Home   |   About   |   Terms   |   Book Rent   |   Contact    
Flag
A platform for writers

হাওরের নিশিভূত

( 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার'- ২০২২-এর একটি নির্বাচিত গল্প)



All Bengali Stories    172    173    174    (175)     176   

হাওরের নিশিভূত
লেখক - ড: মোহাম্মদ আলী খান, ঢাকা, বাংলাদেশ
( 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার'- ২০২২-এর একটি নির্বাচিত গল্প)


## হাওরের নিশিভূত

লেখক - ড: মোহাম্মদ আলী খান, ঢাকা, বাংলাদেশ

জোছনার নরম আলোয় ভরে গেছে হাওরের বুক। এখন বর্ষাকালে। চারিদিকে থৈ-থৈ পানি। কয়েকটি করচগাছ এত পানির মাঝেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, সবুজ পাতাগুলো বাতাসে দোল খাচ্ছে আর বর্ষার পানির তোড়ে একটু-একটু নাচছে।

কনক নৌকায় ঘুমিয়ে আছে। ছোট চাচার সাথে বেড়াতে এসেছে টাঙ্গুয়ার হাওর দেখবে বলে। সিলেট থেকে সুনামগঞ্জে পৌঁছেই নৌকায় উঠেছে বালুরঘাট থেকে। ইঞ্জিনের নৌকা কয়েকজনকে নিয়ে চলে এসেছে টাঙ্গুয়ার হাওরে। এটি বিশাল হাওর, বাংলাদেশের রামসার সাইট হিসাবে সারাবিশ্বে সুপরিচিত। নৌকায় হয়েছে খাওয়া-দাওয়া। খুব মজা করে এই হাওরের মধুপাবদা মাছ দিয়ে ভাত খেয়েছে। ঢাকায় থাকলে বিরিয়ানি-তেহারি ছাড়া চলে না, এই জোছনা ঝরানো রাতে তার কাছে পাবদা মাছের ঝোল মনে হয়েছে সেরা খাবার।

ছোট চাচা নাক ডাকছে। তার সাথে বন্ধুরা ঘুমিয়ে কাদা। কনক নৌকায় ছইয়ের উপর বসে আছে। কী সুন্দর জ্যোৎস্না। পূর্ণিমার চাঁদ কত বড়; আগে এমন করে সে দেখেনি। কোন শব্দ নেই, সব চুপচাপ। শুধু বর্ষার পানির চলাচলের কলকল শব্দ একটু কানে বাজছে। কাছেই দেখা যায় করচগাছের নিবিড় সারি। তার সবুজ পাতা চোখে মায়া ধরায়, পানির ভিতর দাঁড়িয়ে আছে। চারিদিকের নিঃসীম নীরবতায় কনক হারিয়ে যেতে চায়। মিষ্টি বাতাস এসে তাকে ঘুম পাড়িয়ে যায়।

হঠাৎ টুপ করে একটি শব্দে কনকের ঘুম ভেঙ্গে যায়। মনে হল হাওরের জলের বুক থেকে একটি মাছকে যেন কেউ তুলে নিল। কোন পাখি নেই। পানকৌড়ি দেখেছিল বিকেলে। এখন কোন হাঁসও চোখে পড়ছে না। কিন্তু পানির বুকে একটি ঢেউ গোল হয়ে আস্তে-আস্তে বড় হচ্ছে। ফিনিক ফোটানো দুধ-সাদা জ্যোৎস্না চারিদিকে। বৃত্তের মত ঢেউটি বড় হচ্ছে, এই জ্যোৎস্নার আলোয় তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। প্রথমে বুঝতে পারেনি, তারপর চোখ কচলিয়ে দেখল কালো ওড়নায় জড়ানো এক নারীমূর্তি পানির উপর ভেসে উঠলো। একটি পাবদা মাছ কামড়িয়ে খাচ্ছে। একদম সেই মধুপাবদাটি, যেটি সে রাতে খেয়েছিল। পেটে হাত দিয়ে দেখে মাছটি কি পেট থেকে বেরিয়ে গেল!

