললেন। রাতে মোবাইলটা দেখে সময়টা বুঝলেন, এখন পৌনে এগারোটা। কীট-বিশেষজ্ঞ ভদ্রলোকটি যে একটু অদ্ভুত তা মনে হওয়ার কারণ, রাতে খাবার খেতে না আসা। সামনা-সামনি আলাপে যে কি ফুটে উঠবে, কে জানে? সে যাইহোক, শ্যামলবাবু এসব ভাবতে-ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লেন। পরদিন শ্যামলবাবু সাড়ে পাঁচটায় উঠে পড়লেন আর সঙ্গে-সঙ্গে রাজু চা নিয়ে এলো। ব্রেকফাস্ট সেরে শ্যামলবাবু নটার মধ্যে বেরিয়ে পড়লেন। তাকে আবার গাছগাছালি সংগ্রহ যেতে হবে। ভেষজ উদ্ভিদগুলি দিনের আলোতে ভাল দেখা যায়, তার চিনে নিতে অসুবিধা হবে না।

বিকেল নাগাদ ওইসব গাছ সংগ্রহ করে উনি ফিরে এলেন। তারপর দেখা করতে গেলেন কীট-বিশেষজ্ঞ ভদ্রলোকটির সঙ্গে। বিকেল চারটে বাজে, সুতরাং তাকে দেখতে পাওয়া যাবে। শ্যামলবাবু দরজায় গিয়ে একবার টোকা মারলেন, দু-বার টোকা মারলেন, তিনবারে দরজা খুলতেই এক মধ্যবয়স্ক লোক বলে উঠলো, "কে আপনি, কি চাই?"

শ্যামলবাবু তার পরিচয় দিয়ে বললেন, "আমি আপনার নাম ম্যানেজারের কাছ থেকে শুনেছি, ভিতরে আসতে পারি?"

"নিশ্চয়ই," বললেন সৌমেনবাবু। শ্যামলবাবু বললেন, "আমি আপনার পোকামাকড়ের সংগ্রহ দেখতে এসেছি।"

তা শুনে সৌমেনবাবু একটু হেসে বললেন, "তা ভালো করেছেন। অবশ্য আমি পোকামাকড় নিয়ে থাকতে ভালোবাসি, সুতরাং আপনি বুঝতে পারছেন আমি বেশি লোকের কাছে ঘেঁষি না, বা আমার কাছে কেউ ঘেঁষে না। অবশ্য আপনাকে দেখে আমারই সমকক্ষ বলে মনে হচ্ছে।"

শ্যামলবাবু বললেন, "হ্যাঁ আমিও একটু গাছ-গাছালি সংগ্রহ করি ও উদ্ভিদবিদ্যা নিয়ে পড়াই।"

শুনে সৌমেনবাবু বললেন, "আমিও আগে এককালে পড়াতাম, এখন শুধু পোকামাকড় নিয়ে থাকি।"

শ্যামলবাবু দেখলেন তার ঘরে দুটো মোটা বই, তাতে ঠাসা পোকামাকড় সম্বন্ধে তথ্য। আর আছে সেখানে একটা নোটবুক যার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট জায়গা পেন দিয়ে আটকানো। শ্যামলবাবু বললেন, "আপনি কোনও নির্দিষ্ট পোকা বা কীট নিয়ে গবেষণা করেন, না অন্য ধরনের পোকা নিয়ে?"

সৌমেনবাবু ঘরের লাইটটা জ্বালিয়ে দিয়ে বললেন, "আগে অনেক কিছু নিয়ে করতাম এখন শুধু একটা বিষয় নিয়ে; পিঁপড়ে..."

—"পিঁপড়ে!!"

