Home   |   About   |   Terms   |   Book Rent   |   Contact    
A platform for writers

আমেরিকায় স্বামীজির কিছু বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী

Some friends and well-wishers of Swami Vivekananda in America

------ বিজ্ঞপ্তি ----------
# 'নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার' স্বরচিত গল্প লেখার প্রতিযোগিতা, মে -২০২২ Details..
# গপ প্রতিযোগিতা, জুন ২০২২ ( হাসির নতুন দিগন্ত ) Details..
--------------------------

All Bangla Articles    11    12    13    14    ( 15 )     16   

আমেরিকায় স্বামীজির কিছু বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী
লেখক - শিলাজিৎ কর ভৌমিক, ধলেশ্বর, আগরতলা


## আমেরিকায় স্বামীজির কিছু বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী
লেখক - শিলাজিৎ কর ভৌমিক, ধলেশ্বর, আগরতলা

swami vivekananda

##
আমেরিকায় স্বামীজির অনেক বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী ছিল। তাঁদের উদারতা ও ভালোবাসা স্বামীজিকে ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ধ্বজা আমেরিকার মাটিতে স্থাপন করতে অনেক সহায়তা করেছিল। উল্লেখযোগ্য কয়েকটা নাম হল, ক্যাথরিন এবট স্যানবর্ণ, এলেন হেল, মিসেস ব্যাগলি, রক্সি ব্লডগেট ও শারা চ্যাপম্যান বুল।

বিশ্ব ধর্ম মহাসম্মেলনের আগে স্বামীজি শিকাগোর একটা হোটেলে উঠেছিলেন। কিন্তু থাকা-খাওয়ার খরচ বেশি হওয়ায় তিনি বস্টনের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। কেননা, সেখানকার থাকা-খাওয়ার খরচ তুলনামূলক ভাবে কম ছিল। বস্টনগামী ট্রেনে তাঁর এক মহিলার সঙ্গে সাক্ষাৎ হল। সেই ভদ্রমহিলা দেখলেন স্বামীজির নানা বিষয়ে অগাধ জ্ঞান। বাইবেল ছিল তাঁর ঠোটস্থ, ইংরেজি সাহিত্যের উপর ছিল তাঁর অতুলনীয় পাণ্ডিত্য। সেই সঙ্গে ছিল ধোপদুরস্ত ইংরেজি উচ্চারণ। সেই ভদ্রমহিলা, যাঁর নাম ছিল ক্যাথরিন এবট স্যানবর্ন এসব দেখে রীতিমতো আপ্লুত হয়েছিলেন। এই কারণে, তিনি স্বামীজিকে তাঁর ফার্ম-হাউসে থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ধর্ম মহাসম্মেলনের আগে প্রায় এক মাস স্বামীজি ক্যাথরিন স্যানবর্নের ফার্ম-হাউসেই বসবাস করছিলেন।

বিশ্ব ধর্ম মহাসম্মেলনে যাওয়ার আগের দিন স্বামীজি তাঁর গন্তব্য-স্থলের ঠিকানা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। শিকাগো শহরে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তিনি ধর্ম মহাসম্মেলনের ঠিকানার কথা জিজ্ঞেস করতে লাগলেন। সদুত্তর দেওয়া দূরের কথা, প্রত্যেকে তাঁর মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিলেন বা কয়েকটা কথা শুনিয়ে বের করে দিলেন। কিছুটা হতাশ হয়ে স্বামীজি রাস্তায় পাশে একটি বেঞ্চে বসে ছিলেন। পাশের এক বাড়ি থেকে এক মাতৃ-সুলভ মহিলা তাঁর দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন। সেই ভদ্রমহিলা নিচে এসে স্বামীজির কাছে গিয়ে তাঁর পরিচয় জানতে চাইলেন। এবং সদুত্তর পেয়ে তিনি স্বামীজিকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে স্নান করালেন, আহার করালেন ও বিশ্রাম করার ব্যবস্থা করে দিলেন, এবং তিনি নিজে স্বামীজিকে ধর্ম মহাসম্মেলনের কার্যালয়ে নিয়ে গেলেন। সেই ভদ্রমহিলার নাম ছিল মিসেস এলেন হেল। স্বামীজি তাঁর স্নেহ ও ভালোবাসায় এতখানি আপ্লুত হয়েছিলেন যে, তিনি মিসেস হেল'কে শ্রদ্ধাবশত: 'মাদার চার্চ' বলে সম্বোধন করতেন। মিসেস হেল স্বামীজির জন্যে একটা ব্যাঙ্ক একাউন্ট খুলেছিলেন। সেই একাউন্টে স্বামীজি নানা জায়গায় বক্তৃতা দিয়ে যা টাকাপয়সা অর্জন করতেন, সেসব টাকা মিসেস হেল সেই একাউন্টে ঢুকিয়ে দিতেন। স্বামীজি নির্দ্বিধায় সেই ব্যাঙ্ক একাউন্টের দায়িত্ব তাঁর মাদার চার্চের হাতেই ন্যস্ত করেছিলেন। শিকাগোর বাইরে যখন স্বামীজির অর্থকড়ির প্রয়োজন হয়েছিল, তখন মিসেস হেল টাকা পাঠাতেন। মিসেস হেল ও তাঁর পরিবার পাশ্চাত্যে স্বামীজির অন্যতম প্রিয় পরিবার হয়ে উঠেছিলেন। 'বেলুড় মঠ' প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অনেক আগে এই হেল পরিবারের বাড়ি ছিল স্বামীজির একপ্রকারের 'মঠ'। মিসেস হেলের স্বামী, জর্জ হেল স্বামীজির কাছে এক পিতৃতুল্য ব্যক্তি ছিলেন। তাঁকে যথাযথ স্বামীজি 'ফাদার পোপ' বলে সম্বোধন করতেন।

