Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
Read & Learn
 

Bengali Story

বাংলা গল্প

All Pages   ◍    13    (14)     15    16    17    18    19    ...


গুপ্ত বিষ

- হরপ্রসাদ সরকার


An offer to make a Website for you.

hostgator




একটি ভ্রমর ছিল নিধু। ভ্রমরদের রাজা ভ্রমরগুপ্ত নিধুর জন্য দুটি ফুল বাগান ঠিক করে দিয়েছেন। নিধু সেই ফুল বাগানের ফুলে ফুলেই আপন মনে উড়ে বেড়াত। ফুলদের সাথে গান করে, হেসে খেলে তার দিন কাটত।

একদিন ভোরে নিধু যখন তার ফুল বাগানে এলো তখন সে অবাক হয়ে দেখল দুটি ফুল বাগানেই অনেক ফুল মরে পরে আছে। যেন একটা বিষের হাওয়া বয়ে গেছে ফুল বাগানে। নিধু খুব দুঃখ পেল। সে সারা দিন ফুলে ফুলে উড়ে বেড়াল কিন্তু বুঝতে পারল না কেন এমন করে এত ফুল এক সাথে মরে পরে আছে। পর দিন সকালে যখন আবার নিধু তার ফুল বাগানে এলো, তখনও সে একই ঘটনা দেখল, অনেক ফুল মরে পরে আছে। যেন কোন বিষধর সাপের ছোবলে ছোবলে ফুল গুলির প্রাণ গেল। নিধু সময় নষ্ট না করে উড়ে গেল ভ্রমররাজা ভ্রমরগুপ্তের কাছে। সব কথা খুলে বলল ভ্রমরগুপ্তকে।

ভ্রমরগুপ্ত তার মন্ত্রী-সন্ত্রী নিয়ে উড়ে এলেন সেই ফুলবাগানে। সবাই দেখল চারিধারে তাজা ফুল সব মরে পরে আছে। ভ্রমরগুপ্ত রাজবৈদ্যকে আদেশ দিলেন কারণ অনুসন্ধান করতে। রাজবৈদ্য সব মৃত ফুলে উড়ে উড়ে তাদের গন্ধ শুকলেন, তাদের রেণু পরীক্ষা করলেন, আরো কত কি পরীক্ষা করলেন। শেষে তিনি রাজার কাছে উড়ে এসে রাজাকে বললেন “ হে মহারাজ, আমি নিশ্চিত যে এই বাগানে কোন গুপ্ত বিষ ফুল আছে। আর তার রেণু নিধু ভ্রমরার পায়ে পায়ে লেগে যেই যেই ফুল ছড়িয়ে পড়েছে সেই সেই ফুল মরণের কুলে ঢলে পড়েছে। এখুনি এই বিষ ফুলটিকে চিহ্নিত করতে হবে তা না হলে তার প্রভাব অন্য ফুলবাগানেও দেখা দিতে শুরু করবে।”

রাজা তক্ষুনি, সেই ফুল বাগানের এক কোনে এক কাঁঠাল গাছে জরুরী সভা ডাকলেন। সবাই সেখানে বিচার-পরামর্শ করলেন। তারপর সবাই মিলে একটি পরিকল্পনা করল।

নিধু ভ্রমরা পরিকল্পনা অনুসারেই কাজ করল। সে আজ ফুল বাগানের কোন ফুলের গায়ে বসল না। সে উড়ে উড়ে প্রতিটি ফুলের কানে কানে বলতে লাগল “বন্ধু! তুমি কি জান এই ফুল বাগানে একটি বিষ ফুল আছে?” তার কথা শুনে প্রায় সব ফুল চমকে উঠল। কয়েকটি ফুল নিধুর বেশ উপহাস করল। তারা বলল “ও সব বাজে কথা। নিধুর মাথা খারাপ হয়েছে।” আবার কয়েকটি ফুল নিধুকে বেশ ধমক দিয়ে, ভয় দেখিয়ে বলল “সে যেন এ কথা আর কক্ষনো মুখে না আনে। এতে ফুলবাগানে এক অশান্তির সৃষ্টি হবে।”

