Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
A platform for writers

শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণলীলাপ্রসঙ্গের অনুধ্যান-
ধর্মই ভারতের সর্বস্ব

- শ্রীআনন্দ, কলিকাতা

All articles    পর্ব ১    পর্ব ২    পর্ব ৩    পর্ব ৪    পর্ব ৫    পর্ব ৬    পর্ব ৭    



◕ RiyaButu.com is a platform for writers. How? Details..

◕ Story writing competition. Details..




swami-vivekananda

◕ শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণলীলাপ্রসঙ্গের অনুধ্যান-
ধর্মই ভারতের সর্বস্ব

ধর্মই ভারতের সর্বস্ব।

কেন?

কারণ ইহা ভারতের ব্যক্তিগত ও জাতিগত বৈশিষ্ট্য।

বৈশিষ্ট্য মানে কি?

ঈশ্বর, আত্মা, পরকাল প্রভৃতি ইন্দ্রিয়াতীত বিষয়গুলিতে জন্মগত বিশ্বাস।

ভারতীয় জাতির কোথা থেকে এই বিশ্বাস এল?

কারণ ভারতে বহু দিব্যগুণ ও প্রত্যক্ষ অনুভূতি সম্পন্ন মহাপুরুষ-গন বিভিন্ন সময়ে জন্মগ্রহণ করেছেন। তাহাদের জীবন, সমাজ জীবনকে প্রভাবিত করেছে এমন ভাবে যে, আমাদের দৈনন্দিন কর্ম সকল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে স্বাভাবিক ভাবে চালিত করেছে। ভারতীয় ধর্ম-ইতিহাসকে বৈদিক যুগ, দার্শনিক যুগ, পৌরাণিক যুগ বা অবতার যুগ- এই ভাবে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
বৈদিক যুগে যারা ইন্দ্রিয়াতীত বস্তুর সাক্ষাৎ-লাভ করেছেন তারা ঋষি নামে পরিচিত। বেদে বহু ঋষি-মুনির নাম উল্লেখ আছে।
দার্শনিক যুগে এই ঋষি-মুনিরা তাঁদের শক্তির তারতম্য অনুসারে আপ্ত, অধিকারী, প্রকৃতি-লীন পুরুষ - আদি নানান ভাবে শ্রেণীভুক্ত হন। আবার সাংখ্য দর্শনে সাংখ্যকার আচার্য কপিলমুনি প্রকৃতি-লীন পুরুষদিগকে দুই শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন - কল্প-নিয়ামক ঈশ্বর ও ঈশ্বর কোটি। উনারা মুক্ত কিন্তু লোক কল্যাণের ইচ্ছায় এক কল্প-কাল প্রকৃতির শক্তির দ্বারা জগতের কল্যাণ করে থাকেন। প্রসঙ্গত ছয়টি দর্শন আছে; সাংখ্য, যোগ, ন্যায়, বৈশেষিক, মীমাংসা ও বেদান্ত।
ক্রমে ভক্তি যুগ বা পৌরাণিক যুগের সূচনা। কল্প নিয়ামক ঈশ্বর হতে অবতার বিশ্বাসের উৎপত্তি। ইনি নিত্য-শুদ্ধ-মুক্ত স্বভাব বিশিষ্ট।
অসাধারণ আধ্যাত্মিক শক্তি সম্পন্ন পুরুষকে 'আপ্ত' বলা হল এবং তাঁদের জ্ঞান বানীকে 'বেদ' বলে অভিহিত করা হল।

ঋষি, মুনি-গনের ঈশ্বর-অবতারে বিশ্বাসের আরেকটি কারণ 'গুরু-পূজা' বা গুরু-উপাসনা। ভারতবর্ষে ঈশ্বর-অবতার বা মহাপুরুষের অবির্ভাব আনুমানিক এই রকম:

সত্যযুগ - মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, নরসিংহ, বামন

ত্রেতাযুগ - পরশুরাম, রাম

দ্বাপর যুগ - শ্রীকৃষ্ণ, বলরাম

কলিযুগ - বুদ্ধদেব, মহাবীর, শংকরাচার্য, রামানুজাচার্য, মাধবাচার্য, গুরুনানক, শ্রীচৈতন্যদেব, তারপরে ঠাকুর - মা- স্বামীজী।

স্মৃত ও পুরাণে অবতার-পুরুষ সকলের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ আছে। যথা -

১) দিব্য জন্ম কর্ম: নিত্য-শুদ্ধ-মুক্ত। কর্ম বন্ধনে আবদ্ধ নন।

২) আত্মরামঃ পার্থিব ভোগ সুখে স্পৃহা নাই।

৩) অখণ্ড স্মৃতিশক্তি: পূর্ব জন্মের স্মৃতি বর্তমান।

৪) লোক কল্যাণের নিমিত্ত শরীর ধারণ।

৫) যুগ প্রয়োজনে ঠিক-ঠিক মার্গ নিদর্শন; ঈশ্বর উপলব্ধির জন্য।

স্মৃতি ও পুরাণে অবতার পুরুষের আবির্ভাব-কালও উল্লেখ আছে। যথা -

১) ধর্ম-গ্লানি - অতীন্দ্র বস্তু সকলে ( আত্মা, ঈশ্বর, মুক্তি ইত্যাদি) অবিশ্বাস এবং পার্থিব ভোগ-সুখ-লালসা।

২) যার ফলে সমাজ জীবনে যন্ত্রণা ও হাহাকার এবং মুক্তির প্রার্থনা।

শ্রীমৎ ভগবদগীতাতে আছে, ( ৪ র্থ অধ্যায়, ৭ম ও ৮ম শ্লোক)

যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।। ৭ ।।
পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।। ৮ ।।


হে ভারত, যখন ধর্মের অধঃপতন ও অধর্মের অভ্যুত্থান হয়, তখন আমি স্বীয় মায়াবলে দেহবান হই, জাত হই ।। ৭ ম ।।

সাধুদিগের রক্ষার জন্য, দুষ্টদিগের বিনাশের জন্য এবং ধর্মস্থাপনের জন্য আমি যুগে-যুগে নরাদিরূপে অবতীর্ণ হই ।। ৮ ম ।।

পুনরায় এই ধরাধামে ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ, যিনি শ্রীরামচন্দ্র ও শ্রীকৃষ্ণাদি রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন; তিনিই যুগ প্রয়োজনে আবির্ভূত হয়েছেন।

ওঁ শান্তি:, শান্তি: শান্তি:
হরি ওঁ তৎ সৎ
শ্রীরামকৃষ্ণার্পনমস্ত ।।


All articles    পর্ব ১    পর্ব ২    পর্ব ৩    পর্ব ৪    পর্ব ৫    পর্ব ৬    পর্ব ৭    



◕ RiyaButu.com is a platform for writers. How? Details..

◕ Story writing competition. Details..

◕ লেখক / লেখিকারা আমাদের কাছে নির্দ্বিধায় গল্প / কবিতা / প্রবন্ধ পাঠাতে পারেন। তাছাড়াও RiyaButu.com Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ থাকলে নির্দ্বিধায় বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 7005246126