প্রসঙ্গত জানাই, একজন সন্ন্যাসীর পক্ষে টাকা-পয়সা সঞ্চয় করা সন্ন্যাস-বিরুদ্ধ কাজ। কিন্তু স্বামীজি ওখানে নিজের ব্যাঙ্ক একাউন্ট খুলেছিলেন কেন তার কারণ পরবর্তীকালে তাঁর এক পত্রে আমরা পাই। সেই পত্রে তিনি লিখেছিলেন, "...এই যে আমরা এতজন সন্ন্যাসী আছি, ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছি, লোককে দর্শনশিক্ষা দিচ্ছি, এসব পাগলামি। 'খালি পেটে ধর্ম হয় না' — গুরুদেব বলতেন। ... এই করতে গেলে প্রথমে চাই লোক, দ্বিতীয় চাই পয়সা। গুরুর কৃপায় প্রতি শহরে আমি দশ-পনের জন লোক পাব। পয়সার চেষ্টায় তারপর ঘুরলাম ... " [ তথ্য: যুগনায়ক বিবেকানন্দ ( ১ ম খণ্ড) , - স্বামী গম্ভীরানন্দ, উদ্বোধন কার্যালয়, সেপ্টেম্বর ২০১৯, পৃঃ ৩১৯]

বিশ্ব ধর্ম মহাসম্মেলন জয়ের পর স্বামীজিকে দেখার জন্যে দর্শক ও শ্রোতারা তাঁর দিকে ছুটে এলেন। এ ব্যাপারে মহিলারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু একজন ভদ্রমহিলা এই দৃশ্য দেখে বলেছিলেন, "ছেলেটা যদি নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, তবেই বুঝব তার দম আছে।" ভাগ্যের কি খেলা! ছয় বছর পর, স্বামীজিকে এই মহিলা লস এঞ্জেলিসে আশ্রয় দিয়েছিলেন। ভদ্রমহিলার নাম ছিল রক্সি ব্লডগেট। স্বামীজি সারাদিন নানা জায়গায় বক্তৃতা দিয়ে আসার পর রাত্তির-বেলায় মিসেস ব্লডগেটের যত্নে আহারাদি সম্পন্ন করতেন। আমেরিকার খ্রিস্টান পাদরিরা স্বামীজির উপর রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। কেননা, এই ভারতীয় হিন্দু সন্ন্যাসী ভারত ও হিন্দু ধর্মের গুণকীর্তন করে ওসব পাদরিদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছিলেন। ভারত ও হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে তাঁদের অতিরঞ্জিত মিথ্যা কথাগুলো নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন ওই যুবক ভারতীয় সন্ন্যাসী। প্রতিশোধের স্পৃহায় তাঁরা স্বামীজির ব্যাপারে কুৎসিত সব অপপ্রচার করা শুরু করেছিলেন। ১৮৯৪ সাল তখন। স্বামীজি মিশিগানের এক প্রাক্তন গভর্নরের স্ত্রীর বাড়িতে আশ্রিত ছিলেন। ভদ্রমহিলার নাম ছিল মিসেস ব্যাগলি। পাদরিরা অপপ্রচার করা শুরু করলেন যে, মিসেস ব্যাগলির বাড়ির এক চাকরানি সেই সন্ন্যাসীর অত্যাচারে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এসব শুনে মিসেস ব্যাগলি ও তাঁর কন্যা হেলেন তীব্র প্রতিবাদ করলেন। এই বিষয়ে মিসেস ব্যাগলি দুটো চিঠিও লিখেছিলেন পাদরিদের উদ্দেশ্যে। তার মধ্যে একটার আংশিক বিবরণ দেওয়া হল নিম্নলিখিত রূপে:
"You write of my dear friend, Vivekananda. I am glad of an opportunity to express my admiration of his character and it makes me most indignant that anyone should call him in question. He has given us in America higher ideals of life than we have ever had before. In Detroit, an old conservative city, in all the Clubs he is honoured as no one has ever been, and I only feel that all who say one word against him are jealous of his greatness and his fine spiritual perceptions; and yet how can they be? He does nothing to make them so."

