Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
RiyaButu
Read & Learn

দেহরক্ষী


বাংলা উপন্যাস


All Bengali Stories    22    23    24    25    26    27    (28)       

হরপ্রসাদ সরকার


An offer to make a Website for you.

hostgator




দেহরক্ষী
( বাংলা উপন্যাস )
- হরপ্রসাদ সরকার, আগরতলা, ত্রিপুরা



Previous Part


◕ ২য় পর্ব

গুপ্ত গুহা বিকট শব্দ করে ধ্বসে পড়ল মাটিতে। যেন মহাকালের মহাশূন্য থেকে একটি নক্ষত্র ঝরে গিয়ে ফেটে পড়ল পৃথিবীর বুকে। সেই চাপে, সেই আঘাতে কেঁপে উঠল ধরণী। মাত্র কয়েক মুহূর্ত, দেখতে দেখতে ঝরা-ফুলের মত এত বড় একটা সৃষ্টি ছিন্ন ভিন্ন হয়ে আলোথালো পড়ে রইল নিবিড় অরণ্যে। নাহ্- আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করা যায় না। এক বিন্দু সময়ও নষ্ট করা হবে আত্মঘাতীর সমান। শত্রুকে কোন ভাবেই কম ভাবলে চলবে না। তারা নিশ্চয়ই ছেড়ে কথা বলবে না - চুপ বসে থাকবে না। রাজশ্রেষ্ঠ-র খোঁজে ওরা এখানে, এই অরণ্যে আসবেই। তবে এতটুকু পথ আসতে তাদের নিশ্চয়ই আধা দিন বা এক দিন সময় লাগবে। ততক্ষণে যতটুকু দূরত্বে চলে যাওয়া যায় ততই নিরাপদ। এক মুহূর্তেও দেরী না করে সেই ঘোর আধারে একটি হাল্কা - সরু - মাটির জংলী তৃণ পথ ধরে চার ভাগে সেই দলটি রাজা - রানীকে নিয়ে দুর্বার গতিতে ছুটতে শুরু করল।

ঠিক মাঝ রাত - অরণ্যের আকাশে কৃষ্ণপক্ষের দ্বিতীয়ার চাঁদ। চারিদিকে নিস্তব্ধ আধারের চাদর। কুচকুচে অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। বনের বিশাল বিশাল বৃক্ষদের ঢাল পালা পথের মাঝে পড়ে থাকাই স্বাভাবিক। এই দূর্বার গতিতে ছুটতে গিয়ে তাদের সাথে ধাক্কা খেলে মৃত্যু অতি সুনিশ্চিত। কিন্তু দেহরক্ষীদের বুকে সেই ভয় আজ নাই। হাতের মশাল ছাড়াই - প্রথম দলটি নিজেদের প্রাণ হাতে নিয়ে সেই পথে দুর্বার গতিতে ছুটতে লাগল। তাদের অনুসরণ করতে লাগল রাজা-রাণীর দলটি। পিছু পিছু রইল বাকি দুটি দল। মাঝরাতের গভীর বনে জমাট নিস্তব্ধতা একরাশ ঘোড়ার পায়ের শব্দে ভেঙ্গে-ভেঙ্গে টুকরো-টুকরো হয়ে সেই জমাট অন্ধকার থেকে খসে পড়তে লাগল। নাহ্ - আজ আর জংলী হিংস্র প্রাণীদের ভয় নেই। নিবিড় অন্ধকারে এক সাথে এত গুলি ঘোড়ার পায়ের বুক কাঁপানো টগ-বগ শব্দে তারা ভয়ে কেতিয়ে পড়ে যে যার দিকে আগেই পালিয়েছে।

