Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
Read & Learn
 

Bangla Kahini

( বাংলা কাহিনী )

All Pages   ◍    1    2    3    4    (5)     6    7    ...


চার ভাই

- হরপ্রসাদ সরকার


An offer to make a Website for you.

hostgator




এক জমিদারের চার ছেলে ছিল। জমিদার এদের অনেক টাকা পয়সা দিয়ে ব্যবসা করতে দিলেন। কিন্তু এরা ব্যবসা করতে পারল না। সব টাকা পয়সা ও ডুবলো। জমিদার আবার দ্বিতীয় বার তাদের টাকা পয়সা দিলেন ব্যবসা করতে। কিন্তু এবার ও সব ডুবলো। জমিদারের ছেলেরা খারাপ ছিল না তবে কেন বারে বারে এমন হচ্ছে ? জমিদার এর কারণ ভাবতে লাগলেন। তবে কিছুই খুঁজে পেলেন না। শেষে তিনি গুরুদেবের কাছে গিয়ে মনের চিন্তা খুলে বললেন।

যথা সময়ে গুরুদেব জমিদারের বাড়ীতে এলেন। জমিদারের চার পুত্রকে ডাকলেন তারপর তাদের সাথে এক আজব খেলায় মেতে উঠলেন। খেলার পুরস্কার হিসাবে রাখা হল অনেক টাকা। ফলে জমিদারের চার ছেলে চট-জলদী খেলায় রাজী হয়ে গেল।

খেলাটি ছিল এ রকম, চার ভাই আর গুরুদেব দুপুরের খাওয়ার পর বিকাল পর্যন্ত একটি ঘরে থাকবেন। বাইরে থেকে সেই ঘরের দরজা তালা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিকালের আগে যে ঐ ঘর থেকে বের হতে পারবে তাকে সেই পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে দরজা জানালা ভাঙ্গা চলবে না , কোন হাতিয়ার বা যন্ত্র ও ব্যাবহার করা চলবে না।পর পর তিন দিন এ খেলা চলবে।

খেলা শুরু হল। গুরুদেব আর চার ভাইকে একটি ঘরে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হল। বাইরে থেকে দরজায় গট-গট শব্দ করে লোহার তালা পড়ল। শুরুতে সব ভাই দরজা-জানালা ঠেলা-ঠেলি করল কিন্তু এই মোটা লোহার দরজা জানালা তেমন সাড়া দিন না। খুব তাড়াতাড়ি এক ভাই বলল “ না। দরজা জানালা আর খোলা গেল না। ” এই বলে সে কয়েকটা হাই তুলে সুন্দর বিছানাতে শুয়ে পড়ল আর কিছুক্ষণের মধ্যেই নাক ডাকতে শুরু করল।

তার কিছুক্ষণ পর আরেক ভাই হার মানল। সে বলল “ দূর। আর হল না।” এই বলে সে একটা বই নিয়ে পড়তে শুরু করল। আরেক ভাই বলল “ এই টাকা পয়সাতে কি হবে। একদিন মরতে তো হবেই।” এই বলে সে ঠাকুরের নাম জপে লেগে গেল। শুধু বিমল শান্তিতে বসে নেই। সে বার বার গিয়ে একবার এ দরজায় আরেক বার ও জানালায় ধাক্কা মারছিল। তারপর বসে আবার নতুন ফন্দি আঁটছিল। গুরুদেব সব লক্ষ করছিলেন। পরদিন ও তেমনি হল। বাইরে থেকে দরজায় গট-গট শব্দ করে লোহার তালা পড়ল। এক ভাই এমনি এসে শুয়ে পড়ল , এক ভাই সোজা আগের দিনের বইটা নিয়ে বসে পড়ল, আরেক ভাই নাম জপতে থাকল। কিন্তু আজকে ও বিমল চেষ্টার পর চেষ্টা করে যাচ্ছে , কিন্তু ফল হচ্ছে না। দিনটা এমনি গেল।

পরদিন সবাই যখন ঘরে ঢুকল, বাইরে থেকে দরজায় গট-গট শব্দ করে লোহার তালার বন্ধের শব্দ তো হল কিন্তু লোহার তালা লাগানো হল না। তালা বন্ধের শব্দ হতেই এক ভাই হাই তুলে বিছানাতে , এক ভাই বই নিয়ে পড়তে শুরু করল, এক ভাই নাম জপতে শুরু করল। বিমল কয়েকটা জানালাতে ধাক্কা-ধাক্কি করে যেই দরজায় ধাক্কা দিল অমনি দরজা খুলে গেল।