নিধু সব কথা গিয়ে রাজাকে জানাল। রাজা বললেন “যারা অন্যের উপহাস করে তারা কোন দিন কোন কাজের থাকে না। তাই তাদের কথা ভেবে সময় নষ্ট না করাই উচিত। আর যারা নিধুকে ধমক দিয়ে, ভয় দেখিয়ে, সাধু সেজে শান্তির বানী বলল তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। তারা সৎ এবং দুষ্ট দুইই হতে পারে। কারণ সৎ সব সময়ই কঠোর থাকে আর দুষ্টের ছলনার অভাব হয় না।” তাই রাজার আদেশে এই কয়েকটি ফুল ছাড়া নিধু বাকি ফুলগুলিতে সারাদিন ঘুরে বেড়াল। সবাই অবাক হল এই দেখে যে, একটি ফুলের ও আর কোন ক্ষতি হল না।

এবার আসল দুষ্টকে খোঁজার পালা। রাজার আদেশে নিধু উড়ে উড়ে সেই কয়েকটি ফুলের কানে কানে বলতে লাগল “হে সখা, তোমার মাঝে যে মধু আছে তার স্বাদ কেমন? রাজার আদেশে আমাকে সবচেয়ে উত্তম এবং মিষ্ট মধু নিয়ে রাজার কাছে যেতে হবে।” একটি ফুল ছাড়া সব ফুলই বলল “এই পাগল, তুই আবার জ্বালাতন করতে এসেছিস? দূর হ!” শুধু একটি ফুল বলল “আমার মধু তো অমৃত, এত মিষ্ট মধু তুমি আর কোথাও পাবে না বন্ধু।” নিধু সাথে সাথেই উড়ে গিয়ে রাজাকে এই কথাটা জানাল। রাজা হেসে বললেন,
“চোখ কি জানে চোখের শোভা? ফুল কি জানে স্ব-মধুর স্বাদ?
মেঘ চিনে না নিজের রূপ, সুন্দর সদাই মরণ ফাঁদ!”

রাজার আদেশে তক্ষুনি রাজবৈদ্য তার শিষ্যদের সাথে নিয়ে উড়ে গিয়ে সেই ফুল গাছের গোড়াতে কাল বিষ ঢেলে দিল। ফুল গাছটি চোখের পলকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। কালো রাত পেড়িয়ে আবার সোনার ফুলবাগানে, সোনার ফুল ফুটতে লাগল।

Top of the page

হারুর তিলের তাল

- হরপ্রসাদ সরকার

এক রাজার দেশে সহজ সরল যতীন আর দুষ্ট হারুর ক্ষেত পাশাপাশি ছিল। তাদের দুই ক্ষেতের মধ্যে ছিল একটি মোটা আল। হারু সকাল বিকাল তার ক্ষেতে চাষ করতে যেত। কিন্তু তার নজর সব সময়ই ছিল সেই আলের উপর। সে সহজ সরল যতীনের আড়ালে সেই আল কেটে কেটে নিজের জমির পরিমাণ বাড়াতে লাগল। যতীন এক দুই বার হারুকে এ নিয়ে সতর্ক করল। কিন্তু হারু নিজের দোষ স্বীকার না করে উল্টা যতীনের সাথে ঝগড়া করতে শুরু করে দিল।

যতীন শান্তি প্রিয় মানুষ, তাই সে হারুর সাথে ঝগড়ার পথে গেল না। সে নিজের আলকেই আবার নতুন করে বাঁধল। কিন্তু কিছুদিন পরেই আবার হারু আল কেটে নিজের ক্ষেতের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে ফেলল। এরকম কয়েক বার চলল। শেষে হারুর ক্ষেতের পরিমাণ আগের তুলনায় সামান্য কিছু বেড়ে গেল আর যতীনের ক্ষেতের পরিমাণ সামান্য কিছু কমে গেল। যতীন এবার আর নিজের আলকে নতুন করে বাঁধল না। কিন্তু ততদিনে যা হবার তা হয়ে গেছে।

সে বছর রাজার আদেশে খাজনার নতুন হিসাব নিকাশ শুরু হল। যার যত পরিমাণ ক্ষেত আছে তার উপরই খাজনার পরিমাপ হবে। যখন হারুর ক্ষেতের পরিমাপ করা হল তখন দেখা গেল আগের তুলনায় হারুর খাজনা দ্বিগুণ হয়ে গেছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ থেকে হারু জমি শুধু একটু বেশী, ততটুকুই বেশী যতটুকু সে যতীনের আল কেটে নিয়েছিল। জমির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এখন প্রতি মাসে তাকে দ্বিগুণ খাজনা দিতে হবে। আর যতীনের খাজনা আগের তুলনায় অর্ধেক কমে গেছে। কারণ তার জমি নির্দিষ্ট পরিমাণ থেকে মাত্র একটু কম, ততটুকুই কম যতটুকু হারু তার আল কেটে নিয়েছিল।

