Home   |   About   |   Terms   |   Book Rent   |   Contact    
A platform for writers

ডাকবাক্স

Bengali Novel

All Bengali Stories    80    81    82    83    84    85    86    87    88    (89)     90   

------ বিজ্ঞপ্তি ----------
# 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার' স্বরচিত গল্প লেখার প্রতিযোগিতা, মে -২০২২ Details..
# গপ প্রতিযোগিতা, জুন ২০২২ ( হাসির নতুন দিগন্ত ) Details..
--------------------------



ডাকবাক্স
( বাংলা উপন্যাস )
লেখক - রাজকুমার মাহাতো, মহেশতলা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, কলিকাতা

অন্য পর্বগুলিঃ পর্ব ১    পর্ব ২    পর্ব ৩    পর্ব ৪    পর্ব ৫    পর্ব ৬   

◕ মুখবন্ধ

ডাকবাক্স এখন নিজের অস্তিত্বের খোঁজে আছে। আমরা রাস্তার পাশে আর তাদের দেখতে পাই না। কিন্তু একটা সময় তারাই আমাদের যোগাযোগের মূল মাধ্যম ছিল। আমার এই গল্প “ডাকবাক্স” সেই সময়ের যখন মুঠো ফোনে মুখ গুঁজে বাচ্চারা বসত না। যখন প্রেমের আদান প্রদান ফেসবুক বা হোয়াটসআপ এর মাধ্যমে হত না। তখন যোগাযোগের উপায় ছিল এই ডাকবাক্স আর ওই কালো মোটা ধুমসো মতন ফোনটা। মানুষের মধ্যে থাকা এক ভবঘুরের প্রেমে পড়ে একটা মেয়ে। তাদের চিঠিগুলো এই ডাকবাক্সের মাধ্যমে জমা পরতে থাকে দুজনের মনে। আর তাদের প্রেমের মূল মাধ্যম হয়ে ওঠে ডাকবাক্স। ডাকবাক্স যেমন খুশির খবর দেয় সেরকমই বেদনার খবর গুলোও তাকেই বহন করতে হয়। এ যেন ঠিক জীবনের মত। সুখ-দুঃখ মিলিয়ে যেমন জীবন চলে ডাকবাক্স ঠিক তেমনই চলে। আর প্রতিদিন তার বুক চিঁরে বের হয় কত সুখ-দুঃখের আবেগে মোড়া কিছু কাগজ। যেগুলো প্রবল অনুভূতিকে বহন করে।

◕ উৎসর্গ

নিজের বাবা মাকে ভাইকে। স্পেসালি যারা আমার জীবনে এসে আমাকে লেখার প্রেরণা দিয়েছে তাদের। আমার স্ত্রী ও মেয়ে রাজশ্রীকে। খুব ভালবাসি তোমাদের।

◕ প্রথম পর্ব

ডাকবাক্সের বুক চিঁড়ে বের করে আনা একটা চিঠি কালু-পিওন নিয়ে আসে অনুদের দোরগোড়ায়। ঝরঝরে সাইকেলের আজব আওয়াজ করা বেলটা মারতেই থাকে সে।

"এসে গেছ কাকু?" দরজাটা খুলে বলে অনু।

"হ্যাঁ মা। নে তোর আবার চিঠি আছে। তোর জন্যই আমার এ পাড়ায় আসা। নয়ত এই পাড়ার মুখও দেখতাম না আমি।"

"সে তো অনেকদিন হল কাকু। এবার না-হয় মেয়েটাকে মেনেই নাও। ওর কি ইচ্ছে করে না বাবা-মাকে দেখত?"

মুখটা গোমড়া করে কালু বাবু বলেন, "কত যত্নে মানুষ করলুম মেয়েটাকে মা। আর সে কিনা ওই না বলে পালিয়ে বিয়ে করে নিল! একটাই মেয়ে আমার। কত ইচ্ছে ছিল জাঁকজমক করে বিয়ে দেব মেয়েটার।"

অনু হেসে বলল, "অতো রাগ করে না কাকু। এবার মেনে নাও।"

ভ্রুটা কুঁচকে কালু-পিওন বলল, "সব থেকে রাগের কি লাগে জানিস মা; ওরা প্রেম করত আর ওদের চিঠি আমি ডাকবাক্স থেকে নিয়ে আদান প্রদান করতাম। ছেলেটা তো এখানে থাকত না, বাইরে পড়তে গেছিল। সেখান থেকে চিঠি পাঠাত আর আমি আমার মেয়েকে প্রেমপত্র দিতাম নিজে নিয়ে গিয়ে। খালি বলত চাকরির খবর আসছে; আমিও বিশ্বাস করে নিতাম।"