সবাই লাফিয়ে উঠল , গুরুদেব হা হা করে হেসে উঠলেন। জমিদার গুরুদেবের আদেশে আজ দরজার বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি ও ভীতরে এলেন।
গুরুদেব জমিদারকে বললেন “ হে জমিদার , তুমি বিমলকে ব্যবসার কাজে লাগাও। এর ধৈর্য্য আছে, চেষ্টা ও আছে। সে ব্যবসাতে সফল হবেই।”
যে বই নিয়ে বসে ছিল তাকে দেখিয়ে বললেন “ তোমার এই ছেলেকে তোমাদের হিসাব-পত্রের কাজে, বই-পত্রের কাজে লাগাও।”
যে নাম জপছিল তাকে দেখিয়ে বললেন “ একে কিছু দিনের জন্য আমার কাছে পাঠিয়ে দাও।”
আর যে শুধুই ঘুমাচ্ছিল তাকে দেখিয়ে বললেন “ একে আজ থেকেই তোমার খেতে এক জন কৃষকের মত কাজ করতে পাঠাবে। তাকে পরিশ্রম করতে শিখতে হবে।”
কিছু দিনের মধ্যেই চার ভাই যার যার কাজে অনেক দূর সফল হয়ে গেল।
Top of the page

দুই সাধু

- হরপ্রসাদ সরকার

একটা সুন্দর গ্রাম ছিল। গ্রামের পাশেই ছিল একটা জঙ্গল। সেই জঙ্গলের দুই প্রান্তে , গাছে নীচে দুই সাধু থাকত। এরা সকাল বেলাতে গ্রামে ভিক্ষা করত বের হত। হরিদাসকে দেখলে সবাই হাসি দিয়ে কথা বলত , ভিক্ষাও দিত ভাল। আর ব্রজদাসকে দেখলে অনেকেই দূর-দার করত , দূরে সরিয়ে দিত।

এর কারণ ছিল। গ্রাম থেকে যখন দুজনেই ফিরে যেত আপন ঠিকানায়, তখন হরিদাস সেই গাছের নীচে বসে আপন মনে ভজন করত, কীর্তন করত। ধর্মগ্রন্থ পাঠ করত। লোক জন ও কিছু জুটত। সবাইকে সে একই কথা বলত “ সত্যের জয় হোক।”

আর ব্রজদাস পথে যেতে যেতেই গ্রামবাসীদের গালাগালি করত , হরিদাসকে খুব মন্দ বলত। গাছের নীচে বসেও সে তেমনি করতে থাকত। সে প্রায়ই বলত “ সব মূর্খ, সব মূর্খ।” আর ভাবত কাকে কিভাবে ঠকানো যায়।

ব্রজদাসের মনে হরিদাসের প্রতি হিংসা হতে থাকল। শেষে একদিন ব্রজদাস ফন্দি করে রাজার কাছে নালিশ জানাল “ হরিদাস আমাকে গ্রামে ঢুকে ভিক্ষা করতে বাধা দিচ্ছে। বলছে গ্রামে ঢুকলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে। আপনি আমাকে রক্ষা করুন মহারাজ। হরিদাস থেকে আমাকে বাঁচান।” ব্রজদাসের মায়া কান্না দেখে রাজার একটু সন্দেহ হল। তিনি তখন ব্রজদাসকে সাথে নিয়ে সেই বনে এলেন। প্রথমে তিনি সোজা হরিদাসের কাছে গেলেন।

হরিদাস মহারাজকে সামনে দেখে হাত জোর করে অভিবাদন করল। সে ব্রজদাসের নালিশের কথা কিছুই জানত না। গাছের নীচে এত লোক দেখে, ভয়ে ঐ গাছ থেকে কয়েকটি তোতা পাখী ডেকে ডেকে উড়ে গেল। স্পষ্ট শোনা গেল তারা ডাকছে ‘সত্যের জয় হোক’, ‘সত্যের জয় হোক’।

রাজা সহ সবাই অবাক হয়ে পাখীদের সে ডাক শুনল। এর পর রাজা যখন ব্রজদাসের কুঠিরে গেলেন তেমনি কয়েকটি তোতা পাখী ডেকে ডেকে উড়ে গেল। স্পষ্ট শোনা গেল তারা ডাকছে 'সব মূর্খ, সব মূর্খ।’। সবাই অবাক হল তা শুনে।

সবাই বুঝল সাধুদের অজান্তেই সেই গাছে গুলিতে থাকত কিছু তোতা পাখী। আর সাধুরা যা-যা বলত তোতা পাখীরা তাই-তাই শিখত। রাজার এ কথা বুঝতে আর কিছুই বাকী রইল না। রাজা তক্ষুনি ব্রজদাসকে সেই রাজ্য থেকে বের করে দেবার আদেশ দিলেন।
Top of the page

দীনের রুটি

- হরপ্রসাদ সরকার

এক জমিদার ছিলেন। খুব বড় জমিদারি , অনেক টাকা পয়সা। অনেক চাকর বাকর।জমিদারের একমাত্র ছেলে অন্য শহরে থাকে এবং সেখানে তাদের ব্যবসা দেখা শুনা করে।
জমিদারের কাছে রোজ সকাল-সকাল অনেক ভিখারি এসে জুটে ভিক্ষার জন্য। তবে একজন ভিখারি আসে , তার টাকা পয়সা চাই না। তবে কি চাই ?

