Home   |   About   |   Terms   |   Book Rent   |   Contact    
A platform for writers

পল্লীর উন্নতি ভাবনায় রবীন্দ্রনাথ

Bangla Article

------ বিজ্ঞপ্তি ----------
# গপ প্রতিযোগিতা, জুন ২০২২ ( হাসির নতুন দিগন্ত ) Details..
◕ 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার' স্বরচিত গল্প লেখার প্রতিযোগিতা, মে -২০২২ Result
--------------------------


All Bangla Articles    1    2    ( 3 )     4    5   

পল্লীর উন্নতি ভাবনায় রবীন্দ্রনাথ
প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, সেপ্টেম্বর, ২০২১-এর বিজয়ী প্রবন্ধ
লেখিকা - জয়শ্রী ব্যানার্জী, বাবার - শ্রী শ্যামল ব্যানার্জী, ন্যাশানাল পার্ক, নৈহাটি, উত্তর ২৪ পরগণা, পশ্চিমবঙ্গ


## পল্লীর উন্নতি ভাবনায় রবীন্দ্রনাথ
বিশ্ব দরবারে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক মণ্ডলীর মধ্যে এক উল্লেখযোগ্য নাম হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গীতিকার, দার্শনিক বা চিত্রকর এইসব পরিচয় ব্যতীত তাঁর অন্য একটি পরিচয় হল তিনি একজন সমাজ সচেতন মানুষ। জমিদার পরিবারে ধীরে-ধীরে বড় হয়ে ওঠা সত্ত্বেও তিনি সবসময়ে নিজেকে সাধারণের একজন বলে মনে করতেন। এই জমিদারী পর্যালোচনার হাত ধরেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচয় হল গ্রামবাংলার জীবনের সাথে। শৈশবে তাঁর সময় কেটেছিল চার দেওয়ালের মাঝে ভৃত্যদের শাসনের মধ্যে দিয়ে। তাই গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষগুলোর সংস্পর্শ তাকে দিয়েছিল পরম আনন্দ। পল্লীর সেইসব দরিদ্র সাধারণ মানুষগুলোর সাথে একাত্ম হয়ে তিনি উপলব্ধি করলেন পল্লীর দুঃখ-দৈন্য। দুর্দশাগ্রস্ত পীড়িত মানুষ, এরা সংখ্যায় বারো আনা। এদের পরিশ্রম সবার চাইতে বেশি, অথচ সবার থেকে বেশি বঞ্চনা আর অপমান এদের কপালেই জোটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেইসব অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য এগিয়ে এলেন। আমরা তাঁর বিভিন্ন প্রবন্ধ, বক্তৃতা ও লেখনীর মধ্যে পল্লীসমাজকে কেন্দ্র করে তিনি যে সমস্ত চিন্তাভাবনা করেছেন তার উল্লেখ পাই।

