Home   |   About   |   Terms   |   Book Rent   |   Contact    
A platform for writers

নয়নবুধী

ত্রিপুরার ইতিহাসের পটভূমিতে রচিত একটি বাংলা উপন্যাস

-------- বিজ্ঞপ্তি ----------
◕ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা - সেপ্টেম্বর ২০২২, Details..
--------------------------



All Bengali Stories    44    (45)    46    47    48    49   

নয়নবুধী
( এক পাঁজালীর প্রেমিকা )
পর্ব ২৯
ত্রিপুরার ইতিহাসের পটভূমিতে রচিত একটি বাংলা উপন্যাস
লেখক - হরপ্রসাদ সরকার, ধলেশ্বর, আগরতলা
( এই উপন্যাসের সকল স্বত্ব সরকারি রেজিস্ট্রিকৃত ভাবে লেখক দ্বারা সংরক্ষিত )


নয়নবুধী: সমস্ত পর্বগুলি: All Parts

◕ নয়নবুধী
পর্ব ২৯
জঙ্গলে ধীর পায়ে এগিয়ে যেতে লাগল ইন্দ্র। কিন্তু অবাক করার মত এই যে, বনের এই অংশটি বনের বাকী অংশগুলির মত নয়। অনেক কিছুই এক, তবু অনেক কিছুই ভিন্ন। পরিবেশ-প্রকৃতি এবং লক্ষণ; পার্থক্য কিছু-না কিছু চোখে পড়ছেই। চারিদিক নির্জন, নিঝুম, চারিদিকে সবুজ আর সবুজ। তবু মাথার উপরের আকাশটা বেশ সুন্দর, যা অন্য বনে দেখা যেত না। সেই জায়গা দিয়ে সূর্যের তীক্ষ্ণ-তেজী আলো ঝকমকিয়ে পড়ছে সারা বনে পাতার ফাঁকে-ফাঁকে। কঠিন বন, তবু বনের এই রূপটি বেশ ভাল লাগছে। গাছে-গাছে কত নাম না জানা পাখিরা ডাকছে। কত বন্যপ্রাণীর ডাক ভেসে আসছে কাছে। কিন্তু এদিকটায় খুব ঘন-ঘন হাতির ডাক শুনতে যাচ্ছে। এদিকে এত চিঙ্গার কেন? কি আছে এখানে? হঠাৎ তুলারাম পাড়ার একটি কথা তার মনে পড়ল। তুলারাম পাড়ার বৃদ্ধদের মুখে সে শুনেছিল, সেই অতীত কাল থেকেই নাকি ত্রিপুরার হাতির খুব সুনাম, খুব নাম-ডাক। কারণ, ত্রিপুরার হাতি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি কাজে-কর্মেও খুব দক্ষ। বিশেষত যুদ্ধক্ষেত্রে ত্রিপুরার হাতিরা খুব সাহসী এবং বুদ্ধির পরিচয় দেয়। এমন হাতি অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এই কারণেই নাকি দূর-দূর দেশ থেকে রাজা-মহারাজারা ত্রিপুরার হাতির জন্য ত্রিপুরাকে বহুবার আক্রমণ পর্যন্ত করেছিল। হাতির ডাকের পাশাপাশি সেই তখন থেকে আগরের হাল্কা মিষ্টি গন্ধে সারাটা বন যেন ম-ম করছে। আর হবেই বা না কেন? এই বনটা যেন আগর বন। চারিদিকে প্রচুর আগর গাছ ছেয়ে আছে, দেখাই যাচ্ছে। বনের পথে চলার সময় থেকে স্থানে-স্থানে বহু জায়গা সে এমন পেয়েছে, যেখানে সারাটা বন চাঁপা, চন্দন কিংবা বকুল ফুলের গন্ধে মেতে আছে। কিন্তু এস্থানের আগরের ব্যাপারটাই আলাদা। হতে পারে এটা আগর বন, কিন্তু এই বনটি এত পাতলা কেন? এবং ক্রমশ পাতলা হয়েই যাচ্ছে! আগের বনগুলি কত ঘন ছিল; কিন্তু এ বন যেন ভিন্ন। মনে হচ্ছে যেন কেউ নিয়মিত এখানে কাজ করে যাচ্ছে, পরিষ্কার করে যাচ্ছে। এর মানে কি? নতুন ফাঁদ নয় তো? হোক, আজ ইন্দ্র আর সে-সবে ভয় পায় না। কারণ, তকিরায় আর হারানবাসীকে ছেড়ে একা-একা পথ চলতে শুরু করার পর থেকে এই বনে নিজ-অন্তরে আর বাহিরে অজস্র যুদ্ধ করেছে ইন্দ্র, পদে-পদে, প্রতিক্ষণে। এটা সত্যি যে, কখনো-কখনো জীবনের কঠিন পথ জীর্ণ আর দুর্বল মনকে চরম শোধন করে পরম শক্তিশালী বানিয়ে দেয়। সংগ্রাম, সংগ্রামী তৈরি করে; অনবরত সংগ্রাম বীর তৈরি করে। ইন্দ্রের ক্ষেত্রেও তাই-ই হল। তার স্নায়ুজাল, পেশী, মন, বিবেক, বুদ্ধি, বিচার সব যেন পদে-পদে আরও শক্ত আরও কঠোর হয়ে গেল। বাইরের পরিবেশের সাথে অন্তরের পরিবেশের একটি মিল তৈরি হতে থাকল। বিধাতার এটাও একটা ইঙ্গিত? এ কীসের ইঙ্গিত? আরও বড় সংগ্রামের? হয়তো বা!!

