Home   |   About   |   Terms   |   Library   |   Contact    
A platform for writers

ইনস্টাগ্রাম

Bengali Story

All Bengali Stories    92    93    94    95    96    97    98    (99)     100    101   

-------- বিজ্ঞপ্তি ----------
■ 'স্বরচিত কবিতা প্রতিযোগিতা, ফেব্রুয়ারি - ২০২৩' Details
--------------------------



ইনস্টাগ্রাম

লেখিকা - কাশফিয়া নাহিয়ান, মনেশ্বর রোড,ধানমণ্ডি,ঢাকা, বাংলাদেশ

■ কোন ফটোটা যে আপলোড করবো কিছুতেই বুঝতে পারছি না! এটা নাকি ওটা? সুজানা, এই সুজানা...

আসছি...কি হলও?

দেখো তো কোন ফটোটা আপলোড করবো? ঠিক করতে পারছি না।

যে কোন একটা দিলেই তো হয় ফারজাদ! এটা তো আমাদের কক্সবাজারের ট্রিপের পিক তাই না! আমাদের সব পিকই সুন্দর হয়েছে।

যে কোন একটা দিলে হয় না...সবচেয়ে ভালো ফটোটাই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করতে হয়।

তোমার সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে এত বাড়াবাড়ি আমার ভালো লাগে না। যখনই দেখো সবসময় শুধু ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম নিয়ে মেতে থাকো।

তুমি যাও তো যাও..বিরক্ত হয়ে বলল ফারজাদ।

সুজানাও রুম থেকে রেগে বের হয়ে গেলো।

সুজানা আর ফারজাদ এর বিয়ে হয়েছে প্রায় ছয় মাস হয়েছে। বাবা-মা'র পছন্দেই তাদের বিয়ে হয়েছে। সুজানা একদম শান্ত জলের মত। সহজ, সরল, সাধারণ ঘরকুনো একটি মেয়ে। যে রান্না-বান্না আর ঘর গুছিয়ে রাখতে বেশী পছন্দ করে। আর ফারজাদ মুক্ত বিহঙ্গের মত। যাকে বেঁধে রাখা যায় না। একটি মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানিতে জব করে সে। সবসময় সেলফি, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এসবে মেতে থাকে ফারজাদ। সোশ্যাল মিডিয়ার যে একটা অন্ধকার দিক থাকতে পারে সেটা সে মানতেই চায় না। তার মতে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে একটিভ থাকা খুব জরুরী। নতুন-নতুন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে তার খুব ভালো লাগে। ফারজাদ আর সুজানা পরস্পরকে বেশ ভালোবাসে। কিন্তু মাঝে-মাঝে ফারজাদের মনে হয় তাদের মধ্যে পাহাড় সমান দূরত্ব, যা কখনই মিটবে না।

এখন রাত প্রায় একটা। এই সময় ফারজাদের ইনস্টাগ্রামে না গেলে চলেই না। তার ঘুমই আসে না। সুজানা অনেক আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে। সকালে যে ফটোটি আপলোড করেছিলো সেখানে দেখল অনেক লাইক এবং ভালো-ভালো কমেন্টসও এসেছে। ভালোই লাগছে ফারজাদের। ইনস্টাগ্রামে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ একটি একাউন্টে নজর পড়ে তার। একাউন্টটি তানজিনা আহমদের। পিক গুলো অনেক ভালো। বেশ কিছু কাপল ফটোও আছে। সঙ্গে-সঙ্গে ফলো বাটনে ক্লিক করলো ফারজাদ। আর মেসেজ রিকুয়েস্টও পাঠালো। কে জানে মেসেজ রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করে রিপ্লাই দেবে কিনা! দুই, তিন মিনিট পর মেসেজের রিপ্লাই পেলো সে। হাই...

হ্যালো..

আপনার পিক দেখলাম। অনেক সুন্দর।

ধন্যবাদ..

কাপল ফটো দেখলাম। সেগুলোও বেশ ভালো।

ও আমার হাজবেন্ড রিদওয়ান। আমি জানি রিদওয়ান অনেক ফটোজেনিক।

কতদিন হলও আপনাদের বিয়ে হয়েছে?