অনু কালু বাবুর রাগটা এতক্ষণে বুঝল। মেয়ে বাবাকে ঘটক রূপে ব্যাবহার করেছে তাই এত রাগ কালু বাবুর।

"নে মা সই কর।"

সই করে চিঠিটা নিল অনু। "আসছি মা," বলে বিদায় নিল কালু-পিওন। অনু ঘরে গিয়ে মোটা কাঁচের চশমাটা চোখে দিয়ে বিছানার উপর উবু হয়ে শুয়ে খাম থেকে চিঠিটা বের করলো। বালিশের উপর বুকটা রেখে প্রথমে ঠিকানাটা দেখল অনু। তারপর চিঠিটা পড়তে আরম্ভ করলো-

'প্রিয় পাগলী,
কেমন আছিস? আশা করি আমাকে ছাড়া ভালই আছিস। কাকু-কাকিমা ভালো আছে? তুই ওনাদের পাশে আছিস মানে-তো ওনারা ভালোই থাকবে। আমি ঠিক আছি, একদম চিন্তা করবি না। মানুষের মধ্যেই আছি, যাদের আমাদের সমাজ এখনও মেনে নিতে পারেনি তাদের মধ্যে। জানিস, প্রতিদিন এদের খাওয়া জুটত না। আমি আর পিটার স্যার মিলে সব ব্যবস্থা করেছি। সব মিলিয়ে এখানে আমরা সাতজন আছি। ভালই কাটছে দিনগুলো আমাদের ওই রঙ-চঙে নেকি পৃথিবী থেকে অনেক দূরে। এখানের কচিকাঁচাদের পড়ানোর দায়িত্বটা আমার কাঁধে। ওদেরকে তোর কথা বলি, আমাদের কলেজের সেই দিনগুলোর কথা বলি; ওরা মন দিয়ে শোনে। সবাই তোকে দেখতে চায়। এবার তোর কাছে গেলে তোকে নিয়ে আসব সঙ্গে করে। যদিও প্রতিবার ভাবি, কিন্তু আমি নিজেই কবে কোথায় থাকব তার ঠিক থাকে না। তুই আমার সাথে কত দৌড়াবি বল? এখানের ভোরটা একদম অন্যরকম, জানিস। সূর্যের লাল আভা ছড়িয়ে যখন প্রথম আলো জঙ্গলটার ভিতর পড়ে মনে হয় শত বছরের অন্ধকার শেষে এই জঙ্গলে আলোর একটু কিরণ এসেছে। ইচ্ছে করলে ঝরনার জল খাই। তোর ওই মিনারেল ওয়াটারের থেকে অনেক ভালো। জানিস, এদের জাতিটা হাতি খুব ভালবাসে। অনেকবার হাতির পিঠে চরেছি। আবার মাঝে-মাঝে বুনো হাতি এসে এদের ফসল এদের ঘরবাড়ি সব নষ্ট করে দিয়ে যায়। তাও এরা তাদের নিয়েই থাকে। গ্রামটা খুব সুন্দর, জানিস, পুরো যেরকম আমরা ছবিতে দেখতাম। হ্যাঁ রে ,মা-বাবা ভালো আছেন? তুই যাস ওনাদের কাছে? আমি একটা চিঠি ওই বাড়ির ঠিকানাতেও দিয়েছি, তবে জানি ওই বাড়ি থেকে কোনও চিঠি ডাকবাক্সে ঢুকবে না। তবুও লিখলাম। অনু আর কতদিন আমার জন্য অপেক্ষা করবি বল। আমি তো থামতে পারব না রে। এদের ছেড়ে আমি বাঁচতে পারব না। নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না। ও বাড়ি গেলে বাবা-মাকে জানিয়ে দিস ওনাদের অরিন্দম বেঁচে আছে, ভালো আছে। মানুষের মধ্যে আছে। ভালো থাকিস। পারলে আমায় ভুলে বিয়েটা করে নিস তুই।
অরিন্দম
বাসদেরা,বিহার
৩রা মার্চ,১৯৯৯'