'পল্লীপ্রকৃতি' প্রবন্ধের প্রতিটি ছত্রে-ছত্রে তিনি পল্লীকে কেন্দ্র করে তাঁর যেসব চিন্তা -ভাবনা, সেসবের উল্লেখ করেছেন। তিনি সেখানে বলেছেন, গ্রামকে আত্মসাৎ করছে নগরজীবন। গ্রাম বাংলার মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে সমস্তরকম সুযোগ-সুবিধা থেকে। একদিন যেসব মানুষগুলো গ্রামকে কেন্দ্র করে তাদের সুখের জীবন কাটিয়েছিল, তারা পাড়ি দিয়েছে শহরে। বঞ্চিত হয়েছে গ্রাম। গ্রামের অভাব ও দারিদ্র্য দূর করার লক্ষ্যে তিনি বলেছেন, গ্রাম আর শহরকে পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক হয়ে উঠতে হবে। একাজ একমাত্র সম্ভব গঠনমূলক কাজের মধ্যে দিয়ে। গ্রামের মানুষরা সবসময় নিজেকে দুর্বল বলে মনে করে এসেছে। তাই তারা যেকোনো রকম সৃষ্টিশীল কাজে ভয় পায়। তারা মনে করে তারা ক্ষুদ্র, তাই তাদের ভাল হওয়া সম্ভব না। তিনি এইসব পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর মনের এ দুর্বল ভাবনাচিন্তা সবার আগে দূর করার কথা বলেছেন। তার জন্য তাদেরকে নতুন করে উৎসাহিত করার কথা বলেছেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'উপেক্ষিতা পল্লী' প্রবন্ধে পল্লীসমাজের অসহায়তার আরেক চিত্র এঁকেছেন। মানুষের বুদ্ধি ও শক্তি প্রকৃতির সহজ নিয়মকে অতিক্রম করে গেছে। প্রকৃতিকে পিছনে ফেলে মানুষের এই জয়ের গৌরবের পিছনে-পিছনে ধেয়ে এল মানুষের দুর্বাসনা। ফলে তখন তার পক্ষে আর অল্পতে সন্তুষ্ট থাকা সম্ভব হয়ে উঠল না। তার চাহিদার পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে লাগল দিনে-দিনে। প্রকৃতির নিয়ম সীমাকে লঙ্ঘন করে মানুষ তার নিজের সৃষ্টির জটিল নিয়মে জীবনযাত্রা অতিবাহিত করে চলতে লাগল। লোভের তাড়না তার বুদ্ধিকে করেছে পঙ্গু, তার চেতনাকে করেছে মলিন। বর্তমান সভ্যতায় দেখা যায়, একশ্রেণীর মানুষ দীনতায় পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে কিছু ভোগবিলাসী মানুষ হয়ে উঠছে উল্লাসে উন্মত্ত। মানুষের অন্নের উৎপাদন হয় গ্রামে, অথচ তার লাভের অর্থ আসছে শহরের হাতে। পল্লীর কপালে তাই জোটে শহরের ভোগের উচ্ছিষ্টের ছিটেফোঁটা অংশ। গ্রামে অন্ন উৎপাদন করে বহু সংখ্যক লোক। অথচ তা ভোগ করে চলেছে শহরের কিছু মুষ্টিমেয় মানুষ। প্রাবন্ধিকের কথায় বলতে হয়, 'আমাদের পল্লী মগ্ন হয়েছে চির-দুঃখের অন্ধকারে। সেখান থেকে মানুষের শক্তি বিক্ষিপ্ত হয়ে চলে গেছে অন্যত্র। কৃত্রিম ব্যবস্থায় মানব সমাজের সর্বত্রই এই যে প্রাণ শোষণকারী বিদীর্ণতা এনেছে, একদিন মানুষকে এর মূল্য শোধ করতে দেউলে হতে হবে। সেই দিন নিকটে এল।' আসলে সর্বসাধারণকে বঞ্চিত করলে বঞ্চিত হতে হবে একদিন নিজেকে। কারণ, তাদের ঋণের বোঝার সাথে-সাথে শাস্তির বোঝাও হয়ে উঠবে ভারী।

তাঁর 'পল্লীর উন্নতি' প্রবন্ধে বলেছেন, দেশের মানুষকেই দেশের জন্য কাজ করতে হবে। 'শিক্ষিত লোকের মনে অশিক্ষিত জনসাধারণের প্রতি একটা অস্থি-মজ্জাগত অবজ্ঞা আছে।' প্রাবন্ধিকের মতে, এই অবজ্ঞাই শিক্ষিত অশিক্ষিতের মাঝে একটা বড় প্রাচীর রচনা করে। তাই গ্রামের অশিক্ষিত মানুষগুলো ভদ্র শিক্ষিতদের বিশ্বাস করতে পারে না। তাদেরকে তারা শুধুমাত্র উপদ্রব বলে মনে করে। তাদের সাহায্য নিতে অস্বীকার করে। সাধারণ দরিদ্র অশিক্ষিত মানুষদের এই অবিশ্বাসকে শান্ত মনে মেনে নিয়ে যারা তাদের উপকারের স্বার্থে এগিয়ে আসবে, তারাই এই কাজে প্রকৃত কাণ্ডারি।

তিনি বিশ্বাস করতেন, গ্রামের মানুষদের জন্য বাইরে থেকে একটা-একটা করে উপকার করলে কখনোই আমরা তাদের দুঃখ লাঘব করতে পারব না। কারণ, আমরা যতই তাদেরকে দানের মাধ্যমে উপকার করার চেষ্টা করব, ততই সেই দান তাদের জীবনের দুঃখ দারিদ্র্যের বোঝাকে ধীরে-ধীরে আরো বাড়িয়ে চলবে। তাই আমরা তাদের উপকার করে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেব না। তার বদলে তাদের আত্মশক্তিকে বাড়িয়ে তুলব। তখন তারা নিজেরাই নিজেদের দুঃখ দূর করার জন্য আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে।

