Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
Read & Learn
 

Bengali Story

বাংলা গল্প

All Pages   ◍    9    10    11    12    (13)     14    15    16    ...


দানের পরে

- হরপ্রসাদ সরকার


An offer to make a Website for you.

hostgator




রাখাল আর কমল দুই বন্ধু। দুজনেই ধনী ব্যবসায়ী। দুজনেই মানুষকে সাহায্য করে, গরীব দুখীকে দান দক্ষিণা দেয়। দূর দূর থেকে লোক তাদের কাছে সাহায্য চাইতে আসে। তবে সবাই প্রথমে রাখালের কাছেই আসে। রাখালকে না পাওয়া গেলে তখন কমলের কাছে যায়। রাখাল ও কমল দুজনেই ভাল এবং সৎ। তবু লোক রাখালের কাছেই প্রথমে সাহায্য চাইতে আসে।

রাখাল আর কমলের গুরুদেব এক। তারা প্রতিমাসেই একসাথে গুরুকে দর্শন করতে যায়। সাথে অনেক দক্ষিণা ও নিয়ে যায় আর গুরুর চরণে অর্পণ করে আসে। কমল রাখালের চেয়ে বেশী অর্থকড়ি সাথে নিয়ে যায়। সে যখন গুরুদেবের চরণে তার প্রণামী রাখে তখন গুরুদেব শুধু হালকা, শুকনো হাসি হাসেন। আর রাখাল যখন তার সামান্য অর্থ-কড়ি রাখে তখন গুরুদেব খুব প্রাণ ভরে হাসেন আর তাকে খুব আশীর্বাদ করেন।

দিনের পর দিন এমনই চলতে লাগল। একদিন কমল তার গুরুদেবকে এই ঘটনার কারণ জিজ্ঞাস করল। সে তার গুরুদেবকে জিজ্ঞাস করল, “ গুরুদেব আমি আপনার মন পাওয়ার জন্য কত বেশী বেশী প্রণামী দেই। তবু আপনি যেন সন্তুষ্ট হন না। আর রাখালের যৎ-সামান্য প্রণামীতেই আপনি এত খুশি হন, বিগলিত হন। এর কারণ আমি বুঝতে পারছি না।”

গুরুদেব হেসে বললেন “তুমি ঠিক ধরেছো কমল। আমি তোমার দানে কখনোই খুশি হইনি। তবু তোমার দানকে কখনো অবহেলা করিনি। তোমার দানকে গরীব দুখীদের সেবার কাজে লাগিয়েছি। তোমার দানে আমি কেন খুশি হইনি তার একটা কারণ আছে। তুমি মুখে না বললেও তোমার মধ্যে সর্বদাই একটা ভাব কাজ করে। তুমি সর্বদাই দেখাতে চাও যে তুমি কত টাকা দান করেছো! তোমার মনে একটা অহং ভাব থাকে যে তুমি সবার থেকে বেশী দান করেছো। দানের পরেও তোমার মাঝে একটা দম্ভ থাকে, আর সেটাই আমার পছন্দ হয় না। অপর দিনে রাখাল যখন কিছু দান করে সে সব সময় ভাবে, আমি হয়ত জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে অন্যের অধিকারের কিছু গ্রহণ করেছি যা আমার নয়। তাই যতটুকুই হয় এই দানের মাধ্যমে আবার তা লোকে মাঝে ফিরিয়ে দিলাম। দানের পরে তাই রাখালের মনে একটা তৃপ্তি থাকে, খুশি থাকে আর সেটাই আমার প্রাণকে তৃপ্ত করে দেয়।”

Top of the page

মূর্খ বিধু

- হরপ্রসাদ সরকার

বিধু খুব ভাল ছাত্র। সে খুব ভাল পড়াশুনা করে কলেজ পাশ করেছে। ইষ্ট দেবের প্রতি, ঈশ্বরের প্রতি তার খুব ভক্তি। তবু এত ভাল পড়াশুনা করেও সে কোন কাজে নিজেকে লাগাতে পারল না। কেউ তাকে এই সম্পর্কে কিছু বললে সে বলত, যখন সময় হবে ঠাকুর সব দেবেন।

দিন যেতে লাগল, কিন্তু বিধুর জন্য কোন ভাল কাজের খবর আর এলো না। সে ঈশ্বরের ভরসায় বসে বসে বেকার, বেরোজগার রয়ে গেল।

বহুদিন পরে বিধুর সাথে তার ছেলেবেলার শিক্ষকের দেখা হল। তিনি বিধুর কাছে জানতে চাইলেন যে বিধু এখন কি কাজ করে? বিধু উনাকেও তেমনি জবাব দিল যে, সে এখনো কিছু করেছে না তবে ঈশ্বর যখন চাইবেন তখন সব হয়ে যাবে। সেই শিক্ষক মনে মনে খুব দুঃখ পেলেন। তিনি বিধুকে বললেন “ বেশ ভাল কথা। ঈশ্বর যখন চাইবেন তখনই হবে। কিন্তু তুমি কিভাবে জানলে যে ঈশ্বর এখনো চান নি? ঈশ্বর কি তোমাকে সেই কথা বলেছেন?”