এই পথ চলা কী উদ্দেশ্যহীন? না! মোটেই না। আবার শত্রু পক্ষ সেই গুহার প্রান্তে এসে সহজেই এই পথ ধরে কী তাদের ধরে ফেলতে পারবে না? না - তা ও এত সহজ নয়। কারণ এই পথ চলা উদ্দেশ্যহীন পথ চলা নয় - এর অনেক কিছুই ছিল পূর্ব পরিকল্পিত, সু-নিয়োজিত। শুধু সময় সময়ে পরিস্থিতি আর পরিবেশ বুঝে সুধামেল রাজা-রানীর প্রাণ রক্ষার্থে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাত্র। শত্রু যদি দিনের আলোতে সেই গুপ্ত গুহার শেষ প্রান্তে এসেও যায় তবে তারা চট্ করে এই পথের খোঁজ পাবে না। কারণ গুহার সেই প্রান্ত থেকে সম্পূর্ণ একই রকম দেখতে নয়টি পথ ভিন্ন ভিন্ন দিকে চলে গেছে। যেন একটি আরেকটির প্রতিবিম্ব, অণু-কার। এই প্রান্তে এসে, পথের এমন ধাঁধায় যে কেউ ভিমরি খেয়ে যাবে - সঠিক না জানা থাকলে কেউ ঠিক করতে পারবে না কোন পথে সে যাবে? প্রত্যেকটা পথ তিন চার ক্রোশের সেই গভীর বন ঘুরে ঘুরে কোন না কোন এক জনপদে গিয়ে মিলেছে। সেই জনপদ গুলি অতি সাধারণ জনপদ। কিন্তু এই নয়টি পথের শুধু একটি পথ আছে - যার শেষ প্রান্তে আছে রাজাকে লুকিয়ে রাখার মত একটি স্থান। সাধারণ জনপদের মতো দেখতে একটি রাজ-দুর্গ। এই গুপ্ত জনপদের কথা রাজদেহরক্ষীরা ছাড়া রাজসভার শুধু এক দু-জনই জানে। এই সমস্ত জনপদগুলি হল রণনীতির একটি অংশ, পাশার এক একটি গুটি - এক একটি চাল।

এত গুলি ঘোড়ার পদচিহ্ন দেখেও তো রাজার পিছু নেওয়া যাবে! না! তাও সম্ভব নয় - কারণ আসল পথটিতে চলার আগেই বাকি আটটি পথের প্রতিটিতে ঘোড়া চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শেষের দলটি এই কাজ দক্ষতার সাথে শেষ করে ফিরে এসেছে। দেহরক্ষীরা হয়তো এমন ভাবেই চলে যেন শত্রুরা ওদের পদচিহ্নও খোঁজে না পায়।

যুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার পর - পরেই সুধামেলের কাছে গুপ্তচর মারফত বিশ্বাসঘাতকতার সমাচার এসে গিয়েছিল। খুব সঠিক সমাচারই এসেছিল তবে হয়তো অনেক দেরীতে। তখন সব কিছু এত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছিল যে, সঠিক পরিকল্পনা করে তাদের সামলানোর আর সময় পাওয়া গেল না। সেই অল্প সময়ে বিশ্বাসঘাতকদেরও সম্পূর্ণ রূপে চিহ্নিত করা গেল না। তবুও জয় - পরাজয়ের পরবর্তী সময়ের জন্য সমস্ত দরজাগুলি খুলে রাখা হয়েছিল। রাজ্যের সাধারণ মানুষ আজ যা দেখছে রাজদেহরক্ষীরা অনেক আগেই তা দেখে ফেলেছিল।

আধার চিরে বিদ্যুৎ গতিতে ঘোড়া ছুটল। সকল কিছুতে হেরে গেলেও এই বাজিতে হারতে চাইল না কেউ। ভোর হওয়ার কিছু আগে তারা এসে পৌঁছল সেই পাহাড়ি জনপদ, অক্ষমালাতে। ঘুমন্ত জনপদের শুধু কয়েকজন ছাড়া কেউ জানলই না গত রাতে কত ঝড় বয়ে গেছে - কত তুফান উঠেছিল চারিদিকে। রাজ্যের মুকুট গভীর রাতে তাদের মাঝে সামিল হয়ে গেল ছদ্মবেশে। ভোর হতেই স্বাভাবিক জন-জীবন শুরু হয়ে গেল।