ঠিক তখুনি একটি ঘটনা ঘটল। হঠাৎ বনের কোথাও একটা রব উঠল আর সেটি ইন্দ্রের দিকেই ছুটে আসতে লাগল। ইন্দ্র কিছু বুঝার আগেই সেটি খুব দ্রুত ইন্দ্রের কাছাকাছি চলে এল। আর তখন ইন্দ্র দেখল, কয়েক সশস্ত্র বনো হাঁস ঝাঁকে-ঝাঁকে উড়ে যাচ্ছে তার মাথার ঠিক উপরে বনের উপর দিয়ে। এত হাঁস, এ-ত হাঁস! ঘাড় ঘুরিয়ে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকল ইন্দ্র। সে এক ভয়ানক-মধুর দৃশ্য। আকাশে দলবেঁধে উড়ে যাচ্ছে সহস্র-সহস্র বনো হাঁস । আকাশটা যেন বনো হাঁসদের ডানায়-ডানায় ছেয়ে গেছে, হাঁসদের ডাকের শব্দ ছাড়া আর কোথাও কোন শব্দ নেই। হাঁসদের এই বিশাল দৃশ্যকে চোখ যেমন বেড় পাচ্ছে না, তেমনি তাদের কলরবকেও কান ততটা সহ্য করতে পারছে না। তবু ভাল লাগছে। এ এক বিরল দৃশ্য। দলে-দলে বনো হাঁস উড়ে যাচ্ছে দিকে- দিকে, স্বাধীন ভাবে। কী সুন্দরই না লাগছে। এমন দৃশ্য ইন্দ্র জীবনে কখনো দেখেনি, আগামী দিনে দেখবে বলেও মনে হয়ে না। যতই সে দেখছে ততই অভিভূত হচ্ছে। হাঁসদের দল উড়ে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই, এদের শেষ যেন আর হচ্ছে না। এ এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। এ উড়ান কখন শেষ হবে কে জানে? কিন্তু এ কেমন বন, যেখানে শত-সহস্র বানর আর হাতির যুদ্ধ সে দেখেছে, ঠিক তেমনি দেখছে শত-সশস্ত্র বনো হাঁস উড়ে যাচ্ছে আকাশ। বানর - হাতির সেই যুদ্ধ যেমন আর কখনো দেখা যাবে না, ঠিক তেমনি বনো হাঁসদের এমন উড়ানও আর দেখা যাবে না। মুগ্ধ চোখে ইন্দ্র তাকিয়ে রইল সে দিকে এবং প্রাণ ভরে উপভোগ করতে লাগল তা। তার মন ভরে উঠল এক দৈবিক আনন্দে। এ যেন বনদেবীর শিঙ্গার করার দর্পণ, আর তাতে প্রতিবিম্বিত হচ্ছে তার রূপ। এক সন্ন্যাসী ছাড়া রূপের তৃষ্ণা কার না থাকে? প্রকৃতিও কি তাই আজ নতুন রূপে সাজল?

তবে এ পৃথিবীতে কোনও কিছুই তো অর্থহীন নয়। এত-এত বনো হাঁস উড়ে যাচ্ছে, এর নিশ্চয়ই কোনও অর্থ আছে। ঠিক তেমনি অর্থ আছে আগরের এমন গন্ধের, এমন ঘন-ঘন হাতি ডাকের। এত-এত বনো হাঁস দেখে ইন্দ্র বুঝতে পারল যে আশে-পাশে নিশ্চয়ই কোনও বড় জলাশয় কিংবা জলাভূমি আছে। কিন্তু বিপদও আছে। কারণ জলাভূমি ছাড়া যেমন এত হাঁস থাকতে পারবে না, তেমনি ঠিক কোনও বিপদের ফলেই এত-এত হাঁস একসাথে আকাশে উড়ল। সে যা-ই হোক এই বনেও কোনও রহস্য নিশ্চয়ই লুকিয়ে আছে। তাই সাবধান।
Next Part

গোয়েন্দা গল্প:
মাণিক্য   
সর্দার বাড়ির গুপ্তধন রহস্য   
প্রেমিকার অন্তর্ধান রহস্য   
লুকানো চিঠির রহস্য   
কান্না ভেজা ডাকবাংলোর রাত


All Bengali Stories    44    (45)    46    47    48    49   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 6009890717