কনকের গা ছমছম করছে। আস্তে-আস্তে নারীমূর্তি মাছটি খাওয়া শেষ করলো। কনকের মনে হল তার পেট খালি হয়ে গেছে, খিদে লেগে গেলো বুঝি। ধীরে-ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসছে একটি ছায়া। প্রথমে নৌকার গলুইয়ের উপর বসলো। তারপর উঠে আসলো নৌকার ছইয়ের ঠিক মাঝে যেখানে কনক ঘুমিয়ে ছিল। কনকের শরীর যেন আঠার মত লেগে আছে ছইয়ের সাথে, মুখ দিয়ে কথা সরছে না, চিৎকার করার কোন শক্তি নেই। নারীমূর্তি তার কালো ওড়না ফেলে দিল পানিতে। বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে গেল দূরে। চাঁদের আলোয় স্পষ্ট দেখল পাকা ডালিমের মত রঙ, খুব স্লিম শরীর, বয়স তার মতই হবে, চোখের কোণে জলভরা মায়া। কনক ভয়ে-ভয়ে নিজের অজান্তেই জিজ্ঞাসা করলো : কে, আপনি?

"আমাকে 'তুমি' বলো।"

"আমি তো তো-মা-কে চিনি না..."

"আমি নিশিভূত।"

কনকের গলা শুকিয়ে কাঠ। কোন কথা বের হচ্ছে না। চোখ দুটো পুরোটা খুলে রাখতে পারছে না ভয়ে।

"ভয় পেয়ো না," সে বলল, "আমি এই হাওরের নিশিকন্যা। রাতে বের হই বলে সবাই আমায় চেনে নিশিভূত নামে।"

"তুমি কি মা-নু-ষ?"

"ছিলাম, এখন নেই।"

"তাহলে কি?" কনকের গলা থেকে অস্ফুট স্বর বের হল।

"এই হাওরের ওপারে ঐ পাহাড়ের ঢালে আছে একটি রাজ্য। তার নাম লাউরের গড়। আমি ছিলাম সে রাজ্যের রাজকন্যা।"

"তারপর?"

"আমি সকলের আদরের ছিলাম। বন-বাদারে, পাহাড়ের ঢালে ছুটতাম। শীতকালে পাখি দেখতাম, এই হাওরের বুকে নামতো পরিযায়ী পাখি। শত-শত। শীত শেষ হলে চলে যেতো। আমার ইচ্ছা হতো ওদের সাথে আকাশে উড়ি। একদিন রাতে কী হল জানো?"

"কি?"

"গ্রামের এক জেলের ছেলের সাথে দেখা। সুন্দর সুঠাম দেহ। হাতে বড়শি। রাতে বের হয়েছে মাছ ধরার জন্য, বেলে মাছ ধরবে। দেখলাম ওর মাছ ধরা। কিন্তু বেলে মাছ পেল না, পেলো পাবদা। এখানে ৫/৬ রকমের পাবদা পাওয়া যায়। ওর বড়শিতে ধরা পড়লো সব মধুপাবদা। হাঁটু-গেড়ে সব কয়টা পাবদা আমায় দিল। কী সুন্দর তার চোখ, মুখে মিষ্টি হাসি। এরপর থেকে জোছনা রাতের আলোয় তার সাথে দেখা হতো। কেউ জানতো না, কিন্তু আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি। সেও আমাকে না দেখে থাকতে পারতো না। জানো, ও গান শুনাতো আমাকে!"

কনক বলল, "আঁ শুনেছি, হাওরের সবাই গান জানে।"

"রাত গভীর হলে ওর সাথে দেখা হতো। শুধু জ্যোৎস্না রাতে। ওর প্রিয় গান, আমারও প্রিয় গান হয়ে গিয়েছিল। কী সুন্দর তার গলা। আমি পরান ভরে শুনতাম —
'নিশা লাগিল রে, বাঁকা দুই নয়নে নিশা লাগিল রে
ছটফট করে হাছন দেখিয়া চান্দমুখ...'"