এবারে আসা যাক শারা চ্যাপম্যান বুলের কথায়। স্বামীজির কাছে তিনি ছিলেন 'ধীরামাতা'। শারা বুল-এর শুধু স্বামীজির জীবনে নয়, বরং ভারতের উন্নয়নে অনেক অবদান আছে। আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু তখন লন্ডনে গুরুতর অসুস্থ। মায়ের মতো তাঁর সেবা করে গেলেন শারা চ্যাপম্যান বুল। মিসেস বুলকে এই সেবাযত্নে দিনরাত ভগিনী নিবেদিতা সহযোগিতা করে গিয়েছিলেন। 'বসু বিজ্ঞান মন্দির' বা 'Bose Research Institute' প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্যে শারা চ্যাপম্যান বুল সেই সময়ে ৪০০০ ডলার দান করেছিলেন। তিনি এও বলেছিলেন যে, "ঋণ নয়, এই ৪০০০ ডলার এক মা তাঁর ছেলেকে দিচ্ছে।"

স্বামীজির 'ধীরামাতা' এমন এক মাতৃতুল্যা মহিলা ছিলেন যিনি স্বামীজি ও তাঁর গুরুভাইদের মায়েদের জন্যে মুক্তহস্তে দান করেছিলেন। বিস্তারিত ভাবে বলতে গেলে, যেসব সন্ন্যাসীরা বেলুড় মঠে বসবাস করতেন, তাঁদের মায়েরা যাতে স্বস্তিতে থাকতে পারেন, এই কারণে আলাদা বাসস্থান তৈরি করার জন্যে টাকা পাঠিয়েছিলেন শারা চ্যাপম্যান বুল। তাছাড়া, 'বেলুড় মঠ' স্থাপন করার জন্যে তিনি হাজার-খানেকের উপর টাকা খরচ করেছিলেন। এই মূল্য সেকালের তুলনায় এক বিরাট অঙ্কের টাকা ছিল। তাছাড়াও, তিনি আমেরিকায় স্বামীজির 'বেদান্ত সোসাইটির' জন্যে কোনও অংশে কম টাকা পয়সা খরচ করেননি। এই ছিল, স্বামীজির 'ধীরামাতা'।

সারা বিশ্ব ভারতকে চিনেছে অনেক মহামানবের জন্যে, যাঁদের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দ এক উল্লেখযোগ্য নাম। কিন্তু যেসব ব্যক্তিদের নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে, তাঁরা ভারতীয় না হয়েও স্বামীজির তাঁর কাজ করে যেতে আপ্রাণে সাহায্য করে গিয়েছিলেন।

(তথ্যসূত্র:
প্রথম আলো – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
Swami Vivekananda – The Living Vedanta by Chaturvedi Badrinath)


Next Bangla Article

All Bangla Articles    9    10    11    12    13    14    ( 15 )     16   


## Disclaimer: RiyaButu.com is not responsible for any wrong facts presented in the Stories / Poems / Essay / Articles / Audios by the Writers. The opinion, facts, issues etc are fully personal to the respective Writers. RiyaButu.com is not responsibe for that. We are strongly against copyright violation. Also we do not support any kind of superstition / child marriage / violence / animal torture or any kind of addiction like smoking, alcohol etc. ##


◕ RiyaButu.com, এই Website টি সম্পর্কে আপনার কোনও মতামত কিংবা পরামর্শ, কিংবা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের বলুন। যোগাযোগ:
E-mail: riyabutu.com@gmail.com / riyabutu5@gmail.com
Phone No: +91 8974870845
Whatsapp No: +91 7005246126