আধুনিক সমাজ যন্ত্রনির্ভর, সেই যন্ত্রশক্তিকে হাতিয়ার করে সে এগিয়ে চলেছে। যন্ত্রশক্তির মাধ্যমে কাজের শক্তি যেমন বেড়ে চলেছে, তেমনি তার লাভের অঙ্ক হয়েছে বহুগুণ। এর ফলে মানুষের মনের মধ্যে লোভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাম ও শহরের মধ্যে যে একান্নবর্তীতার সম্পর্ক ছিল তা ধীরে-ধীরে ভেঙে যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, মানুষের সভ্যতা থেকে যন্ত্রশক্তিকে বাদ দিলে চলবে না। কারণ সময়ের সাথে-সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বিজ্ঞানের এই মহাশক্তি যখন সমস্ত সমাজের হয়ে কাজ করবে, তখনই তার গুরুত্ব সার্থকতা লাভ করবে। যন্ত্রশক্তির এই নতুন ধারাকে গ্রামে আনতে হবে, না হলে গ্রামের দুঃখ মোচন করা যাবে না। তাঁর মতে, মানুষের জ্ঞান ও বিজ্ঞানের জ্ঞানকে একসাথে মেলাতে হবে। আসলে পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের সুফলকে আমাদের দেশের উন্নতির কাজে লাগানোর মধ্যে কোন ভুল নেই। ভুল যদি থেকে থাকে তবে তা তার অপব্যবহারে।

'বাঙালির কাপড়ের কারখানা ও হাতের তাঁত' প্রবন্ধে আমরা দেখতে পাই, প্রাবন্ধিক সেখানে গ্রামবাংলার অন্য আরেকটি দিককে তুলে ধরেছেন। তাঁতশিল্প গ্রামবাংলার এক উল্লেখযোগ্য শিল্প। বাঙালি শুধুমাত্র কৃষিকাজ বা লেখালিখির মধ্যে দিয়ে তাদের জীবনযাত্রা অতিবাহিত করত না। তাঁতযন্ত্র ছিল তাদের জীবিকার প্রধান অঙ্গ। 'তখন শ্রী ছিল তার ঘরে, কল্যাণ ছিল গ্রামে-গ্রামে।' উন্নত মানের তাঁতযন্ত্র এসে বাংলার তাঁতকে পিছনে ফেলে দিল। বাংলার তাঁত ধীরে-ধীরে তার শ্রী হারাতে লাগল। প্রাবন্ধিকের মতে, একসময় জারের সাম্রাজ্য কালে রাশিয়ার প্রজারা ছিল আমাদের মতই অক্ষম। তারা প্রধানত ছিল চাষী। ফলে তাদের চাষের প্রণালী বা উপকরণ ছিল আমাদের মতই পুরনো। তাই রাশিয়াকে ধন উৎপাদনের যন্ত্রকে সর্বসাধারণের উপযুক্ত করে তোলার জন্য যন্ত্র ও কর্মী আনতে হয়েছিল অন্য স্থান থেকে। এই অশিক্ষা ও অনভ্যাস আজ বাংলাদেশের মনে ও অঙ্গে। তারা তাই যন্ত্র ব্যবহারে অপারগ।

