Home   |   About   |   Terms   |   Library   |   Contact    
A platform for writers

ঢিল

Online bangla Story

-------- বিজ্ঞপ্তি ----------
■ 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার - মে, ২০২৪' স্বরচিত গল্প লেখার প্রতিযোগিতা, ( প্রতি বছর মে মাসে ) Result
--------------------------



List of all Bengali Stories

ঢিল

লেখক - অগ্রদীপ দত্ত, বাবা- বিপ্লব কুমার দত্ত, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ
স্বরচিত গল্প প্রতিযোগিতা ( ৬০০ শব্দের) নভেম্বর-২০২৩ এর বিজয়ী গল্প

##
ঢিল

লেখক - অগ্রদীপ দত্ত, বাবা- বিপ্লব কুমার দত্ত, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ

#
পাড়ার মোড়ে এসে দাঁড়ালেন সৌম্য রঞ্জন বাবু। পুরো পাড়া জুড়ে আলোর বহর। ছাদ কার্নিশ ব্যালকনি এমনকি বাগানের গাছগুলো অবধি টুনি লাইটের আলোয় এমন সেজে উঠেছে যে, চোখ ধাঁধিয়ে যায়। একটু আগেই বাজি ফাটানো হয়েছে এই গলিতে। বারুদের গন্ধটা মায়ের শরীরের গন্ধের মতোই আদুরে। কীভাবে যেন হাওয়ায় মিশে থাকে অনেকক্ষণ! সৌম্যরঞ্জনবাবু বুক ভরে শ্বাস টানলেন। আহহ! শব্দটা অস্ফুটেই বেরিয়ে এল মুখ থেকে। চারিদিকের রোশনাই আর বারুদের গন্ধে চোখে জল চলে এল তার। পাঞ্জাবীর ময়লা হাতায় চোখের কোণ মুছে ধীর পায়ে এগোতে লাগলেন সামনের দিকে। সব বাড়ির পাঁচিলে, সদরের সামনে টিমটিম করে জ্বলছে প্রদীপের আলো। আজ ভূত-চতুর্দশী। পূর্ব-পুরুষেরা আজ মর্ত্যে নেমে আসেন। ছোটবেলায় বাবার সাথে বাড়ির সমস্ত কোণে প্রদীপ দিতে গিয়ে দুষ্টামির কথা মনে পড়ে গেল সৌম্যবাবুর। নিভে যাওয়া প্রদীপগুলো অন্যের বাড়ির টিন তাক করে ছুঁড়ে মারতেন বন্ধুরা মিলে। পাড়া-শুদ্ধু লোক ভয় পেত ভূতের। তখন কী আর জানা ছিল দিনটার গুরুত্ব!

রাত সাড়ে ন'টা। অথচ পুরো গলি ফাঁকা দেখে একটুও অবাক হলেন না সৌম্যরঞ্জন। পাড়ার অপর প্রান্তের মোড়ে এখন নিশ্চয় সবাই ব্যস্ত পুজো মণ্ডপ সাজাতে। লাট্টু, বিমল, শক্তিরা এতক্ষণে ঠাকুর আনতে চলে গেছে রেললাইনের পারে। সারাবছর ব্যাটারা গায়ে হাওয়া লাগিয়ে টো টো করে ঘুরে বেড়ালেও পুজোর কয়েকটা দিন ভীষণ রকম সিরিয়াস। মালঞ্চ সংঘের বরাদ্দ কাজের অধিকাংশই নির্ধারিত সময়ের আগে করে ফেলে বরাবর।

মালঞ্চ... নিজের মেয়ের নামেই পাড়ার ক্লাবের নাম দিয়েছিলেন সৌম্যরঞ্জন। পুজোর কয়েকটা দিন কী হৈ-হুল্লোড়েই না কাটে! পাড়ার একমাত্র কালীপূজা বলে কথা। মিষ্টি, শিমূল, ঝিনুক, পাপড়িরা প্রতিবারই গ্রুপ নাচ করে। শ্যামলের মেয়ে তুলতুল স্টেজে উঠে অর্ধেক আবৃত্তি করে এবারও আটকে যাবে, দোলনের ছেলে বাপ্পা দিনরাত মাইক টেস্টিং, মাইক টেস্টিং চেঁচিয়ে মাথা নষ্ট করবে সবার, আর শ্যামা-সংগীত বাজানো নিয়ে চিন্ময় বসাক- স্নেহাশিস তালুকদারের সেই ট্র‍্যাডিশনাল ধুন্ধুমার। এই বিরক্তিকর জিনিসগুলোই এখন বড্ড আপন মনে হয় সৌম্যরঞ্জনের। মঞ্চ বানানো, মূর্তি আনা থেকে শুরু করে অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা, কেউ বলার আগে সমস্তটাই করে ফেলতেন তিনি। সে-ও এক দিন ছিল বটে!