"তোমার গলাও খুব সুন্দর," কনক মুগ্ধ হয়ে বলল।

"শুনবে আমার গান! নিশিভূত গাইলো —
'সাধ করে গলায় পরেছি কলংকের মালা
দুই নয়নের জলে বুকে বইয়াছি নদী নালা।
অবলা সরলা পাইয়া আমারে দিলায় জ্বালা
কেমনে সইব আমি কুলবালা।"

"তোমার অনেক দুঃখ?"

"হাঁ, অনেক দুঃখ। আমি যাকে ভালোবেসেছিলাম সে দেখতে তোমারই মতো ছিল।"

শুনে কনকের গা ছমছম করে। মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়। নিশিকন্যার সে দিকে খেয়াল নেই। সে বলে যায়: আমরা রাতে ঘুরতাম, গান শুনতাম নদীর তীরে, পাহাড়ের ঢালে কত কথা বলতাম। একদিন মন্ত্রীর ছেলে আমাদের দেখে ফেলে, আমরা বসেছিলাম চাপালিশ গাছের আড়ালে। শিকার থেকে ফিরছিল রাতে সে। জোছনা রাতের আলোয় আমাদের চিনে ফেলে। সে বাবার কাছে খবরটি পৌঁছে দেয়, হয়তো আমার প্রতি তার টান ছিল।"

"তারপর কী হল?"

"রাজা তার রাজকন্যাকে কিছু বলল না। সব দোষ পড়লো জেলের ছেলের উপর। পাইক দিয়ে তাকে ধরে আনলো, বেত্রাঘাত করে রক্তাক্ত করা হল। তার মা কী চিৎকার করে যে কানছে, না শুনলে বিশ্বাস করা যায় না। মারতে-মারতে আধামরা করে ঐ পাহাড়ের উপর থেকে তাকে যাদুকাটা নদীতে ছুঁড়ে মারে।"

"তুমি কী করলে তখন?"

"আমি রাজবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসি। দিক-বিদিক জ্ঞান হারিয়ে আমার মনের মানুষের জন্য নদীতে পিয়ে পড়ি। নদীতে অনেক স্রোত ছিল, পাথরের নুড়ি ছিল। আমি ভেসে যাই বহুদূরে, নুড়ির আঘাতে-আঘাতে আমি নিস্তেজ হয়ে পড়ি। একসময় বুঝলাম আমি মরে গেছি। কিন্তু আমার আত্মা মরে নাই। আমি তাই আমার প্রেমিককে আজো খুঁজে ফিরি। দিনে গাছে থাকি, জ্যোৎস্না রাত হলে তাকে খুঁজতে থাকি। অমাবস্যা রাতেও বের হই।"

"তোমাকে দেখলাম কালো ওড়না পেঁচিয়ে থাকতে?"

"জোছনা রাতে কালো ওড়না পড়ি, আর অমাবস্যার রাতে সাদা ওড়না পড়ি।"

কনক বলল, "তুমি কী লুসিফার?"

"না।"

"তবে কি পেত্নী না শাঁকচুন্নি?"

"বিবাহিতা না হলে পেত্নী বা শাঁকচুন্নি হয় না।"

"তাহলে তুমি মেছোভূত?"

"না।"

"তোমাকে যে মাছ খেতে দেখলাম। তাহলে কি গেছোভূত, গাছে থাক যে বললে?"

"আমি নিশিকন্যা। মরে ভূত হয়ে গেছি বলে নিশিভূত।"

"তুমি কী ভয় দেখাও?"

"আমি শুধু ভালোবাসার মানুষকে খুঁজে বেড়াই। খিদে লাগলে মাছ খাই, দিনে করচবাগে ঘুমাই।"

"কি মাছ খাও?"

"যে মাছে আঁশ নেই, তাই আমার পছন্দ।"

"পাবদা?"

"পাবদা ছাড়াও আছে; টেংরা, বোয়াল, পাঙ্গাস, রিঠা এইসব।"

"আমার পছন্দ মধুপাবদা।"

"আমারও পছন্দ মধুপাবদা। কী মিষ্টি মাছ, খুব স্বাদের।"

"এ নদীর নাম কি?"