সেই জনপদের চারিপাশে ছিল নিবিড় জন মানব হীন, নির্জন বিথার অরণ্য। তার মাঝে বিতনু বৃক্ষরাশি বিজ্ঞের মত আকাশের সাথে বিজল্পে মেতে আছে। নিজ দেশের বিভু আজ তাদেরই কাছে আশ্রয় নিয়েছে- তাই আমোদ ছেড়ে বনশ্রী দেশের মহা-ক্ষেমে মন দিল। এক নিকৃত যুদ্ধের পরিণাম ঢাকতে বনদেবী দু-হাত বাড়িয়ে দিল - মহাযজ্ঞে এ তার আহূতি। মেঘপুঞ্জ বিহীন নির্মল আকাশে অসময়ে তেজ ধুলার সাথে এক তেজ হাওয়া বনের কোনা হতে ধেয়ে এল। উড়ে এলো কিছু বনো কাঠ-গোলাপ, কিছু বনো কুসুম। সে হাওয়ায় বনের ঝরা পাতার নিক্বণ বহুদূর থেকে শুনা যেতে লাগল। এ নিক্বণ যেন মহারাজকে স্বাগতম জানাতে বনদেবীর উপহার। অপরূপ সেই বনের শোভা শত্রুর আগমনের ভয়ে - রাজ্যের এই পরাজয়ের গ্লানিতে পূর্ণ লাবণ্যে বিকশিত হতে পারছে না। আবার স্বীয় রাজাকে স্বাগত জানাতে নিজের রূপকে শ্রীহীনও করে রাখতে পারছে না। তাই স্নিগ্ধ, সরল, মার্জিত রূপে সেজে উঠল বনদেবী।

দিনের আলো ফুটতেই কয়েকজন দেহরক্ষী ছদ্মবেশে হাটে বাজারে মিশে গেল। দুর্ধর্ষ ঈগল পাখির মত তাদের তীক্ষ্ণ নজর পড়ে রইল বনের দিক হতে আসা পথটির দিকে। গুপ্ত ভাবে নিজের গা ছুঁইয়ে রইল বিষধর কানড় নাগের মত দা, কাতান। হিংস্র সিংহের মত যে কোন মুহূর্তে শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে এরা যেন প্রস্তুত হয়েই আছে। দেহরক্ষীদের এক অদৃশ্য জাল ছেয়ে গেল সেই জনপদে।

জনপদের এক ধারে একটি ঘন কদমফুল গাছের পাশে ছোট্ট একটি কুঠির। অতি সাধারণ দেখতে। বাইরে থেকে বিপদের সংকেত পেলে পিছন দরজা খুলে চোখের পলকে ঘন জঙ্গলে বনমল্লিকার মত মিলিয়ে যাওয়া যাবে অতি সহজেই। এই কুঠিরেই দুপুরের ঠিক পরে সুধামেল সহ কয়েকজনের সাথে সলা-পরামর্শে বসলেন রাজশ্রেষ্ঠ। এক উদ্বিগ্ন পরিবেশে রাজা মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ বসে রইলেন তিনি। কী বলবেন - ভেবে পেলেন না। অন্যরাও রাজার এই অবস্থায় কী বলবে ভেবে পেল না। শেষে রাজাই নীরবতা ভাঙ্গলেন - "এখন আমাদের কী করতে হবে সুধামেল? তুমি কী ভাবছো? কী তোমার পরিকল্পনা?"