প্রায় দেড় বছর...

ও..তাহলে তো বেশী দিন হয়নি...আমার বিয়ের ছয় মাস হয়েছে।

আচ্ছা...আপনারা তো একদমই নবদম্পতি।

কোথায় থাকেন আপনি?

প্রথম আলাপ পরিচয়ে এত কিছু জানা ভালো না। অনেক রাত হয়েছে। বাই...

যাক বাবা! এভাবে চলে গেলো...আজব মেয়ে তো...

তার পরদিন অফিসের কাজের ফাঁকে অনেকবার তানজিনা আহমদের একাউন্টে ঢুকতে চেষ্টা করলো সে। কিন্তু পারলো না। একাউন্টটি ডিজেবল দেখাচ্ছে। আশ্চর্য! কি এমন বলল সে যে, একাউন্ট ডিজেবল করে দিলো মেয়েটি। বুঝতে পারলো না ফারজাদ। সেই রাতে আবার তার একাউন্ট ঢোকার চেষ্টা করলো সে। দেখল একাউন্টটা একটিভ শো করছে..

হ্যালো..

হাই..

আমি দিনের বেলা অনেক বার আপনার একাউন্টে ঢোকার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারিনি...

আমি দিনের বেলা সোশ্যাল মিডিয়াতে থাকা পছন্দ করি না।

কেন..

এমনি আমার ইচ্ছা..

কাল কথা না বলে চলে গেলেন কেন?

হয়ত আপনার কথা আমার পছন্দ হয়নি...

আমি তো শুধু জানতে চেয়েছিলাম আপনি কোথায় থাকেন?

তা জানার হয়তো সময় আসেনি..

কখন সময় আসবে?

যখন আসবে তখন জানতে পারবেন। শুভ রাত্রি...

আবারও চলে গেলো? সমস্যা কি এই মেয়ের!

মেজাজ গরম করেই মোবাইলটা রেখে শুয়ে পড়লো ফারজাদ।

##

কি হল? নাশতা করছো না যে? ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে তো!

ভাবছি...

কি ভাবছো?

ইনস্টাগ্রামে এক মেয়ের সাথে পরিচিত হলাম। কিন্তু...

কিন্তু কি...

মেয়েটা চরম মুডী। ঝড়ের মত আসে তুফানের মত চলে যায়। কোনও কথার ঠিকঠাক জবাব দেয় না!

নিশ্চয়ই মেয়েটা সুন্দরী এবং অবিবাহিত! সুজানার কণ্ঠে কৌতূহলের সুর।

না...না..সে বিবাহিত। হ্যাঁ..সুন্দরী বলতে পারো..

প্রেমে পড়লে নাকি...

কি যে সব বলো না! নাশতা না করেই চেয়ার ছেড়ে উঠে গেলো ফারজাদ।

আরে! চা-টা অন্তত খেয়ে যাও..হাসতে হাসতে বলল সুজানা।

কোনও জবাব না দিয়ে অফিসে চলে গেলো ফারজাদ।

প্রায় প্রতিদিনই তানজিনা আর ফারজাদের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে চ্যাটিং হয়। এখন তো প্রায় চার মাস হতে চললো। প্রথম-প্রথম তো ফারজাদ চরম বিরক্ত হতো তানজিনার ওপর। দিনের বেলা কখনই তাকে পাওয়া যায় না। গভীর রাতেই সে একটিভ থাকে। এখন তানজিনার সাথে কথা বলা প্রায় অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কি এক সম্মোহনী শক্তিতে তার সাথে কথা না বলে থাকতে পারে না ফারজাদ! ইতিমধ্যেই সে তানজিনার ব্যাপারে অনেক কিছুই জেনেছে। তার হাজবেন্ড রিদওয়ান প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরি করে। তারা বরগুনায় থাকে। রিদওয়ানেরও সুজানার মত সোশ্যাল মিডিয়াতে চরম অনীহা। এদিকে তাদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকীর দিনটা অনেক আনন্দে কাটালো ফারজাদ আর সুজানা। লং ড্রাইভ,মুভি দেখা,চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া অনেক মজা করলো তারা। আর ফারজাদ তো কত যে ছবি তুললো তা হিসাবেরও বাইরে।

##

পিক গুলো কিন্তু দারুণ হয়েছে..