নিশিকন্যা: এটি তো টাঙ্গুয়ার হাওর, যাদুকাটা নদীর সাথে এর যোগ আছে।

"যখন হাওরের পানি থাকে না, তখন কোথায় থাক?"

"আমি করচবাগেই থাকি, সুরমা, যাদুকাটা নদীর পানি কখনো শুকায় না। চাঁদটা ঢলে পড়েছে। জোছনা কমে আসছে। আমার যাবার সময় হয়েছে," এই বলে কনককে অবাক করে নিশিভূত ছই বেয়ে পানিতে নেমে পড়লো। পানিতে টুপ করে হারিয়ে গেল। বড় ঢেউ ছোট হয়ে আসে, ছোট হতে-হতে মিলিয়ে গেল।

কনক শেষ রাতে ঘুমিয়ে পড়ে আর স্বপ্ন দেখে নিশিকন্যাকে। রজনীগন্ধার পাপড়ির মত রঙ তার, কী মধুর কণ্ঠ তার, বারে-বারে চোখে ভাসে। ছোট চাচার ডাকে ঘুম ভাঙে। নাস্তা করে বেড়াতে যায় বারিকের টিলায়। ওখানে চুনাপাথরের খনি আছে। নদী, পাহাড়, অরণ্য; কী চমৎকার সে দৃশ্য। কিন্তু কনকের চোখ খুঁজছে নিশিকন্যাকে; কোন্ সে চাপালিশ গাছ, যার গোঁড়ায় বসে ছিল দু'জন, গান গেয়েছে আর মন্ত্রীপুত্র দেখে ফেলেছে।

দুপুরে ছিল আকনি। সুনামগঞ্জের বিখ্যাত খাবার, বিরিয়ানির মত, সাথে ছিল সাতকড়া, ওটা যে লেবু, তা আগে জানত না কনক। বিকালে সুরমার বুকে ঘুরে ফিরে রাতে নৌকায় এসে বিশ্রাম। আজ রাতও নৌকায় কাটাবে। পরশু সকালে চলে যাবে। এই রাতেও খাবারের পাতে ছিল মধুপাবদা। কনক আর কিছু খায়নি, শুধু মধুপাবদার ঝোল দিয়ে ধোয়া-ওঠা ধবধবে সাদা গরম ভাত খেয়েছ। এখানে সবাই আতপ চালের ভাত খায়। কনকের কোন অসুবিধা হয়নি। সুনসান নীরবতা নেমে আসে চারিদিকে। কোনো নৌকা চলছে না। তীরে বাঁধা আছে ছোট বড় নৌকা; এই তীরে, ঐ তীরে। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, বিকালে বৃষ্টি হয়েছিল। সুনামগঞ্জ বৃষ্টিনেশাকাতর এলাকা। কাছেই তো চেরাপুঞ্জি। টাঙ্গুয়ারের পানিতে স্রোতের দারুণ টান, চাঁদের জোছনা তাতে ছিটকে পড়ে ঢেউগুলো ভেঙ্গে-ভেঙ্গে যাচ্ছে। দূর থেকে বাঁশির সুর ভেসে আসছে। কনক নৌকার ছাদে আজো ঘুমিয়ে পড়ে। জোনাকিরা করছে ঝিকঝিক। খোলা হাওয়ায় ভেসে আসছে গানের করুণ সুর। কে যেন কাঁদছে। কনকের ঘুম ভেঙ্গে যায়, রক্ত হিম হয়ে যায় দেখে; সেই নিশিভূত নৌকা বেয়ে উপরে উঠছে। পানিতে ঢেউগুলো মিলিয়ে গেল আর নিশিভূত তার পাশে এসে বসলো। তার হাতের নখগুলো বড় বড় দেখে গা শির শির করে ওঠে। কিন্তু সুন্দর মুখের দিকে চেয়ে কেমন যেন মায়া লাগে। কনক শুয়ে থাকে, অবাক হয়ে চেয়ে দেখে। নিশিভূত কনকের মাথায় কোঁকড়ানো চুলে হাত বুলিয়ে দেয়। কনকের গলায় স্বর নেই। শরীরে যেন রক্তচলাচল নেই। অসাড় হয়ে পড়ে থাকে। নিশিভূত কনকের কোঁকড়ানো চুলে হাত বোলাতে-বোলাতে গান ধরে —
"কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া-
অন্তরে তুষেরই অনল জ্বলে গইয়া-গইয়া...
কথা ছিল সঙ্গে নিব, সঙ্গে আমায় নাহি নিল গো-
রাধারমণ ভবে রইল জিতে মরা হইয়া।"