—"আজ্ঞে হ্যাঁ। ছোট থেকে শুরু করে বড়ো সব ধরনের পিঁপড়ে নিয়ে গবেষণা করি। এই ধরুন Red imported fire ants, carpenter ants, crazy ants এবং pharoah ants, কিন্তু আমি যেটা নিয়ে গবেষণা সবথেকে বেশি করি সেটা হলো রেড ইমপেরিটেড ফায়ার এন্টস। এদের নিয়ে গবেষণা করে এর থেকে বিভিন্ন ওষুধ পাওয়া যায়, জানেন... তবে সেটা উপকারীও হতে পারে বা ক্ষতিকারকও হতে পারে।"

শ্যামলবাবু বললেন, "হ্যাঁ, তা জানি..." এবার সৌমেনবাবু একটু চুপ করে একটা চুরুট ধরালেন। শ্যামলবাবুর লোকটিকে লক্ষ্য করলেন; লোকটির হাইট ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, মুখে একটি সাদা রঙের ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি, চোখে মাইনাস পাওয়ারের চশমা সোনালী রঙের, পরনে কোট-প্যান্ট আর পায়ে একটি কালো রঙের বুট। অর্থাৎ, লোকটি সাহেব জিনিসে অভ্যস্ত; তা স্বস্তিতে বসে চুরুট খাওয়া দেখেই বোঝা যাচ্ছে। দু-বার চুরুটে লম্বা টান দিয়ে বললেন, "আমি ছোটবেলা থেকেই পোকামাকড়ের পিছনে পড়ে থাকতাম। লোকে তো তাদের টিপে মেরে ফেলে, আমি তা করতাম না। আমি সেগুলো আমার গায়ে উঠিয়ে তাদেরকে ঘরে নিয়ে আসতাম। মা-বাবা প্রচণ্ড বকুনি দিতেন, কিন্তু আমি সেই কথা শুনতাম না। আমি সেগুলো নিয়ে আসতাম। তারপর একদিন আমি একটা পিঁপড়ে নিতে গেলাম, তখনই আমারই এক ক্লাস উঁচুতে পড়ে শিবুদা আমার চোখের সামনে একটা পিঁপড়েকে মেরে ফেলল পায়ে পিষে। আমার প্রচণ্ড রাগ হল। মনে-মনে বললাম, 'তোমাকে আমি শায়েস্তা করব।' তিনটে বিষাক্ত কাঠপিঁপড়ে সংগ্রহ করলাম আর একদিন শিবুদাকে তাক করে তাকে বুঝতে না দিয়ে তার গায় পিঁপড়েগলো ছেড়ে দিলাম। আমার বেশ আনন্দ হল। মনে-মনে হাসতে-হাসতে বললাম,' আর কখনো পিঁপড়েদের মারবি?' তারপরদিনই শুনি শিবুদার প্রচণ্ড জ্বর আর সেই থেকে আমার পিঁপড়ে সম্বন্ধে একটি কৌতূহল জন্মায়। স্কুল-কলেজের পাঠ শেষ করে আমি লন্ডনে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে এই কীটদের আমি লাভ করি। তারপর এদেশে এসে গবেষণা শুরু করি। তারপর ... আপনাকে বললামই তো, ওই একটা বিষয়ের উপর নজর দিচ্ছি।"

শ্যামলবাবু ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন পৌনে ন'টা বাজে, এবার উঠতে হয়। বললেন, "আচ্ছা তবে উঠি..." বলতেই সৌমেনবাবু বললেন, "আমার ছোট সংগ্রহশালাটা দেখে যান..."

শ্যামলবাবুর একটু কৌতূহল ছিল। তিনি না করতে পারলেন না। ভাবলেন একটু দেখে সোজা খেতে চলে যাবেন। সৌমেনবাবুর পাশের ঘরে ঢুকলেন শ্যামলবাবু। শ্যামলবাবুর ঘরের মতোই বড় দরজা খুলতে দেখা গেল ঘর ভর্তি পিঁপড়ে এবং ঘরের দেওয়ালে আটকানো একটা পিঁপড়ের বিভিন্ন অংশ-চিহ্নিত একটি হাতে আঁকা ছবি। বুঝলেন এটার সম্বন্ধে গবেষণার কাজ চলছে। আর প্রত্যেক জারের গায়ে লেবেলে মারা, কোনটা কোন পিঁপড়ে। তারপর হঠাৎ তিনি দেখলেন সবগুলোর ঢাকনা আলগা করে দিচ্ছেন সৌমেনবাবু। শ্যামলবাবু বললেন, "আপনি ঢাকনাগুলো আলগা করছেন কেন?"

