Home   |   About   |   Terms   |   Book Rent   |   Contact    
Flag
A platform for writers

দু নৌকায় পা

বাংলা গল্প

All Bengali Stories    106    107    108    109    110    111    112    113    (114)     115   



দু নৌকায় পা
বাংলা গল্প
স্বরচিত গল্প প্রতিযোগিতার ( নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার , ২০২১) একটি নির্বাচিত গল্প
লেখক - সমরেশ মুখার্জী, মনিপাল, কর্ণাটক, ভারত


18 th July, 2021

## দু নৌকায় পা

৷৷ ১ ৷৷
-সেদিন আন্দাজ সকাল দশটা। একটা মাঝবয়সী লোক হন্তদন্ত হয়ে কলেজে যাচ্ছেন। ইস্ত্রি করা ট্রাউজার, কোট, টাই। এক কাঁধে ঝুলছে ন‍্যাপস‍্যাক ...

-ফেঁদে বসলেন তো এক গাঁজাখুরি গপ্পো?

-কেন?

-মাঝবয়সী লোক আবার কলেজে যায় নাকি?

-যায় না?

-যায়, তবে পড়তে নয়, পড়াতে।

-কিন্তু আমি তো বলিনি লোকটা কলেজে কেন যাচ্ছে, পড়তে না পড়াতে।

-সেটা না বললেও বোঝা যায়।

-কীভাবে?

-ঐ যে, বললেন, হন্তদন্ত হয়ে যাচ্ছে‌।

-তাতে কী বোঝা গেল?

-তাতেই বোঝা যায় কেউ পড়তে যাচ্ছে। পড়াতে যাওয়ার তাড়া সচরাচর কারুর‌ থাকে না।

-তাই বুঝি? আর যারা পড়তে যায় তাদের বুঝি খুব তাড়া থাকে? জ্ঞানপিপাসা বলছেন?

-না, তাও নয়।

-তাহলে?

-সেটাও নিছক নিয়মের বশবর্তী হয়ে। সবাই যায় তাই যায়। ঘণ্টা পড়ে গেলে ক্লাসে ঢুকতে পাবে না, তাই তাড়াহুড়ো করে। বেশিরভাগই পড়তে যায় পেটের ধান্দায়, জ্ঞানার্জনের জন্য নয়।

-ঠিক আছে। ধরে নিন লোকটা পড়তেই যাচ্ছে। তারপর হল কী ...

-না ঠিক নেই।

-কেন?

-ঐ যে বললাম, মাঝবয়সী লোক পড়তে যায় না। আপনার গপ্পোটাই গাঁজাখুরি।

-তবে কারা যায়?

-যাদের পড়তে যাওয়ার বয়স। শিশু, বালক, কিশোর, তরুণ। এমনকি সদ্য যৌবনোত্তীর্ণ মানুষও হয়তো যায়। ঝাঁকে‌র কইয়ের মতো স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পড়ার ওটাই বয়স। কিন্তু মাঝবয়সী লোক একা অথবা পণ্ডিত পরিবেষ্টিত হয়ে সাক্ষাৎকারে, সেমিনারে গিয়ে জ্ঞান বিতরণ করে। জ্ঞানার্জনের প্রয়োজনে গবেষণাগারে অন্বেষণ করে, গ্ৰন্থাগারে অধ্যয়ন বা বাড়িতে নিমগ্ন হয়ে পঠনও করতে পারে।

-বয়স্ক‌রা তবে পড়তে যায় না বলছেন?

-যাবে না কেন, যায়। যেমন ধরুন বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রে। সময়কালে যা করা উচিত ছিল সুযোগ পেয়েও তা না করে বা কোনও প্রতিবন্ধকতা‌য় তা করতে না পেরে পরে সেই ভুল উপলব্ধি করে অবেলায় সান্ধ্য‌-ক্লাসে শিখতে আসে এবিসিডি বা যোগ-বিয়োগ। পড়াতে আসে আদর্শবাদী তরুণ, তরুণী বা প্রতিষ্ঠিত মানুষ যাদের কোনও কারণে ব্যক্তিগত সাফল্য ধাওয়া করার বদলে সমাজসেবা‌র পোকায় কেটেছে।

-ঠিক আছে, হতে পারে, না, না, হয়েই থাকে, আপনি যখন বলছেন, তবে এ লোকটি সত্যিই কলেজে পড়তে যাচ্ছে।

-এতো নিশ্চিত হয়ে কীভাবে বলছেন আপনি?

-আমি যে তাকে চিনি?

-তাই নাকি? কী নাম তার?