বিধু স্যারের কথা শুনে চুপ করে রইল। তিনি আবার বললেন “ দেখ বিধু, ঈশ্বর আমাদের সবাইকেই সাহায্য করেন। তবে তিনি হয়তো নিজে আসেন না। তিনি মানুষের মাধ্যমেই মানুষকে সাহায্য করেন। তিনি আমাদের সামনে সুযোগ হয়ে আসেন, চেষ্টা হয়ে আসেন। যে ব্যক্তি এগিয়ে যাবার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে সে তো তোমার থেকে বেশী যোগ্য। তবে ঈশ্বর সেই যোগ্য ব্যক্তিকে ফেলে তোমার কাছে কেন আসবেন? তাই ঈশ্বরের অপেক্ষায় বসে না থেকে চেষ্টা কর।”

শিক্ষক মহাশয় বিধুকে আরো কিছু কথা বলে চলে গেলেন। বিধু মনে মনে ভাবতে লাগল “স্যার তো দেখছি একটা মহা মূর্খ। আজ মূর্খের মত এত কথা বলে গেলেন।”

Top of the page

প্রতিদান

- হরপ্রসাদ সরকার

দেবপ্রসাদের বাড়ির প্রধান ফটকের এক পাশে, আজ অনেক দিন হল এক নাম না জানা বিশাল জংলী গাছ দাঁড়িয়ে আছে। বাড়িতে আসতে যেতে কারো কোন অসুবিধা হয়না তবু গাছটাকে দেবপ্রসাদের সহ্য হয়না। সে বহুবার লোক লাগিয়ে গাছটাকে কেটে দিয়েছে। কিন্তু কোন ফল হয়নি। সে আবার ডালপালা মেলে আগের মত হয়ে গেছে। কি আর করা যায়, গাছটা তেমনি রইল, কিন্তু দেবপ্রসাদের চোখের বিষ হয়ে।

দেবপ্রসাদ রোজ বাড়িতে ঢুকার সময় বা বাড়ি থেকে বের হবার সময় সেই গাছটাকে কোন না কোন ভাবে আঘাত করে। হাতে যা থাকত তাইই দিয়ে আঘাত করে। আর যদি হাতে কিছু না থাকত তবে খালি হাতেই গাছটাকে আঘাত করে। গাছটা কি আর তারে জবাব দিতে পারে? না গাছটা কোন জবাবই দেয় না, সহ্য করে যায়।

তেমনি বছরের পর বছর পার হয়ে গেল। দেবপ্রসাদ আজ খুব বৃদ্ধ আর গাছটাও বেশ বৃদ্ধ তবু দেবপ্রসাদের সেই বদভ্যাসটি আজো যায়নি। সেই দিন বিকেলে দেবপ্রসাদ রোজকার মত তার হাতের ছাতা দিয়ে গাছটাকে একটা আঘাত করে, তারপর এক পা বাড়াতেই সেই গাছটার বিশাল এক ডাল ভেঙ্গে সোজা দেবপ্রসাদের উপর। মনে হল যেন এত দিনের প্রতিদান গাছটা দেবপ্রসাদকে এক সাথে ফিরিয়ে দিল। দেবপ্রসাদের আজ আর কিছুই করার ছিল না। গাছটা তো তেমনি সেখানে দাঁড়িয়ে রইল, কিন্তু দেবপ্রসাদ আর উঠল না।

Top of the page

নিজের বিপদ নিজেই

- হরপ্রসাদ সরকার

এক শিকারি রোজ তীর, ধনুক নিয়ে জঙ্গলে শিকার করতে যেত। পাখী, মোরগ, খরগোস যাই সে পেত তাইই সে শিকার করত। শেষে একটা বড় শাল গাছের নীচে বসে বিশ্রাম করত। রোজই সে সেই একই গাছের নীচে বসে বিশ্রাম করত তারপর ধীরে ধীরে আবার বাড়ির পথে পা বড়াত।

সেই শিকারি যখন সেই শাল গাছের নীচে বসে বিশ্রাম করত, তখন মাঝে মাঝে সে শুনত সেই গাছের মগ ডালে পাখীরা খুব কিচিরমিচির করছে। শুনে বুঝা যেত যে অনেক পাখী আছে সেখানে।

একদিন সেই শিকারি ভাবল কেন আর দূরে যাব আজ এই পাখীগুলিকেই শিকার করি। সে তার তীর দিয়ে একটি পাখীকে মেরে নীচে ফেলে দিল। বাকি পাখীরা উড়ে গেল তারা আর ঐ গাছে ফিরে আসল না। শিকারি তেমনি রোজ বনে যেতে লাগল শিকার করার জন্য। এখনো সে সেই গাছটার নীচে বসেই বিশ্রাম করে, কিন্তু সে কোনদিন আর সেই পাখীগুলির শব্দ শুনতে পেল না।

একদিন শিকারি যখন সেখানে বিশ্রাম করছে সেই গাছ থেকে ধীর গতিতে নেমে এলো এক অজগর সাপ, আর সে ঝাঁপিয়ে পড়ল শিকারির উপর। শিকারি আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল নিজেকে বাঁচাতে। কিন্তু পারল না। মৃত্যু মুখে সে বুঝতে পারল যে এই সাপটি বহুবার তাকে আক্রমণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই পাখীগুলির হাল্লাতে সাপটা বারে বারে রনে ভঙ্গ দিয়েছিল। কিন্তু আজ আর পাখীগুলি সেখানে ছিল না।



Top of the page
All Pages     9    10    11    12    (13)     14    15    16    ...

Amazon & Flipkart Special Products

   


Top of the page