ধন্যবাদ।

আজ আপনাদের কোনও বিশেষ দিন ছিল নাকি?

হ্যাঁ...প্রথম বিবাহ বার্ষিকী...

অনেক-অনেক শুভেচ্ছা। তা কোথাও বেড়াতে যাবেন না?

এখনও কিছু ঠিক করি নি। দেখি কোথায় যাওয়া যায়!

আমাদের বাসায় চলে আসুন। দুই, তিন দিন বেড়িয়ে যান...

আপনাদের ওখানে...মানে বরগুনা..

হ্যাঁ...

না...তা কি করে হয়? আপনাদের যদি কোনও অসুবিধা হয়!

কোনও অসুবিধা হবে না..বরং আমাদের ভালোই লাগবে। আশা করি আপনাদেরও আমাদের সাথে ভালো সময় কাটবে।

তাহলে..তো অনেক ভালো হয়। আমি সুজানার সাথে আলাপ করে পুরো বিষয় জানাবো।

ঠিক আছে...

##

আচ্ছা শোনো.. আমরা দুই দিন বরগুনা ঘুরে আসলে কেমন হয়!

বরগুনা? কিন্তু সেখানে তো আমাদের কোনও আত্মীয় স্বজন থাকে না।

আরে না..না..ওই যে তোমাকে বলেছিলাম না..আমার ইনস্টাগ্রাম ফ্রেন্ড তানজিনা আহমদ! সেই তো আমাদের ইনভাইট করলো..

এভাবে কিভাবে চলে যাবো? চিনি না জানি না...

আমি তো চিনি..

কিন্তু কখনও দেখা সাক্ষাত তো হয়নি। ওনারা কেমন মানুষ আমরা তো তা জানি না..কোনও বিপদ হলে..

এত ভেবো না তো! আমি ঠিক করেছি আমরা যাবো। তুমি ব্যাগ গুছিয়ে নাও। আমি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আসি। কালকেই আমরা রওয়ানা দেবো।

ফারজাদের খুশীর সীমা নেই। কিন্তু সুজানার মন থেকে সন্দেহ যাচ্ছেই না।

সকাল-সকাল বরগুনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো তারা। যাবার পথে হাজারো বাধার সম্মুখীন হল। দুই, বার তো বাস নষ্ট হয়ে গেলো। বারবার বিশ্রী জ্যামের মধ্যে পড়লো। সুজানা ফারজাদকে বোঝাল, চলো ফিরে যাই! কিন্তু ফারজাদ মানতেই চাইলো না। বরগুনাতে যখন তারা পৌঁছুল তখন রাত প্রায় বারোটা। মফস্বল এলাকাতে রাত বারোটার সময় মনে হচ্ছে রাত দুইটা - তিনটা বেজে গেছে। মোবাইলের টর্চের আলোতে অন্ধকার রাস্তা ধরে হাঁটছে তারা। চারিদিকে পিন-পতন নিস্তব্ধতা। যেন আঁধারের রাজ্যে হারিয়ে যাচ্ছে তারা। কোথাও কেউ নেই। আর কতক্ষণ হাঁটবো..আর তো পারছিনা...অস্থির হয়ে বলল সুজানা।

এই তো এসে গেছি..

কিছুদূর যেতেই শ্বেত পাথরের বড় একটি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়লো তারা। আশেপাশে কোনও বাড়িঘর নেই। বাড়ির সামনে দাঁড়াতেই দরজা আপনা আপনি খুলে গেলো...

এসেছেন আপনারা...