কিছুদূর এগিয়ে নিজের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়লেন সৌম্যবাবু। বাড়িটা একইরকম আছে। আধো অন্ধকার। ব্যালকনির পাশ দিয়ে একখানা টুনির চেন কোনোমতে ঝুলে আছে নীচে। মা-মেয়ে এরচেয়ে বেশি আর কী-ই বা সাজাতে পারবে। মেয়ে ও স্ত্রী এর মুখগুলো দেখার খুব ইচ্ছে হল সৌম্যরঞ্জনবাবুর। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে গেট খুলে ধীর পায়ে এসে দাঁড়ালেন ভেতরে। সামনের পাঁচিলে চোদ্দ-বাতি দেওয়া, পূর্ব-পুরুষদের উদ্দেশ্যে; চার বছর আগে মারা যাওয়া মালঞ্চের বাবার উদ্দেশ্যে। সৌম্যরঞ্জন নিজেকে সামলাতে পারলেন না। রাগের বশে একের-পর এক প্রদীপ নিভিয়ে দিয়ে একখানা তুলে নিলেন হাতের মুঠোয়। তিনি তো বেঁচেই আছেন। নিজের না হোক অন্যের শরীরের খোলসে। একে কি বেঁচে থাকা বলে না? তাহলে কেন এই প্রদীপ? পাড়ার পুজোর মায়া ত্যাগ না করতে পারা সৌম্যরঞ্জন প্রত্যেক বছরই ফিরে আসেন। ভূত-চতুর্দশীর রাতে, মাত্র কিছুক্ষণের জন্য। প্রতিবারই আলাদা আলাদা মানুষের শরীরে। এবার যেমন এক মৃত ঢাকির দেহে পাঠানো হল তাকে, আগামীকালের পুজোর কথা-বার্তা বলতে।

নিজের মেয়ে বৌকে চোখের সামনে দেখলেই সবকিছু উলোট-পালোট করে ফেলেন সৌম্য। আগের-বার মালঞ্চকে যখন দেখলেন তার উপহার দেওয়া পুরনো একখানা সালোয়ার কামিজ পরে ফুলের মালা গাঁথতে, খুব- খুব ইচ্ছে করছিল বুকের মধ্যে জড়িয়ে নিজের পরিচয়ের সবটুকু উগড়ে দিতে। কিন্তু না। এসব কিছুই করতে পারেন না। নিয়ম নেই। এই জগতের মতোই ভূতদের জগতেও কিছু নিয়মকানুন আছে। সেগুলো অমান্য করলেই আর মানুষ-শরীর ধারণ করতে পারবেন না সৌম্যরঞ্জন। তাই মাথায় চেপে বসা 'দেখা করার অদম্য ইচ্ছেটাকে' কোনোমতে দমিয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসলেন তিনি। পুজো মণ্ডপে বোধ হয় মা-মেয়ে ইতিমধ্যে চলে গেছে; কাছ থেকে না হোক, দূর থেকেই ভালো। সৌম্যরঞ্জনবাবু অসীম উত্তেজনায় ক্লাবের দিকে এগিয়ে গেলেন। শুধু যাওয়ার আগে মুঠোয় চেপে ধরা প্রদীপটা ব্যালকনি তাক করে ছুঁড়ে মারলেন সজোরে।

জানলার কাচে দুম করে একটা শব্দ হতেই ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালেন সংগীতা। পাশে মালঞ্চ টর্চ হাতে দাঁড়িয়ে। সামনের পাঁচিলের প্রতিটা বাতিই নেভানো। প্রথমে ভাবতেন হাওয়া, কিন্তু তারপরে আশপাশের বাড়িগুলোর জ্বলন্ত প্রদীপগুলো দেখে মনের ভেতর সন্দেহের খচখচানি উঁকি দিত সব সময়। অনেকটাই পরিষ্কার হল যেই-বার থেকে প্রদীপের ঢিল আসা শুরু হল বারান্দায়। টর্চের আলোয় প্রতিবারের মতো পাওয়া আধ-পোড়া প্রদীপের টুকরোগুলো মেঝে থেকে পরম যত্নে কুড়িয়ে কাপড়ের ব্যাগে ভরে নিলেন সংগীতা। তিনি জানেন, প্রতি বছর ভূত-চতুর্দশীর রাতে পাড়ায় একটা বাড়িতেই ঢিল এসে, লাগে কাচের জানালায়। ধাক্কা লেগে চূর্ণবিচূর্ণ হয় মাটির প্রদীপ। কারণ ঢিল ছোঁড়ার গল্পটা তার ভীষণ ভীষণ চেনা...
( সমাপ্ত )


Next Bangla Story

List of all Bengali Stories


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 6009890717