ঠিক যখন জমিদার মশাই খেতে বসে তখন সে এসে হাজির হয়। তার দুটি রুটি চাই। অনেক ধাক্কা-ধমকেও কিছু কাজ হয় না। সে রোজ আসবেই আর যতক্ষণ না দুটি রুটি সে পাবে সে যাবে না। রুটি পেলে সে আপন মনে হাটতে হাটতে চলে যায়।

এদিকে ঐ ভিখারি অনেক দূর এসে একটা রুটি খায় আরেকটা রুটি অন্য গরিব দুখীকে দিয়ে দেয়।

জমিদারের এক চেলা কুপরামর্শ দিতে দিতে, জমিদারের মনে ঐ ভিখারির প্রতি একটা খিন্ন ভাব জাগাল। এমন হল যে, এখন ঐ ভিখারিকে দেখলেই জমিদারের মনে বিষের আগুন জ্বলতে থাকে। কিন্তু তিনি ধৈর্য্য ধরে নিজেকে সামলে নেন। ধৈর্য্য কখনো বিফলে যায় না।

একদিন সেই চেলা জমিদারকে কুমন্ত্রণা দিল ঐ রুটিতে বিষ মিশিয়ে ভিখারিটিকে দিতে যেন ভিখারি আর পার না পায়। বিষ নিয়ে আসা হল।আজ দুটির বদলে চারটি রুটি তৈরী করা হল যেন বেশী পরিমাণে বিষ তার পেটে যায়।

যখন জমিদার রুটিতে বিষ মিশাতে গেলেন তখনি তার মন, বিবেক হাহাকার করে উঠল। তিনি রুটিতে আর বিষ মেশালেন না। কিন্তু সেই চেলা গোপনে দুটি রুটিতে বিষ মিশিয়ে দিল। এ খবর আর জমিদার জানতে পারলেন না। যখন ভিখারি এলো , জমিদার হাসতে হাসতে তাকে চারটি রুটি দিয়ে দিলেন। আজ জমিদারের মনে সেই ভিখারির প্রতি আর কোন রোষ রইল না। ভিখারি চলে গেল।

ভিখারি সেই গ্রাম পেড়িয়ে অনেক দূর যাওয়ার পর দেখল দুজন লোক আসছে। তাদের গায়ে আঘাতের চিহ্ন , ধনীর সন্তান মনে হচ্ছে কিন্তু জামা কাপড় সব ছিঁড়া , রক্তের দাগ। তারা ভিখারির কাছে এসেই হুমড়ি খেয়ে পড়ল আর খাবার চাইল।

তাদের একজন ছিল জমিদারের ছেলে আর অন্যজন সেই চেলাটির ছেলে। এরা শহর থেকে গ্রামে ফিরে আসছিল। পথে ডাকাতরা তাদের উপর হামলা করল। কোন ভাবে এরা পালিয়ে এসেছে। ভিখারি তাদের দুজনকে দুটি দুটি রুটি খেতে দিল , জল ও দিল।

প্রাণ ফিরে পেয়ে , একটু বিশ্রাম করে তারা আবার চলতে লাগল। দুজনেই এসে জমিদারের বাড়িতে উঠল। জমিদার ছেলেদের এ অবস্থায় দেখে দৌড়ে এলেন। তখনি সেই চেলার ছেলে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। সে আর উঠল না। তাড়াতাড়ি ডাক্তার বদ্যি ডাকা হল কিন্তু লাভ হল না।

জমিদারের ছেলে সব বৃত্তান্ত খুলে বলল , সেই ভিখারির রুটির কথাও বলল। এ কথা শুনেই সেই চেলা হাউ মাউ করে কেঁদে উঠে অজ্ঞান। জমিদার ও চমকে উঠলেন , মন তার কেঁপে উঠল। ভাবলেন আজ যদি তিনি ও সেই রুটিতে বিষ মিশিয়ে দিতেন তবে নিজের ছেলেকেও ফিরে পেতেন না।



Top of the page
All Pages     1    2    3    4    (5)     6    7    ...

Amazon & Flipkart Special Products

   


Top of the page