টর্চের আলোতে দেখল কালো শাড়ি,কালো চুড়ি,কালো টিপ পরে ঘন লম্বা চুলে দাঁড়িয়ে আছে এক মেয়ে। অনবরত হাসছে সে।

এত দেরী হল যে..এই গলাটা ছিল রিদওয়ানের। কালো শার্ট আর কালো জিন্স পরে তানজিনার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।

জ্যাম আর বাস নষ্ট হওয়ার চক্করে দেরী হয়ে গেলো...হাঁপাতে-হাঁপাতে বলল ফারজাদ।

এইখানে ইলেকট্রিসিটি নেই..জিজ্ঞাসা করলো সুজানা।

আর বলবেন না..লাইনে কি এক ত্রুটি দেখা গেছে। ঠিক করতে তিন দিন লাগবে। হাসতে-হাসতে বলল রিদওয়ান। তার হাসি দেখে মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো সুজানার।

বলেন কি? লাইট ছাড়া, ফ্যান ছাড়া এই গরমে কিভাবে থাকবো..অবাক হয়ে জানতে চাইলো ফারজাদ..

না..না..এই বাসায় একটুকু গরম লাগবে না। বরং ঠাণ্ডাই লাগবে।

সুজানাও হঠাৎ খেয়াল করলো তার একটু শীতই লাগছে। আশ্চর্য! বাইরে এত গরম আর ঘরে শীতল এক পরিবেশ?

আপনারা ফ্রেশ হয়ে আসুন..কিছু খেয়ে নিন...বলল তানজিনা।

সুজানা দেখল পুরো ঘরে এক অদ্ভুত চার্জার লাইট লাগানো। এরকম লাইট সে আগে কখনও দেখেনি। পোলাও-কোরমা রেজালা খেয়ে আর অল্পবিস্তর গল্প-স্বল্প করে শুয়ে পড়লো তারা। ফারজাদ তো অতিথি আপ্যায়নে বেজায় খুশী। কিন্তু সুজানার কেন জানি কিছুই ভালো লাগছে না। এই বাসায় এক আজব ধরনের নীরবতা আছে যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আর বাতাস যেন কি এক অজানা কারণে অনেক ভারি লাগছে তার! তারপর দিন ফারজাদ আশেপাশের জায়গাটা ঘুরে-ঘুরে দেখল। বাড়ির আশপাশটা ঝোপঝাড়ে ঘেরা। কত নাম না জানা গাছ ফুল আছে!

আপনি এখানে কি করছেন?

ও..তানজিনা আপনি..চমকে বলল ফারজাদ।

আশেপাশের জায়গাটা একটু দেখছিলাম। আচ্ছা..আপনার এত বড় বাড়িতে একা থাকতে ভয় লাগে না..

না...ভয় লাগবে কেন? শহরের কোলাহল থেকে দূরে এত নিরিবিলি একটা পরিবেশ! আমার তো অনেক ভালো লাগে...

ঠিকই বলেছেন..আজকাল তো এত সুন্দর জায়গা পাওয়াই যায় না।

সুজানা পুরো বাড়িটা ঘুরে দেখছে! এত বড় বাড়ি! এতগুলো রুম। প্রত্যেক রুমে দামী আসবাবপত্র। ঝকঝকে তকতকে সাজানো গোছানো বাড়ি। একদম যেন ছবির মত! এত বড় বাড়ি একদিনে তো দেখে শেষ করা যাবে না! হাসতে-হাসতে বলল রিদওয়ান।

এত বড় বাড়ি কিভাবে বা কোথা থেকে কিনলেন?

আসলে এই বাড়িটা আমার দাদার ছিল, তারপর আমার বাবার, এরপর আমার...

বাহ! বেশ ভালো...

একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো?

কি কথা?

আপনার আর তানজিনার কালো রঙ খুব পছন্দ তাই না! কালকেও ম্যাচিং করে কালো রঙ পরে ছিলেন। আজও পরে আছেন..

তা বলতে পারেন! এই আঁধারের রঙই আমাদের বাস্তবতা...

জী...