সুধামেল একটু অনুত্তর থেকে বলল - যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি রাজশ্রেষ্ঠ। শুধু পরিস্থিতির কারণে আমরা কিছুটা পিছু হটেছি মাত্র। আমাদের বীর সেনারা এখনো মহা পরাক্রমের সহিত নানা প্রান্তে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। আমাদের বীর সেনাপতি পল্লবসেন এখনো এক গুপ্ত স্থান থেকে সাধ্যমত যুদ্ধ পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাহায্য করা দরকার। তবে তার আগে খুব শীঘ্রই কাদাখোঁচা বিশ্বাসঘাতকদের চিহ্নিত করতে হবে আর তাদের গুঁড়ি শুদ্ধ শেষ করে দিতে হবে। এ কাজ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি আমরা তা করতে পারব ততই আমাদের জয় ত্বরান্বিত হবে।

রাজা সহ সবাই মাথা নাড়ল। রাজা একটু ভেবে বললেন - তোমার কথা শুনে মনে হল আমাদের সামনে দুটি কাজ পড়ে আছে। বিশ্বাসঘাতকদের চিহ্নিত করা আর পল্লবসেনকে সহায়তা পাঠানো। কিন্তু কী ভাবে? মহামন্ত্রী ললন্তিকা-র কী কোন সমাচার আছে? কোথায় আছেন তিনি?

- না রাজশ্রেষ্ঠ! আমাদের গুপ্তচরের সমাচার না আসা পর্যন্ত এই মুহূর্তে একমাত্র পল্লবসেনকে ছাড়া আর কাউকে বিশ্বাস করা যাচ্ছে না। চারিদিকে বিশ্বাসঘাতকদের বিষধর মারণ জাল ছড়িয়ে আছে। কে পক্ষে - কে বিপক্ষে? কিছুই বুঝা যাচ্ছে না। যতক্ষণ না এই ভেদ করা না যাচ্ছে ততক্ষণ সব গোপন রাখাই শ্রেয়। আর ঐ সকল বিশ্বাসঘাতকদের যথাযথ চিহ্নিত করতে তাদের পিছনে গুপ্তচর লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের গুপ্তচরেরা অতি উওম কাজ করে চলছে। অতি দুঃসাধ্য কাজ, অতি সাহসিকতা আর চতুরতার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করে যাচ্ছে। আমি তাদের জন্য খুব গর্ব অনুভব করি। এরা দেশমাতার কৃতি সন্তান। হে রাজশ্রেষ্ঠ, আশা রাখি খুব শীঘ্রই সকল রকমের সমাচার আমাদের কাছে চলে আসবে।

রাজা খুব অবাক হলেন আবার কিছুটা আশ্বস্তও। তিনি সুধামেলের দিকে চেয়ে বললেন - মানে! এই পরিকল্পনার কথা তো আমি জানি না! আমাকে কেন বলা হয়নি?

- অপরাধ নেবেন না রাজশ্রেষ্ঠ। সেই উত্তপ্ত, উৎকণ্ঠা আর অবিশ্বাসের পরিবেশে এই পরিকল্পনার কথা লোক সম্মুখে আপনাকে বলা উচিত ছিল না। আর নিরালায় আপনাকে জানানোর সেই অবকাশ হয়নি। তাই এ কথা আপনার কাছে গোপন করা ছাড়া আমাদের অণু-কল্প ছিল না। তবে খুব ভেবেচিন্তে নেওয়া এই পরিকল্পনার সব কিছুই একদম ঠিক ঠিক চলছে। আমাদের গুপ্তচর অনেকদূর পর্যন্ত এগিয়ে গেছে, বলতে গেলে তারা জাল প্রায় গুটিয়ে এনেছে। এখন শুধু আমার সংকেতের অপেক্ষা। রাজশ্রেষ্ঠ-র অনুজ্ঞা থাকলে, আমার সংকেত পেলেই খুব শীঘ্র আমাদের গুপ্তচর আপনার সেবায় হাজির হবে।

রাজা অতি উৎসাহিত আর আনন্দিত হয়ে বললেন - তবে কবে তুমি সংকেত পাঠাচ্ছ?

- হে রাজশ্রেষ্ঠ, পরিকল্পনা মত আজ রাতেই আমকে সেই সংকেত পাঠাতে হবে।

- চমৎকার! কিন্তু সেনাপতি পল্লবসেনকে সহায়তা?