এবার হারু নিজের ফাঁদে নিজেই পড়ল। সে কেঁদে কেটে জগত ভাসাল। লম্বা হয়ে মাটিতে পড়ে পড়ে মন্ত্রী-সন্ত্রীর হাতে পায়ে কত ধরল, অনুনয় বিনয় কত করল। কিন্তু এখন আর কোন লাভ হল না। রাজা তার কোন কথাই শুনলেন না। প্রতি মাসে তাকে দ্বিগুণ খাজনাই দিতে হতে লাগল। ভুল পথে এক তিল সঞ্চয় করে, এবার প্রতিমাসে হারুর এক তাল খরচ নির্দিষ্ট হয়ে গেল। এ বিধান আর খণ্ডানো গেল না।

Top of the page

সখের সুখম

- হরপ্রসাদ সরকার

এক রাজার দেশে এক সখের লোক ছিল, নাম ছিল সুখম। তার সখের শেষ ছিল না। তার সখ ছিল মিছে কথা বলার। কেউ তাকে কিছু জিজ্ঞাস করলে সে সব সময় প্রথমে মিছে কথাতেই জবাব দিত। এতে সামনের লোকটা যখন হয়রান হয়ে যেত তখন সুখম খুব মজা পেত, সে খুব হাসত আর শেষে সত্যি কথাটা বলত। কিন্তু সামনের লোকটি বুঝতে পারত না কোনটা সঠিক কথা আর কোনটি ভুল কথা, তাই অনেক লোকই সুখমকে পছন্দ করত না এবং তাকে এড়িয়ে চলত। অনেক লোকের সাথেই এ নিয়ে সুখমের ঝগড়া ও হত।

একদিন সুখম তার দিদির বাড়ি থেকে গ্রামে ফিরছিল। পথে অনেক দেরী হয়ে গেল, ফলে গ্রামে ফিরতে ফিরতে গভীর রাত। সুখম গ্রামের নির্জন পথে হাঁটছে, হঠাৎ তার সামনে এসে একদল রাজ-সিপাহী উপস্থিত। তারা তার পথ আটকে, তার নাম-ধাম আর এত রাতে কেন বাইরে ঘুরছে তা জানতে চাইল।

অভ্যাসের দাস মানুষ, আর বদ অভ্যাসের দাস সুখম সেই গভীর রাতেও নিজের সখ পুরা করল। সে সিপাহীদের ভুল-ভাল বলে হাসতে লাগল। কিন্তু তার হাসি বেশীক্ষণ থাকল না। চোর ভেবে সিপাহীরা প্রথমেই তাকে বেদম পিটাল আর তারপর সোজা অন্ধ-কারাগারে। অঝরে কেঁদে কেঁদে সে বারে বারে নিজের আসল পরিচয় দিতে লাগল কিন্তু কে শোনে কার কথা! সাত দিন পরে তাকে রাজার সমনে হাজির করা হল। রাজা সুখমের কোন কথাই শুনলেন না, তিনি সিপাহীদের কথাই ঠিক মনে করলেন আর সুখমকে ১০০ টি চাবুকের আঘাতের পর ছেড়ে দেবার আদেশ দিলেন। সুখমের সখের সখ চাবুকের আঘাতে আঘাতে ধু-ধু করে জ্বলতে লাগল।

ছেঁড়া কাপড়, রুক্ষ চুল-দাড়িতে সুখম যখন গ্রামে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ফিরে এলো অনেকেই আড়ালে খুব সুখের হাসি হাসল। সখের সুখম আর কোন দিন সোজা হয়ে হাটতে পারেনি।

Top of the page

দুই পথ

- হরপ্রসাদ সরকার

গোবিন্দ আর হরিদাস দুই ভাই। তারা রাজার ফুল বাগানের মালী। ফুল, ফুলের চাষ ইত্যাদি সম্পর্কে তাদের জ্ঞান ও অসীম। দুই ভাইই সৎ এবং পরিশ্রমী। তারা নিষ্ঠা সহকারে ফুল বাগানের দেখ-রেখ করে। রোজ তারা রাজার জন্য নানান রকমের মন-মনোহর ফুল, ফুলের মালা, চন্দন, আতর ইত্যাদি নিয়ে যায়। রাজা খুশি হয়ে তাদের পুরস্কার দেন। রাজা তাদের ভাল ও বাসেন খুব। একদিন তিনি তাদের ডেকে বললেন, “হে গোবিন্দ আর হরিদাস, আমি তোমাদের রাজ-মন্ত্রী বানাতে চাই! তোমরা কি রাজ-মন্ত্রী হতে রাজি আছো?” গোবিন্দ আর হরিদাস খুব খুশি হল। তারা রাজার কাছে দুই-দিনের সময় চাইল।