কিছু না...চলুন আপনাকে আপনার রুম পর্যন্ত পৌঁছে দিই। নইলে এই গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাবেন।

আজ ভরা পূর্ণিমা। পূর্ণিমার আলোতে পুরো বাড়িটিকে অপ্সরীর মত লাগছে। এত সুন্দর পূর্ণিমা ফারজাদ আগে কখনই দেখেনি। চাঁদের অপার্থিব সৌন্দর্য যেন তাকে ক্রমেই মোহগ্রস্ত করছে! আর এই পূর্ণিমার আলো সুজানার মনের সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পূর্ণিমা সাধারণ পূর্ণিমা নয়। এই পূর্ণিমা যেন এক মায়াজাল সৃষ্টি করছে। নিজের অজান্তেই সেই মায়াজালে একটু একটু করে জড়িয়ে পড়ছে সে আর ফারজাদ। বিছানায় শুয়ে-শুয়ে অনেক কিছু চিন্তা করছে সুজানা। তাদের মোবাইলগুলো চার্জের অভাবে ডেড হয়ে পড়ে আছে। এখানে তো ইলেকট্রসিটিই নেই। যেই ফারজাদের সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া চলতো না সে এখন মোবাইলের নামও নেয় না। আর তানজিনা কিংবা রিদওয়ানের কাছে কোনও স্মার্ট ফোন কিংবা,ল্যাপটপ কিছুই দেখেনি সে। সমস্ত চিন্তা ভাবনা মাথায় তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। এসব ভাবতে-ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লো সে। হঠাৎ গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলো সুজানার। সে দেখল তানজিনা হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে.. লম্বা ঘন চুল বাতাসে উড়ছে..আর তার চোখগুলো অস্বাভাবিক রকমের লাল। ভয়ে শিউরে উঠল সে।

ফারজাদ! এই ফারজাদ!

কি...হ..লো..ঘুম-ঘুম চোখে বলল সে।

আমরা এখনই এখান থেকে চলে যাবো..

হয়েছে কি..

এখানে কোনও কিছু স্বাভাবিক না..হয়তো এখানে যারা থাকে তারা মানুষের মুখোশের আড়ালে অন্য কিছু..

কি বলছো এসব..

ঠিকই বলছি। আমরা এখানে এসে অনেক বড় বিপদে পড়ে গেছি। এখান থেকে এই মুহূর্তে আমাদের চলে যেতে হবে।

সুজানার ভয়ার্ত চেহারা দেখে সেও আর কথা বাড়ালো না। ফারজাদ এই গভীর রাতেই তার সাথে যেতে রাজী হল। আর তখনই তাদের রুমের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলো রিদওয়ান আর তানজিনা।

কোথায় যাওয়া হচ্ছে?

সুজানা একটু বেশী ভয় পেয়ে গেছে। নতুন জায়গা তো! তাই এখনই চলে যাচ্ছি।

কিন্তু আপনাদের যে যাওয়া হবে না...

মানে..

এখানে আসা যায় কিন্তু যাওয়া যায় না। আপনাদের আর কখনই আপনাদের দুনিয়ায় ফেরা হবে না। হাসতে-হাসতে বলল তানজিনা। সেই পৈশাচিক হাসি দেখে ভয়ে গা কেঁপে উঠলো ফারজাদের আর সুজানা ভয়ে আতঙ্কে শক্ত করে তার হাত চেপে ধরল। তানজিনা আর রিদওয়ান বীভৎস হাসি নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে.. তাদের চোখ টকটকে লাল...সজোরে চিৎকার করছে ফারজাদ ও সুজানা...এরপর!

এরপর আর ফারজাদ ও সুজানাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন তাদেরকে অনেক খুঁজেছে। পুলিশি তদন্ত হয়েছে। প্রাইভেট ডিটেকটিভও অনেক অনুসন্ধান চালিয়েছে। কিন্তু তাদের পাওয়া যায় নি। যেন এই পৃথিবী থেকে তাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা হয়েছে। কিছু 'কেন' র ব্যাখ্যা হয় না, কিছু প্রশ্নের উত্তর হয় না। তেমনি কিছু রহস্য ভেদ করা যায় না। ফারজাদ আর সুজানার ঘটনা থাকে অমীমাংসিত। এখনও তানজিনা আহমদের সেই একাউন্ট গভীর রাতে একটিভেট হয়ে যায়। হয়ত নতুন কোনও শিকারের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকে সেই ইনস্টাগ্রাম।

( সমাপ্ত )

Next Bengali Story


All Bengali Stories    92    93    94    95    96    97    98    (99)     100    101   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 6009890717