চিঠিটা মুড়ে খামে পুড়ে অন্য চিঠিদের সাথে আলমারিতে ডাইরির সাথেই রাখল অনু। চোখটা মুছে হালকা হেসে চশমাটা খুলে টেবিলে রাখল। এটা নিয়ে অরিন্দমের উনিশটা চিঠি পেল অনু এই গত এক-দেড় বছরে মাঝে; একবারও অরিন্দম নিজে আসেনি দেখা করতে। তাও অনুর অরিন্দমকে নিয়ে কোনদিন কোন আক্ষেপ ছিল না আর এখনও নেই। কারণ তার ভালবাসাটা অরিন্দম সামনে থাকলেও যেমন থাকে দূরে থাকলেও তার নড়চড় কিছু হয় না। তবে অনু অরিন্দমের চিঠির উত্তর দেওয়ার চেষ্টাও করে না কোনদিন। কারণ সে জানে, যতক্ষণে চিঠিটা তার কাছে পৌঁছাবে ততক্ষণে হয়ত অরিন্দম অন্য কোন জায়গায় ঘাঁটি গেড়েছে। মনে-মনে হেসে উঠে ভাবল অনু, "কি করে ভুলি তোমায় অরিদা? ভালবাসতে তো তুমিই শিখিয়েছ। পারব না, কোনদিন পারবো না।"

শাড়িটা পাল্টে এলোমেলো চুলটা চিরুনি দিয়ে সামান্য ঠিক করে ঘরের বাইরে বেরল অনু। প্রমিলা দেবী বললেন, "এই ভর দুপুরে কোথায় যাচ্ছিস মা?"

"আসছি মা। ঘণ্টা খানেকের মধ্যে ফিরে আসব। বাবা আর তুমি খেয়ে নিও। আমি ফিরে খেয়ে নেব।"

"খেয়ে যেতে পারতিস তো মা।"

"আমি এসেই খাব মা। এখন খিদে নেই। আমি আসছি মা।"

" কোন কথা শুনিস না তুই। তাড়াতাড়ি ফিরিস।"

"হ্যাঁ," বলে বেড়িয়ে গেল অনু।

সরু গলিটা পেড়িয়ে বড় রাস্তায় পড়ল সে। এই উত্তর কলকাতার যতীন মিস্ত্রি লেনটা চিরটাকাল জলে ভরা। না না ভুল বললাম, ভোটের সময়টা একবার ঠিক হয়ে যায় আবার ভোট মিটে গেলে যেই-কে সেই হয়ে যায়। দুপুরে রাস্তায় সেরকম একটা বাসও নেই। তাই হাঁটা-টাকেই শ্রেয় মনে করে এগিয়ে গেল অনু। কোলকাতার বুকের উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার মজাটাই আলাদা আর যারা কোলকাতায় থাকে তারাই সেটা বোঝে। মিনিট পনের পরে একটা বড় বাড়ির সামনে এসে পড়ল অনু। বিশাল বাড়ি, এই শহরে খুব আধিপত্য না থাকলে এরকম বাড়ি করা সম্ভব নয়। গাছপালা দিয়ে ঘেরা, একেবারে রাস্তার ধারে একটা বাগান বাড়ির মত। অরিন্দমদের আধিপত্যও তো কম নয়। অনু প্রায় একমাস পড়ে আসছে এই বাড়িতে। নতুন রঙের গন্ধে চারিদিকটা গমগম করছে। রাম সিং দারোয়ান অনুকে দেখে প্রথমে একটা সেলাম ঠুকে বলল, "আইয়ে দিদি।"

অনু তাকে বলল, "দাদা, কতবার বলেছি আমাকে ওসব সেলাম-টেলাম করবেন না আপনি।"

রাম সিং মিটিমিটি চোখে তাকিয়ে হেসে বলল, "ক্যায়া কারু বলিয়ে, মেরে সে হো জাতা হ্যায়।"

অনু বলল, "এর পর থেকে দেখলে খুব রাগ করব কিন্তু।"

অনু ঢুকল ভেতরে। সরু রাস্তাটা পেড়িয়ে দরজার সামনে এসে বেলটা মারল, "টিং টং.." আরও একবার।

ভেতর থেকে আওয়াজ এল, "আসছি..."
Next Part

অন্য পর্বগুলিঃ পর্ব ১    পর্ব ২    পর্ব ৩    পর্ব ৪    পর্ব ৫    পর্ব ৬   

Next Bengali Story


All Bengali Stories    80    81    82    83    84    85    86    87    88    (89)     90   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 7005246126