ঘরে পৌঁছে তারা তাদের মা’কে রাজার কথা জানাল। মা তাদের বললেন “এ তো অতি সুখের কথা। তবে মনে রাখবে একজন রাজ-মন্ত্রীর কাঁধে গুরুদায়িত্ব ও থাকবে, অনেক চিন্তা তো থাকবেই সাথে অনেক রাজনীতি ও থাকবে। পদ-উন্নতির সাথে সদা কর্তব্য এবং দায়িত্ব যুক্ত থাকে। এবার তোমরাই ভেবে দেখে তোমাদের কি করা উচিত।”

গোবিন্দ বলল “মা, আমি রাজাকে মানা করে দেব। কারণ আমি ফুল চাষটাই ভাল জানি। এই বিদ্যাতে আমি সবার সাথে কথা বলতে পারব, কিন্তু রাজ-মন্ত্রীর কোন বিদ্যাই আমি জানি না। সুতরাং সেখানে বিফল হওয়াটাই আমার স্বাভাবিক। আর তখন রাজার সাথে আমাদের যে একটা মধুর সম্পর্ক আছে, সেটা নষ্ট হয়ে যাবে। তাই প্রথম থেকেই সাবধান হওয়া ভাল।”

হরিদাস বলল “এ একদম ঠিক কথা। তবে যখন সুযোগ সামনে এসেছে তখন একবার সে পথে এগিয়েই দেখা যাক। হার বা জিত একটা তো হবে। তার থেকে বড় কথা জীবনের এক বিশেষ অভিজ্ঞতা হবে।”

মা বললেন “তোমার কথা ও ঠিক। একটা সুযোগ সামনে এসেছে। চেষ্টা করতে কোন বাধা নেই। সফলতার প্রথম সিঁড়িই হল চেষ্টা। তবে আমার একটা কথা সদা মনে রাখবে, বিষ ফলের স্বাদ গ্রহণ করে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা এক মস্ত বোকামি। তাই যা করবে ভেবে করবে। সফলতার অনেক পথ, তবে ধৈর্য্য রাখতে হবে। তোমরা দুজনেই সফল হও এই আমি চাই। এইই আমার আশীর্বাদ।”

দুই ভাই পরদিন মাকে প্রণাম করে রাজ দরবারে গেল। তারা রাজাকে নিজের নিজের অভিমত জানাল। হরিদাসকে রাজ-মন্ত্রী বানানো হল। হরিদাস নিষ্ঠার সাথে তার কাজ শিখতে লাগল। সঠিক সময়ে সে নিজের দায়িত্ব হাতে নিয়ে নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করতে লাগল। কিছুদিনের মধ্যেই সে রাজার প্রিয় পাত্র হয়ে উঠল। আর গোবিন্দ, সেও নিষ্ঠার সাথে নিজের কাজ চালিয়ে গেল। রাজা তার জন্য একটা খুব বড় বিদ্যালয় খুলে দিলেন। এই বিদ্যালয়ে দেশ বিদেশের অনেক ছাত্র-ছাত্রী ফুলের চাষ শিখতে আসতে লাগল।

বছরের পর বছর পেড়িয়ে গেল। দুই ভাই দুই দিকে সফল হল। হরিদাস আজ রাজ্যের মহামন্ত্রী। রাজা তার পরামর্শ ছাড়া কোন নির্ণয় নেন না। আর গোবিন্দের ফুল চাষের খ্যাতি দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পড়ল। তবে দুই ভাই আজো তাদের মা’র উপদেশকে ভুলেনি।

Top of the page

কনকলতা

- হরপ্রসাদ সরকার

অনেক আগের কথা। একটা ফুলপরী রোজ রাতে একটা ফুল বাগানে ঘুরে বেড়াত। ভোর বেলায় সে মোহন পরশে কলিদের ঘুম ভাঙ্গিয়ে পরীর রাজ্যে ফিরে যেত। একদিন যখন সে ফুল বাগানে একা একা ঘুরে বেড়াচ্ছিল তখন সে দেখল যে পরীদের মতই সুন্দর একটি ফুট-ফুটে ছোট্ট মেয়ে একটি জবা গাছের তলে ঘুমিয়ে আছে। রুক্ষ চুল, মলিন ছেঁড়া তার জামা। চাঁদের টুকরার মত মুখটিতে যন্ত্রণার ছাপ স্পষ্ট। মেয়েটির নাম কনকলতা। কনকলতা জবা গাছের তলে ধুলার মাঝে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।