-তিনিবাবু।

-এ্যাঁ! তিনিবাবু! এটা আবার কারুর নাম হয় নাকি? আমি, আপনি, উনি, তিনি এসব তো সর্বসাধারণের যে কেউ হতে পারে, অর্থাৎ সর্বনাম। পরিবর্তনশীলও বটে। যেমন ধরুন আপনি, আমার কাছে আপনি কিন্তু আপনি, আপনার কাছে আমি। আমরা তো সেই অর্থে সবাই একই সময়ে আমি, আপনি, উনি, তিনি হয়ে বিরাজ করি।

-আচ্ছা পরের বার দেখা হলে জিজ্ঞাসা করবো ওনার আসল নাম কী, ঠিক আছে? তো হল কী, উনি হন্তদন্ত হয়ে…

-না, ঠিক নেই।

-আবার কী হল?

-একটা মাঝবয়সী লোক কর্পোরেট অফিসের বাবুর মতো কোট, প্যান্ট, টাই পড়ে এক কাঁধে ন‍্যাপস‍্যাক ঝুলিয়ে কলেজে যায় না। ওসব টিনএজারদের স্টাইল; সকাল-সকাল কী খেয়েছেন বলুন তো?

-যা খাই রোজ - টোষ্ট, পোহা, রুটি তরকারি, আলু-পরোটা, চাউমিন - ধরে নিন তারই কোনও একটা; সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু তিনিবাবু‌র বোধহয় সেদিন সকাল থেকেই দিনটা বেগড়বাঁই করছিল।

-কেন?

-কলেজ যাওয়ার আগে উনি না চিবিয়েই খেয়ে ফেলেছিলেন সরষের তেল দিয়ে পান্তাভাত, আলুভাজা ও পিঁয়াজ সহযোগে। মানে গিলে-গিলেই খেয়ে ফেলেছিলেন আর কী...

-এ্যাঁ। এ আবার সম্ভব নাকি?

-খেয়ে উঠে পেস্ট ছাড়াই দাঁত মেজে‌ ফেলেছিলেন।

-ম‍্যাঁ গো!! তিনিবাবু সকালে পান্তাভাত খান? প্রাতরাশের পর মাজন ছাড়া দাঁত মাজেন? তাহলে তো এমন লোকের পক্ষে মধ্যবয়সে কোট-প্যান্ট পড়ে হন্তদন্ত হয়ে কলেজ যাওয়া মোটেও অসম্ভব নয়!

-কিন্তু শেষ অবধি যাওয়া হল না।

-কেন? বেশ তো যাচ্ছিলেন আপনার গল্পের তিনিবাবু, হন্তদন্ত হয়ে...

-এটা গল্প নয়, ঘটনা।

-আচ্ছা, না হয় ঘটনাই হল। তা যাওয়া হল না কেন?

-জুতো পড়তে ভুলে গেছিলেন।

-সে কী! জুতো ছাড়াই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন? আচ্ছা কিম্ভূত লোক তো মশাই আপনার তিনিবাবু।

-আমার তিনিবাবু আবার কী? আমি শুধু ওনাকে চিনি, এই যা। হতে পারে উনি একটু বিচিত্র প্রকৃতির। তেমন একটু আধটু তো আমরা অনেকেই, তাই না? নিজেরাই শুধু বুঝতে পারি না, এই যা। অন্যেরা কিন্তু বোঝে, তবে ভদ্রতার খাতিরে বলে না। যাইহোক, যা বলছিলাম, সেদিন বাড়ি থেকে অনেকটা এসেও উনি বুঝতেই পারেননি যে ওনার খালি পা। ওনার মনে হচ্ছিল উনি যেন ঘরের মেঝেতেই হাঁটছেন। যেই দুর থেকে কলেজের বিশাল ভবনের চূড়া‌টা দেখতে পেলেন, উনি নীচে তাকিয়ে দেখলেন ওনার খালি পা। কলেজ তখনও বেশ খানিকটা দুরে।

-আর অমনি আপনার তিনিবাবু খালি পায়ে হাঁটছেন বুঝে পায়ে ব‍্যাথা টের পেলেন, তাই তো?

-মোটেও তা নয়। পায়ে জুতো না থাকলেও উনি পায়ে কোনও ব‍্যাথা‌র অনুভূতি টের পাননি। উনি তো ভাবছিলেন খালি পায়েই চলে যাবেন ক্লাসে।

-তা গেলেন না কেন? আপনার কিম্ভূত‌বাবু।

-মিষ্টির দোকানীটা বারণ করলো যে।

-মিষ্টির দোকানী?

-হ‍্যাঁ। তিনিবাবু যেখানে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পায়ের দিকে তাকিয়ে খেয়াল করলেন যে পায়ে জুতো নেই সেখানেই ছিল একটা মামুলী মিষ্টির দোকান। শো কেসে সাজানো থাকে অল্প কিছু মিষ্টি; বিক্রি বিশেষ হয় না। তবু ও যত্ন করে রোজ সাজায়। মিষ্টি‌গুলো‌ দেখতে চটকদার, তবে সাতবাসকে।

-মিষ্টির বিক্রি নেই তবু সে নিয়ম করে শোকেসে রোজ সাজায় কেন?