- হ্যাঁ, রাজশ্রেষ্ঠ। যুদ্ধে যখন আমাদের সেনারা একের পর এক জায়গায় হারে যাচ্ছিল তখন একবার সেনাপতি পল্লবসেনের সাথে আমার দেখা হয়। তার সাথে আমার অনেক আলোচনা হয়, মতামত বিনিময় হয়। তার সাথে আলোচনার সময়ই আমাদের সামনে বিশ্বাসঘাতকদের অনুৎ-কর্যের চিত্রটা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু চরিত্রগুলিকে আমরা তখন সঠিক চিহ্নিত করতে পারিনি। কিছু কাঠ-ফড়িংকে চিহ্নিত করা গেলেও আসল কাঠ-বিড়ালকে চেনা যাচ্ছিল না, যার হাতে ছিল সব চাবিকাঠি। তখন যুদ্ধের পাশাপাশি আপনার নিরাপত্তা নিয়েও আমরা চিন্তিত ছিলাম। ঐ অবস্থায় যা আমাদের করনীয় ছিল তাই আমারা মনে প্রাণে করেছি। শত্রুরা যদি রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করে ফেলে তাহলে আপনাকে এখানে নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথা সেনাপতিই আমাকে বলে গিয়েছিলেন, তার রণক্ষেত্রে যাওয়ার আগে। জয়ের সকল পথ বন্ধ দেখলে তিনি সেনাদের নিয়ে কোথায় থাকবেন তাও বলেছিলেন - হয়তো উওরের নয়তো পশ্চিমের জঙ্গলে। তিনি আমাকে আরও বলে গিয়েছিলেন যদি সহায়তার দরকার হয় তবে যেন কামরূপ নরেশ থেকে সহায়তা চাওয়া হয়। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে পূর্বদিকের এই শত্রু সেনাদের বিতাড়িত করতে আমাদের পশ্চিমের কামরূপ নরেশের সহায়তা একান্তই আবশ্যক। আর সব পরিকল্পনা ঠিক-ঠাক চললে হয়তো খুব শীঘ্রই সেনাপতি পল্লবসেনও আমাদের সাথে যুক্ত হবেন। এমন ইঙ্গিত ও তিনি তখন আমাকে দিয়ে রেখেছিলেন।

রাজা অতি উৎসাহিত হয়ে উঠলেন - তাই নাকি? ওফ্! এই পরিস্থিতিতে এমন কথা তো আমি ভাবতেই পারি না! এ তো অতি উওম কথা - অতি সু-সমাচার । আমার দুশ্চিন্তা অনেকটা লাঘব হয়ে গেল। তবে হে সুধামেল, পল্লবসেনের এখানে আসতে বাধা কোথায়? দেরী কেন?

- হ্যাঁ রাজশ্রেষ্ঠ, আপনি ঠিক বলেছেন। তবে আমরা এখানে নির্বিঘ্নে পৌঁছেছি কি না, সে সমাচার এখনো তাদের কাছে পৌঁছায়নি। আবার এ বার্তাও তাদের কাছে যায়নি যে এখানে আসাটা তাদের পক্ষে বর্তমানে নিরাপদ কিনা! কথা ছিল সম্পূর্ণ এবং শুধুমাত্র অনুকূল পরিবেশেই আমি সংকেত পাঠাব। পল্লবসেন সহ বাকি গুপ্তচরেরা নিশ্চয়ই অধীর আগ্রহে আমার সংকেতের অপেক্ষায় অণু-ক্ষণ দুশ্চিন্তার মধ্যে আছে। আজ রাতেই আমার সংকেত তাদের কাছে পৌঁছে যাবে।

রাজার মুখে একটু হাসি ফুটে উঠল - বেশ তো তবে তাই হোক?

রাত শেষ হতে দুই প্রহর এখনো বাকী। নীল আগুন ঠোঁটে নিয়ে একটি তীর উল্কার মত ছুটে গেল আকাশে।

Next Part

◕ This page has been viewed 139 times.


Previous Part


Other Pages: Daily Online Practice Test For Compititive Exam


Top of the page



All Bengali Stories    22    23    24    25    26    27    (28)