বঙ্গ-বিভাগের সময়কাল থেকে বাংলার কাপড় আর সুতোর কারখানার সূত্রপাত হয়েছিল। কিন্তু আমাদের দেশবাসী তখনও বড়ো ব্যবসা কিংবা যন্ত্র ব্যবহারে রপ্ত হতে পারেনি। আমাদেরকে এই উন্নত যন্ত্র ব্যবহারে রপ্ত হতে হবে সবার আগে। কারণ গ্রামবাংলার হাতের চরকার উপরে নির্ভর করে থাকলে অভাব আর দারিদ্র্য কখনও পিছু ছাড়বে না। বাংলায় যেসমস্ত কাপড়ের কলগুলো রয়েছে তাদেরকে সবার আগে রক্ষা করতে হবে আর সেই দায় বাঙালির ওপরেই বর্তায়। প্রাবন্ধিকের কথায়, 'চাষ করতে -করতে যে কেবল ফসল ফলে তা নয়, চাষের জমিও তৈরি করে। কারখানাকে যদি বাঁচাই, তবে কেবল যে উৎপন্ন দ্রব্য পাব তা নয়, দেশে কারখানার জমিও গড়ে উঠবে।' তাই বাঙালির মনের ঔদাসীন্যকে সবার আগে দূর করতে হবে। কারখানাতে কি কি ধরনের জিনিস উৎপন্ন হয় তা মানুষের মধ্যে প্রচার করতে হবে। প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলার উৎপন্ন দ্রব্যকে সবার সামনে আনতে হবে, যাতে যুবসমাজ এর দ্বারা উৎসাহিত হয়ে বাংলার হাতের ও কলের জিনিস ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গ্রামের অভাবগ্রস্ত মানুষদের উন্নতির স্বার্থে সমবায় নীতির ওপরে জোর দিয়েছিলেন। আসলে আমাদের দেশের দরিদ্র মানুষদের নিজেদের অভাব দূর করার মত মনের কোনও জোর নেই। তাদের আত্মবিশ্বাস নেই। তাদের আগ্রহ নেই। তাঁর কথায়, 'পরস্পর মিলিয়া যে মানুষ, সেই মানুষই পুরা। একলা মানুষ টুকরা মাত্র।' তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন, এই দরিদ্র অসহায় মানুষগুলো যদি পরস্পর একজোট হয়ে তাদের অভাবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তবে একদিন সত্যিই তারা নিজেদের দুঃখ মোচনে সক্ষম হবে। গ্রামে দরিদ্র চাষী ও সম্পন্ন চাষী পাশাপাশি আছে এবং তাদের সামর্থ্য অনুসারে হাল ও বলদ। ফলে তাদের উৎপন্ন ফসলের পরিমাণের মধ্যেও কমবেশি তারতম্য হয়। এই অসাম্য দূর করার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সমবায় ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বলেছেন। চাষীরা যদি তাদের সবার ফসলের ক্ষেত ও মূলধন একসাথে করে সমবায় মাধ্যমে কৃষিকাজ করে, তাহলে তারা আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আরো বেশি ফসল উৎপন্ন করতে পারবে। সেই ফসল তারা গোলাগত করে বিক্রি করে তার লাভের টাকা মূলধনের অঙ্কে ভাগ করে নেবে। এভাবে দারিদ্র্যকে তারা ঠিকভাবে জয় করে নেবে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাশিয়া ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পল্লীসমাজে উন্নয়ন চিন্তায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে। রাশিয়ার মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি শুধু যে তাঁকে মুগ্ধ করেছিল তা নয়, তিনি অবাক হয়েছিলেন। সেখানে কাজের ক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্র আলাদা কিছু নেই। নেই কোন উচ্চ-নীচ ভেদ। মানুষের উন্নতির স্বার্থে সেখানে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে কাজ করে। এর প্রধান কারণ সর্বজনীন শিক্ষার সুযোগ। প্রকৃত শিক্ষাই সাধারণ দরিদ্র মানুষের আত্মবিশ্বাসের জন্ম দেয়। রাশিয়ার মানুষ প্রধানত তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেয় – শিক্ষা, কৃষি, এবং যন্ত্র। সেদেশে কৃষকদের শিক্ষার প্রসার হয়েছে। তারা সমবায় ব্যবস্থায় কৃষিকাজ করে তাদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করে তা সহজেই কৃষিকাজে ব্যবহার করতে পেরেছে নিজেদের শিক্ষার গুণে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাশিয়ার এই শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন যা অত্যন্ত গভীর ও বাস্তবসম্মত। তিনি এই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থাকে তাঁর শান্তিনিকেতনের আশ্রমে প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, কারণ আমাদের দেশের কৃষকদের যে প্রকৃত শিক্ষার প্রয়োজন আছে তা তিনি অনুভব করতে পেরেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদার হয়ে প্রজাশাসন বা প্রজা-নিপীড়ন ব্যবস্থাকে কোনোদিন সমর্থন করেননি। বরং প্রজা ও জমিদার এই সম্পর্কগুলোকে দূরে সরিয়ে রেখে পরস্পর একতার সম্পর্ককে তিনি বারবার সম্মান জানিয়েছেন। পল্লী-প্রকৃতির প্রতি তাঁর এই ভালোবাসা পল্লীর উন্নতির সঙ্কল্পকে আরো দৃঢ় করে তুলেছিল।

ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের কালে বাংলার গ্রামগুলো অশিক্ষা, অনাহার, দারিদ্র্যের কালো পাঁকে ডুবেছিল। সাধারণ নিরক্ষর মানুষগুলোর মনের মধ্যে কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতার যে কুজ্ঝটিকার জাল রচনা করেছিল তা তাদের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। সাধারণ মানুষকে এই দুর্দশা থেকে উদ্ধার করার লক্ষ্যে তিনি নানা পথের সন্ধান দিয়েছিলেন। পল্লীর উন্নতির এই চিন্তা কেবলমাত্র তাঁর বক্তৃতা বা লেখনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি তাঁর সঙ্কল্পকে দৃঢ়ভাবে পল্লীর উন্নতির বিভিন্ন কাজের মধ্যে দিয়ে বাস্তবায়িত করেছেন যা সারা বিশ্ব-দরবারে আজও উল্লেখ হয়ে আছে। তাঁর ত্যাগ, তাঁর ধৈর্য, অসহায় মানুষগুলোর প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে।
"মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।"
( সমাপ্ত )

তথ্যসূত্র:-
১. পল্লীপ্রকৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২. অন্তর্জাল


Next Bangla Article

All Bangla Articles    1    2    ( 3 )     4    5   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 7005246126