-ঐ যেমন আপনি বললেন, অনেকে নিয়ম করে কলেজে যায় ডিগ্ৰি নিতে। নিয়ে যে কী হবে জানে না, তবু যায়, অভ্যাসে, সবাই‌কে দেখে, সেরকম।

-তো মিষ্টির দোকানীর চলে কীভাবে?

-বাতাসা বিক্রি করে।

-বাতাসা!! এখন আর কেউ খায় বাতাসা?

-তা জানি না। তবে পুজো আচ্চা‌য়, মন্দিরে, গাঁয়ে হরির-লুটে এখনও চলে। তাই ওর মিষ্টির থেকে বাতাসাই বেশী বিক্রি হয়, ভালো লাভও হয়, নিজেই বানায় যে।

-নিজে বানায়? আপনি দেখেছেন?

-দেখেছি বৈকি। বেশ লাগে দেখতে। একটা চ্যাপটা মাটির হাঁড়ির গলায় লোহার আঁকশি পড়ানো। কানার নীচে একটা ফুটো। কয়লার উনুনে হাঁড়িতে ফোটে সোডা মেশানো গুড়ের রস। খাপড়ার চালে‌র ঝুলপড়া দোকানের ভেতর উনুনের পাশে মেঝেতে পাতে একটা শেতলপাটি। আঁকশি‌ বাঁধা হাঁড়িটা বাঁহাতে নিয়ে ডানহাতে একটা কাঠের হাতায় ফুটন্ত রস বিশেষ কায়দায় ঘুরিয়ে-ঘুরিয়ে ফোস্কা‌র মতো শেতলপাটি‌তে ফেলে। তাড়াতাড়ি করতে হয়। কয়েক‌ সারি ফেলা‌র পর ফুটন্ত হলদেটে রস ঠাণ্ডা হয়ে ফ‍্যাকাশে হয়ে আসে। তখন হাঁড়ি‌টা আবার উনুনে বসিয়ে দেয়।

-বাঃ, খুব সরল পদ্ধতি তো?

-হ‍্যাঁ, শুনতে সরল বটে তবে করা অতো সোজা নয়। বাতাসাগুলো দেখলে মনে হবে হাঁড়ি থেকে পড়েই পাটিতে কামড়ে বসে গেল বুঝি। কিন্তু তা নয়। গরম বাতাসা একটু ঠাণ্ডা হয়ে জমতেই দোকানী পাটি‌টা দু'পাশে দু'হাতে তুলে ধরে। সমান পাটি গোল হয়ে যায়। দু'একবার এদিক-ওদিক করে। বাতাসা‌গুলো কেউ গায়ে-গায়ে লেগে থাকে, তবে বেশিরভাগই ছাড়া-ছাড়া হয়ে জমিয়ে বসেছিল পাটিতে। ওভাবে পাটি দোলাতেই খররর করে ছেড়ে গিয়ে একসাথে এসে জড়ো হয় পাটির মাঝে। ও তখন পাশে রাখা টিনে পাটিটা কাত করে ফররর করে ঢেলে দেয়। হয়ে গেল বাতাসা তৈরি।

-বাঃ, বেশ মজার ব‍্যাপার তো? তা মিষ্টির দোকানী তিনিবাবুকে বারণ করলো কেন?

-ও নিজে থেকে কিছু বলেনি। ও তো বাইরে বেঞ্চিতে বসে দই মুড়ি খাচ্ছিল। তিনিবাবুই ভ‍্যালভ‍্যাল করে দোকানীর দিকে তাকিয়ে বললেন, 'যা: জুতো পড়তে ভুলে গেছি, এভাবেই চলে যাই ক্লাসে?'

-বাতাসাওলাকে জিজ্ঞেস করলেন উনি? ও হয়তো কোনোদিনই স্কুলেই যায় নি। কলেজের কেতার ব‍্যাপারে ও কী জানে?

-ঠিক বলেছেন। তবে এমনটা তো হয়েই থাকে। যে প্রশ্ন যাকে করার নয় বরং নিজেকেই করা উচিত, তাও তো আমরা কখনো অন্যকে করে বসি। করি না?

-হুমম, তা হয় বটে। তা দোকানী কী বললো?

-ও বললো, না বাবু, খালি পায়ে লাঙল কাঁধে জমিতে বা জাল পিঠে নদীতে যাওয়া চলে, তবে পায়ে কিছু না পড়ে পড়তে যাবেন না।

-আশ্চর্য! এমন কথা বাতাসা বানানো এক অশিক্ষিত দোকানী দই মেখে মুড়ি চিবোতে-চিবোতে বলে দিল?

-অন্যকে দেখেই হয়তো... অনেক কলেজ পড়ুয়াই তো যায় ওখান দিয়ে।

-হতে পারে। নিজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও চোখকান খোলা মানুষ অন্যকে দেখে অনেক কিছু বোঝে। তো তিনিবাবু কী করলেন?
Next Part


All Bengali Stories    106    107    108    109    110    111    112    113    (114)     115   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 7005246126