কনক আস্তে-আস্তে উঠে বসে, নিশিভূতের হাতে হাত রাখে। বলে, "এত সুন্দর গান তুমি কিভাবে শিখলে?"

"আমার প্রাণের মানুষকে খুঁজতে-খুঁজতে গান গেয়ে ফিরি। কোথাও তারে পাই না। আমি রাতের পর-পর তাকে খুঁজছি। সে তো ধরা দিল না। আর কতকাল করচগাছের শাখায় ঘুমিয়ে কাটাবো সারাটা দিন। অন্ধকারে শুধু দেখতে পাই, দিনে দেখতে পাই না। সাঁতার কাটি কিন্তু পাখির মত উড়তে পারি না। যদি পাখি হতেম, তাহলে উড়ে গিয়ে দেখতাম মনের মানুষ কোথায় আছে লুকিয়ে? বাতাসে শুনি কানাকানি, কত মানুষের গান শুনি, একটি গান অনেক শুনেছি —
'নদীর বুকে ছলাৎ-ছলাৎ মনে লাগে দোলা...
সুরমা নদীর বুকে আমি ভেসে বেড়াই সকাল-সন্ধ্যাবেলা।'"

কণ্ঠে জড়তা মেখে কনক বলে, "আমি তোমার সাথে যাব, তোমার মনের মানুষকে খুঁজে বের করবো। তুমি নেবে আমাকে তোমার সাথে?"

"তুমি কি ভূত হতে চাও আমার মত? কিন্তু আমি যে মানুষ নই, নিশিভূত। আমি যে আত্মহত্যা করেছি, তাই সবাই জানে আমি ভূত, আমাকে সবাই ভয় পায়।"

"আমি ভয় পাই না।"

"কিন্তু আমি যে কলঙ্কিনী। শোন নাই সেই গান —
'আমি কুলহারা কলঙ্কিনী,
আমারে কেউ ছুঁইও না গো সজনী ...'"

কনকও তার সাথে গলা মেলায় —
"প্রেম করা যে স্বর্গের খেলা-
বিচ্ছেদ হয় নরক-জ্বালা.
আমার মন জানে, আমি জানি ...'

গান গাইতে-গাইতে ওরা ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ে। চাঁদের নরম আলোয় ওরা যেন ভাসছে। নিশিকন্যার ওড়নার আড়ালে দু'জনে লুকিয়ে পড়ে। একজনের নিঃশ্বাস আর একজন স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে। কনকের চোখ বন্ধ হয়ে যায়। নিশিভূত তাকে তুলে নেয়। ধীরে-ধীরে ছই থেকে নেমে পড়ে পাটাতনে। তারপর গলুইয়ে। একটু পরে টুপ করে শব্দ হয়। টাঙ্গুয়ার হাওরে ঢেউ ওঠে।

#
ছোট চাচা ঘুম থেকে উঠে পড়ে, তার বন্ধুরা জেগে উঠে। দেখে দু'টি মাথা পানিতে ভাসছে, একজনের মাথায় লম্বা চুল, আর একজনের মাথায় কোঁকড়ানো চুল। ঢেউগুলো গোল হয়ে আস্তে-আস্তে ছোট হয়ে যায়। পূবের আকাশে লাল সরু রেখা ভেসে ওঠে। ওরা দেখে, নৌকার ছই ফাঁকা; বিছানা আছে, বালিশ আছে, কনক নেই...।
( সমাপ্ত )


Next Story

All Bengali Stories    172    173    174    (175)     176   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 7005246126