কনকলতাকে দেখে ফুলপরীর খুব দয়া হল। সে ধীর পায়ে কনকলতার কাছে এলো, মন্ত্র বলে কনকলতাকে বেহুঁশ করে তার কপালে হাত রাখল। বাপ-মা হারা কনকলতার সব ইতিহাস ফুলপরীর কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল। ফুলপরী জানতে পারল যে কনকলতা তার মামার বাড়ীতে ঝি এর কাজ করে। তার মামী তাকে দু-বেলা ঠিক ভাবে খেতে দেয় না, সারাদিন খুব গালা-গাল দেয়। কনকলতা লুকিয়ে লুকিয়ে খুব কাঁদে। আজ তার মামী তাকে সন্ধ্যা রাতেই ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে তাই কনকলতা এই গভীর রাতে, এই ফুল বাগানে ধুলার মাঝে ঘুমিয়ে আছে।

ছলছল চোখে ফুলপরী কনকলতার বুকে আর মাথায় হাত রেখে দুটি শক্তি প্রদান করল। প্রথম শক্তিটিতে, কনকলতা কখনো কোন নাকারাত্মক কথা শুনতে পাবে না, নাকারাত্মক কথা তার কানে পৌঁছানোর আগেই হাওয়ার মাঝে মিলিয়ে যাবে। আর দ্বিতীয় শক্তিটিতে কনকলতার মুখ থেকে কখনো তার মধুর হাসি বিলুপ্ত হবে না। আশার এক নতুন আলো নিয়ে পূব দিগন্তে নতুন সূর্য উদয় হতেই ফুলপরী হাওয়ার মাঝে মিলিয়ে গেল।

ফুলপরীর শক্তি বলে কনকলতার কানে আর কোন নাকারাত্মক কথা পৌঁছল না। তার মুখের মধুর হাসিটি ও আর হারাল না। কনকলতার মামীর সব গালা-গাল কনকলতার কানে পৌঁছানোর আগেই হাওয়ার মাঝে মিলিয়ে যেতে লাগল। ফলে কনকলতা কোন দিন আর বুঝতে পারল না মন ভাঙ্গা কথা কাকে বলে। সে বুঝতে পারল না নিরাশা বা হতাশা কাকে বলে। তার মন সব সময় আনন্দে আর খুশীতে ভরে থাকতে লাগল। ধীরে ধীরে কনকলতার মনে এবং বিশ্বাসে আশার এক জোয়ার আসতে লাগল। সে নিজের মত করে সুন্দর, সুখের জীবনের স্বপ্ন দেখতে লাগল। আর একদিন তাইই হল।

কনকলতার রূপ, গুন আর মধুর হাসির কথা গ্রাম-শহর, নগর-ঘাট পেড়িয়ে সেই দেশের রাজার কানে গিয়ে পৌঁছল। একদিন সোনার রথে চড়ে, মন্ত্রী-সামন্ত সাথে নিয়ে রাজা-রানী হাজির হলেন কনকলতাকে কাছে। নিজের মেয়ের মত তাকে সাথে করে নিয়ে গেলেন রাজপ্রাসাদে। গ্রামে নগরে কনকলতা, কনকলতা রব পড়ে গেল। শুভদিনে শুভক্ষণে মহা ধুমধাম করে রাজপুত্রের সাথে কনকলতার বিয়ে দিলেন রাজা।

বহু বছর পেড়িয়ে গেল। আজ কনকলতা কঙ্কাবতী রাজ্যের মহারানী। দুই রাজকুমার আর মহারাজকে নিয়ে তার সুখের সংসার। কঙ্কাবতী রাজ্যে এক স্বর্ণযুগ বয়ে যাচ্ছে। সেই দিনের সেই দুখী কনকলতা আজ খুব সুখী। কিন্তু কনকলতা কোন দিন জানতে পারেনি সুদূরের এক ফুলপরী আজো তাকে দেখে খুব খুশি হয়।



Top of the page
All Pages     13    (14)     15    16    17    18    19    ...

Amazon & Flipkart Special Products

   


Top of the page