সৌমেনবাবু বললেন, "ওদের খাবার সময় হয়েছে..." কিন্তু সৌমেনবাবু ওদের কিছুই খেতে দিলেন না। শ্যামলবাবু বললেন, "আপনি ঔষধ তৈরির কাজ ছাড়া আর কি কিছু কাজে লাগান এদের?"

—"এরা আরেক ধরনের কাজে লাগে; দেখবেন?" সেটা বলে তিনি ঘরের দরজার বাইরে গিয়ে দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিলেন। শ্যামলবাবু তৎক্ষণাৎ দরজায় গিয়ে করাঘাত করে বলেন, "আপনি কি করছেন?"

সৌমেনবাবু এক পৈশাচিক হাসি হেসে দরজার বাইরে থেকে বললেন, "আসিলে ওদের খিদে পেয়েছে। তাই দিয়ে আসলাম আপনাকে।"

শ্যামলবাবু আতঙ্কে বললেন, "আপনি এসব কি বলছেন?" তিনি বুঝতে পারলেন তাকেই খাদ্য হিসেবে রেখে আসা হয়েছে। সর্বনাশ!!! হঠাৎ একটা ঢাকনা খুলে পড়ে গেল। শ্যামলবাবু চেঁচিয়ে উঠলেন, "এটা করে আপনার স্বার্থটা কি?"

সৌমেনবাবু ভর্ৎসনা অথচ ঠাণ্ডা সুরে বললেন, "আপনাদের মত স্বার্থপর লোকেদের ধ্বংস করাই আমার স্বার্থ। আপনাকে একটা কথা বলতে ভুলে গেছিলাম, যে ছেলেটার জ্বর হয়েছিল তার দুদিনের মাথায় মৃত্যু হয়। সেই থেকে পিঁপড়েকে আমি নিজের বন্ধু আর সমগ্র মানবজাতিকে শত্রু বলে মনে করি। আপনার জন্য বেশি সময় লাগবে না, ধীরে-ধীরে সব জার খুললে আপনি দ্রুত শেষ হবেন... হা...হা..." সৌমেনবাবু পৈশাচিক হাসি হেসে উঠলেন। শ্যামলবাবু এদিকে দেখছেন তিনি আর কিছুক্ষণের মধ্যে পিঁপড়ের কবলে পড়বেন এবং খাদ্য পরিণত হবেন। হা ঈশ্বর!! এই কি ছিল তার কপালে? ধীরে-ধীরে কাঠপিঁপড়ে, আগুন-রঙা পিঁপড়ে সব সৈন্যবাহিনীর মতো এগিয়ে আসছে তার দিকে। আর তিনি থাকতে পারলেন না, চোখের দুটি ঘোলাটে হয়ে এল আর তারপর চারিদিক অন্ধকার। হঠাৎ একটি খটখট শব্দে চোখ মেলে দেখেন সকাল হয়ে গেছে। আলো ঘরে ঢুকেছে। খটখট শব্দে সম্বিত ফিরে পেলেন, দেখলেন, তিনি নিজের ঘরেই শুয়ে আছেন। উফ! কি বিচ্ছিরি স্বপ্ন রে বাবা। উঠে দরজা খুলতেই দেখেন রাজু, তার মুখ কেমন ফ্যাকাসে। শ্যামলবাবু জিজ্ঞেস করলেন, "কী হয়েছে রাজু?"

রাজু বলল, "বাবু আপনার পাশের ঘরে যে থাকতেন, সে কাল রাতে মারা গেছেন।"

—"কি করে!!"

—"পুলিশ এসে বডি দেখে বলছে পিঁপড়ের কামড়ে মরেছেন। বড় বিষাক্ত পিঁপড়ে ভেতরে ছিল। সব পুড়িয়ে দেবেন বলছে পুলিশ।"

শ্যামলবাবু কিছু না বলে শুধু, " আচ্ছা..." বললেন৷ রাজু চলে যেতেই মনে-মনে বললেন, "আর পিঁপড়ের সাথে দোস্তি নয়, আর গাছ সংগ্রহও ছেড়ে দেবো। মনে যে স্বপ্নের স্মৃতি আছে সেটাকে মুছে ফেলব।"
( সমাপ্ত )


Next Story

List of all Bengali Stories


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 6009890717